ঢাকা ১২:১০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬, ১৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চট্টগ্রামের ১৮০ বছরের পুরোনো পীতাম্বর শাহের দোকানে বাঘের দুধ থেকে সজারুর কাঁটা

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০৯:৫১:০৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬
  • ৫২০

প্রাচীন এই দোকানটি যেন চট্টগ্রামের এক জীবন্ত জাদুঘর। ছবি: সংগৃহীত

যাহা মিলিবে না ইহকালে, তাহা মিলিবে চট্টগ্রামের পীতাম্বর শাহের দোকানে। কথাটা চট্টগ্রামের মানুষের মুখে মুখে দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত। আসলেই কি কথাটা সত্যি? বাঘের দুধ থেকে শুরু করে সজারুর কাঁটা, কী নেই প্রায় ১৮০ বছরের পুরোনো এই ঐতিহ্যবাহী দোকানে! চট্টগ্রামের বক্সিরহাট জেল রোডে অবস্থিত বিখ্যাত এই দোকানের যাত্রা শুরু হয়েছিল আজ থেকে প্রায় ১৮০ বছর আগে। জানা যায়, দোকানের প্রতিষ্ঠাতা পীতাম্বর শাহ ঢাকা থেকে পায়ে হেঁটে চট্টগ্রামে এসে এই ভেষজ ওষুধের ব্যবসা শুরু করেছিলেন। কালের পরিক্রমায় দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও বর্তমানে চতুর্থ প্রজন্মের হাত ধরে এই প্রাচীন ঐতিহ্য অত্যন্ত সফলভাবে টিকে আছে।

এই দোকানে ঢুকলেই সবার আগে চোখে পড়ে সারি সারি পুরোনো কাঁচের বোতল, কাঠের ড্রয়ার আর প্রাচীন আমলের ধাতব বাক্স। ভেতরের এই প্রাচীন পরিবেশ দেখলে মনে হয় যেন সময়টা এখানে এসে একদম থমকে আছে। এখানকার সবচেয়ে রহস্যময় পণ্য হিসেবে পরিচিত বাঘের দুধ। কথিত আছে, বাঘের দুধ মাটিতে পড়ে জমাট বেঁধে গেলে পাহাড়ি মানুষেরা তা সংগ্রহ করে এই দোকানে এনে বিক্রি করতেন। তবে চট্টগ্রামের পাহাড়ে এখন আর বাঘ নেই বললেই চলে, তাই বাঘের দুধ রাখা পুরোনো সেই কৌটোগুলো আজ কেবলই খালি পড়ে আছে।

বাঘের দুধ না থাকলেও এখনো এখানে পাওয়া যায় কস্তুরী, সজারুর কাঁটা, সামুদ্রিক ফেনা, মুক্তা, কাশ্মিরী জাফরান এবং জিনসেংয়ের মতো নানা দুর্লভ সামগ্রী। ভেষজ পণ্যের পাশাপাশি এখানে হিন্দু সম্প্রদায়ের পূজা, বিয়ে ও শেষকৃত্যের যাবতীয় উপকরণও খুব সহজেই পাওয়া যায়। এমনকি বিভিন্ন মাজারের জন্য বড় আকারের বিশেষ মোমবাতিও এই দোকানে বিক্রি করা হয়, যা সচরাচর অন্য কোথাও মেলে না। আধুনিকতার ছোঁয়ায় হারিয়ে যেতে বসা হালখাতার ঐতিহ্য এখানে এখনো সগৌরবে টিকে আছে। প্রতি বছর পহেলা বৈশাখে বেশ জাঁকজমকপূর্ণভাবে আয়োজন করা হয় ঐতিহ্যবাহী হালখাতা উৎসবের।

প্রায় ১৮০ বছর পেরিয়ে গেলেও পীতাম্বর শাহের দোকান আজও আপন মহিমায় দাঁড়িয়ে আছে চট্টগ্রামের দীর্ঘ ইতিহাস ও ঐতিহ্যের এক নীরব সাক্ষী হয়ে। ইতিহাস আর ঐতিহ্যের সংমিশ্রণে গড়ে ওঠা প্রাচীন এই প্রতিষ্ঠানটি এখন আর শুধু একটি দোকান নয়, এ যেন চট্টগ্রামের বুকে এক জীবন্ত জাদুঘর। এমন দুষ্প্রাপ্য সামগ্রী ও প্রাচীন ঐতিহ্যের কারণেই মানুষ আজও দূরদূরান্ত থেকে ছুটে আসেন এই দোকানে।

জনপ্রিয় সংবাদ

চট্টগ্রামের ১৮০ বছরের পুরোনো পীতাম্বর শাহের দোকানে বাঘের দুধ থেকে সজারুর কাঁটা

Update Time : ০৯:৫১:০৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬

যাহা মিলিবে না ইহকালে, তাহা মিলিবে চট্টগ্রামের পীতাম্বর শাহের দোকানে। কথাটা চট্টগ্রামের মানুষের মুখে মুখে দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত। আসলেই কি কথাটা সত্যি? বাঘের দুধ থেকে শুরু করে সজারুর কাঁটা, কী নেই প্রায় ১৮০ বছরের পুরোনো এই ঐতিহ্যবাহী দোকানে! চট্টগ্রামের বক্সিরহাট জেল রোডে অবস্থিত বিখ্যাত এই দোকানের যাত্রা শুরু হয়েছিল আজ থেকে প্রায় ১৮০ বছর আগে। জানা যায়, দোকানের প্রতিষ্ঠাতা পীতাম্বর শাহ ঢাকা থেকে পায়ে হেঁটে চট্টগ্রামে এসে এই ভেষজ ওষুধের ব্যবসা শুরু করেছিলেন। কালের পরিক্রমায় দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও বর্তমানে চতুর্থ প্রজন্মের হাত ধরে এই প্রাচীন ঐতিহ্য অত্যন্ত সফলভাবে টিকে আছে।

আরও পড়ুন  বাংলাদেশ ব্যাংকে নগদ জমা রাখতে ব্যর্থ ইসলামী ব্যাংক, বাড়ছে সংকট

এই দোকানে ঢুকলেই সবার আগে চোখে পড়ে সারি সারি পুরোনো কাঁচের বোতল, কাঠের ড্রয়ার আর প্রাচীন আমলের ধাতব বাক্স। ভেতরের এই প্রাচীন পরিবেশ দেখলে মনে হয় যেন সময়টা এখানে এসে একদম থমকে আছে। এখানকার সবচেয়ে রহস্যময় পণ্য হিসেবে পরিচিত বাঘের দুধ। কথিত আছে, বাঘের দুধ মাটিতে পড়ে জমাট বেঁধে গেলে পাহাড়ি মানুষেরা তা সংগ্রহ করে এই দোকানে এনে বিক্রি করতেন। তবে চট্টগ্রামের পাহাড়ে এখন আর বাঘ নেই বললেই চলে, তাই বাঘের দুধ রাখা পুরোনো সেই কৌটোগুলো আজ কেবলই খালি পড়ে আছে।

আরও পড়ুন  চাটগাঁইয়া গান: অসাধারণ লোকসংগীতের হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্য

বাঘের দুধ না থাকলেও এখনো এখানে পাওয়া যায় কস্তুরী, সজারুর কাঁটা, সামুদ্রিক ফেনা, মুক্তা, কাশ্মিরী জাফরান এবং জিনসেংয়ের মতো নানা দুর্লভ সামগ্রী। ভেষজ পণ্যের পাশাপাশি এখানে হিন্দু সম্প্রদায়ের পূজা, বিয়ে ও শেষকৃত্যের যাবতীয় উপকরণও খুব সহজেই পাওয়া যায়। এমনকি বিভিন্ন মাজারের জন্য বড় আকারের বিশেষ মোমবাতিও এই দোকানে বিক্রি করা হয়, যা সচরাচর অন্য কোথাও মেলে না। আধুনিকতার ছোঁয়ায় হারিয়ে যেতে বসা হালখাতার ঐতিহ্য এখানে এখনো সগৌরবে টিকে আছে। প্রতি বছর পহেলা বৈশাখে বেশ জাঁকজমকপূর্ণভাবে আয়োজন করা হয় ঐতিহ্যবাহী হালখাতা উৎসবের।

আরও পড়ুন  বৌদ্ধ-হিন্দু-মুসলিম ঐতিহ্যের মিলনে গড়া এক অনন্য গল্প 'চট্টগ্রামের সাংস্কৃতি'

প্রায় ১৮০ বছর পেরিয়ে গেলেও পীতাম্বর শাহের দোকান আজও আপন মহিমায় দাঁড়িয়ে আছে চট্টগ্রামের দীর্ঘ ইতিহাস ও ঐতিহ্যের এক নীরব সাক্ষী হয়ে। ইতিহাস আর ঐতিহ্যের সংমিশ্রণে গড়ে ওঠা প্রাচীন এই প্রতিষ্ঠানটি এখন আর শুধু একটি দোকান নয়, এ যেন চট্টগ্রামের বুকে এক জীবন্ত জাদুঘর। এমন দুষ্প্রাপ্য সামগ্রী ও প্রাচীন ঐতিহ্যের কারণেই মানুষ আজও দূরদূরান্ত থেকে ছুটে আসেন এই দোকানে।