ঢাকা ০৩:৩২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬, ১০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo চন্দনাইশে রহমানিয়া আহমদীয়া মাদ্রাসার উদ্যোগে জশনে জুলুছ ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) অনুষ্ঠিত Logo কৃতি শ্যাননের রাখিবন্ধনের বিজ্ঞাপনের পোশাক নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কঙ্গনা রনৌত। Logo হার্ট অ্যাটাক এড়াতে কোলেস্টেরলের চেয়েও জরুরি যা Logo ‘সোশ্যাল মিডিয়ায় ঢুকলে মনে হয় ক্রাইম প্যাট্রল দেখতেছি! Logo ‘মির্জাপুর’-এর জরিনা হয়ে কী ভয়ংকর অভিজ্ঞতা হয়েছিল অনংশার? Logo একরামুল হত্যা মামলায় বদি ও তিন সেনা কর্মকর্তা গ্রেপ্তার Logo ফিরছে ‘কফি উইথ করণ ৯’দীপাবলিতে,কফি কাউচে একা সালমান খান! Logo ফ্যাশন-ব্যবসা থেকে আইনি লড়াই, ব্লেক লাইভলির অন্য গল্প Logo রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে বড় বাধা, বদলে গেছে রাখাইনের বাস্তবতা Logo বিশ্বাস, সন্দেহ আর প্রতারণার খেলায় দ্য ট্রেইটর্স ২ এখন বিতর্কের কেন্দ্রে।

বাজার স্থিতিশীল রাখতে ৮ হাজার কোটি টাকার নিত্যপণ্য কিনবে টিসিবি

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ১২:৫৫:০৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬
  • ৫১৭

নিত্যপণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখতে ৮ হাজার কোটি টাকার পণ্য কিনবে টিসিবি | ছবি: সংগৃহীত

২০২৬-২৭ অর্থবছরে বাজার স্থিতিশীল রাখতে প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকার নিত্যপণ্য কেনার পরিকল্পনা করেছে সরকারি বিপণন সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ বা টিসিবি। ভোজ্যতেল, মসুর ডাল ও চিনির পাশাপাশি ছোলা ও খেজুরও সংগ্রহ করবে সংস্থাটি।

টিসিবির পরিকল্পনা অনুযায়ী, এসব পণ্যের প্রায় অর্ধেক দেশীয় বাজার থেকে এবং বাকি অংশ আন্তর্জাতিক বাজার থেকে কেনার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে বিদেশি বাজারে দাম, মান ও সরবরাহব্যবস্থা তুলনামূলক সুবিধাজনক হলে আন্তর্জাতিক উৎস থেকে পণ্য কেনার পরিমাণ আরও বাড়তে পারে।

সম্প্রতি রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে টিসিবির চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ ফয়সল আজাদ এসব তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, প্রতিযোগিতামূলক ও নির্ভরযোগ্য উৎস নিশ্চিত করাই পণ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে প্রধান বিবেচনা হবে।

চলতি অর্থবছরের ক্রয় পরিকল্পনায় রয়েছে ২২ কোটি লিটার ভোজ্যতেল, ২ লাখ ২০ হাজার মেট্রিক টন মসুর ডাল, ১ লাখ ১০ হাজার মেট্রিক টন চিনি, ১৪ হাজার মেট্রিক টন ছোলা এবং ৪ হাজার ৪০০ মেট্রিক টন খেজুর। এসব পণ্য পর্যাপ্ত পরিমাণে মজুত রেখে বাজারে সরবরাহ অব্যাহত রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।

নিত্যপণ্যের বাজারে হঠাৎ মূল্যবৃদ্ধি ঠেকাতে শুধু পণ্য কেনাই নয়, মজুত ব্যবস্থাপনাতেও গুরুত্ব দিচ্ছে টিসিবি। মাসভিত্তিক চাহিদা, বরাদ্দ, গুদামে থাকা পণ্য এবং সরবরাহের পথে থাকা পণ্যের তথ্য নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

বর্তমানে সংস্থাটির ৪০টি গুদাম রয়েছে। এর মধ্যে ৯টি নিজস্ব এবং ৩১টি ভাড়ায় নেওয়া। সব মিলিয়ে এসব গুদামের ধারণক্ষমতা প্রায় ৪৮ হাজার ৩৭০ মেট্রিক টন। নিজস্ব গুদামগুলোতে প্রায় ১৩ হাজার ৩৭১ মেট্রিক টন এবং ভাড়ার গুদামগুলোতে প্রায় ৩৪ হাজার ৯৯৯ মেট্রিক টন পণ্য রাখা যায়।

টিসিবির চেয়ারম্যান জানিয়েছেন, বর্তমানে সংস্থাটির মজুত পরিস্থিতি সন্তোষজনক। তবে ভবিষ্যতে পণ্য কেনা ও বাজারে সরবরাহের পরিধি বাড়াতে গুদাম সক্ষমতা আরও বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এ জন্য প্রায় ১০ হাজার মেট্রিক টন অতিরিক্ত মজুত সক্ষমতা তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে ভাড়ার গুদামের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নিজস্ব সংরক্ষণ ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে চায় সংস্থাটি।

বাজার স্থিতিশীল রাখার পাশাপাশি সরকারি ভর্তুকির ওপর নির্ভরতা কমানোর পরিকল্পনাও করছে টিসিবি। সংস্থাটির চেয়ারম্যানের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রতিযোগিতামূলক দামে পণ্য সংগ্রহ করে কিছু পণ্য সামান্য মুনাফায় বিক্রি করার মাধ্যমে ভর্তুকিনির্ভরতা কমানোর চেষ্টা করা হবে।

দেশের বাজারে টিসিবির সরবরাহের গুরুত্বও কম নয়। সংস্থাটি বছরে প্রায় আড়াই লাখ মেট্রিক টন ভোজ্যতেল সরবরাহ করে, যা দেশের মোট বাজারের প্রায় ১৫ শতাংশ। পরিবার পর্যায়ে এর কার্যকর বাজার অংশীদারত্ব আরও বেশি বলে জানিয়েছেন টিসিবির চেয়ারম্যান।

ডাল ও চিনির ক্ষেত্রেও টিসিবি সাধারণ মানুষের চাহিদার একটি উল্লেখযোগ্য অংশ পূরণ করে। ফলে বাজারে এসব পণ্যের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেলে টিসিবির সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।

পণ্যের পরিধিও ধীরে ধীরে বাড়াচ্ছে সংস্থাটি। ভোজ্যতেল, ডাল ও চিনির পাশাপাশি পরীক্ষামূলকভাবে সাবান, ডিটারজেন্ট ও লবণ বিক্রি শুরু হয়েছে। ভবিষ্যতে আটা, বিভিন্ন মসলা, মরিচ ও হলুদসহ আরও কয়েকটি পণ্য তালিকায় যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

তবে নতুন এসব পণ্য সরবরাহের ক্ষেত্রে সরকারি ভর্তুকির ওপর নির্ভর করতে চায় না টিসিবি। চেয়ারম্যান জানিয়েছেন, নিয়মিত বাজারদরের তুলনায় কম দামে পণ্য সরবরাহের চেষ্টা করা হবে, তবে এর জন্য সরকারি ভর্তুকি দেওয়া হবে না।

টিসিবির সুবিধাভোগীদের জন্য স্মার্ট কার্ড ব্যবস্থাও আরও বিস্তৃত করা হচ্ছে। বর্তমানে প্রায় ৮০ লাখ স্মার্ট কার্ড অনুমোদিত হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৭৫ লাখ কার্ড বিতরণ করা হয়েছে। বাকি সুবিধাভোগীদের আগামী পবিত্র ঈদুল ফিতরের আগে স্মার্ট কার্ড দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে।

সুবিধাভোগীদের তালিকাকে স্থির কোনো তালিকা হিসেবে দেখছে না টিসিবি। মৃত্যু, স্থানান্তর কিংবা অন্যান্য কারণে তালিকায় নতুন নাম যুক্ত করা, নাম বাদ দেওয়া বা তথ্য পরিবর্তনের সুযোগ থাকবে। ফলে সময়ের সঙ্গে প্রকৃত সুবিধাভোগীদের অন্তর্ভুক্ত করার ব্যবস্থা চালু থাকবে।

পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক করতে ডিজিটাল ব্যবস্থার দিকেও এগোচ্ছে টিসিবি। বর্তমানে ডিলাররা মোবাইল ফোন ব্যবহার করে সুবিধাভোগীদের স্মার্ট কার্ড স্ক্যান করেন। ভবিষ্যতে বিক্রয়কেন্দ্রে পয়েন্ট অব সেল বা পিওএস মেশিন চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এর ফলে পণ্য কেনার পর গ্রাহকরা লেনদেনের রসিদও পাবেন।

স্মার্টফোন ব্যবহারকারীদের জন্য আলাদা মোবাইলভিত্তিক ব্যবস্থাও তৈরি করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে সুবিধাভোগীরা নিজেদের স্মার্ট কার্ডের তথ্য ডিজিটালভাবে দেখতে পারবেন। পাশাপাশি মোবাইল আর্থিক সেবা বা নগদের মাধ্যমে পণ্যের মূল্য পরিশোধের সুবিধাও যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

টিসিবি এমন একটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম তৈরি করেছে, যার সঙ্গে প্রায় ২১টি সরকারি কর্মসূচি যুক্ত করা সম্ভব বলে জানিয়েছেন চেয়ারম্যান। ভবিষ্যতে অন্যান্য সরকারি সংস্থাও তাদের সুবিধাভোগীকেন্দ্রিক কর্মসূচি এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত করতে পারবে।

টিসিবির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার বড় অংশজুড়ে রয়েছে সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করা। পর্যাপ্ত পণ্য কিনে গুদামে সংরক্ষণ, প্রয়োজন অনুযায়ী দ্রুত বাজারে সরবরাহ এবং প্রকৃত সুবিধাভোগীদের কাছে পণ্য পৌঁছে দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

টিসিবির চেয়ারম্যান জানিয়েছেন, নতুন কোনো পণ্য তালিকায় যুক্ত করার আগে ভোক্তাদের চাহিদা যাচাই করা হবে। অর্থাৎ বাজারে কোন পণ্যের প্রয়োজন বেশি, মানুষের চাহিদা কী—এসব তথ্য বিশ্লেষণ করেই ভবিষ্যতে পণ্যের তালিকা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

সব মিলিয়ে প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকার পণ্য কেনার এই পরিকল্পনা বাজারে নিত্যপণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং মূল্যবৃদ্ধির চাপ সামাল দেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে গুদাম সক্ষমতা বৃদ্ধি, স্মার্ট কার্ড ব্যবস্থার আধুনিকায়ন ও নতুন পণ্য যুক্ত করার উদ্যোগের মাধ্যমে টিসিবির বাজারে হস্তক্ষেপের পরিধি আরও বাড়ানোর প্রস্তুতি চলছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

চন্দনাইশে রহমানিয়া আহমদীয়া মাদ্রাসার উদ্যোগে জশনে জুলুছ ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) অনুষ্ঠিত

বাজার স্থিতিশীল রাখতে ৮ হাজার কোটি টাকার নিত্যপণ্য কিনবে টিসিবি

Update Time : ১২:৫৫:০৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬

২০২৬-২৭ অর্থবছরে বাজার স্থিতিশীল রাখতে প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকার নিত্যপণ্য কেনার পরিকল্পনা করেছে সরকারি বিপণন সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ বা টিসিবি। ভোজ্যতেল, মসুর ডাল ও চিনির পাশাপাশি ছোলা ও খেজুরও সংগ্রহ করবে সংস্থাটি।

টিসিবির পরিকল্পনা অনুযায়ী, এসব পণ্যের প্রায় অর্ধেক দেশীয় বাজার থেকে এবং বাকি অংশ আন্তর্জাতিক বাজার থেকে কেনার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে বিদেশি বাজারে দাম, মান ও সরবরাহব্যবস্থা তুলনামূলক সুবিধাজনক হলে আন্তর্জাতিক উৎস থেকে পণ্য কেনার পরিমাণ আরও বাড়তে পারে।

সম্প্রতি রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে টিসিবির চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ ফয়সল আজাদ এসব তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, প্রতিযোগিতামূলক ও নির্ভরযোগ্য উৎস নিশ্চিত করাই পণ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে প্রধান বিবেচনা হবে।

চলতি অর্থবছরের ক্রয় পরিকল্পনায় রয়েছে ২২ কোটি লিটার ভোজ্যতেল, ২ লাখ ২০ হাজার মেট্রিক টন মসুর ডাল, ১ লাখ ১০ হাজার মেট্রিক টন চিনি, ১৪ হাজার মেট্রিক টন ছোলা এবং ৪ হাজার ৪০০ মেট্রিক টন খেজুর। এসব পণ্য পর্যাপ্ত পরিমাণে মজুত রেখে বাজারে সরবরাহ অব্যাহত রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।

নিত্যপণ্যের বাজারে হঠাৎ মূল্যবৃদ্ধি ঠেকাতে শুধু পণ্য কেনাই নয়, মজুত ব্যবস্থাপনাতেও গুরুত্ব দিচ্ছে টিসিবি। মাসভিত্তিক চাহিদা, বরাদ্দ, গুদামে থাকা পণ্য এবং সরবরাহের পথে থাকা পণ্যের তথ্য নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

বর্তমানে সংস্থাটির ৪০টি গুদাম রয়েছে। এর মধ্যে ৯টি নিজস্ব এবং ৩১টি ভাড়ায় নেওয়া। সব মিলিয়ে এসব গুদামের ধারণক্ষমতা প্রায় ৪৮ হাজার ৩৭০ মেট্রিক টন। নিজস্ব গুদামগুলোতে প্রায় ১৩ হাজার ৩৭১ মেট্রিক টন এবং ভাড়ার গুদামগুলোতে প্রায় ৩৪ হাজার ৯৯৯ মেট্রিক টন পণ্য রাখা যায়।

আরও পড়ুন  নাসিম শাহ চোটে অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য বাইরে, পাকিস্তান সুপার লিগ-এ বড় ধাক্কা

টিসিবির চেয়ারম্যান জানিয়েছেন, বর্তমানে সংস্থাটির মজুত পরিস্থিতি সন্তোষজনক। তবে ভবিষ্যতে পণ্য কেনা ও বাজারে সরবরাহের পরিধি বাড়াতে গুদাম সক্ষমতা আরও বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এ জন্য প্রায় ১০ হাজার মেট্রিক টন অতিরিক্ত মজুত সক্ষমতা তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে ভাড়ার গুদামের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নিজস্ব সংরক্ষণ ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে চায় সংস্থাটি।

বাজার স্থিতিশীল রাখার পাশাপাশি সরকারি ভর্তুকির ওপর নির্ভরতা কমানোর পরিকল্পনাও করছে টিসিবি। সংস্থাটির চেয়ারম্যানের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রতিযোগিতামূলক দামে পণ্য সংগ্রহ করে কিছু পণ্য সামান্য মুনাফায় বিক্রি করার মাধ্যমে ভর্তুকিনির্ভরতা কমানোর চেষ্টা করা হবে।

দেশের বাজারে টিসিবির সরবরাহের গুরুত্বও কম নয়। সংস্থাটি বছরে প্রায় আড়াই লাখ মেট্রিক টন ভোজ্যতেল সরবরাহ করে, যা দেশের মোট বাজারের প্রায় ১৫ শতাংশ। পরিবার পর্যায়ে এর কার্যকর বাজার অংশীদারত্ব আরও বেশি বলে জানিয়েছেন টিসিবির চেয়ারম্যান।

ডাল ও চিনির ক্ষেত্রেও টিসিবি সাধারণ মানুষের চাহিদার একটি উল্লেখযোগ্য অংশ পূরণ করে। ফলে বাজারে এসব পণ্যের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেলে টিসিবির সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।

আরও পড়ুন  সিরাতুন্নবী অনুষ্ঠানমালা উপলক্ষে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের নতুন আয়োজন

পণ্যের পরিধিও ধীরে ধীরে বাড়াচ্ছে সংস্থাটি। ভোজ্যতেল, ডাল ও চিনির পাশাপাশি পরীক্ষামূলকভাবে সাবান, ডিটারজেন্ট ও লবণ বিক্রি শুরু হয়েছে। ভবিষ্যতে আটা, বিভিন্ন মসলা, মরিচ ও হলুদসহ আরও কয়েকটি পণ্য তালিকায় যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

তবে নতুন এসব পণ্য সরবরাহের ক্ষেত্রে সরকারি ভর্তুকির ওপর নির্ভর করতে চায় না টিসিবি। চেয়ারম্যান জানিয়েছেন, নিয়মিত বাজারদরের তুলনায় কম দামে পণ্য সরবরাহের চেষ্টা করা হবে, তবে এর জন্য সরকারি ভর্তুকি দেওয়া হবে না।

টিসিবির সুবিধাভোগীদের জন্য স্মার্ট কার্ড ব্যবস্থাও আরও বিস্তৃত করা হচ্ছে। বর্তমানে প্রায় ৮০ লাখ স্মার্ট কার্ড অনুমোদিত হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৭৫ লাখ কার্ড বিতরণ করা হয়েছে। বাকি সুবিধাভোগীদের আগামী পবিত্র ঈদুল ফিতরের আগে স্মার্ট কার্ড দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে।

সুবিধাভোগীদের তালিকাকে স্থির কোনো তালিকা হিসেবে দেখছে না টিসিবি। মৃত্যু, স্থানান্তর কিংবা অন্যান্য কারণে তালিকায় নতুন নাম যুক্ত করা, নাম বাদ দেওয়া বা তথ্য পরিবর্তনের সুযোগ থাকবে। ফলে সময়ের সঙ্গে প্রকৃত সুবিধাভোগীদের অন্তর্ভুক্ত করার ব্যবস্থা চালু থাকবে।

পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক করতে ডিজিটাল ব্যবস্থার দিকেও এগোচ্ছে টিসিবি। বর্তমানে ডিলাররা মোবাইল ফোন ব্যবহার করে সুবিধাভোগীদের স্মার্ট কার্ড স্ক্যান করেন। ভবিষ্যতে বিক্রয়কেন্দ্রে পয়েন্ট অব সেল বা পিওএস মেশিন চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এর ফলে পণ্য কেনার পর গ্রাহকরা লেনদেনের রসিদও পাবেন।

আরও পড়ুন  যমজ কন্যা জন্মের পর তালাক, শেষমেশ স্ত্রীকে ঘরে নিলেন স্বামী

স্মার্টফোন ব্যবহারকারীদের জন্য আলাদা মোবাইলভিত্তিক ব্যবস্থাও তৈরি করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে সুবিধাভোগীরা নিজেদের স্মার্ট কার্ডের তথ্য ডিজিটালভাবে দেখতে পারবেন। পাশাপাশি মোবাইল আর্থিক সেবা বা নগদের মাধ্যমে পণ্যের মূল্য পরিশোধের সুবিধাও যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

টিসিবি এমন একটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম তৈরি করেছে, যার সঙ্গে প্রায় ২১টি সরকারি কর্মসূচি যুক্ত করা সম্ভব বলে জানিয়েছেন চেয়ারম্যান। ভবিষ্যতে অন্যান্য সরকারি সংস্থাও তাদের সুবিধাভোগীকেন্দ্রিক কর্মসূচি এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত করতে পারবে।

টিসিবির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার বড় অংশজুড়ে রয়েছে সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করা। পর্যাপ্ত পণ্য কিনে গুদামে সংরক্ষণ, প্রয়োজন অনুযায়ী দ্রুত বাজারে সরবরাহ এবং প্রকৃত সুবিধাভোগীদের কাছে পণ্য পৌঁছে দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

টিসিবির চেয়ারম্যান জানিয়েছেন, নতুন কোনো পণ্য তালিকায় যুক্ত করার আগে ভোক্তাদের চাহিদা যাচাই করা হবে। অর্থাৎ বাজারে কোন পণ্যের প্রয়োজন বেশি, মানুষের চাহিদা কী—এসব তথ্য বিশ্লেষণ করেই ভবিষ্যতে পণ্যের তালিকা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

সব মিলিয়ে প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকার পণ্য কেনার এই পরিকল্পনা বাজারে নিত্যপণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং মূল্যবৃদ্ধির চাপ সামাল দেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে গুদাম সক্ষমতা বৃদ্ধি, স্মার্ট কার্ড ব্যবস্থার আধুনিকায়ন ও নতুন পণ্য যুক্ত করার উদ্যোগের মাধ্যমে টিসিবির বাজারে হস্তক্ষেপের পরিধি আরও বাড়ানোর প্রস্তুতি চলছে।