ঢাকা ০৫:০৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo ঢাকায় দুই নতুন মেট্রোরেল রুট, ব্যয় বাড়ছে ২ লাখ কোটি টাকার বেশি Logo সংসদ অভিমুখে পদযাত্রা, ১১ দলীয় ঐক্যের নেতাদের বড় কর্মসূচি Logo আয়নাঘর থাকবে না, গুমের অপরাধীদের কঠোর বিচারের ঘোষণা রাষ্ট্রপতির Logo মেসির জাদুতে অবিশ্বাস্য জয়, মন্ট্রিয়ালকে উড়িয়ে দিল মায়ামি Logo মালয়েশিয়ায় প্রবাসীদের জরুরি সতর্কবার্তা, মানতে হবে যেসব নিয়ম Logo গুমের ঘটনায় ন্যায়বিচার নিশ্চিতের আশ্বাস চিফ প্রসিকিউটরের! Logo দ্রুত বাড়বে যে ১০ চাকরি: ভবিষ্যতের ক্যারিয়ারে বড় সুযোগ Logo বিচারপতি হাবিবুল গনি শপথ নিলেন, আপিল বিভাগে নতুন দায়িত্ব Logo হৃতিকপুত্র রেহান রোশনের প্রথম গান, কণ্ঠের সঙ্গে গিটার বাজিয়েছেন Logo শুটিং শেষে ঢাকায় ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনার শিকার তাসনুভা তিশা।

সংসদ অভিমুখে পদযাত্রা, ১১ দলীয় ঐক্যের নেতাদের বড় কর্মসূচি

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০৫:০৫:১৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬
  • ৫০১

সংসদ অভিমুখে পদযাত্রা শুরুর আগে বাংলামোটরে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ। | ছবি: সংগৃহীত

সংসদ অভিমুখে পদযাত্রা শুরু করেছেন আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ জাতীয় কমিটির নেতাকর্মীরা। আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ পর্যায়ের নেতারাও অংশ নিয়েছেন।

রোববার বিকেল ৩টা ৪০ মিনিটে রাজধানীর বাংলামোটর মোড় থেকে পদযাত্রাটি শুরু হয়। কর্মসূচির অংশগ্রহণকারীরা জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে গিয়ে পদযাত্রা শেষ করবেন বলে জানিয়েছেন আয়োজকেরা।

পদযাত্রা শেষে একটি প্রতিনিধিদল জাতীয় সংসদে গিয়ে স্পিকারের কাছে স্মারকলিপি দেওয়ার কথা রয়েছে। গুম প্রতিরোধ সংক্রান্ত আইন ও বিভিন্ন দাবির বিষয়ে স্মারকলিপিতে বক্তব্য তুলে ধরা হতে পারে বলে কর্মসূচিতে জানানো হয়।

সংসদ অভিমুখে পদযাত্রায় উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এবং সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ। এ ছাড়া ১১ দলীয় ঐক্যের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারাও কর্মসূচিতে অংশ নেন।

পদযাত্রায় অংশ নেন জামায়াতে যোগ দেওয়া সাবেক বিএনপি নেতা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান। উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ এবং জাগপার সহসভাপতি রাশেদ প্রধানও।

আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে গুমের শিকার হয়েছেন বলে দাবি করা কয়েকজন ব্যক্তিও এই কর্মসূচিতে অংশ নেন। তাঁদের উপস্থিতিতে পদযাত্রা ও কর্মসূচিটি রাজনৈতিক নেতাদের পাশাপাশি গুমের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের অংশগ্রহণেও পরিণত হয়।

পদযাত্রা শুরুর আগে বিকেল তিনটার দিকে বাংলামোটরের রূপায়ণ ট্রেড সেন্টারের সামনে একটি সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ জাতীয় কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত ওই সমাবেশে বিভিন্ন নেতা বক্তব্য দেন।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সাবেক সেনা কর্মকর্তা হাসিনুর রহমান, যিনি আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে গুমের শিকার হয়েছিলেন বলে দাবি করা হয়। বক্তব্যে তিনি গুম প্রতিরোধ সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে নিজের মতামত তুলে ধরেন।

তিনি সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে প্রণীত গুম প্রতিরোধ অধ্যাদেশকে আইনে পরিণত করার দাবি জানান। একই সঙ্গে এ বিষয়ে সরকারের দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বানও জানানো হয়।

সমাবেশের সমাপনী বক্তব্যে কর্মসূচির প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ও জামায়াত নেতা এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ। তিনি বলেন, কর্মসূচির অংশ হিসেবে পদযাত্রা জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে গিয়ে শেষ হবে।

এরপর সেখান থেকে একটি প্রতিনিধিদল সংসদে গিয়ে স্পিকারের কাছে স্মারকলিপি দেবে বলেও জানান তিনি। আয়োজকদের পক্ষ থেকে কর্মসূচির মূল দাবিগুলো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তুলে ধরার কথা বলা হয়েছে।

সংক্ষিপ্ত সমাবেশ শেষ হওয়ার পর বাংলামোটর থেকে পদযাত্রার মিছিল শুরু হয়। মিছিলটি রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক দিয়ে সংসদ ভবনের দিকে অগ্রসর হতে থাকে।

পদযাত্রার সময় অংশগ্রহণকারীদের বিভিন্ন ধরনের স্লোগান দিতে দেখা যায়। গুম, বিচার এবং রাজনৈতিক বিভিন্ন দাবি তুলে ধরে তাঁরা স্লোগান দেন।

বিকেল চারটার দিকে পদযাত্রাটি ফার্মগেট এলাকায় অবস্থান করছিল। সেখান থেকে মিছিলটি জাতীয় সংসদ ভবনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার কথা ছিল।

সংসদ অভিমুখে পদযাত্রা কর্মসূচিতে ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতাদের উপস্থিতি রাজনৈতিকভাবে বিশেষ গুরুত্ব তৈরি করেছে। আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবসকে কেন্দ্র করে আয়োজিত কর্মসূচির মাধ্যমে গুম প্রতিরোধ এবং এ–সংক্রান্ত আইন প্রণয়নের দাবিও সামনে এসেছে।

সব মিলিয়ে বাংলামোটর থেকে শুরু হওয়া এই পদযাত্রার মূল লক্ষ্য ছিল জাতীয় সংসদ পর্যন্ত গিয়ে নিজেদের দাবি তুলে ধরা। কর্মসূচি শেষে স্পিকারের কাছে স্মারকলিপি দেওয়ার মধ্য দিয়ে আয়োজকেরা তাদের দাবিগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে উপস্থাপন করবেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

ঢাকায় দুই নতুন মেট্রোরেল রুট, ব্যয় বাড়ছে ২ লাখ কোটি টাকার বেশি

সংসদ অভিমুখে পদযাত্রা, ১১ দলীয় ঐক্যের নেতাদের বড় কর্মসূচি

Update Time : ০৫:০৫:১৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬

সংসদ অভিমুখে পদযাত্রা শুরু করেছেন আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ জাতীয় কমিটির নেতাকর্মীরা। আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ পর্যায়ের নেতারাও অংশ নিয়েছেন।

রোববার বিকেল ৩টা ৪০ মিনিটে রাজধানীর বাংলামোটর মোড় থেকে পদযাত্রাটি শুরু হয়। কর্মসূচির অংশগ্রহণকারীরা জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে গিয়ে পদযাত্রা শেষ করবেন বলে জানিয়েছেন আয়োজকেরা।

পদযাত্রা শেষে একটি প্রতিনিধিদল জাতীয় সংসদে গিয়ে স্পিকারের কাছে স্মারকলিপি দেওয়ার কথা রয়েছে। গুম প্রতিরোধ সংক্রান্ত আইন ও বিভিন্ন দাবির বিষয়ে স্মারকলিপিতে বক্তব্য তুলে ধরা হতে পারে বলে কর্মসূচিতে জানানো হয়।

সংসদ অভিমুখে পদযাত্রায় উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এবং সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ। এ ছাড়া ১১ দলীয় ঐক্যের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারাও কর্মসূচিতে অংশ নেন।

আরও পড়ুন  সংসদে হট্টগোল: প্রথম দিনেই উত্তপ্ত অধিবেশন

পদযাত্রায় অংশ নেন জামায়াতে যোগ দেওয়া সাবেক বিএনপি নেতা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান। উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ এবং জাগপার সহসভাপতি রাশেদ প্রধানও।

আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে গুমের শিকার হয়েছেন বলে দাবি করা কয়েকজন ব্যক্তিও এই কর্মসূচিতে অংশ নেন। তাঁদের উপস্থিতিতে পদযাত্রা ও কর্মসূচিটি রাজনৈতিক নেতাদের পাশাপাশি গুমের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের অংশগ্রহণেও পরিণত হয়।

পদযাত্রা শুরুর আগে বিকেল তিনটার দিকে বাংলামোটরের রূপায়ণ ট্রেড সেন্টারের সামনে একটি সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ জাতীয় কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত ওই সমাবেশে বিভিন্ন নেতা বক্তব্য দেন।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সাবেক সেনা কর্মকর্তা হাসিনুর রহমান, যিনি আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে গুমের শিকার হয়েছিলেন বলে দাবি করা হয়। বক্তব্যে তিনি গুম প্রতিরোধ সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে নিজের মতামত তুলে ধরেন।

আরও পড়ুন  নিজ জেলা বগুড়ায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রথমবার সফরে গেছেন

তিনি সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে প্রণীত গুম প্রতিরোধ অধ্যাদেশকে আইনে পরিণত করার দাবি জানান। একই সঙ্গে এ বিষয়ে সরকারের দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বানও জানানো হয়।

সমাবেশের সমাপনী বক্তব্যে কর্মসূচির প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ও জামায়াত নেতা এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ। তিনি বলেন, কর্মসূচির অংশ হিসেবে পদযাত্রা জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে গিয়ে শেষ হবে।

এরপর সেখান থেকে একটি প্রতিনিধিদল সংসদে গিয়ে স্পিকারের কাছে স্মারকলিপি দেবে বলেও জানান তিনি। আয়োজকদের পক্ষ থেকে কর্মসূচির মূল দাবিগুলো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তুলে ধরার কথা বলা হয়েছে।

সংক্ষিপ্ত সমাবেশ শেষ হওয়ার পর বাংলামোটর থেকে পদযাত্রার মিছিল শুরু হয়। মিছিলটি রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক দিয়ে সংসদ ভবনের দিকে অগ্রসর হতে থাকে।

আরও পড়ুন  বিএনপি নেতাসহ ১৫ জনের নামে বিজিবির মামলা

পদযাত্রার সময় অংশগ্রহণকারীদের বিভিন্ন ধরনের স্লোগান দিতে দেখা যায়। গুম, বিচার এবং রাজনৈতিক বিভিন্ন দাবি তুলে ধরে তাঁরা স্লোগান দেন।

বিকেল চারটার দিকে পদযাত্রাটি ফার্মগেট এলাকায় অবস্থান করছিল। সেখান থেকে মিছিলটি জাতীয় সংসদ ভবনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার কথা ছিল।

সংসদ অভিমুখে পদযাত্রা কর্মসূচিতে ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতাদের উপস্থিতি রাজনৈতিকভাবে বিশেষ গুরুত্ব তৈরি করেছে। আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবসকে কেন্দ্র করে আয়োজিত কর্মসূচির মাধ্যমে গুম প্রতিরোধ এবং এ–সংক্রান্ত আইন প্রণয়নের দাবিও সামনে এসেছে।

সব মিলিয়ে বাংলামোটর থেকে শুরু হওয়া এই পদযাত্রার মূল লক্ষ্য ছিল জাতীয় সংসদ পর্যন্ত গিয়ে নিজেদের দাবি তুলে ধরা। কর্মসূচি শেষে স্পিকারের কাছে স্মারকলিপি দেওয়ার মধ্য দিয়ে আয়োজকেরা তাদের দাবিগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে উপস্থাপন করবেন।