ঢাকা ০২:৪৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬, ২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশ-জাপান সম্পর্ক: কৌশলগত অংশীদারত্বে নতুন অঙ্গীকার

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০১:৪৭:১১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬
  • ৫১৮

বাংলাদেশ-জাপান বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা বাড়ানোর অঙ্গীকার। | ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ-জাপান সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে নতুন করে অঙ্গীকার করেছে ঢাকা ও টোকিও। বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জ্বালানি, প্রতিরক্ষা, দক্ষ জনশক্তি এবং রোহিঙ্গা সংকটসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সহযোগিতা বাড়াতে সম্মত হয়েছে দুই দেশ। ঢাকায় অনুষ্ঠিত সপ্তম বাংলাদেশ-জাপান পররাষ্ট্র দপ্তর পর্যায়ের পরামর্শ বৈঠকে এসব বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে নেতৃত্ব দেন পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম এবং জাপানের পক্ষে ছিলেন দেশটির সিনিয়র ডেপুটি পররাষ্ট্রমন্ত্রী নামাজু হিরোয়ুকি।

বৈঠকে দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও কার্যকর অংশীদারত্বে রূপ দেওয়ার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়। উচ্চপর্যায়ের সফর ও যোগাযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি BIG-B উদ্যোগ, সবুজ জ্বালানি এবং দুই দেশের মানুষের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধির বিষয়েও আলোচনা হয়। জাপানের পক্ষ থেকে মুক্ত ও উন্মুক্ত ইন্দো-প্যাসিফিক বা FOIP-এর বিষয়ে তাদের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরা হয়। একই সঙ্গে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি, BIG-B উদ্যোগ এবং Official Security Assistance-এর আওতায় বাংলাদেশের সঙ্গে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার কথা জানানো হয়েছে।

বাংলাদেশের বড় অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পে জাপানের সহযোগিতার বিষয়টিও আলোচনায় গুরুত্ব পায়। মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর ও বিদ্যুৎ প্রকল্প, ঢাকা মেট্রোরেল এবং হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালের মতো প্রকল্পে জাপানের সহায়তার কথা তুলে ধরা হয়। পররাষ্ট্রসচিব আশা প্রকাশ করেন, অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ আরও বাড়তে পারে। পাশাপাশি দুই দেশের বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান জানান তিনি।

প্রতিরক্ষা সহযোগিতার ক্ষেত্রেও দুই দেশের মধ্যে নতুন অগ্রগতি হয়েছে। বৈঠকে জাপানের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর কাছে সম্প্রতি পাঁচটি টহল নৌযান হস্তান্তরের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে দক্ষ জনশক্তি ও মানুষের যোগাযোগ বাড়ানোর বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়। বাংলাদেশ থেকে আরও দক্ষ কর্মীর জন্য জাপানে সুযোগ তৈরি এবং শিক্ষা, সংস্কৃতি ও নাগরিক সমাজের মধ্যে বিনিময় বাড়ানোর আহ্বান জানানো হয়েছে। এসব উদ্যোগ দুই দেশের জনগণের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া আরও গভীর করতে ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে।

রোহিঙ্গা সংকটও বৈঠকের গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় ছিল। বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গার কারণে দেশের ওপর যে বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে, তা তুলে ধরেন পররাষ্ট্রসচিব। তিনি রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে নিরাপদ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের জন্য জাপানের অব্যাহত সহযোগিতা কামনা করেন। একই সঙ্গে জাতিসংঘ সনদের মূলনীতি এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়ে পারস্পরিক সহযোগিতা বজায় রাখার বিষয়েও একমত হয়েছে ঢাকা ও টোকিও। অভিন্ন স্বার্থের বিভিন্ন ইস্যুতে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক ফোরামে কাছাকাছি থেকে কাজ করার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেছে দুই দেশ।

বৈঠকের শেষ পর্যায়ে দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের সফর নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়। জাপানের প্রধানমন্ত্রী তাইয়াচি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সুবিধাজনক সময়ে জাপান সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। একই সঙ্গে ৮১তম জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করা পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানকেও জাপান সফরের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। বাংলাদেশও জাপানের প্রধানমন্ত্রীকে সুবিধাজনক সময়ে ঢাকা সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছে। ফলে সামগ্রিকভাবে বাংলাদেশ-জাপান সম্পর্ককে আরও বিস্তৃত ও কার্যকর করার ক্ষেত্রে সাম্প্রতিক বৈঠকটি নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলেছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

বাংলাদেশ-জাপান সম্পর্ক: কৌশলগত অংশীদারত্বে নতুন অঙ্গীকার

Update Time : ০১:৪৭:১১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬

বাংলাদেশ-জাপান সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে নতুন করে অঙ্গীকার করেছে ঢাকা ও টোকিও। বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জ্বালানি, প্রতিরক্ষা, দক্ষ জনশক্তি এবং রোহিঙ্গা সংকটসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সহযোগিতা বাড়াতে সম্মত হয়েছে দুই দেশ। ঢাকায় অনুষ্ঠিত সপ্তম বাংলাদেশ-জাপান পররাষ্ট্র দপ্তর পর্যায়ের পরামর্শ বৈঠকে এসব বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে নেতৃত্ব দেন পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম এবং জাপানের পক্ষে ছিলেন দেশটির সিনিয়র ডেপুটি পররাষ্ট্রমন্ত্রী নামাজু হিরোয়ুকি।

বৈঠকে দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও কার্যকর অংশীদারত্বে রূপ দেওয়ার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়। উচ্চপর্যায়ের সফর ও যোগাযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি BIG-B উদ্যোগ, সবুজ জ্বালানি এবং দুই দেশের মানুষের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধির বিষয়েও আলোচনা হয়। জাপানের পক্ষ থেকে মুক্ত ও উন্মুক্ত ইন্দো-প্যাসিফিক বা FOIP-এর বিষয়ে তাদের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরা হয়। একই সঙ্গে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি, BIG-B উদ্যোগ এবং Official Security Assistance-এর আওতায় বাংলাদেশের সঙ্গে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার কথা জানানো হয়েছে।

আরও পড়ুন  এপ্রিলের শুরুতেই রেমিট্যান্সে বড় উল্লম্ফন, ৪ দিনে প্রবৃদ্ধি ৪২৫ শতাংশ

বাংলাদেশের বড় অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পে জাপানের সহযোগিতার বিষয়টিও আলোচনায় গুরুত্ব পায়। মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর ও বিদ্যুৎ প্রকল্প, ঢাকা মেট্রোরেল এবং হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালের মতো প্রকল্পে জাপানের সহায়তার কথা তুলে ধরা হয়। পররাষ্ট্রসচিব আশা প্রকাশ করেন, অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ আরও বাড়তে পারে। পাশাপাশি দুই দেশের বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান জানান তিনি।

প্রতিরক্ষা সহযোগিতার ক্ষেত্রেও দুই দেশের মধ্যে নতুন অগ্রগতি হয়েছে। বৈঠকে জাপানের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর কাছে সম্প্রতি পাঁচটি টহল নৌযান হস্তান্তরের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে দক্ষ জনশক্তি ও মানুষের যোগাযোগ বাড়ানোর বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়। বাংলাদেশ থেকে আরও দক্ষ কর্মীর জন্য জাপানে সুযোগ তৈরি এবং শিক্ষা, সংস্কৃতি ও নাগরিক সমাজের মধ্যে বিনিময় বাড়ানোর আহ্বান জানানো হয়েছে। এসব উদ্যোগ দুই দেশের জনগণের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া আরও গভীর করতে ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন  চট্টগ্রাম বন্দরে কনটেইনার জটের সর্বশেষ অবস্থা

রোহিঙ্গা সংকটও বৈঠকের গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় ছিল। বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গার কারণে দেশের ওপর যে বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে, তা তুলে ধরেন পররাষ্ট্রসচিব। তিনি রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে নিরাপদ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের জন্য জাপানের অব্যাহত সহযোগিতা কামনা করেন। একই সঙ্গে জাতিসংঘ সনদের মূলনীতি এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়ে পারস্পরিক সহযোগিতা বজায় রাখার বিষয়েও একমত হয়েছে ঢাকা ও টোকিও। অভিন্ন স্বার্থের বিভিন্ন ইস্যুতে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক ফোরামে কাছাকাছি থেকে কাজ করার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেছে দুই দেশ।

আরও পড়ুন  বাংলাদেশ ইংল্যান্ড টেস্ট ২০২৭: দুর্দান্ত সুখবর, লর্ডসে খেলবে টাইগাররা

বৈঠকের শেষ পর্যায়ে দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের সফর নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়। জাপানের প্রধানমন্ত্রী তাইয়াচি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সুবিধাজনক সময়ে জাপান সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। একই সঙ্গে ৮১তম জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করা পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানকেও জাপান সফরের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। বাংলাদেশও জাপানের প্রধানমন্ত্রীকে সুবিধাজনক সময়ে ঢাকা সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছে। ফলে সামগ্রিকভাবে বাংলাদেশ-জাপান সম্পর্ককে আরও বিস্তৃত ও কার্যকর করার ক্ষেত্রে সাম্প্রতিক বৈঠকটি নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলেছে।