ঢাকা ১২:১৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo রংপুরে চার হত্যাকান্ডের প্রতিবাদ ও বিচার এবং গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট নিরসনের দাবিতে পটিয়ায় বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির বিক্ষোভ সমাবেশ Logo শিশুর সর্দি-কাশিতে মধু? আগে জানুন এই বিপদ Logo চার খুনের আসামিদের বাইরে আনা হয়নি, কারাগারেই ডোপ টেস্ট Logo রিয়াল মাদ্রিদ: এমবাপ্পের গোলে দাপুটে জয় Logo পাকিস্তান-ইংল্যান্ড টেস্ট: দারুণ জয়ে সিরিজ ইংল্যান্ডের Logo বোয়ালখালীতে ট্রেনে কাটা পড়ে নারীর মৃত্যু, জানুন বিস্তারিত Logo ২০২৭-এর পর ইনফান্তিনোকে চায় না নেদারল্যান্ডস, কেন? Logo ২১ বছর পর লেস্টার ছাড়ছেন হামজা, নতুন ঠিকানা শেফিল্ড Logo বাড়ির নিরাপত্তায় কয়টি সিসিটিভি দরকার? জানুন সঠিক জায়গা Logo চেলসিতে মার্তিনেজের অভিষেক, জয় পেলেও খেলেন ৩ গোল

রিয়াল মাদ্রিদ: এমবাপ্পের গোলে দাপুটে জয়

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ১১:২৩:১৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬
  • ৫০৬

রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে আবারও গোল করেছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। ছবি: সংগৃহীত

রিয়াল মাদ্রিদ যেন নতুন মৌসুমের শুরুতেই নিজেদের বার্তা দিয়ে রাখছে। সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে মালাগাকে ৪-০ গোলে হারিয়ে টানা তৃতীয় জয় তুলে নিয়েছে তারা। আর এই জয়ের গল্পে আবারও সামনে কিলিয়ান এমবাপ্পে। আগের ম্যাচে হ্যাটট্রিক করা ফরাসি তারকা এবারও গোল করেছেন। সঙ্গে জুড বেলিংহাম, ট্রেন্ট আলেক্সান্ডার-আর্নল্ড ও আরদা গুলারের পারফরম্যান্সে ম্যাচের শুরু থেকেই আধিপত্য দেখিয়েছে রিয়াল। টানা তিন ম্যাচে জয় নিয়ে কোচ জোসে মরিনিওর দল মৌসুমের শুরুতেই আত্মবিশ্বাসের শক্ত ভিত তৈরি করেছে।

ম্যাচের শুরু থেকেই রিয়াল মাদ্রিদের আক্রমণ ছিল চোখে পড়ার মতো। মালাগাকে নিজেদের অর্ধে আটকে রেখে একের পর এক আক্রমণ সাজাতে থাকে স্বাগতিকেরা। প্রথম গোলের জন্য অবশ্য খুব বেশি সময় অপেক্ষা করতে হয়নি। ১৯ মিনিটে প্রায় ২৫ গজ দূর থেকে দুর্দান্ত ব্যক্তিগত দক্ষতায় গোল করেন বেলিংহাম। ডান দিক দিয়ে ঢুকে দুই ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে তাঁর নেওয়া শট বাঁ কোণের জালে আশ্রয় নেয়। মালাগার খেলোয়াড়েরা গোলটি নিয়ে আপত্তি তুললেও ভিএআর পর্যালোচনার পর সিদ্ধান্ত বহাল থাকে। বার্নাব্যু তখন বেলিংহামের নামেই মুখর।

প্রথম গোলের রেশ কাটতে না কাটতেই ব্যবধান বাড়ায় রিয়াল মাদ্রিদ। ২৬ মিনিটে ব্রাহিম দিয়াজের দ্রুত আক্রমণ থেকে সুযোগ তৈরি হয়। এমবাপ্পে ঘুরে দাঁড়িয়ে শট নেন, কিন্তু গোলকিপার সেটি ঠেকিয়ে দেন। তবে বলের গতি এতটাই ছিল যে শেষ পর্যন্ত তা জালে ঢুকে পড়ে। গোলটি প্রথমে এমবাপ্পের নামে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও পরে মালাগার আলফোনসো হেরেরোর আত্মঘাতী গোল হিসেবে নথিভুক্ত হয়। এরপর মাত্র চার মিনিটের ব্যবধানে রিয়াল পেয়ে যায় তৃতীয় গোল। আলেক্সান্ডার-আর্নল্ডের মাপা ক্রসে দারুণ ফিনিশিং করেন এমবাপ্পে। ফলে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি চলে যায় স্বাগতিকদের হাতে।

এমবাপ্পের এই গোলটি ছিল ম্যাচের অন্যতম আলোচিত মুহূর্ত। লা লিগায় তাঁর গোল করার ধারাবাহিকতা যে কতটা ভয়ংকর হয়ে উঠেছে, সেটিও যেন আবার দেখা গেল। এলচে ছাড়া লিগে তাঁর মুখোমুখি হওয়া বাকি ২২ দলের বিপক্ষেই গোল করার কীর্তি গড়েছেন তিনি। আগের ম্যাচে হ্যাটট্রিকের পর এবারও গোল করে ফরাসি তারকা বুঝিয়ে দিয়েছেন, প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগের জন্য তাঁর উপস্থিতি কতটা বড় হুমকি। তাঁর গতি, জায়গা তৈরি করার ক্ষমতা এবং বক্সে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার দক্ষতা রিয়ালের আক্রমণকে আরও ধারালো করে তুলেছে।

দ্বিতীয়ার্ধে অবশ্য রিয়াল মাদ্রিদকে আর মরিয়া হয়ে আক্রমণে যেতে হয়নি। তিন গোলের লিড হাতে থাকায় স্বাগতিকেরা অনেকটা স্বচ্ছন্দে খেলেছে। তারপরও সুযোগ এসেছে বেশ কয়েকটি। বেলিংহামের একটি শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে। সহজ আরেকটি সুযোগও কাজে লাগাতে পারেননি তিনি। অন্যদিকে বল হারানোর পর দ্রুত চাপ তৈরি করে মালাগাকে স্বাভাবিক খেলায় ফিরতে দেয়নি রিয়াল। মাঝমাঠে বেলিংহামের উপস্থিতি এবং ডান প্রান্তে আলেক্সান্ডার-আর্নল্ডের কার্যকারিতা ম্যাচে স্পষ্ট পার্থক্য গড়ে দেয়।

ম্যাচের শেষ দিকেও নাটকীয়তার সামান্য আভাস ছিল। মালাগা পেনাল্টির দাবি তুলেছিল এবং রেফারি প্রথমে স্পটকিকের সিদ্ধান্তও দিয়েছিলেন। কিন্তু ভিএআর পর্যালোচনার পর সেই সিদ্ধান্ত বদলে যায়। যোগ করা সময়ে রিয়াল মাদ্রিদ ম্যাচের শেষ পেরেকটি ঠুকে দেয়। হাউসেনের কাছ থেকে বল কেড়ে নিয়ে দ্রুত আক্রমণে ওঠে তারা। বাম দিক দিয়ে এগিয়ে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের কাটব্যাক থেকে বদলি আরদা গুলার বল জালে পাঠান। ৪-০ গোলের জয় নিশ্চিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বার্নাব্যুতে শুরু হয় উৎসব। টানা তিন ম্যাচে জয়, তিন ম্যাচেই দুর্দান্ত আক্রমণাত্মক ফুটবল—মরিনিওর রিয়াল মাদ্রিদ শুরুতেই বুঝিয়ে দিল, শিরোপার লড়াইয়ে তাদের হিসাবের বাইরে রাখার সুযোগ নেই।

জনপ্রিয় সংবাদ

রংপুরে চার হত্যাকান্ডের প্রতিবাদ ও বিচার এবং গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট নিরসনের দাবিতে পটিয়ায় বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির বিক্ষোভ সমাবেশ

রিয়াল মাদ্রিদ: এমবাপ্পের গোলে দাপুটে জয়

Update Time : ১১:২৩:১৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬

রিয়াল মাদ্রিদ যেন নতুন মৌসুমের শুরুতেই নিজেদের বার্তা দিয়ে রাখছে। সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে মালাগাকে ৪-০ গোলে হারিয়ে টানা তৃতীয় জয় তুলে নিয়েছে তারা। আর এই জয়ের গল্পে আবারও সামনে কিলিয়ান এমবাপ্পে। আগের ম্যাচে হ্যাটট্রিক করা ফরাসি তারকা এবারও গোল করেছেন। সঙ্গে জুড বেলিংহাম, ট্রেন্ট আলেক্সান্ডার-আর্নল্ড ও আরদা গুলারের পারফরম্যান্সে ম্যাচের শুরু থেকেই আধিপত্য দেখিয়েছে রিয়াল। টানা তিন ম্যাচে জয় নিয়ে কোচ জোসে মরিনিওর দল মৌসুমের শুরুতেই আত্মবিশ্বাসের শক্ত ভিত তৈরি করেছে।

ম্যাচের শুরু থেকেই রিয়াল মাদ্রিদের আক্রমণ ছিল চোখে পড়ার মতো। মালাগাকে নিজেদের অর্ধে আটকে রেখে একের পর এক আক্রমণ সাজাতে থাকে স্বাগতিকেরা। প্রথম গোলের জন্য অবশ্য খুব বেশি সময় অপেক্ষা করতে হয়নি। ১৯ মিনিটে প্রায় ২৫ গজ দূর থেকে দুর্দান্ত ব্যক্তিগত দক্ষতায় গোল করেন বেলিংহাম। ডান দিক দিয়ে ঢুকে দুই ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে তাঁর নেওয়া শট বাঁ কোণের জালে আশ্রয় নেয়। মালাগার খেলোয়াড়েরা গোলটি নিয়ে আপত্তি তুললেও ভিএআর পর্যালোচনার পর সিদ্ধান্ত বহাল থাকে। বার্নাব্যু তখন বেলিংহামের নামেই মুখর।

আরও পড়ুন  ব্যালন ডি’অর দৌড়ে এমবাপ্পে: ট্রফি ছাড়াই জয়ের দুর্দান্ত ইতিহাস

প্রথম গোলের রেশ কাটতে না কাটতেই ব্যবধান বাড়ায় রিয়াল মাদ্রিদ। ২৬ মিনিটে ব্রাহিম দিয়াজের দ্রুত আক্রমণ থেকে সুযোগ তৈরি হয়। এমবাপ্পে ঘুরে দাঁড়িয়ে শট নেন, কিন্তু গোলকিপার সেটি ঠেকিয়ে দেন। তবে বলের গতি এতটাই ছিল যে শেষ পর্যন্ত তা জালে ঢুকে পড়ে। গোলটি প্রথমে এমবাপ্পের নামে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও পরে মালাগার আলফোনসো হেরেরোর আত্মঘাতী গোল হিসেবে নথিভুক্ত হয়। এরপর মাত্র চার মিনিটের ব্যবধানে রিয়াল পেয়ে যায় তৃতীয় গোল। আলেক্সান্ডার-আর্নল্ডের মাপা ক্রসে দারুণ ফিনিশিং করেন এমবাপ্পে। ফলে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি চলে যায় স্বাগতিকদের হাতে।

আরও পড়ুন  ইয়ান দিয়োমান্দে: রিয়ালের নতুন তারকার অনুপ্রেরণা রোনালদো

এমবাপ্পের এই গোলটি ছিল ম্যাচের অন্যতম আলোচিত মুহূর্ত। লা লিগায় তাঁর গোল করার ধারাবাহিকতা যে কতটা ভয়ংকর হয়ে উঠেছে, সেটিও যেন আবার দেখা গেল। এলচে ছাড়া লিগে তাঁর মুখোমুখি হওয়া বাকি ২২ দলের বিপক্ষেই গোল করার কীর্তি গড়েছেন তিনি। আগের ম্যাচে হ্যাটট্রিকের পর এবারও গোল করে ফরাসি তারকা বুঝিয়ে দিয়েছেন, প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগের জন্য তাঁর উপস্থিতি কতটা বড় হুমকি। তাঁর গতি, জায়গা তৈরি করার ক্ষমতা এবং বক্সে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার দক্ষতা রিয়ালের আক্রমণকে আরও ধারালো করে তুলেছে।

দ্বিতীয়ার্ধে অবশ্য রিয়াল মাদ্রিদকে আর মরিয়া হয়ে আক্রমণে যেতে হয়নি। তিন গোলের লিড হাতে থাকায় স্বাগতিকেরা অনেকটা স্বচ্ছন্দে খেলেছে। তারপরও সুযোগ এসেছে বেশ কয়েকটি। বেলিংহামের একটি শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে। সহজ আরেকটি সুযোগও কাজে লাগাতে পারেননি তিনি। অন্যদিকে বল হারানোর পর দ্রুত চাপ তৈরি করে মালাগাকে স্বাভাবিক খেলায় ফিরতে দেয়নি রিয়াল। মাঝমাঠে বেলিংহামের উপস্থিতি এবং ডান প্রান্তে আলেক্সান্ডার-আর্নল্ডের কার্যকারিতা ম্যাচে স্পষ্ট পার্থক্য গড়ে দেয়।

আরও পড়ুন  মেসিকে পেছনে ফেলে বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতা এমবাপ্পে

ম্যাচের শেষ দিকেও নাটকীয়তার সামান্য আভাস ছিল। মালাগা পেনাল্টির দাবি তুলেছিল এবং রেফারি প্রথমে স্পটকিকের সিদ্ধান্তও দিয়েছিলেন। কিন্তু ভিএআর পর্যালোচনার পর সেই সিদ্ধান্ত বদলে যায়। যোগ করা সময়ে রিয়াল মাদ্রিদ ম্যাচের শেষ পেরেকটি ঠুকে দেয়। হাউসেনের কাছ থেকে বল কেড়ে নিয়ে দ্রুত আক্রমণে ওঠে তারা। বাম দিক দিয়ে এগিয়ে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের কাটব্যাক থেকে বদলি আরদা গুলার বল জালে পাঠান। ৪-০ গোলের জয় নিশ্চিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বার্নাব্যুতে শুরু হয় উৎসব। টানা তিন ম্যাচে জয়, তিন ম্যাচেই দুর্দান্ত আক্রমণাত্মক ফুটবল—মরিনিওর রিয়াল মাদ্রিদ শুরুতেই বুঝিয়ে দিল, শিরোপার লড়াইয়ে তাদের হিসাবের বাইরে রাখার সুযোগ নেই।