ঢাকা ০১:৩৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬, ২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আলাদা টুর্নামেন্টের পরিকল্পনা, ইনফান্তিনোর জন্য বড় ধাক্কা

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ১১:৪৪:৩৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬
  • ৫০৯

আলাদা টুর্নামেন্টের ভাবনায় তিন মহাদেশের ফুটবল কর্তারা | ছবি: সংগৃহীত

আলাদা টুর্নামেন্ট আয়োজনের ভাবনা এখন বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে আলোচিত বিষয়গুলোর একটি। ফিফার প্রতিযোগিতাগুলোর বাণিজ্যিক স্বত্ব বা শেয়ার বিক্রির পরিকল্পনা ঘিরে যে বিরোধ শুরু হয়েছিল, সেটিই এবার নতুন দিকে মোড় নিয়েছে। ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে তাঁরই তিন সহসভাপতি বিকল্প প্রতিযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা শুরু করেছেন বলে খবর দিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘দ্য টেলিগ্রাফ’। অর্থাৎ বিষয়টি এখন শুধু একটি সিদ্ধান্তের বিরোধিতায় আটকে নেই; এর প্রভাব বিশ্ব ফুটবলের ভবিষ্যৎ কাঠামোতেও পড়তে পারে। ফিফার ২১১ সদস্যদেশের ভোটের রাজনীতিতেও এই বিরোধ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

বিরোধের শুরু ফিফার একটি বিতর্কিত পরিকল্পনাকে ঘিরে। বিশ্বকাপসহ ফিফার বড় প্রতিযোগিতাগুলোর বাণিজ্যিক অধিকার নিয়ে নতুন ধরনের বিনিয়োগ কাঠামোর পরিকল্পনা প্রকাশের পর ইউরোপিয়ান ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফা তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখায়। উয়েফার ৫৫ সদস্য সংস্থা এ নিয়ে জরুরি বৈঠকে বসে এবং ফিফার প্রতিযোগিতা বর্জনের মতো কঠোর অবস্থানের দিকে যায় বলে প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। চাপ বাড়তে থাকায় ফিফা শেষ পর্যন্ত পরিকল্পনাটি বাতিল করে। ইনফান্তিনোও বিষয়টি নিয়ে ক্ষমা চান। তবে তাতে ক্ষোভ পুরোপুরি থামেনি। বরং উয়েফার সঙ্গে এএফসি ও কনক্যাকাফও একই অবস্থানে যাওয়ায় সংকট আরও বড় হয়েছে। উয়েফার ৫৫ সদস্য থাকার বিষয়টি তাদের সাংগঠনিক শক্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক।

এই জোটের নেতৃত্বে রয়েছেন উয়েফা সভাপতি আলেকসান্দার সেফেরিন, এএফসি সভাপতি সালমান বিন ইব্রাহিম আল খলিফা এবং কনক্যাকাফ সভাপতি ভিক্টর মন্তালিয়ানি। তিনজনই ফিফার সহসভাপতি। যৌথ চিঠিতে তাঁরা ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগ তুলেছেন এবং বাতিল হওয়া বাণিজ্যিক প্রক্রিয়া নিয়ে স্বাধীন তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের অবস্থান থেকে পরিষ্কার, সমস্যাটি এখন কেবল একটি পরিকল্পনা বাতিলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। ফিফার সিদ্ধান্ত গ্রহণের পদ্ধতি, নেতৃত্বের প্রতি আস্থা এবং ভবিষ্যতের প্রশাসনিক কাঠামো নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। এ অবস্থায় আলাদা টুর্নামেন্ট আয়োজনের সম্ভাবনা সামনে আসা বিশ্ব ফুটবলে নতুন এক চাপ তৈরি করেছে।

সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, বিশ্বকাপ বর্জনের পরিস্থিতি তৈরি হলে খেলোয়াড়েরা কোথায় খেলবেন? টেলিগ্রাফের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উয়েফা, এএফসি ও কনক্যাকাফের কর্তারা এমন পরিস্থিতির জন্য বিকল্প পথ খোলা রাখতে চাইছেন। তাই আলাদা টুর্নামেন্ট নিয়ে প্রাথমিক আলোচনা চলছে বলে খবর। তবে এখনো কোনো নির্দিষ্ট ফরম্যাট, দলসংখ্যা, ভেন্যু কিংবা সময়সূচি ঠিক হয়নি। বিষয়টি একেবারেই আলোচনার পর্যায়ে। এর বাস্তবায়ন হলে আন্তর্জাতিক ফুটবলের প্রচলিত কাঠামোতে বড় পরিবর্তন আসতে পারে। কারণ ফিফা ও ছয় কনফেডারেশনের বিদ্যমান কাঠামোই বিশ্ব ফুটবলের প্রতিযোগিতাগুলো পরিচালনার মূল ভিত্তি।

ইনফান্তিনোর জন্য সবচেয়ে বড় উদ্বেগ অবশ্য আসন্ন ফিফা নির্বাচন। তিনি ইতিমধ্যেই ২০২৭ সালের নির্বাচনে আবারও প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। ফিফার ২১১ সদস্যদেশের প্রত্যেকটির একটি করে ভোট। ফলে তিন কনফেডারেশনের একসঙ্গে বিরোধিতা তাঁর জন্য রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। যদিও ইনফান্তিনোর পক্ষে দক্ষিণ আমেরিকা ও আফ্রিকার ফুটবল কর্তাদের সমর্থন রয়েছে বলে জানা গেছে। ফিফার সাম্প্রতিক অবস্থানেও তাঁর নেতৃত্বের ধারাবাহিকতার ইঙ্গিত দেখা গেছে; মে মাসে তিনি ২০২৭ সালে পুনর্নির্বাচনে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছিলেন। ফলে সামনে লড়াইটা শুধু প্রশাসনিক নয়, ভোটের হিসাবেও জমে উঠতে পারে।

তবে এখনই বিশ্ব ফুটবল দুই ভাগ হয়ে যাচ্ছে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সময় আসেনি। আলাদা টুর্নামেন্ট আয়োজনের আলোচনা এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে এবং এর বাস্তব রূপ কী হবে, সেটিও পরিষ্কার নয়। কিন্তু উয়েফা, এএফসি ও কনক্যাকাফের মতো তিন গুরুত্বপূর্ণ কনফেডারেশনের শীর্ষ কর্তারা একসঙ্গে অবস্থান নেওয়ায় সংকটের গুরুত্ব অস্বীকার করার সুযোগ নেই। একদিকে ইনফান্তিনো তাঁর নেতৃত্ব ধরে রাখার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, অন্যদিকে বিরোধী পক্ষ বিকল্প পথের কথা ভাবছে। ফলে আগামী দিনগুলোতে ফিফা, বিশ্বকাপ এবং আন্তর্জাতিক ফুটবলের প্রশাসনিক কাঠামো নিয়ে আরও বড় সিদ্ধান্ত সামনে আসতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

আলাদা টুর্নামেন্টের পরিকল্পনা, ইনফান্তিনোর জন্য বড় ধাক্কা

Update Time : ১১:৪৪:৩৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬

আলাদা টুর্নামেন্ট আয়োজনের ভাবনা এখন বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে আলোচিত বিষয়গুলোর একটি। ফিফার প্রতিযোগিতাগুলোর বাণিজ্যিক স্বত্ব বা শেয়ার বিক্রির পরিকল্পনা ঘিরে যে বিরোধ শুরু হয়েছিল, সেটিই এবার নতুন দিকে মোড় নিয়েছে। ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে তাঁরই তিন সহসভাপতি বিকল্প প্রতিযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা শুরু করেছেন বলে খবর দিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘দ্য টেলিগ্রাফ’। অর্থাৎ বিষয়টি এখন শুধু একটি সিদ্ধান্তের বিরোধিতায় আটকে নেই; এর প্রভাব বিশ্ব ফুটবলের ভবিষ্যৎ কাঠামোতেও পড়তে পারে। ফিফার ২১১ সদস্যদেশের ভোটের রাজনীতিতেও এই বিরোধ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

বিরোধের শুরু ফিফার একটি বিতর্কিত পরিকল্পনাকে ঘিরে। বিশ্বকাপসহ ফিফার বড় প্রতিযোগিতাগুলোর বাণিজ্যিক অধিকার নিয়ে নতুন ধরনের বিনিয়োগ কাঠামোর পরিকল্পনা প্রকাশের পর ইউরোপিয়ান ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফা তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখায়। উয়েফার ৫৫ সদস্য সংস্থা এ নিয়ে জরুরি বৈঠকে বসে এবং ফিফার প্রতিযোগিতা বর্জনের মতো কঠোর অবস্থানের দিকে যায় বলে প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। চাপ বাড়তে থাকায় ফিফা শেষ পর্যন্ত পরিকল্পনাটি বাতিল করে। ইনফান্তিনোও বিষয়টি নিয়ে ক্ষমা চান। তবে তাতে ক্ষোভ পুরোপুরি থামেনি। বরং উয়েফার সঙ্গে এএফসি ও কনক্যাকাফও একই অবস্থানে যাওয়ায় সংকট আরও বড় হয়েছে। উয়েফার ৫৫ সদস্য থাকার বিষয়টি তাদের সাংগঠনিক শক্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক।

আরও পড়ুন  ফ্রান্সই সেরা দল, হারের পর সুইডেন কোচের স্বীকারোক্তি

এই জোটের নেতৃত্বে রয়েছেন উয়েফা সভাপতি আলেকসান্দার সেফেরিন, এএফসি সভাপতি সালমান বিন ইব্রাহিম আল খলিফা এবং কনক্যাকাফ সভাপতি ভিক্টর মন্তালিয়ানি। তিনজনই ফিফার সহসভাপতি। যৌথ চিঠিতে তাঁরা ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগ তুলেছেন এবং বাতিল হওয়া বাণিজ্যিক প্রক্রিয়া নিয়ে স্বাধীন তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের অবস্থান থেকে পরিষ্কার, সমস্যাটি এখন কেবল একটি পরিকল্পনা বাতিলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। ফিফার সিদ্ধান্ত গ্রহণের পদ্ধতি, নেতৃত্বের প্রতি আস্থা এবং ভবিষ্যতের প্রশাসনিক কাঠামো নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। এ অবস্থায় আলাদা টুর্নামেন্ট আয়োজনের সম্ভাবনা সামনে আসা বিশ্ব ফুটবলে নতুন এক চাপ তৈরি করেছে।

আরও পড়ুন  বিশ্বকাপ ৬৪ দল: তেবাসের তীব্র সমালোচনা, ফিফার পরিকল্পনা নিয়ে বড় প্রশ্ন

সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, বিশ্বকাপ বর্জনের পরিস্থিতি তৈরি হলে খেলোয়াড়েরা কোথায় খেলবেন? টেলিগ্রাফের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উয়েফা, এএফসি ও কনক্যাকাফের কর্তারা এমন পরিস্থিতির জন্য বিকল্প পথ খোলা রাখতে চাইছেন। তাই আলাদা টুর্নামেন্ট নিয়ে প্রাথমিক আলোচনা চলছে বলে খবর। তবে এখনো কোনো নির্দিষ্ট ফরম্যাট, দলসংখ্যা, ভেন্যু কিংবা সময়সূচি ঠিক হয়নি। বিষয়টি একেবারেই আলোচনার পর্যায়ে। এর বাস্তবায়ন হলে আন্তর্জাতিক ফুটবলের প্রচলিত কাঠামোতে বড় পরিবর্তন আসতে পারে। কারণ ফিফা ও ছয় কনফেডারেশনের বিদ্যমান কাঠামোই বিশ্ব ফুটবলের প্রতিযোগিতাগুলো পরিচালনার মূল ভিত্তি।

ইনফান্তিনোর জন্য সবচেয়ে বড় উদ্বেগ অবশ্য আসন্ন ফিফা নির্বাচন। তিনি ইতিমধ্যেই ২০২৭ সালের নির্বাচনে আবারও প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। ফিফার ২১১ সদস্যদেশের প্রত্যেকটির একটি করে ভোট। ফলে তিন কনফেডারেশনের একসঙ্গে বিরোধিতা তাঁর জন্য রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। যদিও ইনফান্তিনোর পক্ষে দক্ষিণ আমেরিকা ও আফ্রিকার ফুটবল কর্তাদের সমর্থন রয়েছে বলে জানা গেছে। ফিফার সাম্প্রতিক অবস্থানেও তাঁর নেতৃত্বের ধারাবাহিকতার ইঙ্গিত দেখা গেছে; মে মাসে তিনি ২০২৭ সালে পুনর্নির্বাচনে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছিলেন। ফলে সামনে লড়াইটা শুধু প্রশাসনিক নয়, ভোটের হিসাবেও জমে উঠতে পারে।

আরও পড়ুন  ইনফান্তিনো ক্ষমা চেয়ে বহাল, ফিফা সভাপতির ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় বার্তা

তবে এখনই বিশ্ব ফুটবল দুই ভাগ হয়ে যাচ্ছে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সময় আসেনি। আলাদা টুর্নামেন্ট আয়োজনের আলোচনা এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে এবং এর বাস্তব রূপ কী হবে, সেটিও পরিষ্কার নয়। কিন্তু উয়েফা, এএফসি ও কনক্যাকাফের মতো তিন গুরুত্বপূর্ণ কনফেডারেশনের শীর্ষ কর্তারা একসঙ্গে অবস্থান নেওয়ায় সংকটের গুরুত্ব অস্বীকার করার সুযোগ নেই। একদিকে ইনফান্তিনো তাঁর নেতৃত্ব ধরে রাখার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, অন্যদিকে বিরোধী পক্ষ বিকল্প পথের কথা ভাবছে। ফলে আগামী দিনগুলোতে ফিফা, বিশ্বকাপ এবং আন্তর্জাতিক ফুটবলের প্রশাসনিক কাঠামো নিয়ে আরও বড় সিদ্ধান্ত সামনে আসতে পারে।