ঢাকা ১২:২৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চট্টগ্রাম বন্দরে ৩ কোটি টাকার কাপড়সহ কনটেইনার গায়েব

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ১২:২৮:১১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৫০০

চট্টগ্রাম বন্দর। ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রাম বন্দরে প্রায় তিন কোটি টাকার ৬৬৮ বেল ফেব্রিক্স সম্বলিত ৪০ ফুট লম্বা একটি কনটেইনারের হদিস পাওয়া যাচ্ছে না। নানা মাধ্যমে বিস্তর খোঁজ নেওয়ার পরও কনটেইনারের কোনো হদিস না পাওয়ায় যাবতীয় বিষয় উল্লেখ করে এ বিষয়ে বন্দর চেয়ারম্যানকে আনুষ্ঠানিক চিঠি দিয়েছেন সিঅ্যান্ডএফ প্রতিষ্ঠান এসআরএস সিন্ডিকেটের মালিক মো. হাফিজুর রহমান।

শতভাগ রপ্তানিমুখী পোশাক শিল্পের অনুকূলে আনা কাঁচামালের এই বিশাল চালানটির খোঁজ না পাওয়ায় বন্দর সংশ্লিষ্ট অনেকেই গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। এসআরএস সিন্ডিকেটের মালিক মো. হাফিজুর রহমান জানান, কাস্টমস ও বন্দরের যাবতীয় চার্জ পরিশোধ করে কনটেইনার ডেলিভারির জন্য গেলেও সেটির হদিস পাওয়া যায়নি।

এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে এটির খোঁজ করেও কোনো তথ্য মেলেনি। কনটেইনারটিতে আসা কাপড়ের রোলগুলো শতভাগ রপ্তানিমুখী এবং এতে প্রায় তিন কোটি টাকার মূল্যবান কাপড় ছিল বলে তিনি জানান।

তিনি আরও জানান, এখন নির্ধারিত সময়ে কাপড়গুলো না পেয়ে তাদের গ্রাহক ঢাকার সাভারের গোল্ড স্টার গার্মেন্টস চরম বিপাকে পড়েছে। এত দিন পরও কনটেইনারটির হদিস না পাওয়ায় তারা নির্ধারিত সময়ে তৈরি পোশাক বায়ারের কাছে পৌঁছাতে ব্যর্থ হবে। এর ফলে প্রতিষ্ঠানটিকে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হবে।

এ বিষয়ে বন্দর সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম বলেন, প্রায় তিন কোটি টাকার ৬৬৮ বেল ফেব্রিক্স সম্বলিত ৪০ ফুট লম্বা একটি কনটেইনারের খোঁজ না পাওয়া-সংক্রান্ত একটি চিঠি তারা পেয়েছেন। এ ঘটনার যাবতীয় বিষয় এখন গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ঢাকার সাভারের গোল্ড স্টার গার্মেন্টসের নামে আমদানি করা এমআরএসইউ-৮৬৯২৮২৭ নম্বরের ওই কনটেইনারটি ‘এমভি এমসিসি ডানাং’ জাহাজ থেকে গত ১৫ আগস্ট চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি-২ বার্থে নামে।

এরপর গত ২২ আগস্ট আমদানিকারকের পক্ষে সিঅ্যান্ডএফ প্রতিষ্ঠান এসআরএস সিন্ডিকেট পণ্য খালাসের জন্য কাস্টমসের অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ড সার্ভারে বিল অব এন্ট্রি দাখিল করে। পরে কাস্টমস ও বন্দরের সব ধরনের রাজস্ব পরিশোধ করে গত ৩০ আগস্ট বন্দরের সিসিটি ইয়ার্ড থেকে কনটেইনারটি খালাসের জন্য যাওয়া হয়।

কিন্তু সে সময় বন্দর কর্তৃপক্ষ কনটেইনারটি কিপ ডাউন এবং ডেলিভারি দিতে পারেনি। উল্টো তারা সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টকেই কনটেইনারটি খুঁজতে বলে। সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট তখন থেকে ২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হন্যে হয়ে খুঁজেও কনটেইনারটির কোনো হদিস পায়নি। সুরক্ষিত বন্দর এলাকা থেকে কনটেইনার গায়েবের এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি নিয়ে এখন সবাই চরম বিব্রত

জনপ্রিয় সংবাদ

চট্টগ্রাম বন্দরে ৩ কোটি টাকার কাপড়সহ কনটেইনার গায়েব

Update Time : ১২:২৮:১১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

চট্টগ্রাম বন্দরে প্রায় তিন কোটি টাকার ৬৬৮ বেল ফেব্রিক্স সম্বলিত ৪০ ফুট লম্বা একটি কনটেইনারের হদিস পাওয়া যাচ্ছে না। নানা মাধ্যমে বিস্তর খোঁজ নেওয়ার পরও কনটেইনারের কোনো হদিস না পাওয়ায় যাবতীয় বিষয় উল্লেখ করে এ বিষয়ে বন্দর চেয়ারম্যানকে আনুষ্ঠানিক চিঠি দিয়েছেন সিঅ্যান্ডএফ প্রতিষ্ঠান এসআরএস সিন্ডিকেটের মালিক মো. হাফিজুর রহমান।

শতভাগ রপ্তানিমুখী পোশাক শিল্পের অনুকূলে আনা কাঁচামালের এই বিশাল চালানটির খোঁজ না পাওয়ায় বন্দর সংশ্লিষ্ট অনেকেই গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। এসআরএস সিন্ডিকেটের মালিক মো. হাফিজুর রহমান জানান, কাস্টমস ও বন্দরের যাবতীয় চার্জ পরিশোধ করে কনটেইনার ডেলিভারির জন্য গেলেও সেটির হদিস পাওয়া যায়নি।

আরও পড়ুন  বাংলাদেশ-মিয়ানমার-চীন অর্থনৈতিক করিডোর প্রস্তাব

এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে এটির খোঁজ করেও কোনো তথ্য মেলেনি। কনটেইনারটিতে আসা কাপড়ের রোলগুলো শতভাগ রপ্তানিমুখী এবং এতে প্রায় তিন কোটি টাকার মূল্যবান কাপড় ছিল বলে তিনি জানান।

তিনি আরও জানান, এখন নির্ধারিত সময়ে কাপড়গুলো না পেয়ে তাদের গ্রাহক ঢাকার সাভারের গোল্ড স্টার গার্মেন্টস চরম বিপাকে পড়েছে। এত দিন পরও কনটেইনারটির হদিস না পাওয়ায় তারা নির্ধারিত সময়ে তৈরি পোশাক বায়ারের কাছে পৌঁছাতে ব্যর্থ হবে। এর ফলে প্রতিষ্ঠানটিকে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হবে।

আরও পড়ুন  বিদিশা সিদ্দিক আদালতে: প্রতারণা মামলার চাঞ্চল্যকর ঘটনা

এ বিষয়ে বন্দর সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম বলেন, প্রায় তিন কোটি টাকার ৬৬৮ বেল ফেব্রিক্স সম্বলিত ৪০ ফুট লম্বা একটি কনটেইনারের খোঁজ না পাওয়া-সংক্রান্ত একটি চিঠি তারা পেয়েছেন। এ ঘটনার যাবতীয় বিষয় এখন গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ঢাকার সাভারের গোল্ড স্টার গার্মেন্টসের নামে আমদানি করা এমআরএসইউ-৮৬৯২৮২৭ নম্বরের ওই কনটেইনারটি ‘এমভি এমসিসি ডানাং’ জাহাজ থেকে গত ১৫ আগস্ট চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি-২ বার্থে নামে।

এরপর গত ২২ আগস্ট আমদানিকারকের পক্ষে সিঅ্যান্ডএফ প্রতিষ্ঠান এসআরএস সিন্ডিকেট পণ্য খালাসের জন্য কাস্টমসের অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ড সার্ভারে বিল অব এন্ট্রি দাখিল করে। পরে কাস্টমস ও বন্দরের সব ধরনের রাজস্ব পরিশোধ করে গত ৩০ আগস্ট বন্দরের সিসিটি ইয়ার্ড থেকে কনটেইনারটি খালাসের জন্য যাওয়া হয়।

আরও পড়ুন  চার সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্কসংকেত, বাড়ছে বৃষ্টি ও ঝড়ের আশঙ্কা

কিন্তু সে সময় বন্দর কর্তৃপক্ষ কনটেইনারটি কিপ ডাউন এবং ডেলিভারি দিতে পারেনি। উল্টো তারা সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টকেই কনটেইনারটি খুঁজতে বলে। সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট তখন থেকে ২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হন্যে হয়ে খুঁজেও কনটেইনারটির কোনো হদিস পায়নি। সুরক্ষিত বন্দর এলাকা থেকে কনটেইনার গায়েবের এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি নিয়ে এখন সবাই চরম বিব্রত