ঢাকা ০৩:৪৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬, ১৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo মাস্টারদা সূর্য সেন: চট্টগ্রামের অমর বিপ্লবী Logo সিরাজগঞ্জ পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও জনসচেতনতামূলক র‍্যালির মাধ্যমে ডেঙ্গু প্রতিরোধে বিশেষ উদ্যোগ Logo রাঙ্গুনিয়ার অপু দাশের, পাত্রী দেখার কয়েক ঘণ্টা পরই সড়কে ঝরল প্রাণ Logo কলেরা টিকা নিয়ে স্বস্তি, নির্দিষ্ট সময়ের আগেই সাড়া Logo এআই দিয়ে এআই নিয়ন্ত্রণে বড় সতর্কবার্তা Logo গাজীপুর মহানগর পুলিশের ২৪ ঘণ্টার অভিযানে গ্রেপ্তার ১৬ Logo যশের ‘টক্সিক’ মুক্তির পর এবার আলোচনার কেন্দ্রে রুক্মিণী বসন্ত। Logo নেপালের দুর্যোগে আটকা তাসরিফ খান, ২ দিনেও দেশে ফেরা হয়নি Logo মিরসরাইয়ে মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেল কিনে বাড়ি ফেরা হলো না দুই বন্ধুর Logo ‘দুধভাত হওয়ার বয়স শেষ’, শৈশব নিয়ে ফারিণের মায়াময় কথা

রাঙ্গুনিয়ার অপু দাশের, পাত্রী দেখার কয়েক ঘণ্টা পরই সড়কে ঝরল প্রাণ

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০২:৪৮:১০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬
  • ৫২২

কাপ্তাই সড়কে দুর্ঘটনায় নিহত রাঙ্গুনিয়ার যুবক অপু দাশ

রাঙ্গুনিয়ার অপু দাশের বিয়ের স্বপ্ন আর পূরণ হলো না। রাউজানের কাপ্তাই সড়কে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ৩০ বছর বয়সী এই যুবক। শুক্রবার বিকেলে রাউজানের বাগোয়ান এলাকার গঙ্গা মন্দিরে পাত্রী দেখার কয়েক ঘণ্টা পর রাতে মোটরসাইকেলে বাড়ি ফেরার পথে দুর্ঘটনার শিকার হন তিনি।নিহত অপু দাশ রাঙ্গুনিয়া উপজেলার স্বনির্ভর রাঙ্গুনিয়া ইউনিয়নের উত্তর সাবেক রাঙ্গুনিয়া গ্রামের রাস বিহারি ধামের পাশের বাঘার বাড়ির প্রয়াত বাদল দাশের ছেলে। দুই ভাই ও এক বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন সবার ছোট।

তিনি রাউজানের পাহাড়তলী চৌমুহনী এলাকার দি বিসিসিইউএল জেনারেল হাসপাতালের মার্কেটিং অফিসার হিসেবে কর্মরত ছিলেন।পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার বিকেলে রাউজানের বাগোয়ান এলাকার গঙ্গা মন্দিরে অপুর জন্য পাত্রী দেখা হয়। সেখানে বিয়ের বিষয়ে দুই পরিবারের মধ্যে প্রাথমিক কথাবার্তাও হয়। পাত্রী দেখা শেষে অপু কর্মস্থলে যান।পরে রাত আটটার দিকে মোটরসাইকেল নিয়ে বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন।পথে পাহাড়তলী ইউনিয়নের ইমাম গাজ্জালী ডিগ্রি কলেজসংলগ্ন কাতালপীর শাহ দরগাহ এলাকায় পৌঁছান অপু।

স্থানীয় সূত্রের দাবি, এ সময় পেছন থেকে দ্রুতগতির একটি প্রাইভেট কার তার মোটরসাইকেলে জোরে ধাক্কা দেয়। এতে তিনি মোটরসাইকেল থেকে ছিটকে সড়কে পড়ে যান। দুর্ঘটনায় মাথায় গুরুতর আঘাত পেয়ে প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়।দুর্ঘটনার খবর পেয়ে অপুর সহকর্মীরা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। তারা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে চট্টগ্রামের এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকদের পরামর্শে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

চমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ১১টার দিকে অপু দাশের মৃত্যু হয়। তার আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার, স্বজন, সহকর্মী ও স্থানীয়দের মধ্যে নেমে আসে শোকের ছায়া। যে দিনটি পরিবারের কাছে বিয়ের সম্ভাবনা নিয়ে আনন্দের ছিল, সেই দিনই প্রিয়জনকে হারানোর ঘটনায় শোকের দিনে পরিণত হয়। বিয়েকে ঘিরে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে আনন্দের পরিবেশ তৈরি হয়েছিল। কিন্তু কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সড়ক দুর্ঘটনা সেই আনন্দকে শোকে পরিণত করেছে। সবাই ভেবেছিলেন, খুব শিগগিরই বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হবে। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে বিয়ের পিঁড়িতে আর বসা হলো না তার। সড়ক দুর্ঘটনায় অকালেই শেষ হয়ে গেল অপুর জীবন।

দি বিসিসিইউএল জেনারেল হাসপাতালের পরিচালক (মার্কেটিং) এপেক্সিয়ান মৃনাল কান্তি বড়ুয়া বলেন, অপু অত্যন্ত বিশ্বস্ত ও পরিশ্রমী কর্মকর্তা ছিলেন। দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে তিনি আন্তরিক ছিলেন এবং সহকর্মীদের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক বজায় রাখতেন। তার এমন আকস্মিক মৃত্যুতে হাসপাতালের পুরো পরিবার গভীরভাবে শোকাহত।এদিকে অপুর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর উত্তর সাবেক রাঙ্গুনিয়া গ্রামসহ আশপাশের এলাকায় শোকের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। স্বজন ও প্রতিবেশীরা তাকে শেষবারের মতো দেখতে ভিড় করছেন। সহকর্মীরাও তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। বিয়ের আনন্দের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এমন মর্মান্তিক পরিণতি সবাইকে স্তব্ধ করে দিয়েছে।

রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম জানান, নিহত অপুর মরদেহ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং কোনো অজ্ঞাত যানবাহনের ধাক্কায় ঘটনাটি ঘটেছে কি না, সেটিও তদন্ত করা হচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

মাস্টারদা সূর্য সেন: চট্টগ্রামের অমর বিপ্লবী

রাঙ্গুনিয়ার অপু দাশের, পাত্রী দেখার কয়েক ঘণ্টা পরই সড়কে ঝরল প্রাণ

Update Time : ০২:৪৮:১০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬

রাঙ্গুনিয়ার অপু দাশের বিয়ের স্বপ্ন আর পূরণ হলো না। রাউজানের কাপ্তাই সড়কে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ৩০ বছর বয়সী এই যুবক। শুক্রবার বিকেলে রাউজানের বাগোয়ান এলাকার গঙ্গা মন্দিরে পাত্রী দেখার কয়েক ঘণ্টা পর রাতে মোটরসাইকেলে বাড়ি ফেরার পথে দুর্ঘটনার শিকার হন তিনি।নিহত অপু দাশ রাঙ্গুনিয়া উপজেলার স্বনির্ভর রাঙ্গুনিয়া ইউনিয়নের উত্তর সাবেক রাঙ্গুনিয়া গ্রামের রাস বিহারি ধামের পাশের বাঘার বাড়ির প্রয়াত বাদল দাশের ছেলে। দুই ভাই ও এক বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন সবার ছোট।

তিনি রাউজানের পাহাড়তলী চৌমুহনী এলাকার দি বিসিসিইউএল জেনারেল হাসপাতালের মার্কেটিং অফিসার হিসেবে কর্মরত ছিলেন।পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার বিকেলে রাউজানের বাগোয়ান এলাকার গঙ্গা মন্দিরে অপুর জন্য পাত্রী দেখা হয়। সেখানে বিয়ের বিষয়ে দুই পরিবারের মধ্যে প্রাথমিক কথাবার্তাও হয়। পাত্রী দেখা শেষে অপু কর্মস্থলে যান।পরে রাত আটটার দিকে মোটরসাইকেল নিয়ে বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন।পথে পাহাড়তলী ইউনিয়নের ইমাম গাজ্জালী ডিগ্রি কলেজসংলগ্ন কাতালপীর শাহ দরগাহ এলাকায় পৌঁছান অপু।

স্থানীয় সূত্রের দাবি, এ সময় পেছন থেকে দ্রুতগতির একটি প্রাইভেট কার তার মোটরসাইকেলে জোরে ধাক্কা দেয়। এতে তিনি মোটরসাইকেল থেকে ছিটকে সড়কে পড়ে যান। দুর্ঘটনায় মাথায় গুরুতর আঘাত পেয়ে প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়।দুর্ঘটনার খবর পেয়ে অপুর সহকর্মীরা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। তারা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে চট্টগ্রামের এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকদের পরামর্শে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

চমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ১১টার দিকে অপু দাশের মৃত্যু হয়। তার আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার, স্বজন, সহকর্মী ও স্থানীয়দের মধ্যে নেমে আসে শোকের ছায়া। যে দিনটি পরিবারের কাছে বিয়ের সম্ভাবনা নিয়ে আনন্দের ছিল, সেই দিনই প্রিয়জনকে হারানোর ঘটনায় শোকের দিনে পরিণত হয়। বিয়েকে ঘিরে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে আনন্দের পরিবেশ তৈরি হয়েছিল। কিন্তু কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সড়ক দুর্ঘটনা সেই আনন্দকে শোকে পরিণত করেছে। সবাই ভেবেছিলেন, খুব শিগগিরই বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হবে। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে বিয়ের পিঁড়িতে আর বসা হলো না তার। সড়ক দুর্ঘটনায় অকালেই শেষ হয়ে গেল অপুর জীবন।

দি বিসিসিইউএল জেনারেল হাসপাতালের পরিচালক (মার্কেটিং) এপেক্সিয়ান মৃনাল কান্তি বড়ুয়া বলেন, অপু অত্যন্ত বিশ্বস্ত ও পরিশ্রমী কর্মকর্তা ছিলেন। দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে তিনি আন্তরিক ছিলেন এবং সহকর্মীদের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক বজায় রাখতেন। তার এমন আকস্মিক মৃত্যুতে হাসপাতালের পুরো পরিবার গভীরভাবে শোকাহত।এদিকে অপুর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর উত্তর সাবেক রাঙ্গুনিয়া গ্রামসহ আশপাশের এলাকায় শোকের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। স্বজন ও প্রতিবেশীরা তাকে শেষবারের মতো দেখতে ভিড় করছেন। সহকর্মীরাও তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। বিয়ের আনন্দের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এমন মর্মান্তিক পরিণতি সবাইকে স্তব্ধ করে দিয়েছে।

রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম জানান, নিহত অপুর মরদেহ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং কোনো অজ্ঞাত যানবাহনের ধাক্কায় ঘটনাটি ঘটেছে কি না, সেটিও তদন্ত করা হচ্ছে।