ঢাকা ১২:২০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬, ৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo বিতর্ক কর্মশালা: যুক্তির শক্তিতে এগিয়ে যাওয়ার দারুণ বার্তা Logo ভাটারা সড়ক দুর্ঘটনা: ৩২ বছরের সাজ্জাদের মর্মান্তিক মৃত্যু Logo মেকআপ করা কি সত্যিই ত্বকের জন্য ক্ষতিকর জানুন আসল তথ্য Logo বার সাবান নাকি বডি ওয়াশ ত্বকের জন্য কোনটি ভালো Logo দ্য অডিসি: দুর্দান্ত আয়ে ভাঙল R-rated সিনেমার রেকর্ড Logo ফেরদৌস স্টিলে ১০ শ্রমিকের মৃত্যু কারণ অনুসন্ধানে মিলল বিষাক্ত গ্যাস Logo অর্পিতার রেস্তোরাঁয় চমকপ্রদ দাম, মাছ ১০ হাজার থেকে পানীয় লাখে Logo জঙ্গল দক্ষিণ পাহাড়তলী, বড় উদ্যোগে রুখবে পাহাড় দখল Logo সালমান শাহকে ঘিরে ভক্তদের আবেগের গল্প নিয়ে নির্মিত ‘লাভ ৯৬’ Logo ভয়াবহ জ্বালানি সংকটে চট্টগ্রামের ২৮ বিদ্যুৎকেন্দ্রের ছয়টি বন্ধ

ভাটারা সড়ক দুর্ঘটনা: ৩২ বছরের সাজ্জাদের মর্মান্তিক মৃত্যু

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ১১:২৩:২০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬
  • ৫০২

ভাটারা সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ৩২ বছরের সাজ্জাদ হোসেন। ছবি: সংগৃহীত

ভাটারা সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন ৩২ বছরের সাজ্জাদ হোসেন। প্রতিদিনের মতো শুক্রবার সকালে মোটরসাইকেল নিয়ে কর্মস্থলে গিয়েছিলেন তিনি। রাজধানীর যমুনা ফিউচার পার্কে একটি কাপড়ের দোকানে কর্মচারী হিসেবে কাজ করতেন সাজ্জাদ। কাজ শেষে মহাখালীর বাসায় ফেরার পথে ভাটারা ১০০ ফুট সড়কে একটি প্রাইভেট কার পেছন থেকে তাঁর মোটরসাইকেলকে ধাক্কা দেয়। এতে ছিটকে রাস্তায় পড়ে গুরুতর আহত হন তিনি।

শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে ঘটে ভাটারা সড়ক দুর্ঘটনাটি। সাজ্জাদ রাজধানীর মহাখালীর মধ্যপাড়ার বাসিন্দা ছিলেন। সকালে বাসা থেকে মোটরসাইকেলে করে কর্মস্থলে যাওয়ার পর কাজ শেষে আবার বাড়ির উদ্দেশে রওনা দিয়েছিলেন তিনি। পথে একটি প্রাইভেট কার পেছন থেকে তাঁর মোটরসাইকেলে ধাক্কা দিলে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কে পড়ে যান সাজ্জাদ। দুর্ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যান।

প্রথমে সাজ্জাদকে গুলশানের ইউনাইটেড হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে খবর পেয়ে স্বজনেরা তাঁকে জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (পঙ্গু হাসপাতাল) নিয়ে যান। সেখানে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিকেলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে স্থানান্তর করা হয়। তবে চিকিৎসকদের চেষ্টা সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত তাঁকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। ঢামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক বেলা তিনটার দিকে তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের পরিদর্শক মো. ফারুক সাজ্জাদের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, দুর্ঘটনার বিষয়টি ভাটারা থানাকে জানানো হয়েছে। আকস্মিক এই ঘটনায় স্বজনদের মধ্যে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। কর্মস্থলে যাওয়ার জন্য প্রতিদিনের মতো বাড়ি থেকে বের হয়েছিলেন সাজ্জাদ। কিন্তু কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানেই তাঁর জীবনের সবকিছু থেমে যায়।

চার ভাই-বোনের মধ্যে সাজ্জাদ ছিলেন পরিবারের একমাত্র ছেলে। তাঁর বাবা শাহজাহান গাজি বিমানবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত কর্মী। স্বজন আনিসুর রহমান জানান, মাত্র সাত-আট মাস আগে বিয়ে করেছিলেন সাজ্জাদ। তবে তাঁর স্ত্রীকে এখনো সাজ্জাদদের বাড়িতে আনা হয়নি। পরিবারের একমাত্র ছেলে হিসেবে সাজ্জাদের আকস্মিক মৃত্যু স্বজনদের জন্য বড় ধরনের শোক হয়ে এসেছে। নতুন সংসার শুরু করার অল্প সময়ের মধ্যেই এমন মর্মান্তিক পরিণতি মেনে নিতে পারছেন না তাঁরা।

সাজ্জাদের চাচাতো ভাই আনিসুর রহমান আক্ষেপ করে বলেন, প্রতিদিনের মতো কাজে যাওয়ার জন্য বাড়ি থেকে বের হওয়া সেই সকালেই থেমে গেল তাঁর জীবন। স্বজনদের কাছে জীবিত ফিরে আসার বদলে বিকেলে ফিরল তাঁর নিথর দেহ। একটি সড়ক দুর্ঘটনা মুহূর্তের মধ্যেই কেড়ে নিল পরিবারের একমাত্র ছেলেকে। সাজ্জাদের এই মৃত্যু আবারও রাজধানীর ব্যস্ত সড়কে মোটরসাইকেলসহ সব ধরনের যানবাহন চালানোর সময় সর্বোচ্চ সতর্কতা ও ট্রাফিক আইন মেনে চলার প্রয়োজনীয়তার কথা মনে করিয়ে দিল।

জনপ্রিয় সংবাদ

বিতর্ক কর্মশালা: যুক্তির শক্তিতে এগিয়ে যাওয়ার দারুণ বার্তা

ভাটারা সড়ক দুর্ঘটনা: ৩২ বছরের সাজ্জাদের মর্মান্তিক মৃত্যু

Update Time : ১১:২৩:২০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬

ভাটারা সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন ৩২ বছরের সাজ্জাদ হোসেন। প্রতিদিনের মতো শুক্রবার সকালে মোটরসাইকেল নিয়ে কর্মস্থলে গিয়েছিলেন তিনি। রাজধানীর যমুনা ফিউচার পার্কে একটি কাপড়ের দোকানে কর্মচারী হিসেবে কাজ করতেন সাজ্জাদ। কাজ শেষে মহাখালীর বাসায় ফেরার পথে ভাটারা ১০০ ফুট সড়কে একটি প্রাইভেট কার পেছন থেকে তাঁর মোটরসাইকেলকে ধাক্কা দেয়। এতে ছিটকে রাস্তায় পড়ে গুরুতর আহত হন তিনি।

শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে ঘটে ভাটারা সড়ক দুর্ঘটনাটি। সাজ্জাদ রাজধানীর মহাখালীর মধ্যপাড়ার বাসিন্দা ছিলেন। সকালে বাসা থেকে মোটরসাইকেলে করে কর্মস্থলে যাওয়ার পর কাজ শেষে আবার বাড়ির উদ্দেশে রওনা দিয়েছিলেন তিনি। পথে একটি প্রাইভেট কার পেছন থেকে তাঁর মোটরসাইকেলে ধাক্কা দিলে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কে পড়ে যান সাজ্জাদ। দুর্ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যান।

আরও পড়ুন  রূপগঞ্জে পুকুরে নামার পর দুই শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু

প্রথমে সাজ্জাদকে গুলশানের ইউনাইটেড হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে খবর পেয়ে স্বজনেরা তাঁকে জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (পঙ্গু হাসপাতাল) নিয়ে যান। সেখানে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিকেলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে স্থানান্তর করা হয়। তবে চিকিৎসকদের চেষ্টা সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত তাঁকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। ঢামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক বেলা তিনটার দিকে তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের পরিদর্শক মো. ফারুক সাজ্জাদের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, দুর্ঘটনার বিষয়টি ভাটারা থানাকে জানানো হয়েছে। আকস্মিক এই ঘটনায় স্বজনদের মধ্যে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। কর্মস্থলে যাওয়ার জন্য প্রতিদিনের মতো বাড়ি থেকে বের হয়েছিলেন সাজ্জাদ। কিন্তু কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানেই তাঁর জীবনের সবকিছু থেমে যায়।

আরও পড়ুন  স্কুলছাত্র নিহত: ঝালকাঠিতে বাসচাপায় মর্মান্তিক মৃত্যু

চার ভাই-বোনের মধ্যে সাজ্জাদ ছিলেন পরিবারের একমাত্র ছেলে। তাঁর বাবা শাহজাহান গাজি বিমানবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত কর্মী। স্বজন আনিসুর রহমান জানান, মাত্র সাত-আট মাস আগে বিয়ে করেছিলেন সাজ্জাদ। তবে তাঁর স্ত্রীকে এখনো সাজ্জাদদের বাড়িতে আনা হয়নি। পরিবারের একমাত্র ছেলে হিসেবে সাজ্জাদের আকস্মিক মৃত্যু স্বজনদের জন্য বড় ধরনের শোক হয়ে এসেছে। নতুন সংসার শুরু করার অল্প সময়ের মধ্যেই এমন মর্মান্তিক পরিণতি মেনে নিতে পারছেন না তাঁরা।

আরও পড়ুন  ট্রাকচাপায় কৃষি কর্মকর্তা নিহত: নোয়াখালী দুর্ঘটনার হৃদয়বিদারক ঘটনা

সাজ্জাদের চাচাতো ভাই আনিসুর রহমান আক্ষেপ করে বলেন, প্রতিদিনের মতো কাজে যাওয়ার জন্য বাড়ি থেকে বের হওয়া সেই সকালেই থেমে গেল তাঁর জীবন। স্বজনদের কাছে জীবিত ফিরে আসার বদলে বিকেলে ফিরল তাঁর নিথর দেহ। একটি সড়ক দুর্ঘটনা মুহূর্তের মধ্যেই কেড়ে নিল পরিবারের একমাত্র ছেলেকে। সাজ্জাদের এই মৃত্যু আবারও রাজধানীর ব্যস্ত সড়কে মোটরসাইকেলসহ সব ধরনের যানবাহন চালানোর সময় সর্বোচ্চ সতর্কতা ও ট্রাফিক আইন মেনে চলার প্রয়োজনীয়তার কথা মনে করিয়ে দিল।