হুলিয়ান আলভারেজকে ঘিরে আতলেতিকো মাদ্রিদের পরিস্থিতি এখন চরম উত্তপ্ত।
কয়েক সপ্তাহ আগেও যিনি ছিলেন সমর্থকদের প্রিয়, এখন সেই আলভারেজকেই শুনতে হচ্ছে দুয়োধ্বনি।
ক্লাব ছাড়ার ইচ্ছা প্রকাশের পর থেকেই তৈরি হয়েছে টানাপোড়েন, যার প্রভাব পড়েছে মাঠেও।
ট্রান্সফার উইন্ডো বন্ধ হওয়ার আগে তাই প্রশ্ন একটাই, আতলেতিকোতেই থাকবেন নাকি নতুন ঠিকানা হবে আলভারেজের?
মেত্রোপলিতানো স্টেডিয়ামে ভিয়ারিয়ালের বিপক্ষে ম্যাচেই পরিস্থিতির ভয়াবহতা স্পষ্ট হয়।
বেঞ্চে থাকা আলভারেজের নাম ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে গ্যালারি থেকে ভেসে আসে শিস ও দুয়োধ্বনি।
দ্বিতীয়ার্ধে তাঁকে মাঠে নামানোর আগে গরম করতেও পাঠানো হলে সেই শব্দ আরও তীব্র হয়।
মাঠে নামার পরও থামেনি সমর্থকদের ক্ষোভ, বরং একের পর এক কটূক্তি শুনতে হয়েছে তাঁকে।
ম্যাচটি ২-২ গোলে শেষ হলেও আলভারেজের জন্য রাতটি ছিল অত্যন্ত হতাশার।
ম্যাচ শেষে সতীর্থদের সঙ্গে দর্শকদের অভিবাদন জানানোর সুযোগও পাননি আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড।
ক্লাবের এক কর্মকর্তা তাঁকে নিরাপদে সরিয়ে নেন এবং মাথা নিচু করে টানেলের দিকে চলে যান তিনি।
পেছন থেকে তখনো শোনা যাচ্ছিল তির্যক মন্তব্য, এমনকি তাঁর দিকে স্কার্ফও ছুড়ে দেওয়া হয়।
এর মধ্যেই গত এক সপ্তাহে তিনটি অনুশীলন মিস করেছেন ২৬ বছর বয়সী এই তারকা।
আতলেতিকোর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অসুস্থতার কারণেই অনুশীলনে ছিলেন না আলভারেজ।
সেভিয়ার বিপক্ষে সর্বশেষ ম্যাচের দলেও জায়গা হয়নি তাঁর।
তবে স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যমে তাঁর মানসিক অবস্থা নিয়েও নানা আলোচনা চলছে।
আলভারেজকে ঘিরে এই সংকটের শুরু মূলত দলবদলের ইচ্ছা থেকে।
বার্সেলোনা দীর্ঘদিন ধরেই তাঁকে দলে নেওয়ার চেষ্টা করছে এবং আর্জেন্টাইন তারকাও নতুন চ্যালেঞ্জের আগ্রহ দেখিয়েছেন।
কিন্তু আতলেতিকো তাঁকে কোনোভাবেই ছাড়তে রাজি নয়, বিশেষ করে বার্সেলোনা বা রিয়াল মাদ্রিদের মতো প্রতিদ্বন্দ্বী ক্লাবের কাছে।
২০৩০ সাল পর্যন্ত চুক্তি থাকায় আলভারেজকে ধরে রাখার ব্যাপারে নিজেদের অবস্থানও স্পষ্ট করেছে ক্লাবটি।
গত জুনে আলভারেজ নিজেই আতলেতিকোর কাছে দলবদলের আবেদন করেছিলেন বলে খবর প্রকাশিত হয়।
বিশ্বকাপ চলাকালে তিনি জানিয়েছিলেন, নিজের স্বপ্ন পূরণ করতে চান এবং সবার জন্য ভালো হলে দলবদল হওয়া উচিত।
এদিকে বার্সেলোনা সভাপতি হোয়ান লাপোর্তাও একাধিকবার প্রকাশ্যে আলভারেজের প্রতি আগ্রহ দেখিয়েছেন।
ফলে খেলোয়াড়ের ইচ্ছা ও ক্লাবের অবস্থানের মধ্যে দূরত্ব ক্রমেই বেড়েছে।
আতলেতিকোর পক্ষ থেকে অবশ্য বার্সেলোনার আচরণ নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়েছে।
ক্লাবটির প্রধান নির্বাহী গিল মারিন অভিযোগ করেছেন, বার্সেলোনা তাদের অবমূল্যায়ন ও অসম্মান করেছে।
তাঁদের দাবি, আলভারেজকে নিয়ে বার্সেলোনার সঙ্গে কোনো আলোচনা হয়নি এবং ভবিষ্যতেও হওয়ার সম্ভাবনা নেই।
এমনকি বার্সার কাছে আলভারেজকে বিক্রির সম্ভাবনা শূন্য শতাংশ বলেও স্পষ্ট করেছে আতলেতিকো।
তবে আলভারেজকে ঘিরে আরেকটি সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে ইংলিশ ক্লাব আর্সেনালকে ঘিরে।
আলভারেজকে নিয়ে আলোচনার জন্য আতলেতিকোর পরিচালকরা লন্ডনে গিয়ে আর্সেনালের সঙ্গে বৈঠকও করেছেন।
আর্সেনাল আক্রমণভাগ শক্তিশালী করতে একজন বড় তারকা খুঁজছে, ফলে আলভারেজ হতে পারেন তাদের অন্যতম পছন্দ।
যদিও ইংল্যান্ডে ফেরার ব্যাপারে আলভারেজ নিজে খুব একটা আগ্রহী নন বলেও খবর রয়েছে।
এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, এই সম্পর্ক কি আবার আগের জায়গায় ফিরতে পারবে?
আতলেতিকো কোচ দিয়েগো সিমিওনে অবশ্য এখনো আশা ছাড়েননি এবং বলেছেন, সবকিছুই বদলে দেওয়া সম্ভব।
তিনি আলভারেজ অনুশীলনে ফিরলে তাঁকে আবার দলের গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন বলেও জানিয়েছেন।
এ ক্ষেত্রে ক্লাবের ইতিহাসে আঁতোয়ান গ্রিজমানের ফিরে আসার ঘটনাও বড় উদাহরণ হয়ে আছে।
শেষ পর্যন্ত আলভারেজের ভবিষ্যৎ কোন পথে যাবে, তার উত্তর মিলতে পারে ট্রান্সফার উইন্ডো বন্ধ হওয়ার আগেই।
আতলেতিকোতে থেকে সম্পর্ক মেরামত করবেন, বার্সেলোনায় গিয়ে পূরণ করবেন স্বপ্ন, নাকি আর্সেনাল হবে নতুন ঠিকানা?
এই তিন সম্ভাবনার যেকোনো একটিই এখন বাস্তব হতে পারে।
তবে সমর্থকদের প্রিয় থেকে হঠাৎ শত্রু হয়ে যাওয়া আলভারেজের গল্পের শেষ অধ্যায় যে এখনো লেখা হয়নি, তা নিশ্চিত।

























