বিশ্বকাপে বিয়ার বিক্রি শুধু একটি পরিসংখ্যান নয়, এটি ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের বিশাল আয়োজনের আরেকটি অনন্য দিক তুলে ধরেছে। মাঠে ফুটবলের উত্তেজনার পাশাপাশি দর্শকদের জন্য খাদ্য ও পানীয় ব্যবস্থাপনাও ছিল নজিরবিহীন। টুর্নামেন্ট শেষে প্রকাশিত ফিফার তথ্য বলছে, মাত্র ৩৯ দিনে স্টেডিয়ামগুলোতে ৫৫ লাখের বেশি ক্যান বিয়ার বিক্রি হয়েছে, যা বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম বড় রেকর্ড।
একই সময়ে বিক্রি হয়েছে প্রায় ৬ লাখ ৭৫ হাজার হট ডগ। এছাড়া ৪৬ লাখেরও বেশি কোমল পানীয় ও বোতলজাত পানি দর্শকদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। এসব সংখ্যা প্রমাণ করে, বিশ্বকাপ শুধু ফুটবল নয়, এটি বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ক্রীড়া উৎসব, যেখানে কোটি কোটি মানুষের চাহিদা পূরণে বিশাল পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হয়।
২০২৬ বিশ্বকাপে স্টেডিয়ামে উপস্থিত দর্শকের সংখ্যা ছিল ৬৮ লাখেরও বেশি। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো—এই তিন দেশে অনুষ্ঠিত টুর্নামেন্টে ১৬টি আয়োজক শহর এবং ৪৮টি দলের অনুশীলনকেন্দ্র ব্যবহার করা হয়। পুরো আয়োজন সফল করতে প্রায় তিন লাখ কর্মকর্তা ও কর্মী দায়িত্ব পালন করেন।
বিশ্বকাপের ১০৪টি ম্যাচ পরিচালনায় ৪৩ হাজারের বেশি স্বেচ্ছাসেবক এবং ৭৩ হাজার ৭০০ নিরাপত্তাকর্মী কাজ করেছেন। শুধু মাঠেই নয়, স্টেডিয়ামের বাইরেও দর্শকদের নিরাপত্তা, পরিবহন, খাবার এবং অন্যান্য সেবার জন্য ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল। ফলে প্রতিটি ম্যাচ নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে।
বিশ্বকাপকে ঘিরে উত্তর আমেরিকার বিভিন্ন শহরে আয়োজিত ফ্যান ফেস্টও ছিল দর্শকদের অন্যতম আকর্ষণ। ফিফার তথ্য অনুযায়ী, এসব ফ্যান ফেস্টে ৯০ লাখের বেশি মানুষ অংশ নেন। বড় পর্দায় খেলা দেখা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং বিভিন্ন বিনোদনমূলক আয়োজন মিলিয়ে বিশ্বকাপের আবহ ছড়িয়ে পড়েছিল পুরো অঞ্চলে।
টুর্নামেন্টের ফাইনাল অনুষ্ঠিত হয় যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে। সেখানে আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ জিতে নেয় স্পেন। অতিরিক্ত সময়ে ফেরান তোরেসের একমাত্র গোলেই নির্ধারিত হয় শিরোপার ভাগ্য। মাঠের এই ঐতিহাসিক জয়ের পাশাপাশি বিশ্বকাপে বিয়ার বিক্রি, খাদ্য সরবরাহ এবং দর্শক ব্যবস্থাপনাও এবারের আসরকে ইতিহাসের অন্যতম সফল ও স্মরণীয় টুর্নামেন্ট হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

























