ঢাকা ০৬:০৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬, ১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo সাতকানিয়া মির্জাখীল দরবার শরীফের তিনব্যাপি বার্ষিক ওরশ শরীফ সম্পন্ন Logo সাদুর বউ চরিত্রে তুষির রূপান্তর, ‘রইদে’র পেছনের অজানা গল্প Logo মৃত্যুর পরও জনপ্রিয়তায় অমর, কেন এলভিস প্রিসলি আজও ‘দ্য কিং’? Logo হাম: নতুন ৬ মৃত্যু, ভয়াবহ পরিস্থিতির আপডেট Logo বাংলাদেশ দল: ডারউইনে ঐতিহাসিক জয়ে প্রবাসীদের উচ্ছ্বাস Logo বাংলাদেশ দল: নাজমুলের চোখে ম্যাচসেরা, জয়ের পর কী করবেন? Logo চন্দনাইশে জাতীয় মৎস্য সপ্তাহের বর্ণাঢ্য উদ্বোধন Logo ‘টক্সিক’-এ কিয়ারাকে চুম্বন করেননি ইয়াশ? অভিনেতার বক্তব্যে Logo কাঁদতে কাঁদতে অডিশন থেকে ফিরতেন, কানের দুলেই খুঁজতেন একটু আনন্দ Logo ভালোবাসার জন্য ক্যারিয়ার নিয়েও আপস করতে প্রস্তুত ছিলেন নিকোল কিডম্যান

মৃত্যুর পরও জনপ্রিয়তায় অমর, কেন এলভিস প্রিসলি আজও ‘দ্য কিং’?

মৃত্যুর ৪৯ বছর পরও গ্রেসল্যান্ডে অমলিন এলভিস প্রিসলির স্মৃতি। ছবি: সংগৃহীত

এলভিস প্রিসলি শুধু একজন গায়ক ছিলেন না, তিনি বদলে দিয়েছিলেন সংগীত ও তারকাসংস্কৃতির ধারণা। ১৯৭৭ সালের ১৬ আগস্ট মাত্র ৪২ বছর বয়সে তাঁর মৃত্যু হলেও আজ ৪৯ বছর পরও তিনি ‘দ্য কিং’ নামে পরিচিত। গান, নাচ, পোশাক, অভিনয় ও টেলিভিশন—প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর প্রভাব এত গভীর যে নতুন প্রজন্মও বারবার তাঁকে আবিষ্কার করছে। রক অ্যান্ড রোলকে মূলধারায় নিয়ে আসার পাশাপাশি একজন শিল্পী কীভাবে নিজের কণ্ঠ, শরীর ও ব্যক্তিত্বকে সম্পূর্ণ একটি ব্র্যান্ডে পরিণত করতে পারেন, এলভিস তার অন্যতম বড় উদাহরণ।

এলভিস অ্যারন প্রিসলির জন্ম ১৯৩৫ সালের ৮ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের মিসিসিপির টুপেলোতে। সাধারণ পরিবারে বেড়ে ওঠার সময় গসপেল, ব্লুজ ও কান্ট্রি সংগীত তাঁর শৈশবকে প্রভাবিত করে। পরে মেমফিসে গিয়ে বিভিন্ন সংগীতধারার সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে পরিচিত হন। ১৯৫৪ সালে সান রেকর্ডসে ‘দ্যাটস অল রাইট’ রেকর্ড করার পর তাঁর সম্ভাবনা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। পরের বছর তাঁর রেকর্ডিং চুক্তি আরসিএর হাতে যায়। ১৯৫৬ সালের ‘হার্টব্রেক হোটেল’ তাঁকে জাতীয় পর্যায়ের তারকায় পরিণত করে এবং এরপর তাঁর জনপ্রিয়তা দ্রুত বাড়তে থাকে।

এলভিস প্রিসলির সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল একাধিক সংগীতধারাকে নিজের মতো করে মিশিয়ে দেওয়া। রক অ্যান্ড রোলের পাশাপাশি তিনি গেয়েছেন কান্ট্রি, গসপেল, ব্যালাড ও প্রেমের গান। হাউন্ড ডগ, জেলহাউস রক, ব্লু সুয়েড শুজ, সাসপিশাস মাইন্ডস ও কান্ট হেল্প ফলিং ইন লাভের মতো গান তাঁর বহুমুখী পরিচয় তৈরি করে। তবে তাঁর উত্তরাধিকার নিয়ে বিতর্কও রয়েছে। তাঁর সংগীতের বড় অংশের শিকড় ছিল কৃষ্ণাঙ্গ শিল্পীদের ব্লুজ ও আরঅ্যান্ডবিতে। বর্ণবৈষম্যে বিভক্ত যুক্তরাষ্ট্রে সেই সংগীতকে শ্বেতাঙ্গ শিল্পীর মাধ্যমে বৃহত্তর বাজারে পৌঁছানোর বিষয়টি সাংস্কৃতিক স্বীকৃতি ও অর্থনৈতিক লাভ নিয়ে দীর্ঘ বিতর্কের জন্ম দেয়।

শুধু কণ্ঠ নয়, মঞ্চে এলভিসের শরীরী ভাষাও ছিল তৎকালীন সময়ে বিস্ময়কর। কোমর দোলানো, দ্রুত নড়াচড়া এবং গানের সঙ্গে অভিনয় মিশিয়ে দেওয়ার কারণে তাঁকে নিয়ে সমালোচনাও হয়েছিল। কিন্তু সেই বিতর্কই তাঁর প্রতি মানুষের আগ্রহ বাড়িয়ে দেয়। তাঁর পোশাকও ধীরে ধীরে নিজস্ব পরিচয়ের অংশ হয়ে ওঠে। রঙিন জ্যাকেট, আঁটসাঁট পোশাক, পম্পাডোর চুল ও পরবর্তী সময়ের ঝলমলে জাম্পস্যুট তাঁকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছিল। ফলে তিনি প্রমাণ করেন, একজন সংগীতশিল্পীর পরিচয় শুধু গানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; চেহারা ও পারফরম্যান্সও তারকা হয়ে ওঠার বড় হাতিয়ার হতে পারে।

এলভিসের প্রভাব টেলিভিশন ও সিনেমাতেও ছড়িয়ে পড়ে। ১৯৬৮ সালের ‘৬৮ কামব্যাক স্পেশাল’ তাঁর ক্যারিয়ারে নতুন প্রাণ এনে দেয়। এরপর ১৯৭৩ সালের ‘আলোহা ফ্রম হাওয়াই’ স্যাটেলাইটের মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন দর্শকের কাছে পৌঁছে যায়। অভিনয়জীবনেও তিনি ৩০টির বেশি পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রে কাজ করেন। যদিও তাঁর অনেক সিনেমা বাণিজ্যিক সাফল্য পেলেও ফর্মুলাভিত্তিক গল্পের কারণে তাঁর অভিনয় প্রতিভার পুরোটা কাজে লাগেনি বলে মনে করা হয়। তবু গান, পোশাক, টেলিভিশন ও সিনেমাকে একসঙ্গে ব্যবহার করে আধুনিক পপ তারকার যে ধারণা তৈরি হয়েছে, তার গুরুত্বপূর্ণ পূর্বসূরি ছিলেন তিনি।

১৯৭৭ সালের ১৬ আগস্ট গ্রেসল্যান্ডে এলভিসের মৃত্যু তাঁর জীবনের শেষ অধ্যায় হলেও কিংবদন্তির শুরু যেন সেখান থেকেই। তাঁর মৃত্যুর পর গান, চলচ্চিত্র, বই ও তথ্যচিত্রের মাধ্যমে তিনি বারবার ফিরে এসেছেন। আজও তাঁর বাড়ি গ্রেসল্যান্ডকে ঘিরে পর্যটন ও সাংস্কৃতিক আয়োজন চলছে, আর নতুন প্রজন্মের শিল্পীরা তাঁর গান, পোশাক ও নাচ অনুসরণ করছেন। দারিদ্র্য থেকে বিশ্বখ্যাতি, সাফল্য থেকে ব্যক্তিগত সংকট এবং শেষ পর্যন্ত কিংবদন্তিতে পরিণত হওয়া—এলভিসের জীবন নিজেই এক অসাধারণ গল্প। তাই ৪৯ বছর পরও শুধু ‘এলভিস’ বললেই যে নামটি আলাদা পরিচয়ের প্রয়োজন ছাড়াই সবাই চিনতে পারে, সেটিই সম্ভবত তাঁর ‘দ্য কিং’ হয়ে থাকার সবচেয়ে বড় প্রমাণ।

জনপ্রিয় সংবাদ

সাতকানিয়া মির্জাখীল দরবার শরীফের তিনব্যাপি বার্ষিক ওরশ শরীফ সম্পন্ন

মৃত্যুর পরও জনপ্রিয়তায় অমর, কেন এলভিস প্রিসলি আজও ‘দ্য কিং’?

Update Time : ০৩:৫৫:৫৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬

এলভিস প্রিসলি শুধু একজন গায়ক ছিলেন না, তিনি বদলে দিয়েছিলেন সংগীত ও তারকাসংস্কৃতির ধারণা। ১৯৭৭ সালের ১৬ আগস্ট মাত্র ৪২ বছর বয়সে তাঁর মৃত্যু হলেও আজ ৪৯ বছর পরও তিনি ‘দ্য কিং’ নামে পরিচিত। গান, নাচ, পোশাক, অভিনয় ও টেলিভিশন—প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর প্রভাব এত গভীর যে নতুন প্রজন্মও বারবার তাঁকে আবিষ্কার করছে। রক অ্যান্ড রোলকে মূলধারায় নিয়ে আসার পাশাপাশি একজন শিল্পী কীভাবে নিজের কণ্ঠ, শরীর ও ব্যক্তিত্বকে সম্পূর্ণ একটি ব্র্যান্ডে পরিণত করতে পারেন, এলভিস তার অন্যতম বড় উদাহরণ।

এলভিস অ্যারন প্রিসলির জন্ম ১৯৩৫ সালের ৮ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের মিসিসিপির টুপেলোতে। সাধারণ পরিবারে বেড়ে ওঠার সময় গসপেল, ব্লুজ ও কান্ট্রি সংগীত তাঁর শৈশবকে প্রভাবিত করে। পরে মেমফিসে গিয়ে বিভিন্ন সংগীতধারার সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে পরিচিত হন। ১৯৫৪ সালে সান রেকর্ডসে ‘দ্যাটস অল রাইট’ রেকর্ড করার পর তাঁর সম্ভাবনা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। পরের বছর তাঁর রেকর্ডিং চুক্তি আরসিএর হাতে যায়। ১৯৫৬ সালের ‘হার্টব্রেক হোটেল’ তাঁকে জাতীয় পর্যায়ের তারকায় পরিণত করে এবং এরপর তাঁর জনপ্রিয়তা দ্রুত বাড়তে থাকে।

আরও পড়ুন  সোহিনী সরকার সুখবর নিয়ে জল্পনায় অবশেষে দিলেন ইঙ্গিত

এলভিস প্রিসলির সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল একাধিক সংগীতধারাকে নিজের মতো করে মিশিয়ে দেওয়া। রক অ্যান্ড রোলের পাশাপাশি তিনি গেয়েছেন কান্ট্রি, গসপেল, ব্যালাড ও প্রেমের গান। হাউন্ড ডগ, জেলহাউস রক, ব্লু সুয়েড শুজ, সাসপিশাস মাইন্ডস ও কান্ট হেল্প ফলিং ইন লাভের মতো গান তাঁর বহুমুখী পরিচয় তৈরি করে। তবে তাঁর উত্তরাধিকার নিয়ে বিতর্কও রয়েছে। তাঁর সংগীতের বড় অংশের শিকড় ছিল কৃষ্ণাঙ্গ শিল্পীদের ব্লুজ ও আরঅ্যান্ডবিতে। বর্ণবৈষম্যে বিভক্ত যুক্তরাষ্ট্রে সেই সংগীতকে শ্বেতাঙ্গ শিল্পীর মাধ্যমে বৃহত্তর বাজারে পৌঁছানোর বিষয়টি সাংস্কৃতিক স্বীকৃতি ও অর্থনৈতিক লাভ নিয়ে দীর্ঘ বিতর্কের জন্ম দেয়।

শুধু কণ্ঠ নয়, মঞ্চে এলভিসের শরীরী ভাষাও ছিল তৎকালীন সময়ে বিস্ময়কর। কোমর দোলানো, দ্রুত নড়াচড়া এবং গানের সঙ্গে অভিনয় মিশিয়ে দেওয়ার কারণে তাঁকে নিয়ে সমালোচনাও হয়েছিল। কিন্তু সেই বিতর্কই তাঁর প্রতি মানুষের আগ্রহ বাড়িয়ে দেয়। তাঁর পোশাকও ধীরে ধীরে নিজস্ব পরিচয়ের অংশ হয়ে ওঠে। রঙিন জ্যাকেট, আঁটসাঁট পোশাক, পম্পাডোর চুল ও পরবর্তী সময়ের ঝলমলে জাম্পস্যুট তাঁকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছিল। ফলে তিনি প্রমাণ করেন, একজন সংগীতশিল্পীর পরিচয় শুধু গানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; চেহারা ও পারফরম্যান্সও তারকা হয়ে ওঠার বড় হাতিয়ার হতে পারে।

আরও পড়ুন  অনুপম রায়: ঢাকার কনসার্টের নতুন তারিখ ঘোষণা

এলভিসের প্রভাব টেলিভিশন ও সিনেমাতেও ছড়িয়ে পড়ে। ১৯৬৮ সালের ‘৬৮ কামব্যাক স্পেশাল’ তাঁর ক্যারিয়ারে নতুন প্রাণ এনে দেয়। এরপর ১৯৭৩ সালের ‘আলোহা ফ্রম হাওয়াই’ স্যাটেলাইটের মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন দর্শকের কাছে পৌঁছে যায়। অভিনয়জীবনেও তিনি ৩০টির বেশি পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রে কাজ করেন। যদিও তাঁর অনেক সিনেমা বাণিজ্যিক সাফল্য পেলেও ফর্মুলাভিত্তিক গল্পের কারণে তাঁর অভিনয় প্রতিভার পুরোটা কাজে লাগেনি বলে মনে করা হয়। তবু গান, পোশাক, টেলিভিশন ও সিনেমাকে একসঙ্গে ব্যবহার করে আধুনিক পপ তারকার যে ধারণা তৈরি হয়েছে, তার গুরুত্বপূর্ণ পূর্বসূরি ছিলেন তিনি।

আরও পড়ুন  মধুমিতা সরকার ঢাকার সিনেমায়: চমকপ্রদ নায়িকা হচ্ছেন ‘গুলশানের চামেলি’তে

১৯৭৭ সালের ১৬ আগস্ট গ্রেসল্যান্ডে এলভিসের মৃত্যু তাঁর জীবনের শেষ অধ্যায় হলেও কিংবদন্তির শুরু যেন সেখান থেকেই। তাঁর মৃত্যুর পর গান, চলচ্চিত্র, বই ও তথ্যচিত্রের মাধ্যমে তিনি বারবার ফিরে এসেছেন। আজও তাঁর বাড়ি গ্রেসল্যান্ডকে ঘিরে পর্যটন ও সাংস্কৃতিক আয়োজন চলছে, আর নতুন প্রজন্মের শিল্পীরা তাঁর গান, পোশাক ও নাচ অনুসরণ করছেন। দারিদ্র্য থেকে বিশ্বখ্যাতি, সাফল্য থেকে ব্যক্তিগত সংকট এবং শেষ পর্যন্ত কিংবদন্তিতে পরিণত হওয়া—এলভিসের জীবন নিজেই এক অসাধারণ গল্প। তাই ৪৯ বছর পরও শুধু ‘এলভিস’ বললেই যে নামটি আলাদা পরিচয়ের প্রয়োজন ছাড়াই সবাই চিনতে পারে, সেটিই সম্ভবত তাঁর ‘দ্য কিং’ হয়ে থাকার সবচেয়ে বড় প্রমাণ।