ঢাকা ১১:২০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

‘তুমি তো চলেই যাবে’ দিয়ে অর্পিতা মিত্রের নতুন পরিচয়

প্রথম নাটকেই দর্শকের প্রশংসা পেয়েছেন অর্পিতা মিত্র। ছবি: সংগৃহীত।

অর্পিতা মিত্র এখন আলোচনায় ‘তুমি তো চলেই যাবে’ নাটকে অভিনয়ের মাধ্যমে। নির্মাতা মাসুম শাহরিয়ারের এই নাটকে ঊর্বী চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকের প্রশংসা পাচ্ছেন তরুণ এই অভিনেত্রী। খায়রুল বাসারের বিপরীতে তাঁর সাবলীল অভিনয় নজর কেড়েছে। অভিনয়ে এটি অর্পিতার প্রথম কাজ হলেও চরিত্রের আবেগ ও সংলাপ উপস্থাপনে তাঁর স্বাভাবিকতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দর্শকদের প্রশংসা কুড়িয়েছে। ফলে নতুন মুখ হিসেবে এরই মধ্যে আলাদা করে পরিচিতি তৈরি হয়েছে তাঁর।

অভিনয়ের আগে অর্পিতার পথচলা শুরু হয়েছিল বিজ্ঞাপনচিত্রের মডেলিং দিয়ে। তাঁর এক বন্ধু নিয়মিত বিজ্ঞাপনচিত্রে কাজ করতেন। সেই বন্ধুর কাছেই টিভিসিতে কাজের সুযোগ পেলে জানাতে বলেছিলেন অর্পিতা। ২০২২ সালে সেই সুযোগ আসে। বন্ধুর মাধ্যমে একটি ব্যাংকের বিজ্ঞাপনচিত্রে কাজের সুযোগ পান তিনি। প্রথমবার ক্যামেরার সামনে দাঁড়ানোর পর একে একে আরও কয়েকটি বিজ্ঞাপনচিত্রে কাজ করেন। এভাবেই মডেলিংয়ের অভিজ্ঞতা ধীরে ধীরে তাঁকে অভিনয়ের দিকে নিয়ে যায়।

মডেলিংয়ের সময়ই নাটকে কাজের প্রস্তাব পেতে শুরু করেন অর্পিতা। তবে প্রথম কাজটি নিয়ে তিনি ছিলেন বেশ বেছে নেওয়া। তাঁর ইচ্ছা ছিল, অভিনয়ে আসলে এমন গল্পে কাজ করবেন, যেখানে শুধু উপস্থিতি নয়, চরিত্র ফুটিয়ে তোলার সুযোগ থাকবে। ‘তুমি তো চলেই যাবে’-এর স্ক্রিপ্ট হাতে পাওয়ার পর ঊর্বী চরিত্রটি তাঁকে আকর্ষণ করে। অর্পিতার মনে হয়েছিল, চরিত্রটির দ্বন্দ্ব ও আচরণের সঙ্গে তাঁর পরিচিত মানুষের জীবনের কিছু বাস্তবতার মিল রয়েছে। সেই কারণেই অডিশন দিয়ে কাজটি বেছে নেন তিনি।

অভিষেকের পরই অর্পিতার অভিনয় নিয়ে দর্শকদের মধ্যে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। নাটকটি দেখার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই তাঁর অভিনয়ের স্বতঃস্ফূর্ততার প্রশংসা করেছেন। দর্শকদের একটি অংশ মনে করছেন, প্রথম কাজেই অর্পিতা চরিত্রটির অনুভূতি যথাযথভাবে তুলে ধরতে পেরেছেন। বিশেষ করে চোখেমুখের অভিব্যক্তি, সংলাপ বলার ধরন এবং সহশিল্পীর সঙ্গে তাঁর অভিনয়ের সামঞ্জস্য প্রশংসা পেয়েছে। নতুন শিল্পীদের মধ্যে প্রথম কাজেই এমন স্বাভাবিক উপস্থিতি খুব বেশি দেখা যায় না বলেও মন্তব্য করেছেন কেউ কেউ।

অর্পিতা মিত্রের বেড়ে ওঠা রাজবাড়ীতে। ছোটবেলা থেকেই পরিবারের সাংস্কৃতিক পরিবেশ তাঁকে শিল্পচর্চার দিকে টেনেছে। তাঁর মা গান করেন, আর অর্পিতাও শৈশব থেকে নাচ ও গানের প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। উচ্চমাধ্যমিক শেষ করার পর ২০১৭ সালে পড়াশোনার জন্য ঢাকায় আসেন তিনি। ২০২৩ সালে শিশুর বিকাশ ও সামাজিক সম্পর্ক বিষয়ে স্নাতক সম্পন্ন করেছেন এই অভিনেত্রী। পড়াশোনার বিষয়টিতে পেশাগতভাবে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ থাকলেও এখন অভিনয়কেই নিজের ক্যারিয়ারের প্রধান পথ হিসেবে দেখতে চান তিনি।

অভিনয়ের ভবিষ্যৎ নিয়েও নিজের লক্ষ্য ঠিক করে রেখেছেন অর্পিতা। ‘দেবী’ কিংবা ‘ইন্দুবালা ভাতের হোটেল’-এর মতো বৈচিত্র্যময় ও নারীজীবনের সংগ্রামকে কেন্দ্র করে তৈরি গল্পে অভিনয়ের ইচ্ছা রয়েছে তাঁর। একই সঙ্গে রোমান্টিক গল্পও পছন্দ করেন এই অভিনেত্রী। বড় পর্দায় কাজ করার স্বপ্ন থাকলেও এখনই সিনেমায় যাওয়ার জন্য তাড়াহুড়া করতে চান না। আপাতত ছোট পর্দায় নিয়মিত অভিনয় করে নিজের দক্ষতা আরও বাড়াতে চান। প্রথম নাটকেই যে সাড়া পেয়েছেন, সেটিকে সামনে এগিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা হিসেবে দেখছেন অর্পিতা।

জনপ্রিয় সংবাদ

হৃতিকপুত্র রেহান রোশনের প্রথম গান, কণ্ঠের সঙ্গে গিটার বাজিয়েছেন

‘তুমি তো চলেই যাবে’ দিয়ে অর্পিতা মিত্রের নতুন পরিচয়

Update Time : ১০:৪৮:৫৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬

অর্পিতা মিত্র এখন আলোচনায় ‘তুমি তো চলেই যাবে’ নাটকে অভিনয়ের মাধ্যমে। নির্মাতা মাসুম শাহরিয়ারের এই নাটকে ঊর্বী চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকের প্রশংসা পাচ্ছেন তরুণ এই অভিনেত্রী। খায়রুল বাসারের বিপরীতে তাঁর সাবলীল অভিনয় নজর কেড়েছে। অভিনয়ে এটি অর্পিতার প্রথম কাজ হলেও চরিত্রের আবেগ ও সংলাপ উপস্থাপনে তাঁর স্বাভাবিকতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দর্শকদের প্রশংসা কুড়িয়েছে। ফলে নতুন মুখ হিসেবে এরই মধ্যে আলাদা করে পরিচিতি তৈরি হয়েছে তাঁর।

অভিনয়ের আগে অর্পিতার পথচলা শুরু হয়েছিল বিজ্ঞাপনচিত্রের মডেলিং দিয়ে। তাঁর এক বন্ধু নিয়মিত বিজ্ঞাপনচিত্রে কাজ করতেন। সেই বন্ধুর কাছেই টিভিসিতে কাজের সুযোগ পেলে জানাতে বলেছিলেন অর্পিতা। ২০২২ সালে সেই সুযোগ আসে। বন্ধুর মাধ্যমে একটি ব্যাংকের বিজ্ঞাপনচিত্রে কাজের সুযোগ পান তিনি। প্রথমবার ক্যামেরার সামনে দাঁড়ানোর পর একে একে আরও কয়েকটি বিজ্ঞাপনচিত্রে কাজ করেন। এভাবেই মডেলিংয়ের অভিজ্ঞতা ধীরে ধীরে তাঁকে অভিনয়ের দিকে নিয়ে যায়।

আরও পড়ুন  যে কারণে বিতর্কের মুখে পড়লো শ্রদ্ধার 'ঈথা' সিনেমা

মডেলিংয়ের সময়ই নাটকে কাজের প্রস্তাব পেতে শুরু করেন অর্পিতা। তবে প্রথম কাজটি নিয়ে তিনি ছিলেন বেশ বেছে নেওয়া। তাঁর ইচ্ছা ছিল, অভিনয়ে আসলে এমন গল্পে কাজ করবেন, যেখানে শুধু উপস্থিতি নয়, চরিত্র ফুটিয়ে তোলার সুযোগ থাকবে। ‘তুমি তো চলেই যাবে’-এর স্ক্রিপ্ট হাতে পাওয়ার পর ঊর্বী চরিত্রটি তাঁকে আকর্ষণ করে। অর্পিতার মনে হয়েছিল, চরিত্রটির দ্বন্দ্ব ও আচরণের সঙ্গে তাঁর পরিচিত মানুষের জীবনের কিছু বাস্তবতার মিল রয়েছে। সেই কারণেই অডিশন দিয়ে কাজটি বেছে নেন তিনি।

অভিষেকের পরই অর্পিতার অভিনয় নিয়ে দর্শকদের মধ্যে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। নাটকটি দেখার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই তাঁর অভিনয়ের স্বতঃস্ফূর্ততার প্রশংসা করেছেন। দর্শকদের একটি অংশ মনে করছেন, প্রথম কাজেই অর্পিতা চরিত্রটির অনুভূতি যথাযথভাবে তুলে ধরতে পেরেছেন। বিশেষ করে চোখেমুখের অভিব্যক্তি, সংলাপ বলার ধরন এবং সহশিল্পীর সঙ্গে তাঁর অভিনয়ের সামঞ্জস্য প্রশংসা পেয়েছে। নতুন শিল্পীদের মধ্যে প্রথম কাজেই এমন স্বাভাবিক উপস্থিতি খুব বেশি দেখা যায় না বলেও মন্তব্য করেছেন কেউ কেউ।

আরও পড়ুন  জারবীনি নিয়ে চমক, পলাশের নতুন জুটি কেন আলোচনায়?

অর্পিতা মিত্রের বেড়ে ওঠা রাজবাড়ীতে। ছোটবেলা থেকেই পরিবারের সাংস্কৃতিক পরিবেশ তাঁকে শিল্পচর্চার দিকে টেনেছে। তাঁর মা গান করেন, আর অর্পিতাও শৈশব থেকে নাচ ও গানের প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। উচ্চমাধ্যমিক শেষ করার পর ২০১৭ সালে পড়াশোনার জন্য ঢাকায় আসেন তিনি। ২০২৩ সালে শিশুর বিকাশ ও সামাজিক সম্পর্ক বিষয়ে স্নাতক সম্পন্ন করেছেন এই অভিনেত্রী। পড়াশোনার বিষয়টিতে পেশাগতভাবে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ থাকলেও এখন অভিনয়কেই নিজের ক্যারিয়ারের প্রধান পথ হিসেবে দেখতে চান তিনি।

আরও পড়ুন  বাংলা নাটক র‍্যাঙ্কিং: চমকপ্রদ পরিবর্তনে ‘বড় ছেলে’ তৃতীয় স্থানে

অভিনয়ের ভবিষ্যৎ নিয়েও নিজের লক্ষ্য ঠিক করে রেখেছেন অর্পিতা। ‘দেবী’ কিংবা ‘ইন্দুবালা ভাতের হোটেল’-এর মতো বৈচিত্র্যময় ও নারীজীবনের সংগ্রামকে কেন্দ্র করে তৈরি গল্পে অভিনয়ের ইচ্ছা রয়েছে তাঁর। একই সঙ্গে রোমান্টিক গল্পও পছন্দ করেন এই অভিনেত্রী। বড় পর্দায় কাজ করার স্বপ্ন থাকলেও এখনই সিনেমায় যাওয়ার জন্য তাড়াহুড়া করতে চান না। আপাতত ছোট পর্দায় নিয়মিত অভিনয় করে নিজের দক্ষতা আরও বাড়াতে চান। প্রথম নাটকেই যে সাড়া পেয়েছেন, সেটিকে সামনে এগিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা হিসেবে দেখছেন অর্পিতা।