ঢাকা ০৮:৫৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬, ২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিসিএস ভাইভায় বড় পরিবর্তন, গুরুত্ব পাবে বাস্তব দক্ষতা

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০৫:৫৩:৪৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬
  • ৫০৪

বিসিএস ভাইভায় এবার গুরুত্ব পেতে পারে প্রার্থীর বাস্তব অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা

বিসিএসের মৌখিক পরীক্ষার পদ্ধতিতে পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি)। প্রচলিত জ্ঞাননির্ভর প্রশ্নের পাশাপাশি প্রার্থীর বাস্তব দক্ষতা, আচরণ ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা যাচাইয়ে ‘কম্পিটেন্সি-বেজড ইন্টারভিউ’ বা যোগ্যতাভিত্তিক সাক্ষাৎকার পদ্ধতি যুক্ত করার কাজ চলছে। পিএসসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোবাশ্বের মোনেমের নেতৃত্বে চলমান সংস্কার কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এ বিষয়ে প্রশিক্ষণ ও প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে।

বিসিএসের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ভাইভা তৃতীয় ও শেষ ধাপ। পিএসসির তথ্য অনুযায়ী, প্রিলিমিনারিতে ২০০ এবং লিখিত পরীক্ষায় ৯০০ নম্বরের পর মৌখিক পরীক্ষা হয় ২০০ নম্বরে। এত দিন ভাইভায় নিজের পরিচয়, শিক্ষাগত বিষয়, ক্যাডার পছন্দ, দেশ-বিদেশের সাম্প্রতিক ঘটনা ও বিভিন্ন বিষয়ে জ্ঞান যাচাইয়ের পাশাপাশি ব্যক্তিত্ব ও উপস্থাপনাও গুরুত্ব পেয়েছে।

নতুন পদ্ধতির মূল পার্থক্য হলো, একজন প্রার্থী নিজেকে ‘দক্ষ’ বা ‘ভালো নেতা’ বলছেন কি না, শুধু সেটি শোনা হবে না। বরং তিনি বাস্তবে কোনো পরিস্থিতিতে কী করেছিলেন, কেন করেছিলেন এবং তার ফল কী হয়েছিল—সেসব জানতে চাওয়া হতে পারে। অর্থাৎ মুখস্থ করা উত্তরের চেয়ে বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে দেওয়া উত্তর বেশি কার্যকর হতে পারে।

যেমন, ‘আপনি কি চাপের মধ্যে কাজ করতে পারেন?’—এমন সাধারণ প্রশ্নের পরিবর্তে জানতে চাওয়া হতে পারে, ‘কম সময়ের মধ্যে কঠিন কোনো কাজ শেষ করার অভিজ্ঞতা বলুন।’ এতে প্রার্থীকে নিজের জীবনের একটি নির্দিষ্ট ঘটনা তুলে ধরতে হবে। সেই ঘটনার পরিস্থিতি, নিজের দায়িত্ব, নেওয়া পদক্ষেপ এবং শেষ ফলাফল—সবকিছু ব্যাখ্যা করার সুযোগ থাকবে।

এ ধরনের সাক্ষাৎকারে নেতৃত্বের দক্ষতাও বাস্তব উদাহরণের মাধ্যমে বোঝার চেষ্টা করা হয়। ধরুন, বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো সংগঠন, বিতর্ক, স্বেচ্ছাসেবী কার্যক্রম কিংবা দলগত প্রকল্পে সদস্যদের মধ্যে মতবিরোধ তৈরি হয়েছিল। প্রার্থী কীভাবে সমস্যাটি সামলেছেন, অন্যদের মতামত কীভাবে বিবেচনা করেছেন এবং শেষ পর্যন্ত কাজটি কীভাবে এগিয়ে নিয়েছেন—এগুলো থেকেই তাঁর আচরণগত দক্ষতা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া সম্ভব।

চাকরির অভিজ্ঞতা না থাকলেও তাই প্রার্থীদের দুশ্চিন্তার কারণ নেই। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন কার্যক্রম, স্বেচ্ছাসেবা, সামাজিক উদ্যোগ, সাংগঠনিক দায়িত্ব, দলগত কাজ কিংবা ব্যক্তিগত জীবনের কোনো বাস্তব সমস্যা সামলানোর অভিজ্ঞতাও উদাহরণ হিসেবে কাজে আসতে পারে। এখানে মূল বিষয় চাকরি করেছেন কি না নয়; বরং কোনো পরিস্থিতিতে নিজের ভূমিকা কী ছিল এবং কীভাবে সেটি সামলেছেন।

আন্তর্জাতিকভাবেও competency-based interview-এ এ ধরনের আচরণগত উদাহরণকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। কানাডার পাবলিক সার্ভিস কমিশনের নির্দেশিকায় নির্দিষ্ট যোগ্যতা ও কাজের সঙ্গে সম্পর্কিত আচরণ যাচাই করার জন্য competency-based প্রশ্ন তৈরির কথা বলা হয়েছে। এ ধরনের প্রশ্নের মাধ্যমে প্রার্থী কোনো নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে কীভাবে আচরণ করেছেন, তা তুলনামূলকভাবে মূল্যায়ন করা যায়।

বাংলাদেশেও পিএসসির সংস্কার কার্যক্রমে competency-based assessment নিয়ে কাজ এগোচ্ছে। ২০২৬ সালের সংস্কার প্রতিবেদনে পিএসসি ও ইউএনডিপির সহযোগিতায় competency-based assessment, গবেষণা ও CBI training-এর কথা উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে পিএসসি চেয়ারম্যানও নিয়োগ ব্যবস্থায় দক্ষতা ও যোগ্যতাভিত্তিক মূল্যায়নের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন।

ফলে বিসিএস প্রার্থীদের প্রস্তুতির তালিকায় এখন শুধু বইয়ের তথ্য নয়, নিজের অভিজ্ঞতাও যুক্ত করা যেতে পারে। জীবনে নেতৃত্ব দেওয়া, কঠিন পরিস্থিতি সামলানো, ভুল থেকে বেরিয়ে আসা, দলগত দ্বন্দ্ব মেটানো কিংবা সীমিত সময়ের মধ্যে কোনো কাজ শেষ করার অন্তত কয়েকটি বাস্তব ঘটনা মনে করে রাখা ভালো।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, কোনো ঘটনা বানিয়ে বলা যাবে না। নিজের সত্যিকারের অভিজ্ঞতা সংক্ষেপে, পরিষ্কারভাবে এবং ধারাবাহিকভাবে তুলে ধরার অভ্যাস করতে হবে। কারণ ভবিষ্যতের মূল্যায়নে শুধু ‘আমি পারি’ বলা নয়, প্রয়োজনে ‘আমি কীভাবে পেরেছি’—সেটিও ব্যাখ্যা করার সক্ষমতা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

বিসিএস ভাইভায় বড় পরিবর্তন, গুরুত্ব পাবে বাস্তব দক্ষতা

Update Time : ০৫:৫৩:৪৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬

বিসিএসের মৌখিক পরীক্ষার পদ্ধতিতে পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি)। প্রচলিত জ্ঞাননির্ভর প্রশ্নের পাশাপাশি প্রার্থীর বাস্তব দক্ষতা, আচরণ ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা যাচাইয়ে ‘কম্পিটেন্সি-বেজড ইন্টারভিউ’ বা যোগ্যতাভিত্তিক সাক্ষাৎকার পদ্ধতি যুক্ত করার কাজ চলছে। পিএসসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোবাশ্বের মোনেমের নেতৃত্বে চলমান সংস্কার কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এ বিষয়ে প্রশিক্ষণ ও প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে।

বিসিএসের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ভাইভা তৃতীয় ও শেষ ধাপ। পিএসসির তথ্য অনুযায়ী, প্রিলিমিনারিতে ২০০ এবং লিখিত পরীক্ষায় ৯০০ নম্বরের পর মৌখিক পরীক্ষা হয় ২০০ নম্বরে। এত দিন ভাইভায় নিজের পরিচয়, শিক্ষাগত বিষয়, ক্যাডার পছন্দ, দেশ-বিদেশের সাম্প্রতিক ঘটনা ও বিভিন্ন বিষয়ে জ্ঞান যাচাইয়ের পাশাপাশি ব্যক্তিত্ব ও উপস্থাপনাও গুরুত্ব পেয়েছে।

নতুন পদ্ধতির মূল পার্থক্য হলো, একজন প্রার্থী নিজেকে ‘দক্ষ’ বা ‘ভালো নেতা’ বলছেন কি না, শুধু সেটি শোনা হবে না। বরং তিনি বাস্তবে কোনো পরিস্থিতিতে কী করেছিলেন, কেন করেছিলেন এবং তার ফল কী হয়েছিল—সেসব জানতে চাওয়া হতে পারে। অর্থাৎ মুখস্থ করা উত্তরের চেয়ে বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে দেওয়া উত্তর বেশি কার্যকর হতে পারে।

আরও পড়ুন  নবম পে স্কেলে ১০-২০তম গ্রেডে ৬০% বাড়তে পারে বেতন, ১ম-৯ম গ্রেডে কত?

যেমন, ‘আপনি কি চাপের মধ্যে কাজ করতে পারেন?’—এমন সাধারণ প্রশ্নের পরিবর্তে জানতে চাওয়া হতে পারে, ‘কম সময়ের মধ্যে কঠিন কোনো কাজ শেষ করার অভিজ্ঞতা বলুন।’ এতে প্রার্থীকে নিজের জীবনের একটি নির্দিষ্ট ঘটনা তুলে ধরতে হবে। সেই ঘটনার পরিস্থিতি, নিজের দায়িত্ব, নেওয়া পদক্ষেপ এবং শেষ ফলাফল—সবকিছু ব্যাখ্যা করার সুযোগ থাকবে।

এ ধরনের সাক্ষাৎকারে নেতৃত্বের দক্ষতাও বাস্তব উদাহরণের মাধ্যমে বোঝার চেষ্টা করা হয়। ধরুন, বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো সংগঠন, বিতর্ক, স্বেচ্ছাসেবী কার্যক্রম কিংবা দলগত প্রকল্পে সদস্যদের মধ্যে মতবিরোধ তৈরি হয়েছিল। প্রার্থী কীভাবে সমস্যাটি সামলেছেন, অন্যদের মতামত কীভাবে বিবেচনা করেছেন এবং শেষ পর্যন্ত কাজটি কীভাবে এগিয়ে নিয়েছেন—এগুলো থেকেই তাঁর আচরণগত দক্ষতা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া সম্ভব।

আরও পড়ুন  ব্র্যাকে কনসালট্যান্ট পদে চাকরি, স্নাতক পাসেই আবেদন

চাকরির অভিজ্ঞতা না থাকলেও তাই প্রার্থীদের দুশ্চিন্তার কারণ নেই। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন কার্যক্রম, স্বেচ্ছাসেবা, সামাজিক উদ্যোগ, সাংগঠনিক দায়িত্ব, দলগত কাজ কিংবা ব্যক্তিগত জীবনের কোনো বাস্তব সমস্যা সামলানোর অভিজ্ঞতাও উদাহরণ হিসেবে কাজে আসতে পারে। এখানে মূল বিষয় চাকরি করেছেন কি না নয়; বরং কোনো পরিস্থিতিতে নিজের ভূমিকা কী ছিল এবং কীভাবে সেটি সামলেছেন।

আন্তর্জাতিকভাবেও competency-based interview-এ এ ধরনের আচরণগত উদাহরণকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। কানাডার পাবলিক সার্ভিস কমিশনের নির্দেশিকায় নির্দিষ্ট যোগ্যতা ও কাজের সঙ্গে সম্পর্কিত আচরণ যাচাই করার জন্য competency-based প্রশ্ন তৈরির কথা বলা হয়েছে। এ ধরনের প্রশ্নের মাধ্যমে প্রার্থী কোনো নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে কীভাবে আচরণ করেছেন, তা তুলনামূলকভাবে মূল্যায়ন করা যায়।

বাংলাদেশেও পিএসসির সংস্কার কার্যক্রমে competency-based assessment নিয়ে কাজ এগোচ্ছে। ২০২৬ সালের সংস্কার প্রতিবেদনে পিএসসি ও ইউএনডিপির সহযোগিতায় competency-based assessment, গবেষণা ও CBI training-এর কথা উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে পিএসসি চেয়ারম্যানও নিয়োগ ব্যবস্থায় দক্ষতা ও যোগ্যতাভিত্তিক মূল্যায়নের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন।

আরও পড়ুন  মীনা বাজারে নিয়োগ, ২০ বছর হলেই আবেদন

ফলে বিসিএস প্রার্থীদের প্রস্তুতির তালিকায় এখন শুধু বইয়ের তথ্য নয়, নিজের অভিজ্ঞতাও যুক্ত করা যেতে পারে। জীবনে নেতৃত্ব দেওয়া, কঠিন পরিস্থিতি সামলানো, ভুল থেকে বেরিয়ে আসা, দলগত দ্বন্দ্ব মেটানো কিংবা সীমিত সময়ের মধ্যে কোনো কাজ শেষ করার অন্তত কয়েকটি বাস্তব ঘটনা মনে করে রাখা ভালো।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, কোনো ঘটনা বানিয়ে বলা যাবে না। নিজের সত্যিকারের অভিজ্ঞতা সংক্ষেপে, পরিষ্কারভাবে এবং ধারাবাহিকভাবে তুলে ধরার অভ্যাস করতে হবে। কারণ ভবিষ্যতের মূল্যায়নে শুধু ‘আমি পারি’ বলা নয়, প্রয়োজনে ‘আমি কীভাবে পেরেছি’—সেটিও ব্যাখ্যা করার সক্ষমতা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।