ঢাকা ০১:২১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬, ৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চাঁদাবাজ-সন্ত্রাসীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার নির্দেশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ১০:৪৬:৩৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬
  • ৫১৩

চাঁদাবাজি নির্মূলে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। | ছবি: সংগৃহীত

চিহ্নিত চাঁদাবাজ-সন্ত্রাসীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, সারা দেশে বিশেষ করে ঢাকা মেট্রোপলিটনসহ বিভিন্ন মহানগর এলাকায় চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী ও মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান চালাতে হবে। নির্ধারিত সময়ে তাদের আইনের আওতায় আনতে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শনিবার (২২ আগস্ট) সন্ত্রাসীদের হামলায় আহত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইএনটি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. মো. আসাদুর রহমানকে দেখতে হাসপাতালে যান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন। দুই মন্ত্রী চিকিৎসকদের কাছ থেকে আহত চিকিৎসকের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেন এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সহায়তার আশ্বাস দেন।

পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, চিহ্নিত চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী ও মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে সরকার জিরো টলারেন্স নীতি নিয়েছে। সংঘবদ্ধ চাঁদাবাজ চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান আরও জোরদার করা হবে। তিনি বলেন, অপরাধীদের পাশাপাশি তাদের মদদদাতাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে, তারা যত প্রভাবশালীই হোক না কেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, গত ১৭ আগস্ট রাতে অধ্যাপক ডা. মো. আসাদুর রহমান শান্তিনগরে তাঁর চেম্বার থেকে বের হওয়ার সময় সংঘবদ্ধ একটি চাঁদাবাজ চক্রের হামলার শিকার হন। ঘটনার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে চক্রটির সাত সদস্যের মধ্যে মূল হোতাসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের বিভিন্ন এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। দ্রুত অপরাধীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করায় পুলিশ ও গোয়েন্দা শাখার সদস্যদের প্রশংসাও করেন মন্ত্রী।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, চক্রটির মূল হোতা বিদেশে থাকার সময় হুন্ডি ব্যবসায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে দেশে ফিরে একটি অপরাধী চক্র গড়ে তোলে বলে তথ্য পাওয়া গেছে। বড় হাসপাতাল, খ্যাতিমান চিকিৎসক, প্রকৌশলী ও ধনাঢ্য পেশাজীবীদের টার্গেট করে ভয়ভীতি দেখানো, বার্তা পাঠানো এবং পরে শারীরিক হামলার মাধ্যমে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করাই ছিল তাদের উদ্দেশ্য। এ ধরনের কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না বলে জানান তিনি।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জবাবদিহিতার বিষয়েও কঠোর অবস্থানের কথা জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তাঁর ভাষ্য, শুধু চাঁদাবাজ ও অপরাধীদের তালিকা নয়, এসব অপরাধের সঙ্গে কোনো পুলিশ সদস্য জড়িত বা সহযোগিতা করলে তাঁদের তালিকাও তৈরি করা হচ্ছে। অপরাধীদের পাশাপাশি তাদের সহযোগী বা মদদদাতাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা নিয়েও নতুন উদ্যোগের কথা জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, দেশের ৫০০টি হাসপাতালে ১০ জন করে আনসার সদস্য মোতায়েন করা হচ্ছে। কোনো চিকিৎসক নিজস্ব চেম্বার বা ক্লিনিকে নিরাপত্তাঝুঁকি অনুভব করলে পুলিশকে জানানোর পরামর্শও দিয়েছেন তিনি। পরে ধানমন্ডির আনোয়ার খান মডার্ন হাসপাতালে একই চাঁদাবাজ চক্রের হুমকির শিকার ডা. এ কে এম আমিনুল হকের সঙ্গে দেখা করেন মন্ত্রী।

জনপ্রিয় সংবাদ

চাঁদাবাজ-সন্ত্রাসীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার নির্দেশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

Update Time : ১০:৪৬:৩৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬

চিহ্নিত চাঁদাবাজ-সন্ত্রাসীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, সারা দেশে বিশেষ করে ঢাকা মেট্রোপলিটনসহ বিভিন্ন মহানগর এলাকায় চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী ও মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান চালাতে হবে। নির্ধারিত সময়ে তাদের আইনের আওতায় আনতে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শনিবার (২২ আগস্ট) সন্ত্রাসীদের হামলায় আহত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইএনটি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. মো. আসাদুর রহমানকে দেখতে হাসপাতালে যান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন। দুই মন্ত্রী চিকিৎসকদের কাছ থেকে আহত চিকিৎসকের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেন এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সহায়তার আশ্বাস দেন।

আরও পড়ুন  ইসলামী ব্যাংক নিয়ে সংসদে সালাহউদ্দিনের কঠোর মন্তব্য

পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, চিহ্নিত চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী ও মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে সরকার জিরো টলারেন্স নীতি নিয়েছে। সংঘবদ্ধ চাঁদাবাজ চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান আরও জোরদার করা হবে। তিনি বলেন, অপরাধীদের পাশাপাশি তাদের মদদদাতাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে, তারা যত প্রভাবশালীই হোক না কেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, গত ১৭ আগস্ট রাতে অধ্যাপক ডা. মো. আসাদুর রহমান শান্তিনগরে তাঁর চেম্বার থেকে বের হওয়ার সময় সংঘবদ্ধ একটি চাঁদাবাজ চক্রের হামলার শিকার হন। ঘটনার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে চক্রটির সাত সদস্যের মধ্যে মূল হোতাসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের বিভিন্ন এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। দ্রুত অপরাধীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করায় পুলিশ ও গোয়েন্দা শাখার সদস্যদের প্রশংসাও করেন মন্ত্রী।

আরও পড়ুন  বিতর্ক কর্মশালা: যুক্তির শক্তিতে এগিয়ে যাওয়ার দারুণ বার্তা

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, চক্রটির মূল হোতা বিদেশে থাকার সময় হুন্ডি ব্যবসায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে দেশে ফিরে একটি অপরাধী চক্র গড়ে তোলে বলে তথ্য পাওয়া গেছে। বড় হাসপাতাল, খ্যাতিমান চিকিৎসক, প্রকৌশলী ও ধনাঢ্য পেশাজীবীদের টার্গেট করে ভয়ভীতি দেখানো, বার্তা পাঠানো এবং পরে শারীরিক হামলার মাধ্যমে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করাই ছিল তাদের উদ্দেশ্য। এ ধরনের কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না বলে জানান তিনি।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জবাবদিহিতার বিষয়েও কঠোর অবস্থানের কথা জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তাঁর ভাষ্য, শুধু চাঁদাবাজ ও অপরাধীদের তালিকা নয়, এসব অপরাধের সঙ্গে কোনো পুলিশ সদস্য জড়িত বা সহযোগিতা করলে তাঁদের তালিকাও তৈরি করা হচ্ছে। অপরাধীদের পাশাপাশি তাদের সহযোগী বা মদদদাতাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন  রাষ্ট্রপতি পদে মির্জা ফখরুল, বিএনপির মহাসচিব কে হচ্ছেন?

চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা নিয়েও নতুন উদ্যোগের কথা জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, দেশের ৫০০টি হাসপাতালে ১০ জন করে আনসার সদস্য মোতায়েন করা হচ্ছে। কোনো চিকিৎসক নিজস্ব চেম্বার বা ক্লিনিকে নিরাপত্তাঝুঁকি অনুভব করলে পুলিশকে জানানোর পরামর্শও দিয়েছেন তিনি। পরে ধানমন্ডির আনোয়ার খান মডার্ন হাসপাতালে একই চাঁদাবাজ চক্রের হুমকির শিকার ডা. এ কে এম আমিনুল হকের সঙ্গে দেখা করেন মন্ত্রী।