বিটিভির লোগো বদলের উদ্যোগ ঘিরে রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম বাংলাদেশ টেলিভিশনে শুরু হয়েছে নতুন আলোচনা। দীর্ঘদিনের পরিচিত প্রতীক পরিবর্তন করে সময়ের সঙ্গে মানানসই একটি নতুন নকশা তৈরির পরিকল্পনা করছে প্রতিষ্ঠানটি। এ জন্য নতুন ক্রিয়েটিভ ডিজাইনার খুঁজছে বাংলাদেশ টেলিভিশন। ফলে কয়েক দশক ধরে দর্শকদের কাছে পরিচিত লোগোটি শিগগিরই নতুন রূপ পেতে পারে।
বাংলাদেশ টেলিভিশনের বর্তমান পরিচিতির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে এর ঐতিহাসিক লোগো। ১৯৭১ সালে তৈরি হওয়া এই লোগোর নকশাকার ছিলেন চিত্রশিল্পী ইমদাদ হোসেন। স্বাধীনতার সময়কার আবহ, জাতীয় পতাকার রং এবং উদীয়মান সূর্যের ভাবনা থেকে তৈরি এই প্রতীক বাংলাদেশের সম্প্রচার ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ হয়ে আছে। দীর্ঘ সময় ধরে বিভিন্ন প্রজন্মের দর্শক এই লোগোর মাধ্যমেই রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে চিনে এসেছেন।
বাংলাদেশ টেলিভিশনের যাত্রার ইতিহাসও বেশ পুরোনো। ১৯৬৪ সালের ২৫ ডিসেম্বর তৎকালীন পাকিস্তান টেলিভিশন কর্পোরেশনের ঢাকা কেন্দ্র হিসেবে এর সম্প্রচার কার্যক্রম শুরু হয়। তখন এর পরিচিতি ছিল পিটিভি ঢাকা। মুক্তিযুদ্ধের পর স্বাধীন বাংলাদেশে নতুন পরিচয়ে যাত্রা শুরু করে প্রতিষ্ঠানটি। ১৯৭১ সালের ১৭ ডিসেম্বর এর নাম পরিবর্তন করে বাংলাদেশ টেলিভিশন রাখা হয়। একই সময় স্বাধীন দেশের ভাবধারার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তৈরি করা হয় নতুন পরিচয়ের প্রতীকী লোগো।
বিটিভির লোগো শুধু একটি গ্রাফিক নকশা নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে বাংলাদেশের টেলিভিশন সম্প্রচারের দীর্ঘ ইতিহাস। স্বাধীনতার পর দেশের মানুষের ঘরে ঘরে সংবাদ, বিনোদন, শিক্ষা ও সংস্কৃতির বিভিন্ন অনুষ্ঠান পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে বিটিভি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সম্প্রচার প্রযুক্তি বদলেছে, অনুষ্ঠান নির্মাণের ধরন পাল্টেছে, দর্শকের রুচিতেও এসেছে পরিবর্তন। তবে পরিচিত লোগোটি দীর্ঘদিন ধরে প্রায় একই ঐতিহাসিক পরিচয় বহন করে আসছে।
এখন ২০২৬ সালে এসে সেই পরিচিত প্রতীকে পরিবর্তনের উদ্যোগ নতুন কৌতূহল তৈরি করেছে। নতুন লোগো কেমন হবে, এতে পুরোনো ঐতিহ্যের কতটা ছাপ থাকবে এবং আধুনিকতার সঙ্গে সেটিকে কীভাবে যুক্ত করা হবে—এসব প্রশ্নই সামনে আসছে। নতুন নকশা তৈরির জন্য ক্রিয়েটিভ ডিজাইনার খোঁজার উদ্যোগকে অনেকেই সময়ের সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির ভিজ্যুয়াল পরিচয় আধুনিক করার পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। একই সঙ্গে পুরোনো লোগোর ঐতিহাসিক গুরুত্ব বিবেচনায় রেখে নতুন নকশা তৈরির বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
নতুন লোগো পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ টেলিভিশন তার ঐতিহ্য ধরে রেখে আধুনিক দর্শকের কাছে আরও আকর্ষণীয়ভাবে নিজেকে উপস্থাপন করতে চায়—এমন প্রত্যাশাই তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইন ভিডিও কনটেন্টের বিস্তারের সময়ে একটি আধুনিক ও সহজে চেনা যায় এমন ভিজ্যুয়াল পরিচয় প্রতিষ্ঠানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তবে নতুন নকশা কেমন হবে, কখন থেকে এটি আনুষ্ঠানিকভাবে ব্যবহার করা হবে এবং পুরোনো লোগোর পরিবর্তন কীভাবে বাস্তবায়ন করা হবে—এসব বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য সামনে এলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে।




























