নেপাল-চীন সীমান্তে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে ব্যাপক প্রাণহানি ও ধ্বংসযজ্ঞের ঘটনা ঘটেছে। নেপালের রাসুয়া জেলা ও চীনের তিব্বতের গিরোং সীমান্ত এলাকায় আকস্মিক বন্যা ও কাদামাটির স্রোতে ঘরবাড়ি, সড়ক, সেতু ও বিভিন্ন অবকাঠামো ভেসে গেছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, নেপালে অন্তত ২২ জনের মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। একই সঙ্গে ৩৮৪ পর্যটক নিখোঁজ রয়েছেন, যাদের মধ্যে ২৯১ জন বিদেশি নাগরিক।
নেপাল-চীন সীমান্তের গিরোং এলাকায় ভূমিধসের ভয়াবহ দৃশ্য সিসিটিভি ক্যামেরায় ধরা পড়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, মানুষ প্রাণ বাঁচাতে দৌড়াচ্ছেন। মুহূর্তের মধ্যেই পাহাড় থেকে নেমে আসা মাটি, পাথর ও পানির বিশাল স্রোত সীমান্ত এলাকার স্থাপনা ও যানবাহন ঢেকে ফেলে। চীনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গিরোং পোর্টে এই দুর্যোগের পর সড়ক, যোগাযোগ ও বিদ্যুৎ সংযোগ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
নিখোঁজ পর্যটকদের মধ্যে ভারতীয় নাগরিকের সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি। নেপাল ট্যুরিজম বোর্ডের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, নিখোঁজ ৩৮৪ পর্যটকের মধ্যে ১০৫ জন ভারতীয় এবং ৯৩ জন নেপালি। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, দক্ষিণ কোরিয়াসহ আরও কয়েকটি দেশের নাগরিকও নিখোঁজ রয়েছেন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিখোঁজদের অবস্থান নিশ্চিত করতে কাজ করছে।
দুর্যোগের কারণে নেপালের রাসুয়া জেলার কয়েকটি এলাকায় উদ্ধারকাজও কঠিন হয়ে পড়েছে। অতিরিক্ত পানি ও ধ্বংসাবশেষের কারণে অনেক জায়গায় উদ্ধারকারী হেলিকপ্টার অবতরণ করতে পারছে না। পুলিশ, সেনাবাহিনী ও অন্যান্য উদ্ধারকারী দলকে কাজে নামানো হয়েছে। চীনের পক্ষ থেকেও গিরোং এলাকায় শত শত উদ্ধারকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে।
এই বন্যার সম্ভাব্য কারণ নিয়ে এখনো নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায়নি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, একটি ভূমিকম্পের পর বরফ-পাথরের ধস নদীতে পড়ে আকস্মিক পানির প্রবাহ সৃষ্টি করতে পারে। গবেষকরা লহেন্দে খোলা নদীতে বরফ ও পাথরের ধসকে সম্ভাব্য কারণ হিসেবে দেখছেন। তবে বিষয়টি এখনো তদন্তাধীন। একই সঙ্গে উজানে ধ্বংসাবশেষ জমে থাকায় আরও একটি আকস্মিক বন্যার আশঙ্কার কথাও জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
নেপাল-চীন সীমান্তের এই দুর্যোগে শুধু প্রাণহানি নয়, বড় ধরনের অবকাঠামোগত ক্ষতিও হয়েছে। নেপালের বাড়িঘর, সড়ক, সেতু ও জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দেশটির প্রায় ৪৩০ মেগাওয়াট জলবিদ্যুৎ সক্ষমতা এই দুর্যোগে প্রভাবিত হয়েছে, যা মোট জাতীয় সক্ষমতার ১২ শতাংশেরও বেশি। পরিস্থিতি মোকাবিলায় উদ্ধার তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে এবং ঝুঁকিপূর্ণ নদীতীরবর্তী এলাকার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরে যেতে বলা হয়েছে।




























