ঢাকা ০৯:৪৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

চেলসিতে মার্তিনেজের অভিষেক, জয় পেলেও খেলেন ৩ গোল

এমিলিয়ানো মার্তিনেজ

ম্যাচ জিতে চেলসির জার্সিতে অভিষেক হয়েছে আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজের। তবে অভিষেকের আনন্দের সঙ্গে তিনবার বল জালে যাওয়ার অস্বস্তিও সঙ্গী হয়েছে তাঁর। স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে রোমাঞ্চকর ম্যাচে ব্রাইটনকে ৪-৩ গোলে হারিয়েছে চেলসি। মাত্র ২৪ ঘণ্টা আগে অ্যাস্টন ভিলা থেকে চেলসিতে যোগ দেওয়া মার্তিনেজ কোনো অনুশীলন ছাড়াই নেমেছিলেন মাঠে।

নতুন ক্লাবের হয়ে মার্তিনেজের অভিষেকটা ছিল বেশ নাটকীয়। চেলসির নীল জার্সিতে প্রথমবার গোলপোস্টের নিচে দাঁড়িয়েই তাঁকে সামলাতে হয়েছে সাত গোলের এক ম্যাচ। শেষ পর্যন্ত জয় পাওয়ায় স্বস্তি ফিরেছে চেলসি শিবিরে। তবে তিন গোল হজম করায় পুরোপুরি সন্তুষ্ট হওয়ার সুযোগ নেই মার্তিনেজের।

ম্যাচের শুরু থেকেই দারুণ ছন্দে ছিল চেলসি। চতুর্থ মিনিটে রোমেও লাভিয়ার গোলে এগিয়ে যায় স্বাগতিকরা। এরপর মাত্র চার মিনিটের ব্যবধানে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন পেদ্রো নেতো। প্রথমার্ধেই জোয়াও পেদ্রোর গোলে ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় চেলসি।

তিন গোলের লিড পেয়েও অবশ্য ম্যাচ সহজে শেষ করতে পারেনি চেলসি। ৩৫ মিনিটে মালিক ইয়ালকুয়েরের কোনাকুনি শটে ব্রাইটন প্রথম গোলটি পায়। মার্তিনেজ পোস্ট ছেড়ে বেরিয়ে এসে পরিস্থিতি সামলানোর চেষ্টা করলেও ফিরতি বলে নেওয়া শটটি আটকানোর সুযোগ পাননি।

দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচের উত্তেজনা আরও বাড়ে। ৬৩ মিনিটে গ্রসের ক্রস ক্লিয়ার করতে গিয়ে নিজেদের জালেই বল পাঠিয়ে দেন জোয়াও পেদ্রো। আত্মঘাতী গোলে তখন ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে থাকে চেলসি। এরপর সমতা ফেরানোর জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে ব্রাইটন।

এই সময় চেলসির গোলপোস্টের নিচে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি সেভ করেন মার্তিনেজ। বসকাকলির নিচু শট এবং গোমেজের হেড ঠেকিয়ে দলকে এগিয়ে রাখেন তিনি। সতীর্থদেরও বারবার সংগঠিত করার চেষ্টা করেন আর্জেন্টাইন এই গোলরক্ষক। অভিষেকে তাঁর নেতৃত্বের ছাপও দেখা যায় মাঠে।

৭৪ মিনিটে চেলসির হয়ে ব্যবধান আবার বাড়ান কোল পালমার। একক নৈপুণ্যে ব্রাইটনের কয়েকজন ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে দুর্দান্ত ফিনিশিংয়ে দলকে ৪-২ ব্যবধানে এগিয়ে দেন তিনি। গোলের পর উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠেন চেলসি কোচ জাবি আলোনসো ও স্ট্যামফোর্ড ব্রিজের দর্শকেরা।

তবে ম্যাচের নাটক তখনও শেষ হয়নি। যোগ করা সময়ে ফ্রি-কিক থেকে আসা বলে দূরূহ কোণ থেকে দুর্দান্ত হেডে নিজের তৃতীয় গোল করেন প্যাসকাল গ্রস। ব্রাইটন ম্যাচে ফিরে আসার চেষ্টা করলেও শেষ মুহূর্তে আর সমতা ফেরাতে পারেনি। ফলে ৪-৩ গোলের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে চেলসি।

জয় দিয়ে চেলসিতে নতুন অধ্যায় শুরু হলেও মার্তিনেজের জন্য অভিষেকটি মিশ্র অনুভূতির। একদিকে নতুন ক্লাবের হয়ে প্রথম ম্যাচেই জয়, অন্যদিকে তিনবার বল জালে যাওয়ার হতাশা। তবে অ্যাস্টন ভিলা থেকে যোগ দেওয়ার মাত্র এক দিনের মধ্যেই মাঠে নেমে নিজের সামর্থ্যেরও ঝলক দেখিয়েছেন তিনি।

চেলসির জন্য আরও একটি বড় অর্জন এসেছে এই ম্যাচে। প্রথম দুই লিগ ম্যাচে সাত গোল করার কীর্তি গড়েছেন জাবি আলোনসোর দল। নতুন মৌসুমে আক্রমণভাগের শক্তি এরই মধ্যে আলোচনায় এসেছে। এখন মার্তিনেজের নেতৃত্বে রক্ষণভাগও আরও শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারে কি না, সেটিই দেখার বিষয়।

স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে মার্তিনেজের পথচলা তাই জয় দিয়ে শুরু হয়েছে, কিন্তু সামনে অপেক্ষা করছে আরও বড় পরীক্ষা। নতুন সতীর্থ, নতুন রক্ষণভাগ ও নতুন পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নিতে তাঁকে সময় লাগবে। প্রথম ম্যাচের তিন গোল হজম অবশ্য তাঁর সামর্থ্যের পুরো চিত্র নয়। বরং চেলসির হয়ে বিশ্বজয়ী গোলরক্ষকের নতুন লড়াইয়ের শুরুটা হয়েছে এক রোমাঞ্চকর জয় দিয়েই।

জনপ্রিয় সংবাদ

২১ বছর পর লেস্টার ছাড়ছেন হামজা, নতুন ঠিকানা শেফিল্ড

চেলসিতে মার্তিনেজের অভিষেক, জয় পেলেও খেলেন ৩ গোল

Update Time : ০৯:২৪:৪১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬

ম্যাচ জিতে চেলসির জার্সিতে অভিষেক হয়েছে আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজের। তবে অভিষেকের আনন্দের সঙ্গে তিনবার বল জালে যাওয়ার অস্বস্তিও সঙ্গী হয়েছে তাঁর। স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে রোমাঞ্চকর ম্যাচে ব্রাইটনকে ৪-৩ গোলে হারিয়েছে চেলসি। মাত্র ২৪ ঘণ্টা আগে অ্যাস্টন ভিলা থেকে চেলসিতে যোগ দেওয়া মার্তিনেজ কোনো অনুশীলন ছাড়াই নেমেছিলেন মাঠে।

নতুন ক্লাবের হয়ে মার্তিনেজের অভিষেকটা ছিল বেশ নাটকীয়। চেলসির নীল জার্সিতে প্রথমবার গোলপোস্টের নিচে দাঁড়িয়েই তাঁকে সামলাতে হয়েছে সাত গোলের এক ম্যাচ। শেষ পর্যন্ত জয় পাওয়ায় স্বস্তি ফিরেছে চেলসি শিবিরে। তবে তিন গোল হজম করায় পুরোপুরি সন্তুষ্ট হওয়ার সুযোগ নেই মার্তিনেজের।

ম্যাচের শুরু থেকেই দারুণ ছন্দে ছিল চেলসি। চতুর্থ মিনিটে রোমেও লাভিয়ার গোলে এগিয়ে যায় স্বাগতিকরা। এরপর মাত্র চার মিনিটের ব্যবধানে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন পেদ্রো নেতো। প্রথমার্ধেই জোয়াও পেদ্রোর গোলে ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় চেলসি।

আরও পড়ুন  ‘ফ্রান্সের উচিত আমাদের ভয় পাওয়া’

তিন গোলের লিড পেয়েও অবশ্য ম্যাচ সহজে শেষ করতে পারেনি চেলসি। ৩৫ মিনিটে মালিক ইয়ালকুয়েরের কোনাকুনি শটে ব্রাইটন প্রথম গোলটি পায়। মার্তিনেজ পোস্ট ছেড়ে বেরিয়ে এসে পরিস্থিতি সামলানোর চেষ্টা করলেও ফিরতি বলে নেওয়া শটটি আটকানোর সুযোগ পাননি।

দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচের উত্তেজনা আরও বাড়ে। ৬৩ মিনিটে গ্রসের ক্রস ক্লিয়ার করতে গিয়ে নিজেদের জালেই বল পাঠিয়ে দেন জোয়াও পেদ্রো। আত্মঘাতী গোলে তখন ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে থাকে চেলসি। এরপর সমতা ফেরানোর জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে ব্রাইটন।

এই সময় চেলসির গোলপোস্টের নিচে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি সেভ করেন মার্তিনেজ। বসকাকলির নিচু শট এবং গোমেজের হেড ঠেকিয়ে দলকে এগিয়ে রাখেন তিনি। সতীর্থদেরও বারবার সংগঠিত করার চেষ্টা করেন আর্জেন্টাইন এই গোলরক্ষক। অভিষেকে তাঁর নেতৃত্বের ছাপও দেখা যায় মাঠে।

আরও পড়ুন  কমলাপুর স্টেডিয়ামে সব দোকান বাতিল, প্রশাসক বরখাস্ত

৭৪ মিনিটে চেলসির হয়ে ব্যবধান আবার বাড়ান কোল পালমার। একক নৈপুণ্যে ব্রাইটনের কয়েকজন ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে দুর্দান্ত ফিনিশিংয়ে দলকে ৪-২ ব্যবধানে এগিয়ে দেন তিনি। গোলের পর উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠেন চেলসি কোচ জাবি আলোনসো ও স্ট্যামফোর্ড ব্রিজের দর্শকেরা।

তবে ম্যাচের নাটক তখনও শেষ হয়নি। যোগ করা সময়ে ফ্রি-কিক থেকে আসা বলে দূরূহ কোণ থেকে দুর্দান্ত হেডে নিজের তৃতীয় গোল করেন প্যাসকাল গ্রস। ব্রাইটন ম্যাচে ফিরে আসার চেষ্টা করলেও শেষ মুহূর্তে আর সমতা ফেরাতে পারেনি। ফলে ৪-৩ গোলের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে চেলসি।

জয় দিয়ে চেলসিতে নতুন অধ্যায় শুরু হলেও মার্তিনেজের জন্য অভিষেকটি মিশ্র অনুভূতির। একদিকে নতুন ক্লাবের হয়ে প্রথম ম্যাচেই জয়, অন্যদিকে তিনবার বল জালে যাওয়ার হতাশা। তবে অ্যাস্টন ভিলা থেকে যোগ দেওয়ার মাত্র এক দিনের মধ্যেই মাঠে নেমে নিজের সামর্থ্যেরও ঝলক দেখিয়েছেন তিনি।

আরও পড়ুন  আজ টিভিতে যা দেখবেন

চেলসির জন্য আরও একটি বড় অর্জন এসেছে এই ম্যাচে। প্রথম দুই লিগ ম্যাচে সাত গোল করার কীর্তি গড়েছেন জাবি আলোনসোর দল। নতুন মৌসুমে আক্রমণভাগের শক্তি এরই মধ্যে আলোচনায় এসেছে। এখন মার্তিনেজের নেতৃত্বে রক্ষণভাগও আরও শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারে কি না, সেটিই দেখার বিষয়।

স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে মার্তিনেজের পথচলা তাই জয় দিয়ে শুরু হয়েছে, কিন্তু সামনে অপেক্ষা করছে আরও বড় পরীক্ষা। নতুন সতীর্থ, নতুন রক্ষণভাগ ও নতুন পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নিতে তাঁকে সময় লাগবে। প্রথম ম্যাচের তিন গোল হজম অবশ্য তাঁর সামর্থ্যের পুরো চিত্র নয়। বরং চেলসির হয়ে বিশ্বজয়ী গোলরক্ষকের নতুন লড়াইয়ের শুরুটা হয়েছে এক রোমাঞ্চকর জয় দিয়েই।