কঙ্গনা রানাউত এক বক্তব্যে আন্দোলনরত Generation Z (Gen Z)-কে কটাক্ষ করে বলেন, তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশি সক্রিয়, কিন্তু দেশের উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে না। তিনি তাদের “Generation Gutter” বলে উল্লেখ করেন, যা দ্রুত সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয় এবং ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়।
সিজেপির মুখপাত্র সৌরভ দাস সাংবাদিকদের বলেন,
“জেন জি এই দেশের জন্য আপনার চেয়ে অনেক বেশি কাজ করেছে এবং এখনও করে যাচ্ছে। তারা দেশের গণতন্ত্রের প্রতি মানুষের বিশ্বাস ফিরিয়ে আনতে কাজ করেছে, যা আপনি করেননি।”
তিনি আরও বলেন,
“কঙ্গনা রানাউতকে তার নিজের দলের নেতারাই খুব একটা গুরুত্ব দেন না। তাহলে আমরা কেন দেব? আমার মনে হয় না জেন জি, জেন আলফা কিংবা তরুণ প্রজন্ম তার বক্তব্যকে গুরুত্ব দেয়।”
সৌরভ দাস কঙ্গনার সংসদ সদস্য হিসেবে অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন,
“হিমাচল প্রদেশে নিজের নির্বাচনী এলাকায় সফরের সময় কঙ্গনা নিজেই বলেছিলেন, তিনি ভেবেছিলেন এমপি হওয়ার কাজ খুব সহজ হবে। কিন্তু পরে বুঝেছেন এতে অনেক পরিশ্রম করতে হয়। এই বক্তব্যই তার রাজনৈতিক প্রস্তুতি ও গুরুত্বের মাত্রা বোঝায়।”
কঙ্গনার মন্তব্য প্রকাশের পর এক্স (সাবেক টুইটার), ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামে তীব্র আলোচনা শুরু হয়। অনেক ব্যবহারকারী তরুণ প্রজন্মকে অপমান করার অভিযোগ এনে তার সমালোচনা করেন। অন্যদিকে, তার সমর্থকরা দাবি করেন, কঙ্গনা মূলত কিছু উগ্র প্রতিবাদকারীকেই লক্ষ্য করে মন্তব্য করেছিলেন, পুরো প্রজন্মকে নয়।
বিশ্লেষকদের মতে, তরুণ ভোটারদের নিয়ে এমন মন্তব্য রাজনৈতিকভাবে কঙ্গনার জন্য অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। ভারতের সাম্প্রতিক নির্বাচনগুলোতে প্রথমবারের ভোটার এবং জেন জি বড় একটি ভোটব্যাংক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ফলে এই ধরনের মন্তব্য ভবিষ্যতে রাজনৈতিক প্রভাব ফেলতে পারে বলেও মনে করছেন তারা।
বর্তমানে কঙ্গনা রানাউত তার মন্তব্য নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন কোনো ব্যাখ্যা বা ক্ষমা প্রার্থনা করেননি। তবে বিষয়টি নিয়ে সামাজিক ও রাজনৈতিক মহলে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
কঙ্গনা রানাউতের মন্তব্য এমন এক সময়ে আসে, যখন ভারতের বিভিন্ন স্থানে তরুণদের অংশগ্রহণে নানা সামাজিক ও রাজনৈতিক আন্দোলন নিয়ে আলোচনা চলছে। বিশেষ করে কর্মসংস্থান, শিক্ষা, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং গণতান্ত্রিক অধিকার নিয়ে জেন জি প্রজন্মের সক্রিয় উপস্থিতি রাজনৈতিক মহলে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।
“Generation Gutter” শব্দটি ইংরেজিতে অপমানজনক হিসেবে বিবেচিত হয়। সমালোচকদের মতে, একটি পুরো প্রজন্মকে এভাবে আখ্যায়িত করা দায়িত্বশীল রাজনৈতিক বক্তব্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। অনেকেই বলেন, কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করা যেতে পারে, কিন্তু পুরো প্রজন্মকে অবমাননাকর ভাষায় বর্ণনা করা গ্রহণযোগ্য নয়।
কঙ্গনার মন্তব্যের পর বিভিন্ন বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতারাও সামাজিক মাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানান। তাদের দাবি, তরুণদের মত প্রকাশের অধিকারকে সম্মান করা উচিত এবং রাজনৈতিক মতভেদ থাকলেও তাদের অপমানজনক ভাষায় আক্রমণ করা উচিত নয়।
বিতর্কটি সামাজিক মাধ্যমে দুই ভাগে বিভক্ত প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে। একপক্ষ কঙ্গনার বক্তব্যকে অপ্রয়োজনীয় ও অসম্মানজনক বলে সমালোচনা করছে। অন্যপক্ষের দাবি, তিনি কিছু উগ্র প্রতিবাদকারীর আচরণের সমালোচনা করেছেন, পুরো জেন জি প্রজন্মকে নয়। তবে কঙ্গনার বক্তব্যের ভাষা নিয়েই সবচেয়ে বেশি বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
Generation Z (Gen Z) বলতে সাধারণত ১৯৯৭ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে জন্ম নেওয়া প্রজন্মকে বোঝানো হয়। এই প্রজন্ম প্রযুক্তিনির্ভর, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় এবং জলবায়ু পরিবর্তন, মানবাধিকার, শিক্ষা ও রাজনৈতিক অংশগ্রহণের মতো বিভিন্ন বিষয়ে সচেতন হিসেবে পরিচিত।
অভিনেত্রী হিসেবে দীর্ঘ ক্যারিয়ারের পর কঙ্গনা রানাউত রাজনীতিতে যোগ দেন এবং বর্তমানে ভারতের ক্ষমতাসীন দল ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) একজন সংসদ সদস্য। তিনি প্রায়ই বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক ইস্যুতে স্পষ্ট ও বিতর্কিত মন্তব্য করে আলোচনায় থাকেন।
এত সমালোচনার পরও কঙ্গনা রানাউত তার “Generation Gutter” মন্তব্য নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো ক্ষমা প্রার্থনা বা বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেননি। ফলে বিষয়টি এখনও রাজনৈতিক অঙ্গন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।





























