ঢাকা ১১:৫২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তীব্র গরমে বাড়ছে উদ্বেগ ও মানসিক চাপ নিজেকে শান্ত রাখতে যা করবেন

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ১০:৩৫:৫৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬
  • ৫২০

অতিরিক্ত গরমে বাড়তে পারে উদ্বেগ ও মানসিক চাপ। ছবি: সংগৃহীত

হিটওয়েভে উদ্বেগ এখন অনেকের জন্যই শুধু গরমের অস্বস্তি নয়, বরং মানসিক চাপেরও কারণ হয়ে উঠছে। প্রচণ্ড তাপমাত্রা, শিশু বা বয়স্ক স্বজনের নিরাপত্তা নিয়ে ভয় এবং ভবিষ্যতে এমন গরম আরও বাড়বে কি না—এসব চিন্তা থেকে তৈরি হতে পারে তীব্র দুশ্চিন্তা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই অনুভূতিকে একেবারে উড়িয়ে না দিয়ে বুঝতে হবে এবং তা সামলানোর কার্যকর উপায় খুঁজতে হবে।

ইংল্যান্ডে রেকর্ড গরমের একটি তাপপ্রবাহের সময় দুই ও পাঁচ বছর বয়সী দুই সন্তানের ঘরের তাপমাত্রা ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে উঠে যাওয়ায় ব্যাপক উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছিলেন টাভিয়া ওয়াটস নামের এক মা। সন্তানদের নিয়ে ভয় ও অসহায়ত্বের অনুভূতি এতটাই বেড়ে গিয়েছিল যে, ঘুমানোর সময় তিনি স্বামীর কাছে সন্তানদের রেখে কিছুক্ষণ কেঁদে নিজেকে শান্ত করার চেষ্টা করতেন। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের অভিজ্ঞতা প্রকাশ করলে হাজারো মানুষ তাতে সাড়া দেন। ঘটনাটি দেখিয়েছে, অতিরিক্ত গরম কীভাবে মানুষের মানসিক স্বস্তিকেও নষ্ট করতে পারে।

তাপপ্রবাহের সঙ্গে বাড়ছে জলবায়ু উদ্বেগ

বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে দীর্ঘদিনের ভয় এবং তাপপ্রবাহের মতো ঘটনার পুনরাবৃত্তি মানুষের মধ্যে এক ধরনের ‘অ্যান্টিসিপেটরি অ্যাংজাইটি’ বা আগাম উদ্বেগ তৈরি করতে পারে। অর্থাৎ, একটি তীব্র তাপপ্রবাহের অভিজ্ঞতার পর পরবর্তী গরমের সময় কী ঘটতে পারে, তা নিয়ে আগেই ভয় তৈরি হয়।

বিশেষ করে যারা আগে বন্যা, তীব্র গরম বা অন্য কোনো জলবায়ুজনিত বিপর্যয়ের অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গেছেন, তাদের মধ্যে এই ধরনের উদ্বেগ আরও তীব্র হতে পারে। বারবার এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে কারও মনে হতে পারে, পৃথিবী আর নিরাপদ জায়গা নেই এবং ভবিষ্যৎকে নিয়ন্ত্রণ করার কোনো উপায়ও নেই।

তবে এই অনুভূতি যে শুধু একজনের হচ্ছে, তা নয়। বিভিন্ন গবেষণায় তরুণ ও নারীদের মধ্যে জলবায়ু উদ্বেগের প্রবণতা তুলনামূলক বেশি দেখা গেছে। সন্তান, পরিবার এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে অতিরিক্ত চিন্তাও এই উদ্বেগকে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।

ভবিষ্যৎ নিয়ে অতিরিক্ত ভাবনা উদ্বেগ বাড়াতে পারে

তাপপ্রবাহের সময় অনেকে বারবার আবহাওয়ার পূর্বাভাস দেখতে থাকেন। বাইরে কত ডিগ্রি তাপমাত্রা, আগামীকাল আরও বাড়বে কি না কিংবা ভবিষ্যতে এমন গরম নিয়মিত হয়ে যাবে কি না—এসব নিয়ে ক্রমাগত তথ্য খোঁজার অভ্যাস উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।

বিশেষ করে নতুন মা-বাবাদের মধ্যে সন্তানের নিরাপত্তা নিয়ে এই ভয় আরও তীব্র হতে পারে। ঘর ঠান্ডা রাখা, শিশুকে পর্যাপ্ত পানি দেওয়া এবং বাইরে বের হওয়া নিরাপদ কি না—এসব বিষয় নিয়ে অতিরিক্ত সতর্কতা একসময় মানসিক ক্লান্তিতে পরিণত হতে পারে।

তবে উদ্বেগ অনুভব করা মানেই দুর্বল হওয়া নয়। বরং বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ভয় অনেক সময় পৃথিবী, পরিবার ও প্রিয়জনের প্রতি আমাদের যত্ন থেকেই আসে। তাই নিজের অনুভূতিকে দোষারোপ না করে সেটিকে স্বীকার করাই প্রথম পদক্ষেপ।

একেবারে অসহায় হয়ে না পড়ে কিছু একটা করুন

জলবায়ু নিয়ে চিন্তা করতে করতে কেউ যদি মনে করেন, ‘কিছুই করার নেই’, তাহলে উদ্বেগ আরও গভীর হতে পারে। এর বদলে নিজের নিয়ন্ত্রণের মধ্যে থাকা ছোট কাজগুলো বেছে নেওয়ার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।

যেমন স্থানীয় পরিবেশবিষয়ক কার্যক্রমে যুক্ত হওয়া, গাছ লাগানো, কমিউনিটি উদ্যোগে অংশ নেওয়া কিংবা পরিবেশ সচেতনতা নিয়ে অন্যদের সঙ্গে কথা বলা যেতে পারে। নিজের সামর্থ্যের মধ্যে কোনো ইতিবাচক কাজ করার অনুভূতি অসহায়ত্ব কমাতে সাহায্য করতে পারে।

তবে সব দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেওয়ারও প্রয়োজন নেই। ছোট একটি পদক্ষেপও যথেষ্ট। উদ্বেগকে পুরোপুরি দূর করার বদলে সেটিকে ইতিবাচক কাজে ব্যবহার করাই হতে পারে ভালো কৌশল।

একা থাকবেন না, কাছের মানুষের সঙ্গে কথা বলুন

জলবায়ু পরিবর্তন বা তাপপ্রবাহ নিয়ে দুশ্চিন্তা হলে অনেকেই মনে করেন, হয়তো শুধু তারাই এমন ভাবছেন। বাস্তবে একই ধরনের উদ্বেগ আরও অনেকের মধ্যেই থাকতে পারে।

তাই পরিবারের সদস্য, বন্ধু কিংবা সহকর্মীর সঙ্গে নিজের অনুভূতিগুলো নিয়ে কথা বলুন। নিজের ভয় ও দুশ্চিন্তা প্রকাশ করলে মানসিক চাপ কিছুটা হালকা হতে পারে। একই ধরনের চিন্তা করা মানুষের সঙ্গে একটি সহায়ক সামাজিক যোগাযোগ তৈরি করাও উপকারী হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মানুষের মধ্যে জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে উদ্বেগের মাত্রা এবং অন্যরা বিষয়টি কতটা গুরুত্ব দিচ্ছে—এই দুইয়ের মধ্যে অনেক সময় বড় পার্থক্য থাকে। ফলে নিজের উদ্বেগকে একেবারে একা বহন করার প্রয়োজন নেই।

নিজের প্রতিও একটু সহানুভূতিশীল হোন

তাপপ্রবাহের সময় সবকিছু স্বাভাবিকভাবে চালিয়ে যেতে না পারলে নিজেকে দোষ দেবেন না। অতিরিক্ত গরম নিজেই শরীর ও মনের ওপর চাপ তৈরি করতে পারে। তাই এই সময় নিজের জন্য কিছুটা বাড়তি যত্ন নেওয়া জরুরি।

পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিন, কাজের মধ্যে বিরতি রাখুন এবং নিজের অনুভূতিকে গুরুত্ব দিন। সব সময় পরিবেশ বা ভবিষ্যৎ নিয়ে খবর পড়তে থাকার পরিবর্তে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য তথ্য নেওয়ার অভ্যাস করতে পারেন। এতে অতিরিক্ত নেতিবাচক তথ্যের প্রভাবও কিছুটা কমতে পারে।

শরীর ঠান্ডা রাখুন, মনও কিছুটা শান্ত হবে

শারীরিক অস্বস্তি এবং মানসিক উদ্বেগ একে অপরকে বাড়িয়ে দিতে পারে। প্রচণ্ড গরমে শরীর যখন অতিরিক্ত উত্তপ্ত থাকে, তখন অস্বস্তি, বিরক্তি ও উদ্বেগ আরও তীব্র মনে হতে পারে।

তাই পর্যাপ্ত পানি পান করা, সম্ভব হলে ঠান্ডা গোসল করা, ঘরে বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা রাখা এবং ঘাড়ে ঠান্ডা ভেজা কাপড় দেওয়া যেতে পারে। অতিরিক্ত গরমের সময়ে প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না যাওয়াও গুরুত্বপূর্ণ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শরীরকে ঠান্ডা রাখার এই সাধারণ পদক্ষেপগুলো শুধু শারীরিক অস্বস্তিই কমায় না, বরং উদ্বেগের শারীরিক অনুভূতিকেও কিছুটা প্রশমিত করতে পারে।

উদ্বেগকে গুরুত্ব দিন, কিন্তু তার কাছে হার মানবেন না

তাপপ্রবাহের কারণে দুশ্চিন্তা হওয়া অস্বাভাবিক নয়। বিশেষ করে যখন নিজের সন্তান, পরিবার কিংবা ভবিষ্যৎ নিয়ে ভয় তৈরি হয়, তখন সেই অনুভূতিকে একেবারে উপেক্ষা করাও ঠিক নয়। তবে ক্রমাগত ভয়, অসহায়ত্ব বা হতাশা যদি দৈনন্দিন জীবনকে ব্যাহত করতে শুরু করে, তাহলে মানসিক স্বাস্থ্য পেশাদারের সহায়তা নেওয়া যেতে পারে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, হিটওয়েভে উদ্বেগ মানেই আপনি অসহায়—এমন নয়। কাছের মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা, নিজের শরীরকে ঠান্ডা রাখা এবং নিজের নিয়ন্ত্রণের মধ্যে থাকা ইতিবাচক কাজে যুক্ত হওয়া উদ্বেগ সামলাতে সাহায্য করতে পারে। পৃথিবীর সব সমস্যার সমাধান একা করা সম্ভব নয়, কিন্তু নিজের যত্ন নেওয়া এবং পাশে থাকা মানুষদের সঙ্গে একসঙ্গে এগিয়ে যাওয়া অবশ্যই সম্ভব।

জনপ্রিয় সংবাদ

তীব্র গরমে বাড়ছে উদ্বেগ ও মানসিক চাপ নিজেকে শান্ত রাখতে যা করবেন

Update Time : ১০:৩৫:৫৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬

হিটওয়েভে উদ্বেগ এখন অনেকের জন্যই শুধু গরমের অস্বস্তি নয়, বরং মানসিক চাপেরও কারণ হয়ে উঠছে। প্রচণ্ড তাপমাত্রা, শিশু বা বয়স্ক স্বজনের নিরাপত্তা নিয়ে ভয় এবং ভবিষ্যতে এমন গরম আরও বাড়বে কি না—এসব চিন্তা থেকে তৈরি হতে পারে তীব্র দুশ্চিন্তা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই অনুভূতিকে একেবারে উড়িয়ে না দিয়ে বুঝতে হবে এবং তা সামলানোর কার্যকর উপায় খুঁজতে হবে।

ইংল্যান্ডে রেকর্ড গরমের একটি তাপপ্রবাহের সময় দুই ও পাঁচ বছর বয়সী দুই সন্তানের ঘরের তাপমাত্রা ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে উঠে যাওয়ায় ব্যাপক উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছিলেন টাভিয়া ওয়াটস নামের এক মা। সন্তানদের নিয়ে ভয় ও অসহায়ত্বের অনুভূতি এতটাই বেড়ে গিয়েছিল যে, ঘুমানোর সময় তিনি স্বামীর কাছে সন্তানদের রেখে কিছুক্ষণ কেঁদে নিজেকে শান্ত করার চেষ্টা করতেন। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের অভিজ্ঞতা প্রকাশ করলে হাজারো মানুষ তাতে সাড়া দেন। ঘটনাটি দেখিয়েছে, অতিরিক্ত গরম কীভাবে মানুষের মানসিক স্বস্তিকেও নষ্ট করতে পারে।

তাপপ্রবাহের সঙ্গে বাড়ছে জলবায়ু উদ্বেগ

বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে দীর্ঘদিনের ভয় এবং তাপপ্রবাহের মতো ঘটনার পুনরাবৃত্তি মানুষের মধ্যে এক ধরনের ‘অ্যান্টিসিপেটরি অ্যাংজাইটি’ বা আগাম উদ্বেগ তৈরি করতে পারে। অর্থাৎ, একটি তীব্র তাপপ্রবাহের অভিজ্ঞতার পর পরবর্তী গরমের সময় কী ঘটতে পারে, তা নিয়ে আগেই ভয় তৈরি হয়।

বিশেষ করে যারা আগে বন্যা, তীব্র গরম বা অন্য কোনো জলবায়ুজনিত বিপর্যয়ের অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গেছেন, তাদের মধ্যে এই ধরনের উদ্বেগ আরও তীব্র হতে পারে। বারবার এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে কারও মনে হতে পারে, পৃথিবী আর নিরাপদ জায়গা নেই এবং ভবিষ্যৎকে নিয়ন্ত্রণ করার কোনো উপায়ও নেই।

তবে এই অনুভূতি যে শুধু একজনের হচ্ছে, তা নয়। বিভিন্ন গবেষণায় তরুণ ও নারীদের মধ্যে জলবায়ু উদ্বেগের প্রবণতা তুলনামূলক বেশি দেখা গেছে। সন্তান, পরিবার এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে অতিরিক্ত চিন্তাও এই উদ্বেগকে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।

ভবিষ্যৎ নিয়ে অতিরিক্ত ভাবনা উদ্বেগ বাড়াতে পারে

তাপপ্রবাহের সময় অনেকে বারবার আবহাওয়ার পূর্বাভাস দেখতে থাকেন। বাইরে কত ডিগ্রি তাপমাত্রা, আগামীকাল আরও বাড়বে কি না কিংবা ভবিষ্যতে এমন গরম নিয়মিত হয়ে যাবে কি না—এসব নিয়ে ক্রমাগত তথ্য খোঁজার অভ্যাস উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।

বিশেষ করে নতুন মা-বাবাদের মধ্যে সন্তানের নিরাপত্তা নিয়ে এই ভয় আরও তীব্র হতে পারে। ঘর ঠান্ডা রাখা, শিশুকে পর্যাপ্ত পানি দেওয়া এবং বাইরে বের হওয়া নিরাপদ কি না—এসব বিষয় নিয়ে অতিরিক্ত সতর্কতা একসময় মানসিক ক্লান্তিতে পরিণত হতে পারে।

তবে উদ্বেগ অনুভব করা মানেই দুর্বল হওয়া নয়। বরং বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ভয় অনেক সময় পৃথিবী, পরিবার ও প্রিয়জনের প্রতি আমাদের যত্ন থেকেই আসে। তাই নিজের অনুভূতিকে দোষারোপ না করে সেটিকে স্বীকার করাই প্রথম পদক্ষেপ।

একেবারে অসহায় হয়ে না পড়ে কিছু একটা করুন

জলবায়ু নিয়ে চিন্তা করতে করতে কেউ যদি মনে করেন, ‘কিছুই করার নেই’, তাহলে উদ্বেগ আরও গভীর হতে পারে। এর বদলে নিজের নিয়ন্ত্রণের মধ্যে থাকা ছোট কাজগুলো বেছে নেওয়ার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।

যেমন স্থানীয় পরিবেশবিষয়ক কার্যক্রমে যুক্ত হওয়া, গাছ লাগানো, কমিউনিটি উদ্যোগে অংশ নেওয়া কিংবা পরিবেশ সচেতনতা নিয়ে অন্যদের সঙ্গে কথা বলা যেতে পারে। নিজের সামর্থ্যের মধ্যে কোনো ইতিবাচক কাজ করার অনুভূতি অসহায়ত্ব কমাতে সাহায্য করতে পারে।

তবে সব দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেওয়ারও প্রয়োজন নেই। ছোট একটি পদক্ষেপও যথেষ্ট। উদ্বেগকে পুরোপুরি দূর করার বদলে সেটিকে ইতিবাচক কাজে ব্যবহার করাই হতে পারে ভালো কৌশল।

একা থাকবেন না, কাছের মানুষের সঙ্গে কথা বলুন

জলবায়ু পরিবর্তন বা তাপপ্রবাহ নিয়ে দুশ্চিন্তা হলে অনেকেই মনে করেন, হয়তো শুধু তারাই এমন ভাবছেন। বাস্তবে একই ধরনের উদ্বেগ আরও অনেকের মধ্যেই থাকতে পারে।

তাই পরিবারের সদস্য, বন্ধু কিংবা সহকর্মীর সঙ্গে নিজের অনুভূতিগুলো নিয়ে কথা বলুন। নিজের ভয় ও দুশ্চিন্তা প্রকাশ করলে মানসিক চাপ কিছুটা হালকা হতে পারে। একই ধরনের চিন্তা করা মানুষের সঙ্গে একটি সহায়ক সামাজিক যোগাযোগ তৈরি করাও উপকারী হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মানুষের মধ্যে জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে উদ্বেগের মাত্রা এবং অন্যরা বিষয়টি কতটা গুরুত্ব দিচ্ছে—এই দুইয়ের মধ্যে অনেক সময় বড় পার্থক্য থাকে। ফলে নিজের উদ্বেগকে একেবারে একা বহন করার প্রয়োজন নেই।

নিজের প্রতিও একটু সহানুভূতিশীল হোন

তাপপ্রবাহের সময় সবকিছু স্বাভাবিকভাবে চালিয়ে যেতে না পারলে নিজেকে দোষ দেবেন না। অতিরিক্ত গরম নিজেই শরীর ও মনের ওপর চাপ তৈরি করতে পারে। তাই এই সময় নিজের জন্য কিছুটা বাড়তি যত্ন নেওয়া জরুরি।

পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিন, কাজের মধ্যে বিরতি রাখুন এবং নিজের অনুভূতিকে গুরুত্ব দিন। সব সময় পরিবেশ বা ভবিষ্যৎ নিয়ে খবর পড়তে থাকার পরিবর্তে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য তথ্য নেওয়ার অভ্যাস করতে পারেন। এতে অতিরিক্ত নেতিবাচক তথ্যের প্রভাবও কিছুটা কমতে পারে।

শরীর ঠান্ডা রাখুন, মনও কিছুটা শান্ত হবে

শারীরিক অস্বস্তি এবং মানসিক উদ্বেগ একে অপরকে বাড়িয়ে দিতে পারে। প্রচণ্ড গরমে শরীর যখন অতিরিক্ত উত্তপ্ত থাকে, তখন অস্বস্তি, বিরক্তি ও উদ্বেগ আরও তীব্র মনে হতে পারে।

তাই পর্যাপ্ত পানি পান করা, সম্ভব হলে ঠান্ডা গোসল করা, ঘরে বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা রাখা এবং ঘাড়ে ঠান্ডা ভেজা কাপড় দেওয়া যেতে পারে। অতিরিক্ত গরমের সময়ে প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না যাওয়াও গুরুত্বপূর্ণ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শরীরকে ঠান্ডা রাখার এই সাধারণ পদক্ষেপগুলো শুধু শারীরিক অস্বস্তিই কমায় না, বরং উদ্বেগের শারীরিক অনুভূতিকেও কিছুটা প্রশমিত করতে পারে।

উদ্বেগকে গুরুত্ব দিন, কিন্তু তার কাছে হার মানবেন না

তাপপ্রবাহের কারণে দুশ্চিন্তা হওয়া অস্বাভাবিক নয়। বিশেষ করে যখন নিজের সন্তান, পরিবার কিংবা ভবিষ্যৎ নিয়ে ভয় তৈরি হয়, তখন সেই অনুভূতিকে একেবারে উপেক্ষা করাও ঠিক নয়। তবে ক্রমাগত ভয়, অসহায়ত্ব বা হতাশা যদি দৈনন্দিন জীবনকে ব্যাহত করতে শুরু করে, তাহলে মানসিক স্বাস্থ্য পেশাদারের সহায়তা নেওয়া যেতে পারে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, হিটওয়েভে উদ্বেগ মানেই আপনি অসহায়—এমন নয়। কাছের মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা, নিজের শরীরকে ঠান্ডা রাখা এবং নিজের নিয়ন্ত্রণের মধ্যে থাকা ইতিবাচক কাজে যুক্ত হওয়া উদ্বেগ সামলাতে সাহায্য করতে পারে। পৃথিবীর সব সমস্যার সমাধান একা করা সম্ভব নয়, কিন্তু নিজের যত্ন নেওয়া এবং পাশে থাকা মানুষদের সঙ্গে একসঙ্গে এগিয়ে যাওয়া অবশ্যই সম্ভব।