বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে এক তরুণীর সঙ্গে দীর্ঘদিন শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের অভিযোগে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) এক নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্ত শুরু করে পুলিশ এবং প্রাথমিক তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে তাকে আটক করা হয়। বর্তমানে তাকে আদালতে হাজির করে আইনি প্রক্রিয়া চলছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত নেতা দীর্ঘদিন ধরে ওই তরুণীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখেন। একপর্যায়ে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে বিয়ের বিষয়টি এড়িয়ে গেলে এবং যোগাযোগ কমিয়ে দিলে ভুক্তভোগী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগে বলা হয়েছে, অভিযুক্ত ব্যক্তি বারবার বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভুক্তভোগীর আস্থা অর্জন করেন। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে বিয়ে না করে নানা অজুহাতে বিষয়টি বিলম্বিত করতে থাকেন। একপর্যায়ে তিনি বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানালে ভুক্তভোগী আইনের আশ্রয় নেন।
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের পর ভুক্তভোগীর বক্তব্য, মোবাইল ফোনে কথোপকথন, বার্তা আদান-প্রদানসহ বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। এসব তথ্য যাচাই-বাছাইয়ের পর অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়। তদন্তে আরও তথ্য পাওয়া গেলে মামলায় অতিরিক্ত ধারাও যুক্ত হতে পারে বলে জানিয়েছে তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, অভিযুক্ত ব্যক্তি এনসিপির একটি ইউনিটে সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করতেন। তবে ঘটনার পর দলীয়ভাবে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
এদিকে, ভুক্তভোগীর পরিবার ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে। তাদের অভিযোগ, বিয়ের প্রতিশ্রুতিকে ব্যবহার করে পরিকল্পিতভাবে প্রতারণা করা হয়েছে এবং এতে ভুক্তভোগী মানসিক ও সামাজিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, বিয়ের মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের অভিযোগের ক্ষেত্রে আদালত ঘটনাপ্রবাহ, প্রমাণ, সাক্ষ্য এবং উভয় পক্ষের বক্তব্য বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত দিয়ে থাকেন। তাই তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কাউকে দোষী বা নির্দোষ হিসেবে চূড়ান্তভাবে বিবেচনা করা উচিত নয়।
পুলিশ জানিয়েছে, মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য ও সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

























