ঢাকা ০৯:৪১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬, ১৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo আশা ভোঁসলেকে নিয়ে চমক, একসঙ্গে আমির-শাহরুখ-সালমান Logo মাইকেল জ্যাকসনের আয়: মৃত্যুর পরও কোটি ডলারের রাজত্ব Logo এমবাপ্পের সামনে নতুন ইতিহাস, রোনালদোর রেকর্ড ভাঙতে আর ১১ গোল Logo ইরান-সৌদি সম্পর্ক জোড়া লাগাতে প্রস্তুত তেহরান, বড় বার্তা পেজেশকিয়ানের Logo সারা দেশে বিশেষ অভিযান শুরু, সন্ত্রাসী-চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ Logo মাস্টারদা সূর্য সেন: চট্টগ্রামের অমর বিপ্লবী Logo সিরাজগঞ্জ পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও জনসচেতনতামূলক র‍্যালির মাধ্যমে ডেঙ্গু প্রতিরোধে বিশেষ উদ্যোগ Logo রাঙ্গুনিয়ার অপু দাশের, পাত্রী দেখার কয়েক ঘণ্টা পরই সড়কে ঝরল প্রাণ Logo কলেরা টিকা নিয়ে স্বস্তি, নির্দিষ্ট সময়ের আগেই সাড়া Logo এআই দিয়ে এআই নিয়ন্ত্রণে বড় সতর্কবার্তা

মাইকেল জ্যাকসনের আয়: মৃত্যুর পরও কোটি ডলারের রাজত্ব

কিংবদন্তি পপ তারকা মাইকেল জ্যাকসন।ছবি: সংগৃহীত

মাইকেল জ্যাকসনের আয় মৃত্যুর ১৭ বছর পরও যেন থামার নামই নিচ্ছে না। ২০০৯ সালে মাত্র ৫০ বছর বয়সে পৃথিবী থেকে বিদায় নেন ‘কিং অব পপ’। কিন্তু তাঁর গান, মিউজিক ভিডিও, নাচ, নাম ও সংগীতের স্বত্ব এখনো বিশ্বজুড়ে বিপুল অর্থ তৈরি করছে। মৃত্যুর সময় নানা আর্থিক জটিলতা থাকলেও পরবর্তী সময়ে তাঁর রেখে যাওয়া সম্পদ পরিণত হয়েছে বিশাল এক বিনোদন সাম্রাজ্যে।

ফোর্বসের হিসাব অনুযায়ী, ২০০৯ সালে মৃত্যুর পর থেকে মাইকেল জ্যাকসনের এস্টেট ৩৫০ কোটি ডলারের বেশি আয় করেছে। শুধু ২০২৫ সালের ১২ মাসেই তাঁর এস্টেটের আয় ছিল প্রায় ১০ কোটি ৫০ লাখ ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় ১ হাজার ২৮০ কোটি টাকার কাছাকাছি। ফলে মৃত তারকাদের মধ্যে আয়ের দিক থেকে মাইকেল জ্যাকসন এখনো শীর্ষস্থানীয় অবস্থানে রয়েছেন।

মাইকেলের মৃত্যুর সময় তাঁর আর্থিক পরিস্থিতি অবশ্য এতটা উজ্জ্বল ছিল না। বিভিন্ন হিসাব অনুযায়ী, তখন তাঁর ওপর প্রায় ৪৫ কোটি ডলারের ঋণ ছিল। মূল্যবান সংগীতস্বত্ব ও সম্পদ থাকা সত্ত্বেও নগদ অর্থের সংকট ছিল। পরে তাঁর এস্টেটের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা এসব সম্পদকে পরিকল্পিতভাবে কাজে লাগাতে শুরু করেন। সেখান থেকেই শুরু হয় মাইকেলের মৃত্যুর পরের আরেক ‘ক্যারিয়ার’, যার মূল শক্তি তাঁর সংগীত ও বিশ্বজুড়ে থাকা কোটি ভক্ত।

সংগীতের স্বত্ব মাইকেলের আয়ের সবচেয়ে বড় উৎসগুলোর একটি। ১৯৮৫ সালে তিনি প্রায় ৪ কোটি ৭৫ লাখ ডলারে এটিভি মিউজিক ক্যাটালগ কিনেছিলেন। সেখানে প্রায় চার হাজার গানের অধিকার ছিল, যার মধ্যে বিটলসের একাধিক জনপ্রিয় গানও অন্তর্ভুক্ত ছিল। পরে এই সম্পদের মূল্য বহুগুণ বেড়ে যায়। ২০১৬ সালে মাইকেলের এস্টেট সনির কাছে তাদের অংশ বিক্রি করে প্রায় ৭৫ কোটি ডলার পায়। ২০২৪ সালেও তাঁর নিজস্ব সংগীত, মাস্টার রেকর্ডিং ও প্রকাশনা অধিকারসংক্রান্ত সম্পদের ৫০ শতাংশ অংশীদারত্ব সনির কাছে প্রায় ৬০ কোটি ডলারে বিক্রি করা হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

শুধু গান বা কপিরাইট নয়, মাইকেল জ্যাকসনের নামকে ঘিরে তৈরি হয়েছে সিনেমা ও মঞ্চ বিনোদনের বিশাল বাজার। তাঁর শেষ কনসার্ট প্রস্তুতি নিয়ে তৈরি ‘This Is It’ সিনেমাটি মৃত্যুর পর ব্যাপক সাড়া ফেলে। পাশাপাশি ‘MJ: The Musical’ তাঁর জীবন ও সংগীতকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিয়েছে। লাস ভেগাসের ‘Michael Jackson ONE’ শোতেও নিয়মিত তাঁর গান ও নৃত্য পরিবেশিত হচ্ছে। এসব আয়োজন থেকে টিকিট বিক্রি, লাইসেন্সিং ও অন্যান্য বাণিজ্যিক কার্যক্রমের মাধ্যমে এস্টেটের আয় তৈরি হচ্ছে।

মাইকেল জ্যাকসনের মৃত্যুর এত বছর পরও তাঁর জনপ্রিয়তার মূল কারণ হলো সময়কে অতিক্রম করা গান ও সাংস্কৃতিক প্রভাব। পুরোনো অ্যালবাম এখনো স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মে শোনা হচ্ছে, নতুন প্রজন্ম তাঁর নাচ অনুসরণ করছে, আর সিনেমা ও মঞ্চনাটকের মাধ্যমে নতুন দর্শক তাঁর জীবন ও সংগীতের সঙ্গে পরিচিত হচ্ছে। ২০২৬ সালে তাঁকে নিয়ে জীবনীভিত্তিক চলচ্চিত্র ‘Michael’ মুক্তিও তাঁর নামকে আবার আলোচনায় এনেছে। ফলে মাইকেল জ্যাকসন আর শুধু একজন প্রয়াত শিল্পীর নাম নন; তাঁর গান, ব্র্যান্ড ও সংগীতসম্পদ এখনো বিশ্ব বিনোদন অঙ্গনের শক্তিশালী অর্থনৈতিক সম্পদ।

জনপ্রিয় সংবাদ

আশা ভোঁসলেকে নিয়ে চমক, একসঙ্গে আমির-শাহরুখ-সালমান

মাইকেল জ্যাকসনের আয়: মৃত্যুর পরও কোটি ডলারের রাজত্ব

Update Time : ০৮:৪৩:৩৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬

মাইকেল জ্যাকসনের আয় মৃত্যুর ১৭ বছর পরও যেন থামার নামই নিচ্ছে না। ২০০৯ সালে মাত্র ৫০ বছর বয়সে পৃথিবী থেকে বিদায় নেন ‘কিং অব পপ’। কিন্তু তাঁর গান, মিউজিক ভিডিও, নাচ, নাম ও সংগীতের স্বত্ব এখনো বিশ্বজুড়ে বিপুল অর্থ তৈরি করছে। মৃত্যুর সময় নানা আর্থিক জটিলতা থাকলেও পরবর্তী সময়ে তাঁর রেখে যাওয়া সম্পদ পরিণত হয়েছে বিশাল এক বিনোদন সাম্রাজ্যে।

ফোর্বসের হিসাব অনুযায়ী, ২০০৯ সালে মৃত্যুর পর থেকে মাইকেল জ্যাকসনের এস্টেট ৩৫০ কোটি ডলারের বেশি আয় করেছে। শুধু ২০২৫ সালের ১২ মাসেই তাঁর এস্টেটের আয় ছিল প্রায় ১০ কোটি ৫০ লাখ ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় ১ হাজার ২৮০ কোটি টাকার কাছাকাছি। ফলে মৃত তারকাদের মধ্যে আয়ের দিক থেকে মাইকেল জ্যাকসন এখনো শীর্ষস্থানীয় অবস্থানে রয়েছেন।

আরও পড়ুন  মাইকেল জ্যাকসন কি সত্যি শিশুকে যৌন নির্যাতন করেছিলেন? ফের আলোচনায় অভিযোগ

মাইকেলের মৃত্যুর সময় তাঁর আর্থিক পরিস্থিতি অবশ্য এতটা উজ্জ্বল ছিল না। বিভিন্ন হিসাব অনুযায়ী, তখন তাঁর ওপর প্রায় ৪৫ কোটি ডলারের ঋণ ছিল। মূল্যবান সংগীতস্বত্ব ও সম্পদ থাকা সত্ত্বেও নগদ অর্থের সংকট ছিল। পরে তাঁর এস্টেটের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা এসব সম্পদকে পরিকল্পিতভাবে কাজে লাগাতে শুরু করেন। সেখান থেকেই শুরু হয় মাইকেলের মৃত্যুর পরের আরেক ‘ক্যারিয়ার’, যার মূল শক্তি তাঁর সংগীত ও বিশ্বজুড়ে থাকা কোটি ভক্ত।

সংগীতের স্বত্ব মাইকেলের আয়ের সবচেয়ে বড় উৎসগুলোর একটি। ১৯৮৫ সালে তিনি প্রায় ৪ কোটি ৭৫ লাখ ডলারে এটিভি মিউজিক ক্যাটালগ কিনেছিলেন। সেখানে প্রায় চার হাজার গানের অধিকার ছিল, যার মধ্যে বিটলসের একাধিক জনপ্রিয় গানও অন্তর্ভুক্ত ছিল। পরে এই সম্পদের মূল্য বহুগুণ বেড়ে যায়। ২০১৬ সালে মাইকেলের এস্টেট সনির কাছে তাদের অংশ বিক্রি করে প্রায় ৭৫ কোটি ডলার পায়। ২০২৪ সালেও তাঁর নিজস্ব সংগীত, মাস্টার রেকর্ডিং ও প্রকাশনা অধিকারসংক্রান্ত সম্পদের ৫০ শতাংশ অংশীদারত্ব সনির কাছে প্রায় ৬০ কোটি ডলারে বিক্রি করা হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন  ‘আমি একা নই, অনেক নারী ভুক্তভোগী’, মুরাদ হাসান প্রসঙ্গে মুখ খুললেন মাহি

শুধু গান বা কপিরাইট নয়, মাইকেল জ্যাকসনের নামকে ঘিরে তৈরি হয়েছে সিনেমা ও মঞ্চ বিনোদনের বিশাল বাজার। তাঁর শেষ কনসার্ট প্রস্তুতি নিয়ে তৈরি ‘This Is It’ সিনেমাটি মৃত্যুর পর ব্যাপক সাড়া ফেলে। পাশাপাশি ‘MJ: The Musical’ তাঁর জীবন ও সংগীতকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিয়েছে। লাস ভেগাসের ‘Michael Jackson ONE’ শোতেও নিয়মিত তাঁর গান ও নৃত্য পরিবেশিত হচ্ছে। এসব আয়োজন থেকে টিকিট বিক্রি, লাইসেন্সিং ও অন্যান্য বাণিজ্যিক কার্যক্রমের মাধ্যমে এস্টেটের আয় তৈরি হচ্ছে।

আরও পড়ুন  বন্ধুর মৃত্যুই ছিল দীপিকার সচেতনতা অভিযানের প্রেরণা

মাইকেল জ্যাকসনের মৃত্যুর এত বছর পরও তাঁর জনপ্রিয়তার মূল কারণ হলো সময়কে অতিক্রম করা গান ও সাংস্কৃতিক প্রভাব। পুরোনো অ্যালবাম এখনো স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মে শোনা হচ্ছে, নতুন প্রজন্ম তাঁর নাচ অনুসরণ করছে, আর সিনেমা ও মঞ্চনাটকের মাধ্যমে নতুন দর্শক তাঁর জীবন ও সংগীতের সঙ্গে পরিচিত হচ্ছে। ২০২৬ সালে তাঁকে নিয়ে জীবনীভিত্তিক চলচ্চিত্র ‘Michael’ মুক্তিও তাঁর নামকে আবার আলোচনায় এনেছে। ফলে মাইকেল জ্যাকসন আর শুধু একজন প্রয়াত শিল্পীর নাম নন; তাঁর গান, ব্র্যান্ড ও সংগীতসম্পদ এখনো বিশ্ব বিনোদন অঙ্গনের শক্তিশালী অর্থনৈতিক সম্পদ।