ছাত্রদলের নতুন কমিটি যেকোনো সময় ঘোষণা হতে পারে—এমন আভাসে সংগঠনটির নেতাকর্মীদের মধ্যে বাড়ছে আগ্রহ। কেন্দ্রীয় ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নতুন নেতৃত্ব কারা পাচ্ছেন, তা নিয়ে চলছে শেষ মুহূর্তের আলোচনা। পদপ্রত্যাশীরাও নিজেদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড, সাংগঠনিক দক্ষতা ও দলের প্রতি অবদানের বিষয়গুলো তুলে ধরে শীর্ষ নেতাদের কাছে যোগাযোগ করছেন। ফলে কমিটি ঘোষণার আগে লবিং-তদবিরও বেড়েছে।
ছাত্রদলের নতুন কমিটি গঠনে নবীন ও অভিজ্ঞদের সমন্বয় থাকতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা গেছে। একদিকে নতুন মুখকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে আনার সম্ভাবনা রয়েছে, অন্যদিকে কেন্দ্র, বিশ্ববিদ্যালয় ও হল পর্যায়ে আগে দায়িত্ব পালন করা নেতারাও বিবেচনায় থাকতে পারেন। সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদক—এই তিন গুরুত্বপূর্ণ পদ ঘিরেই সবচেয়ে বেশি আলোচনা চলছে। পাশাপাশি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নেতৃত্ব নিয়েও চলছে নানা হিসাব-নিকাশ।
দলীয় সূত্রের দাবি, নেতৃত্ব নির্বাচনের ক্ষেত্রে আন্দোলনে ভূমিকা, সাংগঠনিক দক্ষতা, রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতা এবং ব্যক্তিগত ভাবমূর্তিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এরই মধ্যে বিদায়ী কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কয়েকজন শীর্ষ নেতা বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। এরপর নতুন কমিটি ঘোষণার সম্ভাবনা আরও জোরালো হয়েছে। শুরুতে ছোট পরিসরের শীর্ষ কমিটি ঘোষণা করে পরে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের সম্ভাবনাও রয়েছে।
কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের আলোচনায় থাকা নেতাদের মধ্যে রয়েছেন আবু আফসান মোহাম্মদ ইয়াহইয়া, আমান উল্লাহ আমান, খোরশেদ আলম সোহেল, কাজী জিয়া উদ্দিন বাসেত, এজাজুল কবির রুয়েল, এইচএম আবু জাফর, আবিদুল ইসলাম খান আবিদ, শেখ তানভীর বারী হামিম, সালেহ মো. আদনান, মঞ্জুরুল আলম রিয়াদ, রিয়াদ রহমান, শরীফ প্রধান শুভ, ফারুক হোসেন, মমিনুল ইসলাম জিসান, ডা. তৌহিদুর রহমান আউয়াল, তরিকুল ইসলাম তারিক, আনিসুর রহমান খন্দকার অনিক, রাজু আহমেদ ও মিনহাজ আহমেদ প্রিন্সসহ আরও কয়েকজন। তাদের মধ্যে কারা শেষ পর্যন্ত শীর্ষ দায়িত্ব পাচ্ছেন, তা নিয়েই এখন সবচেয়ে বেশি আগ্রহ।
আমান উল্লাহ আমানকে ঘিরে তার সমর্থকদের প্রত্যাশাও জোরালো। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক সদস্য সচিব এবং বর্তমানে কেন্দ্রীয় সংসদের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। মাঠপর্যায়ের রাজনীতিতে সক্রিয়তা ও বিভিন্ন আন্দোলনে ভূমিকার কারণে তার নাম গুরুত্বপূর্ণ পদে আলোচনায় রয়েছে বলে সমর্থকদের দাবি। অন্যদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আবিদুল ইসলাম খান আবিদও আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছেন। ডাকসু নির্বাচনে ছাত্রদল মনোনীত প্যানেল থেকে ভিপি প্রার্থী হিসেবে তার অংশগ্রহণ তাকে ক্যাম্পাস রাজনীতিতে পরিচিত করেছে।
শেখ তানভীর বারী হামিমের নামও নতুন নেতৃত্বের আলোচনায় রয়েছে। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কবি জসীম উদ্দীন হল শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কাজ এবং রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয়তার কারণে তার সমর্থকরা তাকে কেন্দ্রীয় কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে দেখতে চান। একইভাবে কাজী জিয়া উদ্দিন বাসেত, মমিনুল ইসলাম জিসান ও রাজু আহমেদসহ আরও কয়েকজন নেতা নিজেদের প্রত্যাশার কথা জানিয়েছেন। তবে শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত দলের শীর্ষ নেতৃত্বের ওপরই নির্ভর করছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের নেতৃত্ব নিয়েও আলাদা করে আলোচনা চলছে। বর্তমান সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস এবং সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপনের নাম সম্ভাব্য নেতৃত্বের তালিকায় রয়েছে। পাশাপাশি গাজী সাদ্দাম হোসেন, ইব্রাহিম খলিল, মাসুদুর রহমান মাসুদ, তারেক হাসান মামুন, নাছির উদ্দীন শাওন ও জাহিদ হাসান শাকিলের নামও আলোচনায় রয়েছে। ক্যাম্পাসে সক্রিয়তা ও সাংগঠনিক ভূমিকার ভিত্তিতে তাদের কেউ কেউ নতুন দায়িত্ব পেতে পারেন বলে নেতাকর্মীদের মধ্যে আলোচনা রয়েছে।
বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ায় নতুন নেতৃত্বের অপেক্ষা আরও বেড়েছে। ২০২৪ সালের মার্চে রাকিবুল ইসলাম রাকিবকে সভাপতি এবং নাছির উদ্দিন নাছিরকে সাধারণ সম্পাদক করে কেন্দ্রীয় আংশিক কমিটি দেওয়া হয়। পরে একই বছরের জুনে ২৬০ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়। ছাত্রদলের খসড়া গঠনতন্ত্র অনুযায়ী কেন্দ্রীয় সংসদের মেয়াদ দুই বছর করার প্রস্তাব রয়েছে। সেই হিসাবে বর্তমান কমিটির মেয়াদ ফেব্রুয়ারিতেই শেষ হয়েছে।
এখন মূল প্রশ্ন হলো, নতুন কমিটিতে কারা জায়গা পাচ্ছেন এবং শীর্ষ তিন পদে কাদের দেখা যাবে। পদপ্রত্যাশীদের ব্যস্ততা, নেতাকর্মীদের অপেক্ষা এবং দলীয় সূত্রের নানা ইঙ্গিত—সব মিলিয়ে ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্ব নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে কৌতূহল তৈরি হয়েছে। তবে আলোচনা যতই থাকুক, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত সম্ভাব্য তালিকার কোনো নামকেই নিশ্চিত বলা যাচ্ছে না। কমিটি ঘোষণার পরই স্পষ্ট হবে ছাত্রদলের আগামী দিনের নেতৃত্ব কোন পথে এগোচ্ছে।




























