ঢাকা ০৮:৩৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo বগালেকে ২ পর্যটকের মৃত্যু, গাইডের নিষেধ অমান্য করে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা Logo নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত ৩ শতাধিক পরিবারের পাশে এবিজি ফাউন্ডেশন Logo জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ২য় বার্ষিকী উপলক্ষ্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী চন্দনাইশ উপজেলা শাখা উদ্যোগে গণমিছিল Logo পাকিস্তান কয়লাখনি বিস্ফোরণ: ভয়াবহ দুর্ঘটনায় নিহত ৩৪ Logo হেপাটাইটিস: নীরব ভয়াবহ সংকটে বাংলাদেশ Logo গর্বের সাফল্য: বাংলাদেশি গবেষক দলের কোডিং ফেস্ট ২০২৬ চ্যাম্পিয়ন অর্জন Logo জুমার দিনের গুরুত্বপূর্ণ ১৫ আমল Logo এবার ফিফার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান কনক্যাকাফের ৪১ দেশের Logo উত্তর কাঞ্চননগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদকে বরণ, আন্তঃবিদ্যালয় বার্ষিক প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ Logo জুমার দিনের আমল: বড় সওয়াবের এই সুযোগ হাতছাড়া করবেন না

হেপাটাইটিস: নীরব ভয়াবহ সংকটে বাংলাদেশ

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০৪:৫৩:৩৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬
  • ৫৩১

বাংলাদেশে হেপাটাইটিস বি ও সি নিয়ে বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি। | ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশে হেপাটাইটিস নিয়ে তৈরি হয়েছে এক নীরব স্বাস্থ্যঝুঁকি। দেশে প্রায় ১ কোটি মানুষ হেপাটাইটিস বি ও সি ভাইরাসে আক্রান্ত বলে বিশেষজ্ঞদের তথ্য উঠে এসেছে। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, আক্রান্তদের প্রায় ৯০ শতাংশই জানেন না যে তারা এই ভাইরাস বহন করছেন। ফলে সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনযাপন করলেও শরীরের ভেতরে ধীরে ধীরে ক্ষতিগ্রস্ত হতে থাকে লিভার। রোগটি শনাক্ত হতে দেরি হলে লিভার সিরোসিস, লিভার ফেইলিউর ও লিভার ক্যানসারের মতো জটিলতা দেখা দিতে পারে।

হেপাটাইটিসের ভয়াবহতা আরও বাড়ে এর নীরব প্রকৃতির কারণে। একজন মানুষ ১০ থেকে ২০ বছর পর্যন্ত স্বাভাবিক জীবন কাটাতে পারেন, অথচ এই সময়ের মধ্যেই তার লিভার ধীরে ধীরে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের হেপাটোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. শাহিনুল আলম জানিয়েছেন, দেশের সব প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের জীবনে অন্তত একবার হেপাটাইটিস বি ও সি পরীক্ষা করা উচিত। সময়মতো পরীক্ষা হলে আক্রান্ত ব্যক্তিকে দ্রুত চিকিৎসার আওতায় আনা সম্ভব।

দেশে হেপাটাইটিস বি প্রতিরোধে টিকাদান কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ২০০৩ সাল থেকে জাতীয় সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচিতে হেপাটাইটিস বি টিকা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এর ফলে শিশুদের মধ্যে সংক্রমণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। তবে বর্তমানে ২৫ বছর বা তার বেশি বয়সী অনেক মানুষ ছোটবেলায় এই টিকা পাননি। তাই তাদের হেপাটাইটিস বি পরীক্ষা করে প্রয়োজন অনুযায়ী টিকা দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

প্রজননক্ষম নারীদের ক্ষেত্রেও হেপাটাইটিস বি নিয়ে বিশেষ সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কারণ আক্রান্ত মায়ের কাছ থেকে নবজাতকের শরীরে এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়তে পারে। দেশে প্রায় ৮৫ লাখ মানুষ হেপাটাইটিস বি-তে আক্রান্ত বলে হেপাটোলজি সোসাইটির তথ্য রয়েছে। এর মধ্যে ১৮ থেকে ৪৫ বছর বয়সী প্রায় ১৮ লাখ প্রজননক্ষম নারী রয়েছেন। সন্তান ধারণের আগে নারীদের পরীক্ষা এবং প্রয়োজন হলে টিকাদান নিশ্চিত করা গেলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে এই সংক্রমণের ঝুঁকি থেকে অনেকটাই সুরক্ষিত রাখা সম্ভব।

বিশেষজ্ঞদের মতে, হেপাটাইটিসের পাঁচটি প্রধান ধরন হলো এ, বি, সি, ডি ও ই। এর মধ্যে বি ও সি দীর্ঘমেয়াদি সংক্রমণ তৈরি করে লিভার সিরোসিস ও লিভার ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায়। হেপাটাইটিস বি প্রতিরোধে কার্যকর টিকা রয়েছে। অন্যদিকে হেপাটাইটিস সি শনাক্ত করা গেলে আধুনিক চিকিৎসার মাধ্যমে তা নিরাময় করা সম্ভব। পাশাপাশি হেপাটাইটিস এ প্রতিরোধে টিকাদান এবং হেপাটাইটিস ই মোকাবিলায় নিরাপদ পানি ও উন্নত স্যানিটেশন নিশ্চিত করা জরুরি।

বাংলাদেশে প্রতি বছর ভাইরাল হেপাটাইটিসজনিত লিভার সিরোসিস ও লিভার ক্যানসারে প্রায় ২০ থেকে ২১ হাজার মানুষের মৃত্যু হয় বলে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন। তাই ২০৩০ সালের মধ্যে ভাইরাল হেপাটাইটিস নির্মূলের বৈশ্বিক লক্ষ্য অর্জনে এখনই ব্যাপক স্ক্রিনিং, টিকাদান ও জনসচেতনতা বাড়ানো প্রয়োজন। জন্মের সময় হেপাটাইটিস বি টিকার পূর্ণ কাভারেজ, নিরাপদ স্বাস্থ্যসেবা এবং নিয়মিত পরীক্ষা নিশ্চিত করা গেলে এই রোগের বিস্তার অনেকটাই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। হেপাটাইটিসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সরকার, চিকিৎসক, গবেষক, গণমাধ্যম ও সাধারণ মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগই হতে পারে সবচেয়ে কার্যকর পথ।

জনপ্রিয় সংবাদ

বগালেকে ২ পর্যটকের মৃত্যু, গাইডের নিষেধ অমান্য করে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা

হেপাটাইটিস: নীরব ভয়াবহ সংকটে বাংলাদেশ

Update Time : ০৪:৫৩:৩৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬

বাংলাদেশে হেপাটাইটিস নিয়ে তৈরি হয়েছে এক নীরব স্বাস্থ্যঝুঁকি। দেশে প্রায় ১ কোটি মানুষ হেপাটাইটিস বি ও সি ভাইরাসে আক্রান্ত বলে বিশেষজ্ঞদের তথ্য উঠে এসেছে। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, আক্রান্তদের প্রায় ৯০ শতাংশই জানেন না যে তারা এই ভাইরাস বহন করছেন। ফলে সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনযাপন করলেও শরীরের ভেতরে ধীরে ধীরে ক্ষতিগ্রস্ত হতে থাকে লিভার। রোগটি শনাক্ত হতে দেরি হলে লিভার সিরোসিস, লিভার ফেইলিউর ও লিভার ক্যানসারের মতো জটিলতা দেখা দিতে পারে।

হেপাটাইটিসের ভয়াবহতা আরও বাড়ে এর নীরব প্রকৃতির কারণে। একজন মানুষ ১০ থেকে ২০ বছর পর্যন্ত স্বাভাবিক জীবন কাটাতে পারেন, অথচ এই সময়ের মধ্যেই তার লিভার ধীরে ধীরে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের হেপাটোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. শাহিনুল আলম জানিয়েছেন, দেশের সব প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের জীবনে অন্তত একবার হেপাটাইটিস বি ও সি পরীক্ষা করা উচিত। সময়মতো পরীক্ষা হলে আক্রান্ত ব্যক্তিকে দ্রুত চিকিৎসার আওতায় আনা সম্ভব।

আরও পড়ুন  মায়ের দুধের বিকল্প নেই : শিশুর বিকাশে গুরুত্ব জানালেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী

দেশে হেপাটাইটিস বি প্রতিরোধে টিকাদান কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ২০০৩ সাল থেকে জাতীয় সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচিতে হেপাটাইটিস বি টিকা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এর ফলে শিশুদের মধ্যে সংক্রমণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। তবে বর্তমানে ২৫ বছর বা তার বেশি বয়সী অনেক মানুষ ছোটবেলায় এই টিকা পাননি। তাই তাদের হেপাটাইটিস বি পরীক্ষা করে প্রয়োজন অনুযায়ী টিকা দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

প্রজননক্ষম নারীদের ক্ষেত্রেও হেপাটাইটিস বি নিয়ে বিশেষ সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কারণ আক্রান্ত মায়ের কাছ থেকে নবজাতকের শরীরে এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়তে পারে। দেশে প্রায় ৮৫ লাখ মানুষ হেপাটাইটিস বি-তে আক্রান্ত বলে হেপাটোলজি সোসাইটির তথ্য রয়েছে। এর মধ্যে ১৮ থেকে ৪৫ বছর বয়সী প্রায় ১৮ লাখ প্রজননক্ষম নারী রয়েছেন। সন্তান ধারণের আগে নারীদের পরীক্ষা এবং প্রয়োজন হলে টিকাদান নিশ্চিত করা গেলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে এই সংক্রমণের ঝুঁকি থেকে অনেকটাই সুরক্ষিত রাখা সম্ভব।

আরও পড়ুন  ৭টি অলৌকিক উপায়ে বেঁচে গেল টেকনাফের শতবর্ষী গর্জনগাছ!

বিশেষজ্ঞদের মতে, হেপাটাইটিসের পাঁচটি প্রধান ধরন হলো এ, বি, সি, ডি ও ই। এর মধ্যে বি ও সি দীর্ঘমেয়াদি সংক্রমণ তৈরি করে লিভার সিরোসিস ও লিভার ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায়। হেপাটাইটিস বি প্রতিরোধে কার্যকর টিকা রয়েছে। অন্যদিকে হেপাটাইটিস সি শনাক্ত করা গেলে আধুনিক চিকিৎসার মাধ্যমে তা নিরাময় করা সম্ভব। পাশাপাশি হেপাটাইটিস এ প্রতিরোধে টিকাদান এবং হেপাটাইটিস ই মোকাবিলায় নিরাপদ পানি ও উন্নত স্যানিটেশন নিশ্চিত করা জরুরি।

আরও পড়ুন  হাম উপসর্গে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ৯২ শিশু।

বাংলাদেশে প্রতি বছর ভাইরাল হেপাটাইটিসজনিত লিভার সিরোসিস ও লিভার ক্যানসারে প্রায় ২০ থেকে ২১ হাজার মানুষের মৃত্যু হয় বলে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন। তাই ২০৩০ সালের মধ্যে ভাইরাল হেপাটাইটিস নির্মূলের বৈশ্বিক লক্ষ্য অর্জনে এখনই ব্যাপক স্ক্রিনিং, টিকাদান ও জনসচেতনতা বাড়ানো প্রয়োজন। জন্মের সময় হেপাটাইটিস বি টিকার পূর্ণ কাভারেজ, নিরাপদ স্বাস্থ্যসেবা এবং নিয়মিত পরীক্ষা নিশ্চিত করা গেলে এই রোগের বিস্তার অনেকটাই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। হেপাটাইটিসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সরকার, চিকিৎসক, গবেষক, গণমাধ্যম ও সাধারণ মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগই হতে পারে সবচেয়ে কার্যকর পথ।