মেসির আন্তর্জাতিক অবসর পুরো ফুটবল বিশ্বের ভক্তদের জন্য এক আবেগঘন ও ঐতিহাসিক মুহূর্ত হিসেবে দাঁড়িয়েছে। টানা ২১ বছরের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে আর্জেন্টিনার হয়ে একের পর এক সাফল্য অর্জনের পর জাতীয় দলকে বিদায় জানানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এই কিংবদন্তি অধিনায়ক। চিঠি লিখে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে মেসি জানিয়েছেন, সিদ্ধান্তটি অত্যন্ত বেদনাদায়ক হলেও দেশের ফুটবলকে নতুন ধাপে নেওয়ার এটাই উপযুক্ত সময়।
হঠাৎ নেওয়া মেসির আন্তর্জাতিক অবসর সংক্রান্ত সিদ্ধান্তটির প্রভাব পড়েছে আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এএফএ) ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাবলীতেও। সেপ্টেম্বরের ফিফা আন্তর্জাতিক বিরতিতে এএফএর পূর্বে নির্ধারিত চীন সফর পুরোপুরি বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। সংস্থাটি এখন চাইছে স্বদেশের মাঠেই অধিনায়ককে একটি রাজকীয় ও অবিস্মরণীয় ম্যাচ আয়োজনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে সংবর্ধিত করতে।
বর্তমানে এএফএ দেশের মাটিতে প্রীতি ম্যাচ আয়োজনের বিকল্প সূচি নিয়ে বেশ জোরেশোরে কাজ শুরু করেছে। এএফএর লক্ষ্য অন্তত একটি আন্তর্জাতিক ম্যাচ ঘরের মাঠে রাখা, যা ফুটবল জাদুকরের আন্তর্জাতিক বিদায় ম্যাচ হিসেবে গণ্য হবে। ভক্তদের সরাসরি স্টেডিয়ামে উপস্থিত থেকে পছন্দের তারকাকে শেষ শ্রদ্ধা জানানোর সুযোগ করে দেওয়ার মূল পরিকল্পনা এখন আর্জেন্টিনা ফুটবল বোর্ডের টেবিলে।
তবে এই ঐতিহাসিক আয়োজনের পথে ফিফার দেওয়া পূর্বের কিছু দর্শক সংক্রান্ত বিধিনিষেধও বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দাঁড়িয়েছে। পূর্ববর্তী কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার কারণে ঘরের মাঠে আর্জেন্টিনার পরবর্তী ম্যাচে ৫০ শতাংশ দর্শক উপস্থিতির অনুমতি রয়েছে। এই সীমাবদ্ধতার মাঝে কীভাবে সমর্থকদের সর্বোচ্চ উপস্থিতি নিশ্চিত করা যায়, সে বিষয়ে সংস্থাটি আইনি ও সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করছে।
টিওয়াইসি স্পোর্টসের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, এএফএর সব পরিকল্পনা চূড়ান্ত হলেও মূল চাবিকাঠি নির্ভর করছে খোদ অধিনায়কের নিজের ইচ্ছা ও সিদ্ধান্তের ওপর। যদি মহাতারকা নিজে দেশের মাটিতে এই আয়োজনে সায় দেন, তবেই দ্রুত বাস্তবায়িত হবে বহুল প্রতীক্ষিত বিদায়ী অনুষ্ঠান।
সর্বোপরি, মেসির আন্তর্জাতিক অবসর আলবিসেলেস্তে ফুটবল দলকে এক নতুন ও চ্যালেঞ্জিং যুগে প্রবেশ করাচ্ছে। তবে বিদায়ের ক্ষণে কিংবদন্তি অধিনায়ককে যথাযথ মর্যাদা ও ভালোবাসায় সিক্ত করার সব সুযোগ গ্রহণ করতে প্রস্তুত পুরো দেশ।
























