ঢাকা ০৩:৫৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬, ২৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে পণ্য তৈরি, অবৈধ বেকারিকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা Logo জামিন পেয়ে তানজিন তিশার হুঁশিয়ারি, ‘অনেক কিছুই আমার কাছে আছে’ Logo পুরুষ নির্যাতন দমন আইন কি প্রয়োজন? আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে বিশ্লেষণ Logo রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির মনোনয়ন পেলেন মির্জা ফখরুল Logo রাষ্ট্রপতি পদে মির্জা ফখরুল, বিএনপির মহাসচিব কে হচ্ছেন? Logo হাসান মাহমুদের অবিশ্বাস্য কীর্তি, অস্ট্রেলিয়ায় গড়লেন ইতিহাস Logo সুপার কাপ জিতে এনরিকে গড়লেন অনন্য ইতিহাস Logo রাষ্ট্রপতি প্রার্থী অলি আহমদের মনোনয়নপত্র ইসিতে জমা Logo হাসপাতালে শ্বেতা তিওয়ারি,ডেঙ্গু আক্রান্ত অভিনেত্রীর সর্বশেষ অবস্থা Logo ঢাকায় ২,৫০০ কোটি টাকার প্রকল্পে আসছে ৪০০ ইলেকট্রিক বাস

পুরুষ নির্যাতন দমন আইন কি প্রয়োজন? আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে বিশ্লেষণ

জিসান তাসফিক ঢাকা আইনজীবী সমিতির একজন শিক্ষানবীস আইনজীবী। ছবি: সংগৃহীত

পুরুষ নির্যাতন প্রতিরোধে আলাদা কোনো আইন প্রয়োজন কি না, এ নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে পুরুষ নির্যাতন দমন আইন চেয়ে করা একটি রিট হাইকোর্টে খারিজ হওয়ার পর বিষয়টি নতুন করে সামনে আসে।

আইনজীবী জিসান তাসফিকের মতে, পুরুষ নির্যাতনের অভিযোগের ক্ষেত্রে আলাদা আইন প্রণয়নের আগে প্রচলিত আইন ও বিচারব্যবস্থার কার্যকারিতা পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, দেশে শারীরিক, মানসিক, আর্থিক, সম্পত্তি ও পারিবারিক নির্যাতনসহ বিভিন্ন অপরাধের প্রতিকারের জন্য ইতোমধ্যে একাধিক আইন রয়েছে। এসব আইনের আওতায় অপরাধের বিচার ও প্রতিকারের সুযোগ রয়েছে।

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, অপহরণ, ধর্ষণ, যৌতুক, যৌন নিপীড়ন ও সংশ্লিষ্ট গুরুতর অপরাধের জন্য বিশেষ বিচারব্যবস্থা ও আদালতের ব্যবস্থা রয়েছে। বিশেষ আদালত প্রতিষ্ঠার ফলে এসব মামলার বিচার আলাদা কাঠামোয় পরিচালিত হয়।

তার মতে, পুরুষ নির্যাতনের জন্য নতুন করে বিশেষ আইন করা হলে সেই আইনে কোন ধরনের আচরণ বা অপরাধকে নির্যাতন হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হবে, কী ধরনের বিচারব্যবস্থা থাকবে এবং কী ধরনের প্রতিকার দেওয়া হবে, তা স্পষ্ট করা জরুরি।

জিসান তাসফিক আরও বলেন, নারী-পুরুষ উভয়ের ক্ষেত্রে সমতার সাংবিধানিক নীতি বিবেচনায় রাখতে হবে। একই সঙ্গে বিশেষ সুবিধা বা বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণের ক্ষেত্রেও যাতে সমতার অধিকার ক্ষুণ্ন না হয়, সেদিকে নজর দেওয়া প্রয়োজন।

পারিবারিক বিরোধের ক্ষেত্রে বিদ্যমান পারিবারিক আদালত ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। তার মতে, নারী ও পুরুষ উভয়ের অনেক সমস্যাই পারিবারিক সম্পর্কের সঙ্গে যুক্ত। তাই প্রয়োজন অনুযায়ী পারিবারিক আদালতের এখতিয়ার ও প্রতিকার ব্যবস্থার উন্নয়ন করা যেতে পারে।

এ ছাড়া পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধে বিদ্যমান আইন ও আদালত ব্যবস্থার কার্যকর প্রয়োগ নিশ্চিত করা জরুরি বলে মনে করেন তিনি।

জিসান তাসফিকের মতে, পুরুষ নির্যাতন নিয়ে আলাদা কোনো বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়ার আগে অপরাধের পরিসংখ্যান, বিদ্যমান আইনের সীমাবদ্ধতা এবং বাস্তব পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন। প্রয়োজন হলে প্রচলিত আইনের দুর্বলতা সংশোধন করেও নির্যাতনের বিরুদ্ধে কার্যকর প্রতিকার নিশ্চিত করা সম্ভব।

জিসান তাসফিক ঢাকা আইনজীবী সমিতির একজন শিক্ষানবীস আইনজীবী।

জনপ্রিয় সংবাদ

অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে পণ্য তৈরি, অবৈধ বেকারিকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা

পুরুষ নির্যাতন দমন আইন কি প্রয়োজন? আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে বিশ্লেষণ

Update Time : ০১:৪৪:৫০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬

পুরুষ নির্যাতন প্রতিরোধে আলাদা কোনো আইন প্রয়োজন কি না, এ নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে পুরুষ নির্যাতন দমন আইন চেয়ে করা একটি রিট হাইকোর্টে খারিজ হওয়ার পর বিষয়টি নতুন করে সামনে আসে।

আইনজীবী জিসান তাসফিকের মতে, পুরুষ নির্যাতনের অভিযোগের ক্ষেত্রে আলাদা আইন প্রণয়নের আগে প্রচলিত আইন ও বিচারব্যবস্থার কার্যকারিতা পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, দেশে শারীরিক, মানসিক, আর্থিক, সম্পত্তি ও পারিবারিক নির্যাতনসহ বিভিন্ন অপরাধের প্রতিকারের জন্য ইতোমধ্যে একাধিক আইন রয়েছে। এসব আইনের আওতায় অপরাধের বিচার ও প্রতিকারের সুযোগ রয়েছে।

আরও পড়ুন  বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ, যুবকের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, অপহরণ, ধর্ষণ, যৌতুক, যৌন নিপীড়ন ও সংশ্লিষ্ট গুরুতর অপরাধের জন্য বিশেষ বিচারব্যবস্থা ও আদালতের ব্যবস্থা রয়েছে। বিশেষ আদালত প্রতিষ্ঠার ফলে এসব মামলার বিচার আলাদা কাঠামোয় পরিচালিত হয়।

তার মতে, পুরুষ নির্যাতনের জন্য নতুন করে বিশেষ আইন করা হলে সেই আইনে কোন ধরনের আচরণ বা অপরাধকে নির্যাতন হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হবে, কী ধরনের বিচারব্যবস্থা থাকবে এবং কী ধরনের প্রতিকার দেওয়া হবে, তা স্পষ্ট করা জরুরি।

আরও পড়ুন  নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে ২ লাখ ৪৬ হাজার ইয়াবা ও বিদেশি পিস্তল উদ্ধার

জিসান তাসফিক আরও বলেন, নারী-পুরুষ উভয়ের ক্ষেত্রে সমতার সাংবিধানিক নীতি বিবেচনায় রাখতে হবে। একই সঙ্গে বিশেষ সুবিধা বা বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণের ক্ষেত্রেও যাতে সমতার অধিকার ক্ষুণ্ন না হয়, সেদিকে নজর দেওয়া প্রয়োজন।

পারিবারিক বিরোধের ক্ষেত্রে বিদ্যমান পারিবারিক আদালত ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। তার মতে, নারী ও পুরুষ উভয়ের অনেক সমস্যাই পারিবারিক সম্পর্কের সঙ্গে যুক্ত। তাই প্রয়োজন অনুযায়ী পারিবারিক আদালতের এখতিয়ার ও প্রতিকার ব্যবস্থার উন্নয়ন করা যেতে পারে।

আরও পড়ুন  ইসরায়েলি হেফাজতে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ

এ ছাড়া পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধে বিদ্যমান আইন ও আদালত ব্যবস্থার কার্যকর প্রয়োগ নিশ্চিত করা জরুরি বলে মনে করেন তিনি।

জিসান তাসফিকের মতে, পুরুষ নির্যাতন নিয়ে আলাদা কোনো বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়ার আগে অপরাধের পরিসংখ্যান, বিদ্যমান আইনের সীমাবদ্ধতা এবং বাস্তব পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন। প্রয়োজন হলে প্রচলিত আইনের দুর্বলতা সংশোধন করেও নির্যাতনের বিরুদ্ধে কার্যকর প্রতিকার নিশ্চিত করা সম্ভব।

জিসান তাসফিক ঢাকা আইনজীবী সমিতির একজন শিক্ষানবীস আইনজীবী।