ঢাকা ১২:৩০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিশুর সর্দি-কাশিতে মধু? আগে জানুন এই বিপদ

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ১১:৫৩:৩৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬
  • ৫০৭

সর্দি-কাশিতে এক বছরের কম বয়সী শিশুকে মধু খাওয়ানোর আগে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়।

শিশুর সর্দি-কাশি হলে অনেক বাবা-মা দ্রুত ঘরোয়া উপায়ে সমাধান খোঁজেন। তুলসীপাতার রসের সঙ্গে মধু মিশিয়ে খাওয়ানো কিংবা কান্না থামাতে চুষনিতে মধু লাগানোর মতো অভ্যাসও অনেক পরিবারে রয়েছে। কিন্তু এক বছরের কম বয়সী শিশুকে মধু খাওয়ানো মোটেও নিরাপদ নয়। এতে ইনফ্যান্ট বটুলিজমের মতো গুরুতর অসুস্থতার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।এক বছরের আগে শিশুকে মধু দেওয়া যাবে না।

ইনফ্যান্ট বটুলিজম শিশুর পেশি দুর্বল করে দিতে পারে। অনেকেই মধুকে চিনির স্বাস্থ্যকর বিকল্প মনে করেন। কিন্তু বয়স এক বছর পূর্ণ হওয়ার আগে শিশুর খাবারে মধু যোগ করা উচিত নয়। মধুতে থাকা কিছু ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া শিশুর অন্ত্রে বিষাক্ত পদার্থ তৈরি করতে পারে। এই রোগকে বলা হয় ইনফ্যান্ট বটুলিজম। মধুর মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করা জীবাণু থেকে তৈরি বিষাক্ত পদার্থ স্নায়ুতন্ত্রে প্রভাব ফেলতে পারে। এর ফলে শিশুর শরীরের বিভিন্ন পেশি দুর্বল হয়ে যেতে পারে। গুরুতর অবস্থায় খাওয়া, গিলতে থাকা কিংবা শ্বাস নেওয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজও ব্যাহত হতে পারে।

শ্বাসের পেশি দুর্বল হলে পরিস্থিতি আরও গুরুতর হতে পারে। বটুলিজমের ক্ষেত্রে বিষাক্ত পদার্থ স্নায়ু, মস্তিষ্ক ও সুষুম্নাকাণ্ডের কার্যক্রমে প্রভাব ফেলতে পারে। এতে শরীরের বিভিন্ন অংশে দুর্বলতা তৈরি হতে পারে। তাই এক বছরের কম বয়সী শিশুর ক্ষেত্রে মধু নিয়ে কোনো ধরনের ঝুঁকি নেওয়া উচিত নয়। অনেকের ধারণা, গরম করলে মধুর ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া নষ্ট হয়ে যায়। কিন্তু শুধু গরম করার ওপর নির্ভর করে ঝুঁকি পুরোপুরি দূর হয়েছে বলে ধরে নেওয়া ঠিক নয়। তাই রান্না করা, গরম করা বা অন্য খাবারের সঙ্গে মিশিয়েও এক বছরের কম বয়সী শিশুকে মধু দেওয়া উচিত নয়।

মধু খাওয়ার পর কিছু লক্ষণ দেখা দিলে সতর্ক হতে হবে। শিশুর পেশি দুর্বল হয়ে যাওয়া, খাবার গিলতে সমস্যা হওয়া কিংবা কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। সামান্য কাজেই শিশুকে অস্বাভাবিকভাবে দুর্বল বা হাঁপিয়ে পড়তেও দেখা যেতে পারে। এসব লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।সর্দি-কাশির জন্য নিজের মতো করে ঘরোয়া উপাদান দেবেন না বিশেষ করে এক বছরের কম বয়সী শিশুকে মধু, তুলসীপাতার রস বা অন্য কোনো ঘরোয়া উপাদান দেওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

শিশুর সর্দি-কাশিতে চিকিৎসকের পরামর্শই সবচেয়ে নিরাপদ পথ। প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসক ওষুধ, পরিচর্যা বা অন্য কোনো ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দিতে পারেন। বিশেষ করে ছোট শিশুর ক্ষেত্রে বয়স অনুযায়ী খাবার ও ওষুধের নিরাপত্তা খুব গুরুত্বপূর্ণ। তাই উপসর্গ বেশি হলে বা নতুন কোনো সমস্যা দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে।প্রাকৃতিক হলেই সব খাবার শিশুর জন্য নিরাপদ নয়। মধু স্বাভাবিক ও পুষ্টিকর খাবার হলেও বয়সভেদে এর ঝুঁকি আলাদা হতে পারে। শিশুর ক্ষেত্রে কোনো খাবার দেওয়ার আগে তার বয়স ও নিরাপত্তা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া দরকার। তাই এক বছর বয়স পূর্ণ হওয়ার আগে মধু এড়িয়ে চলাই নিরাপদ সিদ্ধান্ত।

জনপ্রিয় সংবাদ

শিশুর সর্দি-কাশিতে মধু? আগে জানুন এই বিপদ

Update Time : ১১:৫৩:৩৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬

শিশুর সর্দি-কাশি হলে অনেক বাবা-মা দ্রুত ঘরোয়া উপায়ে সমাধান খোঁজেন। তুলসীপাতার রসের সঙ্গে মধু মিশিয়ে খাওয়ানো কিংবা কান্না থামাতে চুষনিতে মধু লাগানোর মতো অভ্যাসও অনেক পরিবারে রয়েছে। কিন্তু এক বছরের কম বয়সী শিশুকে মধু খাওয়ানো মোটেও নিরাপদ নয়। এতে ইনফ্যান্ট বটুলিজমের মতো গুরুতর অসুস্থতার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।এক বছরের আগে শিশুকে মধু দেওয়া যাবে না।

ইনফ্যান্ট বটুলিজম শিশুর পেশি দুর্বল করে দিতে পারে। অনেকেই মধুকে চিনির স্বাস্থ্যকর বিকল্প মনে করেন। কিন্তু বয়স এক বছর পূর্ণ হওয়ার আগে শিশুর খাবারে মধু যোগ করা উচিত নয়। মধুতে থাকা কিছু ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া শিশুর অন্ত্রে বিষাক্ত পদার্থ তৈরি করতে পারে। এই রোগকে বলা হয় ইনফ্যান্ট বটুলিজম। মধুর মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করা জীবাণু থেকে তৈরি বিষাক্ত পদার্থ স্নায়ুতন্ত্রে প্রভাব ফেলতে পারে। এর ফলে শিশুর শরীরের বিভিন্ন পেশি দুর্বল হয়ে যেতে পারে। গুরুতর অবস্থায় খাওয়া, গিলতে থাকা কিংবা শ্বাস নেওয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজও ব্যাহত হতে পারে।

শ্বাসের পেশি দুর্বল হলে পরিস্থিতি আরও গুরুতর হতে পারে। বটুলিজমের ক্ষেত্রে বিষাক্ত পদার্থ স্নায়ু, মস্তিষ্ক ও সুষুম্নাকাণ্ডের কার্যক্রমে প্রভাব ফেলতে পারে। এতে শরীরের বিভিন্ন অংশে দুর্বলতা তৈরি হতে পারে। তাই এক বছরের কম বয়সী শিশুর ক্ষেত্রে মধু নিয়ে কোনো ধরনের ঝুঁকি নেওয়া উচিত নয়। অনেকের ধারণা, গরম করলে মধুর ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া নষ্ট হয়ে যায়। কিন্তু শুধু গরম করার ওপর নির্ভর করে ঝুঁকি পুরোপুরি দূর হয়েছে বলে ধরে নেওয়া ঠিক নয়। তাই রান্না করা, গরম করা বা অন্য খাবারের সঙ্গে মিশিয়েও এক বছরের কম বয়সী শিশুকে মধু দেওয়া উচিত নয়।

মধু খাওয়ার পর কিছু লক্ষণ দেখা দিলে সতর্ক হতে হবে। শিশুর পেশি দুর্বল হয়ে যাওয়া, খাবার গিলতে সমস্যা হওয়া কিংবা কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। সামান্য কাজেই শিশুকে অস্বাভাবিকভাবে দুর্বল বা হাঁপিয়ে পড়তেও দেখা যেতে পারে। এসব লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।সর্দি-কাশির জন্য নিজের মতো করে ঘরোয়া উপাদান দেবেন না বিশেষ করে এক বছরের কম বয়সী শিশুকে মধু, তুলসীপাতার রস বা অন্য কোনো ঘরোয়া উপাদান দেওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

শিশুর সর্দি-কাশিতে চিকিৎসকের পরামর্শই সবচেয়ে নিরাপদ পথ। প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসক ওষুধ, পরিচর্যা বা অন্য কোনো ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দিতে পারেন। বিশেষ করে ছোট শিশুর ক্ষেত্রে বয়স অনুযায়ী খাবার ও ওষুধের নিরাপত্তা খুব গুরুত্বপূর্ণ। তাই উপসর্গ বেশি হলে বা নতুন কোনো সমস্যা দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে।প্রাকৃতিক হলেই সব খাবার শিশুর জন্য নিরাপদ নয়। মধু স্বাভাবিক ও পুষ্টিকর খাবার হলেও বয়সভেদে এর ঝুঁকি আলাদা হতে পারে। শিশুর ক্ষেত্রে কোনো খাবার দেওয়ার আগে তার বয়স ও নিরাপত্তা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া দরকার। তাই এক বছর বয়স পূর্ণ হওয়ার আগে মধু এড়িয়ে চলাই নিরাপদ সিদ্ধান্ত।