ঢাকা ০১:৫৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬, ২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নিয়মিত ইয়ারবাড ব্যবহার করলে কানের ক্ষতি হয় কি?

দীর্ঘ সময় ধরে ইয়ারবাড ব্যবহারে বাড়তে পারে কানের ক্ষতির ঝুঁকি। ছবি: সংগৃহীত

ইয়ারবাড ব্যবহার এখন দৈনন্দিন জীবনের খুবই স্বাভাবিক একটি অংশ। গান শোনা, ভিডিও দেখা, ফোনে কথা বলা কিংবা যাতায়াতের সময় বাইরের শব্দ এড়াতে অনেকেই দীর্ঘ সময় কানে ইয়ারবাড রাখেন। কিন্তু ব্যবহারের সময় ও শব্দের মাত্রার দিকে নজর না দিলে এই অভ্যাস ধীরে ধীরে কানের জন্য ক্ষতির কারণ হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ইয়ারবাড ব্যবহারের সবচেয়ে বড় ঝুঁকি তৈরি হয় যখন দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চ শব্দ শোনা হয়। ইয়ারবাড কানের ভেতরের বেশ কাছাকাছি অবস্থান করে। ফলে বেশি ভলিউমে শব্দ শুনলে তা সরাসরি অন্তঃকর্ণের সংবেদনশীল অংশে পৌঁছায়।

কানের ভেতরে থাকা ক্ষুদ্র হেয়ার সেল শব্দকে বৈদ্যুতিক সংকেতে পরিণত করে মস্তিষ্কে পাঠাতে সাহায্য করে। অতিরিক্ত শব্দের কারণে এসব কোষ ক্ষতিগ্রস্ত হলে শ্রবণশক্তিতে সমস্যা দেখা দিতে পারে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ক্ষতিগ্রস্ত এই কোষগুলো স্বাভাবিকভাবে পুনরায় তৈরি হয় না।

শুধু ভলিউম বেশি রাখলেই সমস্যা হবে এমন নয়। ইয়ারবাড ব্যবহার করার সময় কতক্ষণ কানে রাখা হচ্ছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। ঘণ্টার পর ঘণ্টা একটানা গান বা ভিডিও শুনলে কানের বিশ্রামের সুযোগ কমে যায়। তাই মাঝেমধ্যে ইয়ারবাড খুলে কানকে বিশ্রাম দেওয়া ভালো।

অনেকেই বাইরে বা যানবাহনে ইয়ারবাড ব্যবহার করার সময় আশপাশের শব্দ ঢাকতে ভলিউম বাড়িয়ে দেন। এ অভ্যাসটি বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ। কারণ পরিবেশের শব্দের সঙ্গে পাল্লা দিতে গিয়ে অজান্তেই শব্দের মাত্রা অনেক বেড়ে যেতে পারে।

এ ছাড়া ইয়ারবাড দীর্ঘ সময় কানে রাখলে কানের ভেতরে বাতাস চলাচল কমে যেতে পারে। ঘাম বা আর্দ্রতার সঙ্গে এটি যুক্ত হলে কিছু মানুষের ক্ষেত্রে কানে অস্বস্তি, চুলকানি বা সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়তে পারে। নিয়মিত পরিষ্কার না করা ইয়ারবাড থেকেও জীবাণু ছড়ানোর সম্ভাবনা থাকে।

গবেষণাতেও অতিরিক্ত শব্দের সঙ্গে শ্রবণ সমস্যার সম্পর্ক পাওয়া গেছে। বিভিন্ন গবেষণা পর্যালোচনায় ব্যক্তিগত মিউজিক প্লেয়ার ও হেডফোনের অতিরিক্ত শব্দের সংস্পর্শকে শব্দজনিত শ্রবণ ক্ষতির সম্ভাব্য ঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

তাহলে নিরাপদে ইয়ারবাড ব্যবহার করবেন কীভাবে? প্রথমেই ভলিউম নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। সাধারণভাবে সর্বোচ্চ ভলিউমের প্রায় ৬০ শতাংশের মধ্যে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়। পাশাপাশি একটানা দীর্ঘ সময় না শুনে নিয়মিত বিরতি নেওয়া ভালো।

কোলাহলপূর্ণ জায়গায় ভলিউম বাড়ানোর পরিবর্তে ভালোভাবে ফিট হয় এমন নয়েজ ক্যানসেলিং ইয়ারফোন ব্যবহার করা যেতে পারে। এতে বাইরের শব্দ কম শোনা যায় এবং অতিরিক্ত ভলিউম দেওয়ার প্রয়োজনও কমে।

ইয়ারবাড পরিষ্কার রাখাও গুরুত্বপূর্ণ। অন্যের সঙ্গে ইয়ারবাড ভাগাভাগি না করাই ভালো। কানে ব্যথা, দীর্ঘস্থায়ী ভোঁ ভোঁ শব্দ, কান বন্ধ লাগা বা আগের তুলনায় কম শোনার মতো সমস্যা দেখা দিলে ইয়ারবাড ব্যবহার কমিয়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

সবশেষে বলা যায়, ইয়ারবাড নিজেই কানের জন্য ক্ষতিকর বিষয়টি এমন নয়। অতিরিক্ত ভলিউমে দীর্ঘ সময় ইয়ারবাড ব্যবহার করাই মূল ঝুঁকি। তাই শব্দের মাত্রা কম রাখা, নিয়মিত বিরতি নেওয়া এবং কানের কোনো অস্বাভাবিক লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার অভ্যাসই শ্রবণশক্তি সুরক্ষায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

জনপ্রিয় সংবাদ

নিয়মিত ইয়ারবাড ব্যবহার করলে কানের ক্ষতি হয় কি?

Update Time : ১১:৩৮:৪৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬

ইয়ারবাড ব্যবহার এখন দৈনন্দিন জীবনের খুবই স্বাভাবিক একটি অংশ। গান শোনা, ভিডিও দেখা, ফোনে কথা বলা কিংবা যাতায়াতের সময় বাইরের শব্দ এড়াতে অনেকেই দীর্ঘ সময় কানে ইয়ারবাড রাখেন। কিন্তু ব্যবহারের সময় ও শব্দের মাত্রার দিকে নজর না দিলে এই অভ্যাস ধীরে ধীরে কানের জন্য ক্ষতির কারণ হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ইয়ারবাড ব্যবহারের সবচেয়ে বড় ঝুঁকি তৈরি হয় যখন দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চ শব্দ শোনা হয়। ইয়ারবাড কানের ভেতরের বেশ কাছাকাছি অবস্থান করে। ফলে বেশি ভলিউমে শব্দ শুনলে তা সরাসরি অন্তঃকর্ণের সংবেদনশীল অংশে পৌঁছায়।

কানের ভেতরে থাকা ক্ষুদ্র হেয়ার সেল শব্দকে বৈদ্যুতিক সংকেতে পরিণত করে মস্তিষ্কে পাঠাতে সাহায্য করে। অতিরিক্ত শব্দের কারণে এসব কোষ ক্ষতিগ্রস্ত হলে শ্রবণশক্তিতে সমস্যা দেখা দিতে পারে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ক্ষতিগ্রস্ত এই কোষগুলো স্বাভাবিকভাবে পুনরায় তৈরি হয় না।

আরও পড়ুন  টানা দুই সপ্তাহ নিয়মিত ডিম খেলে শরীরে যেসব পরিবর্তন আসে

শুধু ভলিউম বেশি রাখলেই সমস্যা হবে এমন নয়। ইয়ারবাড ব্যবহার করার সময় কতক্ষণ কানে রাখা হচ্ছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। ঘণ্টার পর ঘণ্টা একটানা গান বা ভিডিও শুনলে কানের বিশ্রামের সুযোগ কমে যায়। তাই মাঝেমধ্যে ইয়ারবাড খুলে কানকে বিশ্রাম দেওয়া ভালো।

অনেকেই বাইরে বা যানবাহনে ইয়ারবাড ব্যবহার করার সময় আশপাশের শব্দ ঢাকতে ভলিউম বাড়িয়ে দেন। এ অভ্যাসটি বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ। কারণ পরিবেশের শব্দের সঙ্গে পাল্লা দিতে গিয়ে অজান্তেই শব্দের মাত্রা অনেক বেড়ে যেতে পারে।

এ ছাড়া ইয়ারবাড দীর্ঘ সময় কানে রাখলে কানের ভেতরে বাতাস চলাচল কমে যেতে পারে। ঘাম বা আর্দ্রতার সঙ্গে এটি যুক্ত হলে কিছু মানুষের ক্ষেত্রে কানে অস্বস্তি, চুলকানি বা সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়তে পারে। নিয়মিত পরিষ্কার না করা ইয়ারবাড থেকেও জীবাণু ছড়ানোর সম্ভাবনা থাকে।

আরও পড়ুন  খালিপেটে কাঁচা হলুদ খেলে কী হয়? জানুন উপকারিতা

গবেষণাতেও অতিরিক্ত শব্দের সঙ্গে শ্রবণ সমস্যার সম্পর্ক পাওয়া গেছে। বিভিন্ন গবেষণা পর্যালোচনায় ব্যক্তিগত মিউজিক প্লেয়ার ও হেডফোনের অতিরিক্ত শব্দের সংস্পর্শকে শব্দজনিত শ্রবণ ক্ষতির সম্ভাব্য ঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

তাহলে নিরাপদে ইয়ারবাড ব্যবহার করবেন কীভাবে? প্রথমেই ভলিউম নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। সাধারণভাবে সর্বোচ্চ ভলিউমের প্রায় ৬০ শতাংশের মধ্যে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়। পাশাপাশি একটানা দীর্ঘ সময় না শুনে নিয়মিত বিরতি নেওয়া ভালো।

কোলাহলপূর্ণ জায়গায় ভলিউম বাড়ানোর পরিবর্তে ভালোভাবে ফিট হয় এমন নয়েজ ক্যানসেলিং ইয়ারফোন ব্যবহার করা যেতে পারে। এতে বাইরের শব্দ কম শোনা যায় এবং অতিরিক্ত ভলিউম দেওয়ার প্রয়োজনও কমে।

আরও পড়ুন  সাধারণ ক্লান্তি নাকি ব্রেন টিউমার? সহজেই পার্থক্য বুঝবেন যেভাবে

ইয়ারবাড পরিষ্কার রাখাও গুরুত্বপূর্ণ। অন্যের সঙ্গে ইয়ারবাড ভাগাভাগি না করাই ভালো। কানে ব্যথা, দীর্ঘস্থায়ী ভোঁ ভোঁ শব্দ, কান বন্ধ লাগা বা আগের তুলনায় কম শোনার মতো সমস্যা দেখা দিলে ইয়ারবাড ব্যবহার কমিয়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

সবশেষে বলা যায়, ইয়ারবাড নিজেই কানের জন্য ক্ষতিকর বিষয়টি এমন নয়। অতিরিক্ত ভলিউমে দীর্ঘ সময় ইয়ারবাড ব্যবহার করাই মূল ঝুঁকি। তাই শব্দের মাত্রা কম রাখা, নিয়মিত বিরতি নেওয়া এবং কানের কোনো অস্বাভাবিক লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার অভ্যাসই শ্রবণশক্তি সুরক্ষায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।