পুরুষ নির্যাতন প্রতিরোধে আলাদা কোনো আইন প্রয়োজন কি না, এ নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে পুরুষ নির্যাতন দমন আইন চেয়ে করা একটি রিট হাইকোর্টে খারিজ হওয়ার পর বিষয়টি নতুন করে সামনে আসে।
আইনজীবী জিসান তাসফিকের মতে, পুরুষ নির্যাতনের অভিযোগের ক্ষেত্রে আলাদা আইন প্রণয়নের আগে প্রচলিত আইন ও বিচারব্যবস্থার কার্যকারিতা পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, দেশে শারীরিক, মানসিক, আর্থিক, সম্পত্তি ও পারিবারিক নির্যাতনসহ বিভিন্ন অপরাধের প্রতিকারের জন্য ইতোমধ্যে একাধিক আইন রয়েছে। এসব আইনের আওতায় অপরাধের বিচার ও প্রতিকারের সুযোগ রয়েছে।
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, অপহরণ, ধর্ষণ, যৌতুক, যৌন নিপীড়ন ও সংশ্লিষ্ট গুরুতর অপরাধের জন্য বিশেষ বিচারব্যবস্থা ও আদালতের ব্যবস্থা রয়েছে। বিশেষ আদালত প্রতিষ্ঠার ফলে এসব মামলার বিচার আলাদা কাঠামোয় পরিচালিত হয়।
তার মতে, পুরুষ নির্যাতনের জন্য নতুন করে বিশেষ আইন করা হলে সেই আইনে কোন ধরনের আচরণ বা অপরাধকে নির্যাতন হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হবে, কী ধরনের বিচারব্যবস্থা থাকবে এবং কী ধরনের প্রতিকার দেওয়া হবে, তা স্পষ্ট করা জরুরি।
জিসান তাসফিক আরও বলেন, নারী-পুরুষ উভয়ের ক্ষেত্রে সমতার সাংবিধানিক নীতি বিবেচনায় রাখতে হবে। একই সঙ্গে বিশেষ সুবিধা বা বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণের ক্ষেত্রেও যাতে সমতার অধিকার ক্ষুণ্ন না হয়, সেদিকে নজর দেওয়া প্রয়োজন।
পারিবারিক বিরোধের ক্ষেত্রে বিদ্যমান পারিবারিক আদালত ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। তার মতে, নারী ও পুরুষ উভয়ের অনেক সমস্যাই পারিবারিক সম্পর্কের সঙ্গে যুক্ত। তাই প্রয়োজন অনুযায়ী পারিবারিক আদালতের এখতিয়ার ও প্রতিকার ব্যবস্থার উন্নয়ন করা যেতে পারে।
এ ছাড়া পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধে বিদ্যমান আইন ও আদালত ব্যবস্থার কার্যকর প্রয়োগ নিশ্চিত করা জরুরি বলে মনে করেন তিনি।
জিসান তাসফিকের মতে, পুরুষ নির্যাতন নিয়ে আলাদা কোনো বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়ার আগে অপরাধের পরিসংখ্যান, বিদ্যমান আইনের সীমাবদ্ধতা এবং বাস্তব পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন। প্রয়োজন হলে প্রচলিত আইনের দুর্বলতা সংশোধন করেও নির্যাতনের বিরুদ্ধে কার্যকর প্রতিকার নিশ্চিত করা সম্ভব।
জিসান তাসফিক ঢাকা আইনজীবী সমিতির একজন শিক্ষানবীস আইনজীবী।



























