ঢাকা ০৮:৪৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬, ১১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo ওমরাহ এজেন্সির নিবন্ধনে সৌদি আরবের ৬ শর্ত Logo কৃত্রিম মাঠে নেইমারের আপত্তি, পালমেইরাস ম্যাচে কী হবে? Logo মহানবী (সা.)-এর উম্মতের প্রতি ভালোবাসার ৫ হৃদয়ছোঁয়া দৃষ্টান্ত Logo কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে সিএনজি চালক বিল্লাল হোসেন হত্যা মামলার প্রধান আসামি মোজাম্মেল গ্রেফতার Logo ঈদে মিলাদুন্নবী: চট্টগ্রামে ৫৫তম জশনে জুলুসে জনসমুদ্র Logo আওয়ারাপান ২ বিশ্বব্যাপী সিনেমার আয় ২০০ কোটি Logo সংরক্ষিত নারী আসনের এমপিদের দায়িত্ব নিয়ে বিতর্ক Logo বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী: ৫ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা Logo সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে গুরুত্বপূর্ণ বিল ও কমিটিতে অগ্রাধিকার পাবে Logo আজ রাতে মুখোমুখি হবে রিয়াল মাদ্রিদ-রিয়াল সোসিয়েদাদ

নেপাল-চীন সীমান্তে ভয়াবহ বন্যা, ২২ মরদেহ উদ্ধার

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০৬:৫৯:০৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬
  • ৫০৬

নেপাল-চীন সীমান্তে বন্যা ও ভূমিধসে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ। | ছবি: সংগৃহীত

নেপাল-চীন সীমান্তে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে ব্যাপক প্রাণহানি ও ধ্বংসযজ্ঞের ঘটনা ঘটেছে। নেপালের রাসুয়া জেলা ও চীনের তিব্বতের গিরোং সীমান্ত এলাকায় আকস্মিক বন্যা ও কাদামাটির স্রোতে ঘরবাড়ি, সড়ক, সেতু ও বিভিন্ন অবকাঠামো ভেসে গেছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, নেপালে অন্তত ২২ জনের মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। একই সঙ্গে ৩৮৪ পর্যটক নিখোঁজ রয়েছেন, যাদের মধ্যে ২৯১ জন বিদেশি নাগরিক।

নেপাল-চীন সীমান্তের গিরোং এলাকায় ভূমিধসের ভয়াবহ দৃশ্য সিসিটিভি ক্যামেরায় ধরা পড়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, মানুষ প্রাণ বাঁচাতে দৌড়াচ্ছেন। মুহূর্তের মধ্যেই পাহাড় থেকে নেমে আসা মাটি, পাথর ও পানির বিশাল স্রোত সীমান্ত এলাকার স্থাপনা ও যানবাহন ঢেকে ফেলে। চীনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গিরোং পোর্টে এই দুর্যোগের পর সড়ক, যোগাযোগ ও বিদ্যুৎ সংযোগ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

নিখোঁজ পর্যটকদের মধ্যে ভারতীয় নাগরিকের সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি। নেপাল ট্যুরিজম বোর্ডের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, নিখোঁজ ৩৮৪ পর্যটকের মধ্যে ১০৫ জন ভারতীয় এবং ৯৩ জন নেপালি। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, দক্ষিণ কোরিয়াসহ আরও কয়েকটি দেশের নাগরিকও নিখোঁজ রয়েছেন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিখোঁজদের অবস্থান নিশ্চিত করতে কাজ করছে।

দুর্যোগের কারণে নেপালের রাসুয়া জেলার কয়েকটি এলাকায় উদ্ধারকাজও কঠিন হয়ে পড়েছে। অতিরিক্ত পানি ও ধ্বংসাবশেষের কারণে অনেক জায়গায় উদ্ধারকারী হেলিকপ্টার অবতরণ করতে পারছে না। পুলিশ, সেনাবাহিনী ও অন্যান্য উদ্ধারকারী দলকে কাজে নামানো হয়েছে। চীনের পক্ষ থেকেও গিরোং এলাকায় শত শত উদ্ধারকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে।

এই বন্যার সম্ভাব্য কারণ নিয়ে এখনো নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায়নি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, একটি ভূমিকম্পের পর বরফ-পাথরের ধস নদীতে পড়ে আকস্মিক পানির প্রবাহ সৃষ্টি করতে পারে। গবেষকরা লহেন্দে খোলা নদীতে বরফ ও পাথরের ধসকে সম্ভাব্য কারণ হিসেবে দেখছেন। তবে বিষয়টি এখনো তদন্তাধীন। একই সঙ্গে উজানে ধ্বংসাবশেষ জমে থাকায় আরও একটি আকস্মিক বন্যার আশঙ্কার কথাও জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

নেপাল-চীন সীমান্তের এই দুর্যোগে শুধু প্রাণহানি নয়, বড় ধরনের অবকাঠামোগত ক্ষতিও হয়েছে। নেপালের বাড়িঘর, সড়ক, সেতু ও জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দেশটির প্রায় ৪৩০ মেগাওয়াট জলবিদ্যুৎ সক্ষমতা এই দুর্যোগে প্রভাবিত হয়েছে, যা মোট জাতীয় সক্ষমতার ১২ শতাংশেরও বেশি। পরিস্থিতি মোকাবিলায় উদ্ধার তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে এবং ঝুঁকিপূর্ণ নদীতীরবর্তী এলাকার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরে যেতে বলা হয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ওমরাহ এজেন্সির নিবন্ধনে সৌদি আরবের ৬ শর্ত

নেপাল-চীন সীমান্তে ভয়াবহ বন্যা, ২২ মরদেহ উদ্ধার

Update Time : ০৬:৫৯:০৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬

নেপাল-চীন সীমান্তে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে ব্যাপক প্রাণহানি ও ধ্বংসযজ্ঞের ঘটনা ঘটেছে। নেপালের রাসুয়া জেলা ও চীনের তিব্বতের গিরোং সীমান্ত এলাকায় আকস্মিক বন্যা ও কাদামাটির স্রোতে ঘরবাড়ি, সড়ক, সেতু ও বিভিন্ন অবকাঠামো ভেসে গেছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, নেপালে অন্তত ২২ জনের মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। একই সঙ্গে ৩৮৪ পর্যটক নিখোঁজ রয়েছেন, যাদের মধ্যে ২৯১ জন বিদেশি নাগরিক।

নেপাল-চীন সীমান্তের গিরোং এলাকায় ভূমিধসের ভয়াবহ দৃশ্য সিসিটিভি ক্যামেরায় ধরা পড়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, মানুষ প্রাণ বাঁচাতে দৌড়াচ্ছেন। মুহূর্তের মধ্যেই পাহাড় থেকে নেমে আসা মাটি, পাথর ও পানির বিশাল স্রোত সীমান্ত এলাকার স্থাপনা ও যানবাহন ঢেকে ফেলে। চীনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গিরোং পোর্টে এই দুর্যোগের পর সড়ক, যোগাযোগ ও বিদ্যুৎ সংযোগ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

আরও পড়ুন  দিল্লি-মুম্বাই এক্সপ্রেসওয়ে দুর্ঘটনা নিয়ে আকর্ষণীয় যে তথ্য জানাল পুলিশ

নিখোঁজ পর্যটকদের মধ্যে ভারতীয় নাগরিকের সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি। নেপাল ট্যুরিজম বোর্ডের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, নিখোঁজ ৩৮৪ পর্যটকের মধ্যে ১০৫ জন ভারতীয় এবং ৯৩ জন নেপালি। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, দক্ষিণ কোরিয়াসহ আরও কয়েকটি দেশের নাগরিকও নিখোঁজ রয়েছেন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিখোঁজদের অবস্থান নিশ্চিত করতে কাজ করছে।

দুর্যোগের কারণে নেপালের রাসুয়া জেলার কয়েকটি এলাকায় উদ্ধারকাজও কঠিন হয়ে পড়েছে। অতিরিক্ত পানি ও ধ্বংসাবশেষের কারণে অনেক জায়গায় উদ্ধারকারী হেলিকপ্টার অবতরণ করতে পারছে না। পুলিশ, সেনাবাহিনী ও অন্যান্য উদ্ধারকারী দলকে কাজে নামানো হয়েছে। চীনের পক্ষ থেকেও গিরোং এলাকায় শত শত উদ্ধারকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে।

আরও পড়ুন  ইরানের বিস্ফোরক হরমুজ প্রণালি বন্ধ ঘোষণা, বিশ্ববাজারে নতুন শঙ্কা

এই বন্যার সম্ভাব্য কারণ নিয়ে এখনো নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায়নি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, একটি ভূমিকম্পের পর বরফ-পাথরের ধস নদীতে পড়ে আকস্মিক পানির প্রবাহ সৃষ্টি করতে পারে। গবেষকরা লহেন্দে খোলা নদীতে বরফ ও পাথরের ধসকে সম্ভাব্য কারণ হিসেবে দেখছেন। তবে বিষয়টি এখনো তদন্তাধীন। একই সঙ্গে উজানে ধ্বংসাবশেষ জমে থাকায় আরও একটি আকস্মিক বন্যার আশঙ্কার কথাও জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

আরও পড়ুন  জনসংখ্যা ১ কোটিতে সীমাবদ্ধ রাখতে কেন গণভোটে যাচ্ছে সুইজারল্যান্ড

নেপাল-চীন সীমান্তের এই দুর্যোগে শুধু প্রাণহানি নয়, বড় ধরনের অবকাঠামোগত ক্ষতিও হয়েছে। নেপালের বাড়িঘর, সড়ক, সেতু ও জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দেশটির প্রায় ৪৩০ মেগাওয়াট জলবিদ্যুৎ সক্ষমতা এই দুর্যোগে প্রভাবিত হয়েছে, যা মোট জাতীয় সক্ষমতার ১২ শতাংশেরও বেশি। পরিস্থিতি মোকাবিলায় উদ্ধার তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে এবং ঝুঁকিপূর্ণ নদীতীরবর্তী এলাকার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরে যেতে বলা হয়েছে।