২৪ ক্যারেট গোল্ড সিরাম নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে সৌন্দর্যচর্চায় বেশ আগ্রহ তৈরি হয়েছে। নামের মধ্যেই সোনার কথা থাকায় অনেকের ধারণা, এই সিরাম ব্যবহার করলেই ত্বক দ্রুত উজ্জ্বল ও তারুণ্যদীপ্ত হয়ে উঠবে। তবে বাস্তবে এর কার্যকারিতা অনেকটাই নির্ভর করে সিরামে থাকা অন্যান্য উপাদান ও ব্যক্তির ত্বকের ধরনের ওপর।
সাধারণত ২৪ ক্যারেট গোল্ড সিরাম বলতে এমন স্কিনকেয়ার পণ্যকে বোঝানো হয়, যাতে সূক্ষ্ম সোনার কণা থাকার দাবি করা হয়। অনেক সিরামে এর সঙ্গে হায়ালুরোনিক অ্যাসিড, ভিটামিন, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বা অন্যান্য সক্রিয় উপাদানও থাকে। ফলে শুধু সোনার উপস্থিতি নয়, পুরো উপাদান তালিকাটিও গুরুত্বপূর্ণ।
সোনাকে কেন্দ্র করে সৌন্দর্যচর্চার ইতিহাস বেশ পুরোনো। বর্তমানে গোল্ড ফেশিয়াল ও গোল্ড সিরাম বাজারে জনপ্রিয় হলেও ত্বকের বয়সের ছাপ, দাগছোপ বা ব্রণ কমানোর ক্ষেত্রে সোনার কণার কার্যকারিতা নিয়ে শক্তিশালী বৈজ্ঞানিক প্রমাণ এখনও সীমিত। তাই এটিকে অলৌকিক স্কিনকেয়ার উপাদান হিসেবে দেখা ঠিক নয়।
তবে সিরামে থাকা হায়ালুরোনিক অ্যাসিড ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করতে পারে। ভিটামিন সি থাকলে তা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করতে পারে এবং ত্বকের কিছু ধরনের দাগছোপ ও অসম রং কমাতে সহায়ক হতে পারে। অর্থাৎ পণ্যটি কেনার আগে শুধু ‘গোল্ড’ লেখা দেখার পরিবর্তে পুরো উপাদান তালিকা দেখে নেওয়া বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
ব্যবহারের ক্ষেত্রে প্রথমে মৃদু ফেসওয়াশ দিয়ে মুখ পরিষ্কার করে নিন। এরপর প্রয়োজন হলে টোনার ব্যবহার করে কয়েক ফোঁটা সিরাম মুখ ও ঘাড়ে লাগাতে পারেন। সবশেষে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন। সকালে স্কিনকেয়ার করলে অবশ্যই সানস্ক্রিন ব্যবহার করা উচিত।
নতুন ২৪ ক্যারেট গোল্ড সিরাম ব্যবহারের আগে ত্বকের ছোট একটি অংশে প্যাচ টেস্ট করা ভালো। কারণ যেকোনো প্রসাধনী পণ্য থেকেই কারও কারও ত্বকে লালচে ভাব, চুলকানি বা জ্বালাপোড়া হতে পারে। এমন সমস্যা দেখা দিলে ব্যবহার বন্ধ করে প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
সবশেষে বলা যায়, ২৪ ক্যারেট গোল্ড সিরাম স্কিনকেয়ার রুটিনের একটি অতিরিক্ত পণ্য হতে পারে, তবে ত্বকের যত্নের মূল ভিত্তি হিসেবে এটিকে দেখার কারণ নেই। নিয়মিত ময়েশ্চারাইজার, পর্যাপ্ত সানস্ক্রিন এবং ত্বকের প্রয়োজন অনুযায়ী প্রমাণভিত্তিক উপাদান ব্যবহার করাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।



























