ঢাকা ১২:০০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পাকিস্তান-ইংল্যান্ড টেস্ট: দারুণ জয়ে সিরিজ ইংল্যান্ডের

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ১১:১৬:১৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬
  • ৫০৬

লর্ডস টেস্টে পাকিস্তানের ব্যাটসম্যানদের বিপাকে ফেলেছেন ওলি রবিনসন। ছবি: সংগৃহীত

পাকিস্তান-ইংল্যান্ড টেস্টে ইতিহাস গড়ার সুযোগ পেয়েছিল পাকিস্তান। লর্ডসে জিততে চতুর্থ ইনিংসে তাদের সামনে ছিল ৩৮৯ রানের বিশাল লক্ষ্য। টেস্টের শেষ ইনিংসে এত রান তাড়া করে জয়ের নজির পাকিস্তানের নেই। তাই এই ম্যাচ ছিল শুধু সিরিজ বাঁচানোর লড়াই নয়, বরং নতুন ইতিহাস লেখারও সুযোগ। কিন্তু সেই ইতিহাস লেখা হলো না। বরং পুরোনো চিত্রই দেখা গেল লর্ডসে। চতুর্থ দিনেই ১৯৪ রানে গুটিয়ে গেল পাকিস্তানের ইনিংস। ফলে ১৯৪ রানের বড় জয়ে এক ম্যাচ হাতে রেখেই সিরিজ নিজেদের করে নিয়েছে ইংল্যান্ড।

পাকিস্তান-ইংল্যান্ড টেস্টের চতুর্থ দিনের শুরু থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ছিল ইংলিশ বোলারদের হাতে। ৭ রানেই পাকিস্তান হারায় দুই ওপেনার আজান আওয়াইস ও আবদুল্লাহ শফিককে। মাত্র তিন বলের ব্যবধানে দুজনকেই সাজঘরে ফেরান দুর্দান্ত ছন্দে থাকা ওলি রবিনসন। এরপর দলের রান ১৪ হতেই বিদায় নেন অধিনায়ক বাবর আজম। জোফরা আর্চারের বাউন্সারে ব্যাটের কানায় লেগে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন পাকিস্তান অধিনায়ক। এত দ্রুত তিন উইকেট হারিয়ে তখনই বড় চাপে পড়ে যায় পাকিস্তান। চোটের কারণে এই ইনিংসেও ব্যাট করতে পারেননি ইমাম-উল-হক।

এরপর শান মাসুদ ও সৌদ শাকিল মিলে পাকিস্তানকে কিছুটা স্বস্তি দেন। দুজনের জুটি যখন ধীরে ধীরে ম্যাচে ফেরার আশা তৈরি করছিল, তখনই আবার আঘাত হানেন রবিনসন। রিভিউ নিয়ে শান মাসুদকে ফিরিয়ে দেন তিনি। ২৬ রান করে সাজঘরে ফেরেন পাকিস্তানের ব্যাটসম্যান। দলীয় রান তখন ১১১। নিজের পরের ওভারেই মোহাম্মদ রিজওয়ানকে এলবিডব্লিউ করে পাকিস্তানের বিপদ আরও বাড়িয়ে দেন রবিনসন। স্কোর হয়ে যায় ১১৫ রানে ৫ উইকেট। একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ ব্যাটসম্যানকে হারিয়ে তখন ম্যাচ থেকে অনেকটাই ছিটকে পড়ে পাকিস্তান।

চা বিরতির সময় পাকিস্তানের স্কোর ছিল ৫ উইকেটে ১৪০ রান। দলের হয়ে তখনও আশার আলো দেখাচ্ছিলেন সৌদ শাকিল। ৭৮ রানে অপরাজিত থেকে বিরতিতে যান তিনি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিন অঙ্কের ঘরে পৌঁছাতে পারেননি পাকিস্তানের এই ব্যাটসম্যান। ক্যারিয়ারের পঞ্চম টেস্ট সেঞ্চুরি থেকে মাত্র ৩ রান দূরে থাকতে আউট হন শাকিল। অন্য প্রান্তে ব্যাটসম্যানদের নিয়মিত আসা-যাওয়ার মধ্যেও তিনি চেষ্টা করেছেন আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে ম্যাচের গতিপথ বদলাতে। তাঁর ইনিংসে ছিল ১৩টি চার ও ২টি ছক্কা। কিন্তু একার লড়াইয়ে এত বড় লক্ষ্য পেরোনো সম্ভব হয়নি।

পাকিস্তানের ব্যাটিং ধসের নেপথ্যে সবচেয়ে বড় ভূমিকা ছিল ইংল্যান্ডের পেস আক্রমণের। ওলি রবিনসন একাই নিয়েছেন ৪ উইকেট। তাঁর সঙ্গে জশ টাং পেয়েছেন ৩টি এবং জোফরা আর্চার নিয়েছেন ২টি উইকেট। গতি, বাউন্স ও নিয়ন্ত্রিত লেংথে পাকিস্তানের ব্যাটসম্যানদের নিয়মিত পরীক্ষায় ফেলেছেন ইংলিশ পেসাররা। বিশেষ করে রবিনসনের স্পেল ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। অন্যদিকে পাকিস্তানের হয়ে মোহাম্মদ আব্বাসও বল হাতে ভালো করেছেন। ইংল্যান্ডের দ্বিতীয় ইনিংসে ৫০ রান নিয়ে দিন শুরু করা ড্যান লরেন্সকে বোল্ড করার পর রবিনসনকেও ফিরিয়ে নিজের পাঁচ উইকেট পূর্ণ করেন তিনি।

এর আগে ৭ উইকেটে ১৭৭ রান নিয়ে চতুর্থ দিনের খেলা শুরু করেছিল ইংল্যান্ড। দিনের শুরুতে তাদের ইনিংস বেশি দূর এগোয়নি। মোহাম্মদ আব্বাসের বোলিংয়ে ২০৮ রানে থামে ইংল্যান্ডের দ্বিতীয় ইনিংস। ফলে পাকিস্তানের সামনে আসে ৩৮৯ রানের কঠিন লক্ষ্য। শুরুতে সেই লক্ষ্যকে অসম্ভব মনে হয়নি। কিন্তু মাত্র ৭ রানেই দুই উইকেট হারানোর পর পাকিস্তানের সামনে কঠিন বাস্তবতা স্পষ্ট হয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত ১৯৪ রানেই থামে তাদের লড়াই। পাকিস্তান-ইংল্যান্ড টেস্টে এই পরাজয়ের ফলে এক ম্যাচ হাতে রেখেই সিরিজ হার নিশ্চিত হয়েছে বাবর আজমদের। অন্যদিকে লর্ডসে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে ইংল্যান্ড পেয়েছে সিরিজ জয়ের বড় আত্মবিশ্বাস।

জনপ্রিয় সংবাদ

পাকিস্তান-ইংল্যান্ড টেস্ট: দারুণ জয়ে সিরিজ ইংল্যান্ডের

Update Time : ১১:১৬:১৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬

পাকিস্তান-ইংল্যান্ড টেস্টে ইতিহাস গড়ার সুযোগ পেয়েছিল পাকিস্তান। লর্ডসে জিততে চতুর্থ ইনিংসে তাদের সামনে ছিল ৩৮৯ রানের বিশাল লক্ষ্য। টেস্টের শেষ ইনিংসে এত রান তাড়া করে জয়ের নজির পাকিস্তানের নেই। তাই এই ম্যাচ ছিল শুধু সিরিজ বাঁচানোর লড়াই নয়, বরং নতুন ইতিহাস লেখারও সুযোগ। কিন্তু সেই ইতিহাস লেখা হলো না। বরং পুরোনো চিত্রই দেখা গেল লর্ডসে। চতুর্থ দিনেই ১৯৪ রানে গুটিয়ে গেল পাকিস্তানের ইনিংস। ফলে ১৯৪ রানের বড় জয়ে এক ম্যাচ হাতে রেখেই সিরিজ নিজেদের করে নিয়েছে ইংল্যান্ড।

পাকিস্তান-ইংল্যান্ড টেস্টের চতুর্থ দিনের শুরু থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ছিল ইংলিশ বোলারদের হাতে। ৭ রানেই পাকিস্তান হারায় দুই ওপেনার আজান আওয়াইস ও আবদুল্লাহ শফিককে। মাত্র তিন বলের ব্যবধানে দুজনকেই সাজঘরে ফেরান দুর্দান্ত ছন্দে থাকা ওলি রবিনসন। এরপর দলের রান ১৪ হতেই বিদায় নেন অধিনায়ক বাবর আজম। জোফরা আর্চারের বাউন্সারে ব্যাটের কানায় লেগে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন পাকিস্তান অধিনায়ক। এত দ্রুত তিন উইকেট হারিয়ে তখনই বড় চাপে পড়ে যায় পাকিস্তান। চোটের কারণে এই ইনিংসেও ব্যাট করতে পারেননি ইমাম-উল-হক।

আরও পড়ুন  দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনের আশা: মারনাস লাবুশেনের বাংলাদেশ সিরিজ প্রস্তুতি

এরপর শান মাসুদ ও সৌদ শাকিল মিলে পাকিস্তানকে কিছুটা স্বস্তি দেন। দুজনের জুটি যখন ধীরে ধীরে ম্যাচে ফেরার আশা তৈরি করছিল, তখনই আবার আঘাত হানেন রবিনসন। রিভিউ নিয়ে শান মাসুদকে ফিরিয়ে দেন তিনি। ২৬ রান করে সাজঘরে ফেরেন পাকিস্তানের ব্যাটসম্যান। দলীয় রান তখন ১১১। নিজের পরের ওভারেই মোহাম্মদ রিজওয়ানকে এলবিডব্লিউ করে পাকিস্তানের বিপদ আরও বাড়িয়ে দেন রবিনসন। স্কোর হয়ে যায় ১১৫ রানে ৫ উইকেট। একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ ব্যাটসম্যানকে হারিয়ে তখন ম্যাচ থেকে অনেকটাই ছিটকে পড়ে পাকিস্তান।

চা বিরতির সময় পাকিস্তানের স্কোর ছিল ৫ উইকেটে ১৪০ রান। দলের হয়ে তখনও আশার আলো দেখাচ্ছিলেন সৌদ শাকিল। ৭৮ রানে অপরাজিত থেকে বিরতিতে যান তিনি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিন অঙ্কের ঘরে পৌঁছাতে পারেননি পাকিস্তানের এই ব্যাটসম্যান। ক্যারিয়ারের পঞ্চম টেস্ট সেঞ্চুরি থেকে মাত্র ৩ রান দূরে থাকতে আউট হন শাকিল। অন্য প্রান্তে ব্যাটসম্যানদের নিয়মিত আসা-যাওয়ার মধ্যেও তিনি চেষ্টা করেছেন আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে ম্যাচের গতিপথ বদলাতে। তাঁর ইনিংসে ছিল ১৩টি চার ও ২টি ছক্কা। কিন্তু একার লড়াইয়ে এত বড় লক্ষ্য পেরোনো সম্ভব হয়নি।

আরও পড়ুন  টাইগারদের প্রশংসায় বিশ্ব ক্রিকেট, নতুন উচ্চতায় বাংলাদেশ

পাকিস্তানের ব্যাটিং ধসের নেপথ্যে সবচেয়ে বড় ভূমিকা ছিল ইংল্যান্ডের পেস আক্রমণের। ওলি রবিনসন একাই নিয়েছেন ৪ উইকেট। তাঁর সঙ্গে জশ টাং পেয়েছেন ৩টি এবং জোফরা আর্চার নিয়েছেন ২টি উইকেট। গতি, বাউন্স ও নিয়ন্ত্রিত লেংথে পাকিস্তানের ব্যাটসম্যানদের নিয়মিত পরীক্ষায় ফেলেছেন ইংলিশ পেসাররা। বিশেষ করে রবিনসনের স্পেল ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। অন্যদিকে পাকিস্তানের হয়ে মোহাম্মদ আব্বাসও বল হাতে ভালো করেছেন। ইংল্যান্ডের দ্বিতীয় ইনিংসে ৫০ রান নিয়ে দিন শুরু করা ড্যান লরেন্সকে বোল্ড করার পর রবিনসনকেও ফিরিয়ে নিজের পাঁচ উইকেট পূর্ণ করেন তিনি।

আরও পড়ুন  সোনাল দিনুশা: জো রুটের রেকর্ড ভেঙে নতুন ইতিহাস

এর আগে ৭ উইকেটে ১৭৭ রান নিয়ে চতুর্থ দিনের খেলা শুরু করেছিল ইংল্যান্ড। দিনের শুরুতে তাদের ইনিংস বেশি দূর এগোয়নি। মোহাম্মদ আব্বাসের বোলিংয়ে ২০৮ রানে থামে ইংল্যান্ডের দ্বিতীয় ইনিংস। ফলে পাকিস্তানের সামনে আসে ৩৮৯ রানের কঠিন লক্ষ্য। শুরুতে সেই লক্ষ্যকে অসম্ভব মনে হয়নি। কিন্তু মাত্র ৭ রানেই দুই উইকেট হারানোর পর পাকিস্তানের সামনে কঠিন বাস্তবতা স্পষ্ট হয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত ১৯৪ রানেই থামে তাদের লড়াই। পাকিস্তান-ইংল্যান্ড টেস্টে এই পরাজয়ের ফলে এক ম্যাচ হাতে রেখেই সিরিজ হার নিশ্চিত হয়েছে বাবর আজমদের। অন্যদিকে লর্ডসে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে ইংল্যান্ড পেয়েছে সিরিজ জয়ের বড় আত্মবিশ্বাস।