তাসকিন আহমেদ এবার অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে নতুন এক অধ্যায়ের সামনে দাঁড়িয়ে। অস্ট্রেলিয়ায় এর আগে যুব বিশ্বকাপ, ওয়ানডে বিশ্বকাপ ও টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলেছেন বাংলাদেশের এই পেসার। কিন্তু টেস্ট খেলা হয়নি কখনো। এবার সেই অপেক্ষার অবসান হতে যাচ্ছে। ১৩ আগস্ট ডারউইনে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম টেস্টে মাঠে নামবে বাংলাদেশ। আট বছর বয়সে বাংলাদেশ যখন সর্বশেষ অস্ট্রেলিয়া সফর করেছিল, তখন তাসকিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আসার কথাই ভাবার সময় হয়নি। এত বছর পর সেই অস্ট্রেলিয়ার মাটিতেই টেস্ট খেলার সুযোগ তাঁর ক্যারিয়ারে বিশেষ একটি মুহূর্ত হয়ে উঠেছে।
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট খেলার সুযোগকে তাই শুধু আরেকটি সিরিজ হিসেবে দেখছেন না তাসকিন আহমেদ। তাঁর কণ্ঠে ছিল গর্ব ও রোমাঞ্চের মিশেল। ডারউইনের সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেছেন, অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ খেলতে এখানে আসতে পেরে তিনি সম্মানিত বোধ করছেন। বিশ্বের অন্যতম সেরা দলের বিপক্ষে তাদের নিজেদের মাঠে টেস্ট খেলা যে বড় চ্যালেঞ্জ, সেটিও তিনি জানেন। তবে কঠিন প্রতিপক্ষ কিংবা ভিন্ন কন্ডিশন নিয়ে বেশি ভাবতে চান না। বরং নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী সেরাটা দেওয়াই বাংলাদেশের লক্ষ্য।
বাংলাদেশের জন্য চ্যালেঞ্জটা অবশ্য প্রস্তুতি ম্যাচেই কিছুটা স্পষ্ট হয়ে গেছে। ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচে দ্বিতীয় ইনিংসে মাত্র ৫৪ রানে অলআউট হয়ে ইনিংস ব্যবধানে হেরেছে বাংলাদেশ। এমন হার দলের আত্মবিশ্বাসে ধাক্কা দিতে পারে। তবে তাসকিন আহমেদ সেটিকে বড় করে দেখতে চান না। তাঁর মতে, ক্রিকেটে এমন ফল হতেই পারে। বরং প্রস্তুতি ম্যাচের মাধ্যমে অস্ট্রেলিয়ার উইকেট ও কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার সুযোগ পেয়েছে বাংলাদেশ। মূল সিরিজ শুরুর আগে এই অভিজ্ঞতাই কাজে লাগাতে চান তিনি ও দলের অন্য ক্রিকেটাররা।
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসও খুব একটা স্বস্তিদায়ক নয়। দুই দল এখন পর্যন্ত ছয়টি টেস্ট খেলেছে। এর মধ্যে বাংলাদেশের জয় মাত্র একটিতে, ২০১৭ সালে মিরপুরে। বাকি পাঁচ ম্যাচেই হারতে হয়েছে বাংলাদেশকে। এর তিনটিতে হার এসেছে ইনিংস ব্যবধানে। সর্বশেষ ২০০৩ সালে অস্ট্রেলিয়া সফরেও দুই ম্যাচেই ইনিংস ব্যবধানে হেরেছিল বাংলাদেশ। সেই পরিসংখ্যানই বলে দেয়, অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে আসন্ন দুই টেস্ট কতটা কঠিন হতে পারে। তবে ইতিহাসের হিসাব বদলানোর সুযোগও এবার বাংলাদেশের সামনে রয়েছে।
এই সিরিজে বাংলাদেশের জন্য আত্মবিশ্বাসের জায়গা হতে পারে দুই দলের সর্বশেষ লড়াই। গত জুনে মিরপুরে অস্ট্রেলিয়াকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়েছিল বাংলাদেশ। সেই সাফল্য থেকেই অনুপ্রেরণা নিতে চান তাসকিন আহমেদ। তাঁর মতে, অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে জয় পাওয়া সাম্প্রতিক সিরিজটি দলের সবাইকে বাড়তি আত্মবিশ্বাস দিচ্ছে। তবে তিনি এটাও মনে করিয়ে দিয়েছেন, ঘরের মাঠ আর অস্ট্রেলিয়ার কন্ডিশনের মধ্যে বড় পার্থক্য রয়েছে। তাই আগের সাফল্যকে প্রেরণা হিসেবে কাজে লাগালেও এবার নতুন পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়াটাই হবে মূল পরীক্ষা।
প্রথম টেস্ট ডারউইনে ১৩ আগস্ট শুরু হওয়ার পর দ্বিতীয় ম্যাচটি হবে ম্যাকাইতে, ২২ আগস্ট। দুই ম্যাচের এই সিরিজে বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণে তাসকিন আহমেদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। অস্ট্রেলিয়ার গতি ও বাউন্সের কন্ডিশনে বাংলাদেশের পেসারদের সামর্থ্যেরও বড় পরীক্ষা হবে। তবে কঠিন প্রতিপক্ষ কিংবা প্রস্তুতি ম্যাচের হতাশা—কোনোটিই এখন তাসকিনকে পিছনে তাকাতে দিচ্ছে না। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথম টেস্টের অভিজ্ঞতাকে স্মরণীয় করে রাখতে চান তিনি। আর সেই লক্ষ্যেই নিজের সেরাটা দেওয়ার প্রত্যয় নিয়ে মাঠে নামার অপেক্ষায় বাংলাদেশের এই পেসার।




























