চিকিৎসার খরচ নিয়ে নিজের তিক্ত অভিজ্ঞতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুলে ধরে আলোচনায় এসেছেন ভারতীয় যুবক যুবান ইবানেজ গারওয়ার। তার দাবি, ভারতে যে ধরনের চিকিৎসার জন্য প্রায় ৫০০ ডলার খরচ হয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্রে একই ধরনের স্বাস্থ্যসেবা নিতে গিয়ে হাসপাতালের বিল দাঁড়ায় প্রায় ২৩ হাজার ডলারে। বাংলাদেশি মুদ্রায় হিসাব করলে এই দুই দেশের খরচের পার্থক্য কয়েক লাখ টাকা।
যুবানের ভাষ্য অনুযায়ী, কয়েক বছর আগে ভারতে বারবার অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার পর তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে দীর্ঘ কাগজপত্রের ঝামেলা ছাড়াই তাকে একটি প্রাইভেট রুম দেওয়া হয়। চিকিৎসার অংশ হিসেবে ইসিজি, এমআরআই, সিটি স্ক্যান এবং বিভিন্ন ধরনের রক্ত পরীক্ষা করা হয়। কয়েক দিন হাসপাতালে থাকার পর চিকিৎসকেরা তার রোগ নির্ণয় করেন এবং পরবর্তী চিকিৎসার পরিকল্পনা দেন। সব মিলিয়ে ওই সময় ভারতে তার খরচ হয়েছিল প্রায় ৫০০ ডলার।
এর কয়েক বছর পর যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের সময় বাস্কেটবল খেলার মধ্যে হঠাৎ তীব্র বুকে ব্যথা অনুভব করেন যুবান। অ্যাম্বুলেন্সের খরচ নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে তিনি নিজেই গাড়ি চালিয়ে হাসপাতালে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন বলে জানান। হাসপাতালে পৌঁছানোর পর প্রায় দেড় ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়েছিল বলেও দাবি করেন তিনি। পরে চিকিৎসকেরা তাকে জানান, তার ছোট ধরনের হার্ট অ্যাটাক হয়েছে।
যুবানের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার পর তার মোট বিল দাঁড়ায় প্রায় ২৩ হাজার ডলার। ভারতীয় মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ২২ লাখ রুপি। তবে এখানেই শেষ নয়। ভালো মানের হেলথ ইন্স্যুরেন্স থাকার পরও তার নিজের পকেট থেকে প্রায় ৭ হাজার ডলার দিতে হয়েছে বলে জানান তিনি। ফলে স্বাস্থ্যবীমা থাকার পরও বড় অঙ্কের অর্থ পরিশোধ করতে হয়েছে তাকে।
এই অভিজ্ঞতার পর যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘমেয়াদে বসবাসের সিদ্ধান্ত নিয়েও নতুন করে ভাবছেন যুবান। তার মতে, যুক্তরাষ্ট্রে উন্নত অবকাঠামো ও জীবনযাপনের বিভিন্ন সুবিধা থাকলেও চিকিৎসার খরচ অনেকের জন্য বড় উদ্বেগের বিষয় হতে পারে। বিশেষ করে হঠাৎ অসুস্থতা বা জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজন হলে হাসপাতালের বিল ব্যক্তিগত আর্থিক পরিকল্পনায় বড় চাপ তৈরি করতে পারে।
তবে যুবানের এই বক্তব্য তার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া দাবির ভিত্তিতে। দুই দেশের সব ধরনের চিকিৎসার খরচ একইভাবে তুলনা করা যায় না। রোগের ধরন, হাসপাতাল, চিকিৎসার পদ্ধতি, বীমার কাভারেজ এবং রোগীর অবস্থার ওপর প্রকৃত ব্যয় অনেকটাই নির্ভর করে। তারপরও তার অভিজ্ঞতা যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার ব্যয় নিয়ে নতুন করে আলোচনার সুযোগ তৈরি করেছে।



















