ঢাকা ০৫:১৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬, ২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo এসএসসিতে ১২৭১ নম্বর পেয়ে প্রথম সাদমান, বার্তা সবার জন্য Logo এসএসসিতে জিপিএ–৪ পেলেন ‘ফারহানা’ ইসরাত তিথি Logo ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে আটটি প্রতিষ্ঠানের পাসের হার শূন্য শতাংশ Logo অতল মস্কোর পর ওরেনবুর্গে, যুবরাজের নতুন সাফল্য Logo তাসকিন আহমেদের অস্ট্রেলিয়া টেস্টে ‘সেরাটা’ দেওয়ার প্রত্যয় Logo নিউইয়র্ক মাতালেন অপূর্ব, মুগ্ধতা প্রকাশ করলেন শহরটি নিয়ে Logo শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণ: ভারতের কাছে বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ অনুরোধ Logo মিশা সওদাগরের বাসায় নব্বই দশকের নায়কদের নস্টালজিক আড্ডা! Logo রঙিন সুরমায় আফজাল হোসেন আফসানা মিমির আবেগঘন গল্প Logo হজের পর অভিনয়কে বিদায়, হাসান মাসুদের জীবনে নতুন অধ্যায়

২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে আটটি প্রতিষ্ঠানের পাসের হার শূন্য শতাংশ

চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের শূন্য পাসের তালিকায় রয়েছে ৮টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার ফলে আটটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একজন শিক্ষার্থীও উত্তীর্ণ হতে পারেনি। অর্থাৎ এসব বিদ্যালয়ের পাসের হার দাঁড়িয়েছে শূন্য শতাংশে। বোর্ডের প্রকাশিত জিরো পারসেন্টেজ স্কুলের তালিকায় থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর বেশির ভাগই চট্টগ্রাম, রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ির দুর্গম এলাকার। কোনো কোনো বিদ্যালয়ে পরীক্ষার্থী ছিল ১৫ থেকে ১৯ জন, তবু তাদের একজনও পাস করতে না পারায় প্রতিষ্ঠানগুলোর পাঠদানের মান, শিক্ষক সংকট ও শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, ফটিকছড়ির নারায়ণহাট গার্লস হাইস্কুল থেকে এবার এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয় মাত্র তিনজন। তাদের কেউই উত্তীর্ণ হয়নি। রাঙামাটির বরকল উপজেলার আন্দর মানিক মাইছছড়ি জুনিয়র হাইস্কুল থেকে পরীক্ষা দেয় ১০ জন। লংগদুর মোহালছড়ি হাইস্কুলে পরীক্ষার্থী ছিল ১৫ জন। দুটি প্রতিষ্ঠানেই পাসের হার শূন্য। এ ছাড়া সন্দ্বীপের উরিরচর জুনিয়র হাইস্কুলে ১০ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে কেউ পাস করেনি। এসব ফল দুর্গম এলাকার শিক্ষাব্যবস্থার বাস্তব চিত্র নিয়ে আলোচনার সুযোগ তৈরি করেছে।

শূন্য পাসের তালিকায় রয়েছে খাগড়াছড়ির ভাইবোনছড়া গার্লস হাইস্কুল ও দীঘিনালার জারুলছড়ি হেডম্যান পাড়া হাইস্কুলও। ভাইবোনছড়া গার্লস হাইস্কুল থেকে ১৭ জন এবং জারুলছড়ি হেডম্যান পাড়া হাইস্কুল থেকে ১৯ জন পরীক্ষায় অংশ নেয়। কিন্তু কোনো শিক্ষার্থীই সফল হতে পারেনি। অন্যদিকে দীঘিনালার তারাবানিয়া হাইস্কুল ও বাঘাইছড়ির শিলজাক দজার বাজার জুনিয়র স্কুল থেকে পাঁচজন করে পরীক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। এই দুই প্রতিষ্ঠানেও ফলাফল হয়েছে শতভাগ অকৃতকার্য। আটটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে জারুলছড়িতেই পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল সবচেয়ে বেশি।

একটি প্রতিষ্ঠানের সব শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হওয়ার পেছনে শুধু শিক্ষার্থীদের দুর্বলতাকে দায়ী করা ঠিক নয় বলে মনে করছেন শিক্ষাসংশ্লিষ্টরা। শিক্ষক সংকট, বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক না থাকা, নিয়মিত পাঠদান ব্যাহত হওয়া, শিক্ষার্থীদের অনিয়মিত উপস্থিতি এবং ঝরে পড়ার প্রবণতা ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে। পাশাপাশি পারিবারিক আর্থিক সংকট, বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা এবং পর্যাপ্ত একাডেমিক তদারকির অভাবও গুরুত্বপূর্ণ কারণ হতে পারে। বিশেষ করে পাহাড়ি ও দুর্গম এলাকায় শিক্ষক উপস্থিতি নিশ্চিত করা এবং শিক্ষার্থীদের নিয়মিত বিদ্যালয়ে আনা এখনো বড় চ্যালেঞ্জ।

২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার সামগ্রিক ফল বিশ্লেষণেও চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার আগের তুলনায় কমেছে বলে জানানো হয়েছে। এর মধ্যে আটটি প্রতিষ্ঠানে কোনো শিক্ষার্থী পাস না করায় এসব বিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম আরও গভীরভাবে পর্যালোচনার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক পারভেজ সাজ্জাদ চৌধুরী জানিয়েছেন, ফল বিশ্লেষণের মাধ্যমে কোন প্রতিষ্ঠান ও কোন বিষয়ে শিক্ষার্থীরা পিছিয়ে আছে, তা চিহ্নিত করা হবে। শূন্য পাসের প্রতিষ্ঠানগুলোর ফল খারাপ হওয়ার কারণ খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় একাডেমিক পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি।

এখন এসব প্রতিষ্ঠানের ফলাফলের পেছনে প্রকৃত কারণ চিহ্নিত করাই বড় বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। শুধু পরীক্ষার্থীর সংখ্যা কম বা দুর্গম অবস্থানকে দায়ী না করে বিদ্যালয়ের শিক্ষকসংকট, পাঠদানের পরিবেশ, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ও শিক্ষা প্রশাসনের তদারকি—সব দিকই বিবেচনায় নিতে হবে। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরও দেশের মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক কার্যক্রম ও তদারকির সঙ্গে যুক্ত। চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের পক্ষ থেকে পরবর্তী সময়ে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়। প্রয়োজনীয় সহায়তা ও নিয়মিত তদারকি নিশ্চিত করা গেলে এসব বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ ফলাফলে ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

এসএসসিতে ১২৭১ নম্বর পেয়ে প্রথম সাদমান, বার্তা সবার জন্য

২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে আটটি প্রতিষ্ঠানের পাসের হার শূন্য শতাংশ

Update Time : ০৪:২১:৩১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬

চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার ফলে আটটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একজন শিক্ষার্থীও উত্তীর্ণ হতে পারেনি। অর্থাৎ এসব বিদ্যালয়ের পাসের হার দাঁড়িয়েছে শূন্য শতাংশে। বোর্ডের প্রকাশিত জিরো পারসেন্টেজ স্কুলের তালিকায় থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর বেশির ভাগই চট্টগ্রাম, রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ির দুর্গম এলাকার। কোনো কোনো বিদ্যালয়ে পরীক্ষার্থী ছিল ১৫ থেকে ১৯ জন, তবু তাদের একজনও পাস করতে না পারায় প্রতিষ্ঠানগুলোর পাঠদানের মান, শিক্ষক সংকট ও শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, ফটিকছড়ির নারায়ণহাট গার্লস হাইস্কুল থেকে এবার এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয় মাত্র তিনজন। তাদের কেউই উত্তীর্ণ হয়নি। রাঙামাটির বরকল উপজেলার আন্দর মানিক মাইছছড়ি জুনিয়র হাইস্কুল থেকে পরীক্ষা দেয় ১০ জন। লংগদুর মোহালছড়ি হাইস্কুলে পরীক্ষার্থী ছিল ১৫ জন। দুটি প্রতিষ্ঠানেই পাসের হার শূন্য। এ ছাড়া সন্দ্বীপের উরিরচর জুনিয়র হাইস্কুলে ১০ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে কেউ পাস করেনি। এসব ফল দুর্গম এলাকার শিক্ষাব্যবস্থার বাস্তব চিত্র নিয়ে আলোচনার সুযোগ তৈরি করেছে।

আরও পড়ুন  এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত, বন্যায় ৫ জেলার পরীক্ষা ১৬ জুলাই পর্যন্ত বন্ধ

শূন্য পাসের তালিকায় রয়েছে খাগড়াছড়ির ভাইবোনছড়া গার্লস হাইস্কুল ও দীঘিনালার জারুলছড়ি হেডম্যান পাড়া হাইস্কুলও। ভাইবোনছড়া গার্লস হাইস্কুল থেকে ১৭ জন এবং জারুলছড়ি হেডম্যান পাড়া হাইস্কুল থেকে ১৯ জন পরীক্ষায় অংশ নেয়। কিন্তু কোনো শিক্ষার্থীই সফল হতে পারেনি। অন্যদিকে দীঘিনালার তারাবানিয়া হাইস্কুল ও বাঘাইছড়ির শিলজাক দজার বাজার জুনিয়র স্কুল থেকে পাঁচজন করে পরীক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। এই দুই প্রতিষ্ঠানেও ফলাফল হয়েছে শতভাগ অকৃতকার্য। আটটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে জারুলছড়িতেই পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল সবচেয়ে বেশি।

একটি প্রতিষ্ঠানের সব শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হওয়ার পেছনে শুধু শিক্ষার্থীদের দুর্বলতাকে দায়ী করা ঠিক নয় বলে মনে করছেন শিক্ষাসংশ্লিষ্টরা। শিক্ষক সংকট, বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক না থাকা, নিয়মিত পাঠদান ব্যাহত হওয়া, শিক্ষার্থীদের অনিয়মিত উপস্থিতি এবং ঝরে পড়ার প্রবণতা ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে। পাশাপাশি পারিবারিক আর্থিক সংকট, বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা এবং পর্যাপ্ত একাডেমিক তদারকির অভাবও গুরুত্বপূর্ণ কারণ হতে পারে। বিশেষ করে পাহাড়ি ও দুর্গম এলাকায় শিক্ষক উপস্থিতি নিশ্চিত করা এবং শিক্ষার্থীদের নিয়মিত বিদ্যালয়ে আনা এখনো বড় চ্যালেঞ্জ।

আরও পড়ুন  এসএসসির ফল দেখতে এসএমএস করতে হবে নতুন নম্বরে

২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার সামগ্রিক ফল বিশ্লেষণেও চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার আগের তুলনায় কমেছে বলে জানানো হয়েছে। এর মধ্যে আটটি প্রতিষ্ঠানে কোনো শিক্ষার্থী পাস না করায় এসব বিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম আরও গভীরভাবে পর্যালোচনার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক পারভেজ সাজ্জাদ চৌধুরী জানিয়েছেন, ফল বিশ্লেষণের মাধ্যমে কোন প্রতিষ্ঠান ও কোন বিষয়ে শিক্ষার্থীরা পিছিয়ে আছে, তা চিহ্নিত করা হবে। শূন্য পাসের প্রতিষ্ঠানগুলোর ফল খারাপ হওয়ার কারণ খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় একাডেমিক পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি।

আরও পড়ুন  চট্টগ্রাম বোর্ডে এসএসসির ফলাফলে বড় পতন, পাসের হার ৫৯.৪৮ শতাংশ

এখন এসব প্রতিষ্ঠানের ফলাফলের পেছনে প্রকৃত কারণ চিহ্নিত করাই বড় বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। শুধু পরীক্ষার্থীর সংখ্যা কম বা দুর্গম অবস্থানকে দায়ী না করে বিদ্যালয়ের শিক্ষকসংকট, পাঠদানের পরিবেশ, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ও শিক্ষা প্রশাসনের তদারকি—সব দিকই বিবেচনায় নিতে হবে। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরও দেশের মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক কার্যক্রম ও তদারকির সঙ্গে যুক্ত। চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের পক্ষ থেকে পরবর্তী সময়ে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়। প্রয়োজনীয় সহায়তা ও নিয়মিত তদারকি নিশ্চিত করা গেলে এসব বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ ফলাফলে ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে।