ঢাকা ০৪:১০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬, ১৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo মাস্টারদা সূর্য সেন: চট্টগ্রামের অমর বিপ্লবী Logo সিরাজগঞ্জ পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও জনসচেতনতামূলক র‍্যালির মাধ্যমে ডেঙ্গু প্রতিরোধে বিশেষ উদ্যোগ Logo রাঙ্গুনিয়ার অপু দাশের, পাত্রী দেখার কয়েক ঘণ্টা পরই সড়কে ঝরল প্রাণ Logo কলেরা টিকা নিয়ে স্বস্তি, নির্দিষ্ট সময়ের আগেই সাড়া Logo এআই দিয়ে এআই নিয়ন্ত্রণে বড় সতর্কবার্তা Logo গাজীপুর মহানগর পুলিশের ২৪ ঘণ্টার অভিযানে গ্রেপ্তার ১৬ Logo যশের ‘টক্সিক’ মুক্তির পর এবার আলোচনার কেন্দ্রে রুক্মিণী বসন্ত। Logo নেপালের দুর্যোগে আটকা তাসরিফ খান, ২ দিনেও দেশে ফেরা হয়নি Logo মিরসরাইয়ে মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেল কিনে বাড়ি ফেরা হলো না দুই বন্ধুর Logo ‘দুধভাত হওয়ার বয়স শেষ’, শৈশব নিয়ে ফারিণের মায়াময় কথা

মাস্টারদা সূর্য সেন: চট্টগ্রামের অমর বিপ্লবী

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০৩:১১:১৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬
  • ৫০৩

চট্টগ্রামের বিপ্লবী আন্দোলনের অন্যতম প্রধান নেতা মাস্টারদা সূর্য সেন। ছবি: সংগৃহীত

মাস্টারদা সূর্য সেন নামটি চট্টগ্রামের ইতিহাসে শুধু একজন বিপ্লবীর পরিচয় নয়, এটি ব্রিটিশবিরোধী সংগ্রামের এক সাহসী অধ্যায়ের নাম। ১৮৯৪ সালে চট্টগ্রামের রাউজানের নোয়াপাড়া গ্রামে জন্ম নেওয়া সূর্য সেন ছোটবেলা থেকেই দেশ ও সমাজের পরিবর্তন নিয়ে ভাবতেন। ছাত্রজীবনেই বিপ্লবী চিন্তার সঙ্গে তাঁর পরিচয় ঘটে। পরে শিক্ষকতা পেশায় যুক্ত হওয়ায় সহযোদ্ধাদের কাছে তিনি পরিচিত হয়ে ওঠেন ‘মাস্টারদা’ নামে।

শিক্ষকতার পাশাপাশি মাস্টারদা সূর্য সেন চট্টগ্রামে গড়ে তুলতে থাকেন গোপন বিপ্লবী সংগঠন। তিনি যুগান্তর দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং তরুণদের সংগঠিত করার পাশাপাশি তাঁদের শারীরিক ও মানসিক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেন। তাঁর নেতৃত্বে চট্টগ্রামে বিপ্লবীদের একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক তৈরি হয়। পরে এই সংগঠন ‘ইন্ডিয়ান রিপাবলিকান আর্মি’-এর চট্টগ্রাম শাখা হিসেবে পরিচিত হয়।

এরপর আসে ১৯৩০ সালের সেই ঐতিহাসিক রাত। ১৮ এপ্রিল গুড ফ্রাইডের রাতে সূর্য সেনের নেতৃত্বে বিপ্লবীরা চট্টগ্রামের পুলিশ অস্ত্রাগার ও Auxiliary Force-এর অস্ত্রাগারে অভিযান চালান। একই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে টেলিফোন-টেলিগ্রাফ যোগাযোগ দখল এবং রেল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। উদ্দেশ্য ছিল ব্রিটিশ প্রশাসনের যোগাযোগব্যবস্থাকে সাময়িকভাবে অচল করে চট্টগ্রামে বড় ধরনের বিদ্রোহের সূচনা করা।

অভিযানের পর ব্রিটিশ বাহিনীর সঙ্গে বিপ্লবীদের সংঘর্ষ শুরু হয়। ২২ এপ্রিল ১৯৩০ জালালাবাদ পাহাড়ে দুই পক্ষের মধ্যে ভয়াবহ লড়াই হয়। বিপ্লবীদের অনেকেই সেখানে প্রাণ হারান, আর বাকিরা বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে পড়েন। কিন্তু এই সংঘর্ষের পরও মাস্টারদা সূর্য সেন থেমে যাননি। আত্মগোপনে থেকেই তিনি সংগঠনের কার্যক্রম চালিয়ে যান এবং তাঁর সহযোদ্ধারাও ব্রিটিশবিরোধী কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখেন।

এই আন্দোলনের সঙ্গে পরবর্তী সময়ে কল্পনা দত্ত ও প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদারের মতো বিপ্লবীরাও যুক্ত হন। বিশেষ করে ১৯৩২ সালে পাহাড়তলী ইউরোপিয়ান ক্লাবে প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদারের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযান চট্টগ্রামের বিপ্লবী ইতিহাসে আরেকটি স্মরণীয় ঘটনা হয়ে আছে। অন্যদিকে দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকার পর ১৯৩৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে সূর্য সেন গ্রেপ্তার হন। তাঁর বিরুদ্ধে বিচার চলে এবং শেষ পর্যন্ত ১৯৩৪ সালের ১২ জানুয়ারি চট্টগ্রাম কারাগারে তাঁর ফাঁসি কার্যকর করা হয়।

আজও মাস্টারদা সূর্য সেন চট্টগ্রামের ইতিহাসে এক অমর নাম। তাঁর নেতৃত্বে ১৯৩০ সালের অস্ত্রাগার অভিযান সামরিক দিক থেকে দীর্ঘস্থায়ী সাফল্য অর্জন করতে না পারলেও ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের ইতিহাসে এর প্রতীকী গুরুত্ব ছিল গভীর। একদল তরুণ কীভাবে সংগঠিত হয়ে ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল, চট্টগ্রামের সেই গল্প আজও ইতিহাসপ্রেমীদের কাছে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

জনপ্রিয় সংবাদ

মাস্টারদা সূর্য সেন: চট্টগ্রামের অমর বিপ্লবী

মাস্টারদা সূর্য সেন: চট্টগ্রামের অমর বিপ্লবী

Update Time : ০৩:১১:১৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬

মাস্টারদা সূর্য সেন নামটি চট্টগ্রামের ইতিহাসে শুধু একজন বিপ্লবীর পরিচয় নয়, এটি ব্রিটিশবিরোধী সংগ্রামের এক সাহসী অধ্যায়ের নাম। ১৮৯৪ সালে চট্টগ্রামের রাউজানের নোয়াপাড়া গ্রামে জন্ম নেওয়া সূর্য সেন ছোটবেলা থেকেই দেশ ও সমাজের পরিবর্তন নিয়ে ভাবতেন। ছাত্রজীবনেই বিপ্লবী চিন্তার সঙ্গে তাঁর পরিচয় ঘটে। পরে শিক্ষকতা পেশায় যুক্ত হওয়ায় সহযোদ্ধাদের কাছে তিনি পরিচিত হয়ে ওঠেন ‘মাস্টারদা’ নামে।

শিক্ষকতার পাশাপাশি মাস্টারদা সূর্য সেন চট্টগ্রামে গড়ে তুলতে থাকেন গোপন বিপ্লবী সংগঠন। তিনি যুগান্তর দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং তরুণদের সংগঠিত করার পাশাপাশি তাঁদের শারীরিক ও মানসিক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেন। তাঁর নেতৃত্বে চট্টগ্রামে বিপ্লবীদের একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক তৈরি হয়। পরে এই সংগঠন ‘ইন্ডিয়ান রিপাবলিকান আর্মি’-এর চট্টগ্রাম শাখা হিসেবে পরিচিত হয়।

আরও পড়ুন  চাটগাঁইয়া ভাষা: ৫০০ বছরের বিস্ময়কর ঐতিহ্যের অজানা ইতিহাস জানুন

এরপর আসে ১৯৩০ সালের সেই ঐতিহাসিক রাত। ১৮ এপ্রিল গুড ফ্রাইডের রাতে সূর্য সেনের নেতৃত্বে বিপ্লবীরা চট্টগ্রামের পুলিশ অস্ত্রাগার ও Auxiliary Force-এর অস্ত্রাগারে অভিযান চালান। একই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে টেলিফোন-টেলিগ্রাফ যোগাযোগ দখল এবং রেল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। উদ্দেশ্য ছিল ব্রিটিশ প্রশাসনের যোগাযোগব্যবস্থাকে সাময়িকভাবে অচল করে চট্টগ্রামে বড় ধরনের বিদ্রোহের সূচনা করা।

অভিযানের পর ব্রিটিশ বাহিনীর সঙ্গে বিপ্লবীদের সংঘর্ষ শুরু হয়। ২২ এপ্রিল ১৯৩০ জালালাবাদ পাহাড়ে দুই পক্ষের মধ্যে ভয়াবহ লড়াই হয়। বিপ্লবীদের অনেকেই সেখানে প্রাণ হারান, আর বাকিরা বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে পড়েন। কিন্তু এই সংঘর্ষের পরও মাস্টারদা সূর্য সেন থেমে যাননি। আত্মগোপনে থেকেই তিনি সংগঠনের কার্যক্রম চালিয়ে যান এবং তাঁর সহযোদ্ধারাও ব্রিটিশবিরোধী কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখেন।

আরও পড়ুন  নাসিম শাহ চোটে অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য বাইরে, পাকিস্তান সুপার লিগ-এ বড় ধাক্কা

এই আন্দোলনের সঙ্গে পরবর্তী সময়ে কল্পনা দত্ত ও প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদারের মতো বিপ্লবীরাও যুক্ত হন। বিশেষ করে ১৯৩২ সালে পাহাড়তলী ইউরোপিয়ান ক্লাবে প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদারের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযান চট্টগ্রামের বিপ্লবী ইতিহাসে আরেকটি স্মরণীয় ঘটনা হয়ে আছে। অন্যদিকে দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকার পর ১৯৩৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে সূর্য সেন গ্রেপ্তার হন। তাঁর বিরুদ্ধে বিচার চলে এবং শেষ পর্যন্ত ১৯৩৪ সালের ১২ জানুয়ারি চট্টগ্রাম কারাগারে তাঁর ফাঁসি কার্যকর করা হয়।

আরও পড়ুন  পর্তুগিজ চট্টগ্রাম: পোর্টো গ্র্যান্ডে নামের ইতিহাস

আজও মাস্টারদা সূর্য সেন চট্টগ্রামের ইতিহাসে এক অমর নাম। তাঁর নেতৃত্বে ১৯৩০ সালের অস্ত্রাগার অভিযান সামরিক দিক থেকে দীর্ঘস্থায়ী সাফল্য অর্জন করতে না পারলেও ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের ইতিহাসে এর প্রতীকী গুরুত্ব ছিল গভীর। একদল তরুণ কীভাবে সংগঠিত হয়ে ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল, চট্টগ্রামের সেই গল্প আজও ইতিহাসপ্রেমীদের কাছে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।