ঢাকা ০৭:৩৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

প্রিমিয়ার লিগ দলবদলে রেকর্ড, চমকপ্রদ ৩৪৬ কোটি পাউন্ড ব্যয়

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০৫:১৮:১৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৫১৪

গ্রীষ্মকালীন দলবদলে নতুন ব্যয়ের রেকর্ড গড়েছে প্রিমিয়ার লিগের ক্লাবগুলো।

প্রিমিয়ার লিগ দলবদল রেকর্ড এবার নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। গ্রীষ্মকালীন ট্রান্সফার উইন্ডোতে ইংল্যান্ডের শীর্ষ লিগের ক্লাবগুলো বিপুল অর্থ ব্যয় করে আগের সব হিসাব বদলে দিয়েছে। টানা দ্বিতীয় মৌসুমে দলবদলের বাজারে নতুন ব্যয়ের রেকর্ড গড়ল ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ।

এবারের গ্রীষ্মকালীন দলবদলে প্রিমিয়ার লিগের ক্লাবগুলোর সম্মিলিত ব্যয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩৪৬ কোটি পাউন্ডে। গত মৌসুমে ক্লাবগুলোর মোট ব্যয়ের যে রেকর্ড ছিল, এবার তা পেছনে ফেলেছে ইংলিশ ফুটবলের সবচেয়ে জনপ্রিয় এই প্রতিযোগিতা।

ট্রান্সফার উইন্ডোর শেষ দিনেও ছিল ব্যস্ততা ও বড় চুক্তির ছড়াছড়ি। এভারটন থেকে ইলিমান এন্দিয়ায়েকে ৬ কোটি পাউন্ডে দলে নিয়ে ম্যানচেস্টার সিটি তাদের ব্যয় আরও বাড়ায়। শেষ পর্যন্ত পুরো উইন্ডোতেই সবচেয়ে বেশি আলোচনায় ছিল ক্লাবগুলোর বিশাল অঙ্কের বিনিয়োগ।

প্রিমিয়ার লিগ দলবদল রেকর্ডের অন্যতম বড় ঘটনা ছিল এনজো ফার্নান্দেজের দলবদল। চেলসি থেকে তাকে ১২৫ মিলিয়ন পাউন্ডের যৌথ ব্রিটিশ রেকর্ড ফিতে দলে নেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে ম্যানচেস্টার সিটি। এই চুক্তি এবারের দলবদলের বাজারে সবচেয়ে আলোচিত ঘটনাগুলোর একটি।

শুধু শেষ দিনেই প্রিমিয়ার লিগের ক্লাবগুলো প্রায় ৪৭৫ মিলিয়ন পাউন্ড ব্যয় করেছে। গত মৌসুমের শেষ দিনের তুলনায় এবার সেই খরচ ছিল আরও বেশি। ট্রান্সফার উইন্ডো শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত ক্লাবগুলোর ব্যস্ততা থেকেই বোঝা যাচ্ছিল, নতুন একটি ব্যয়ের রেকর্ড তৈরি হতে যাচ্ছে।

এবারের গ্রীষ্মে ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে ব্যয়বহুল দলবদলগুলোর মধ্যে তিনটি হয়েছে প্রিমিয়ার লিগের ক্লাবগুলোর মাধ্যমে। এনজোর আগে ম্যানচেস্টার সিটি নটিংহ্যাম ফরেস্টের মিডফিল্ডার এলিয়ট অ্যান্ডারসনকে দলে নিতে ১১৬ মিলিয়ন পাউন্ড খরচ করে।

অন্যদিকে অ্যাস্টন ভিলা থেকে মর্গান রজার্সকে ১১৭ মিলিয়ন পাউন্ডে দলে নেয় চেলসি। এরপর এনজো ফার্নান্দেজের বড় অঙ্কের দলবদল আগের সব আলোচনাকে ছাপিয়ে যায়।

লিভারপুলও দলবদলের বাজারে পিছিয়ে ছিল না। পিএসজি ও ফ্রান্সের ফরোয়ার্ড ব্রাডলি বারকোলাকে দলে নিতে প্রাথমিকভাবে ১০৬ মিলিয়ন পাউন্ড খরচ করেছে তারা। চুক্তির বিভিন্ন শর্ত পূরণ হলে সেই অর্থ আরও বেড়ে যেতে পারে।

টটেনহামও বড় অঙ্কের বিনিয়োগ করেছে। সান্দ্রো টোনালিকে ক্লাব রেকর্ড ফিতে দলে নিয়েছে উত্তর লন্ডনের দলটি। ওয়েস্ট হ্যাম থেকে মাতেউস ফার্নান্দেস এবং ম্যানচেস্টার সিটি থেকে সাভিওকেও দলে নিয়েছে তারা।

প্রিমিয়ার লিগ দলবদল রেকর্ডে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে ম্যানচেস্টার সিটি। এনজো ফার্নান্দেজকে দলে নেওয়ার পর ক্লাবটির মোট ব্যয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪৫৮ মিলিয়ন পাউন্ডে। এক ট্রান্সফার উইন্ডোতে এটি প্রিমিয়ার লিগের নতুন ক্লাব রেকর্ড।

এর আগে এক মৌসুমে সর্বোচ্চ দলবদল ব্যয়ের রেকর্ড ছিল লিভারপুলের। তবে এবার সেই রেকর্ডও ভেঙে দিয়েছে ম্যানচেস্টার সিটি। যদিও বিপুল অর্থ ব্যয়ের পাশাপাশি খেলোয়াড় বিক্রি করেও উল্লেখযোগ্য আয় করেছে ক্লাবটি।

ব্যয়ের তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে চেলসি। প্রায় ৩৪৯ মিলিয়ন পাউন্ড খরচ করলেও খেলোয়াড় বিক্রি থেকে তাদের আয় ছিল আরও বেশি। ফলে দলবদলের বাজারে কেনাবেচার হিসাব মিলিয়ে আর্থিকভাবে সুবিধাজনক অবস্থানেও রয়েছে লন্ডনের ক্লাবটি।

টটেনহাম প্রায় ৩০২ মিলিয়ন পাউন্ড খরচ করে ব্যয়ের তালিকায় তৃতীয় স্থানে রয়েছে। নতুন খেলোয়াড়দের পেছনে বড় বিনিয়োগ করলেও মাঠের পারফরম্যান্সে এখনো তার পূর্ণ প্রতিফলন দেখা যায়নি।

প্রিমিয়ার লিগের ছোট ও নতুন ক্লাবগুলোর মধ্যেও দলবদলের ব্যস্ততা ছিল চোখে পড়ার মতো। লিগে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে এবং প্রতিযোগিতামূলক দল গড়তে অনেক ক্লাবই বড় অঙ্কের অর্থ বিনিয়োগ করেছে।

সব মিলিয়ে প্রিমিয়ার লিগ দলবদল রেকর্ড ইংলিশ ফুটবলের আর্থিক শক্তির নতুন প্রমাণ দিয়েছে। একের পর এক বড় চুক্তি, তারকা ফুটবলারদের দলবদল এবং শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত চলা নাটকীয়তায় এবারের গ্রীষ্মকালীন ট্রান্সফার উইন্ডো ফুটবলপ্রেমীদের কাছে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

এইচ-৪ ভিসায় কাজের অনুমতি বাতিলের পথে যুক্তরাষ্ট্র

প্রিমিয়ার লিগ দলবদলে রেকর্ড, চমকপ্রদ ৩৪৬ কোটি পাউন্ড ব্যয়

Update Time : ০৫:১৮:১৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

প্রিমিয়ার লিগ দলবদল রেকর্ড এবার নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। গ্রীষ্মকালীন ট্রান্সফার উইন্ডোতে ইংল্যান্ডের শীর্ষ লিগের ক্লাবগুলো বিপুল অর্থ ব্যয় করে আগের সব হিসাব বদলে দিয়েছে। টানা দ্বিতীয় মৌসুমে দলবদলের বাজারে নতুন ব্যয়ের রেকর্ড গড়ল ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ।

এবারের গ্রীষ্মকালীন দলবদলে প্রিমিয়ার লিগের ক্লাবগুলোর সম্মিলিত ব্যয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩৪৬ কোটি পাউন্ডে। গত মৌসুমে ক্লাবগুলোর মোট ব্যয়ের যে রেকর্ড ছিল, এবার তা পেছনে ফেলেছে ইংলিশ ফুটবলের সবচেয়ে জনপ্রিয় এই প্রতিযোগিতা।

ট্রান্সফার উইন্ডোর শেষ দিনেও ছিল ব্যস্ততা ও বড় চুক্তির ছড়াছড়ি। এভারটন থেকে ইলিমান এন্দিয়ায়েকে ৬ কোটি পাউন্ডে দলে নিয়ে ম্যানচেস্টার সিটি তাদের ব্যয় আরও বাড়ায়। শেষ পর্যন্ত পুরো উইন্ডোতেই সবচেয়ে বেশি আলোচনায় ছিল ক্লাবগুলোর বিশাল অঙ্কের বিনিয়োগ।

প্রিমিয়ার লিগ দলবদল রেকর্ডের অন্যতম বড় ঘটনা ছিল এনজো ফার্নান্দেজের দলবদল। চেলসি থেকে তাকে ১২৫ মিলিয়ন পাউন্ডের যৌথ ব্রিটিশ রেকর্ড ফিতে দলে নেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে ম্যানচেস্টার সিটি। এই চুক্তি এবারের দলবদলের বাজারে সবচেয়ে আলোচিত ঘটনাগুলোর একটি।

আরও পড়ুন  বিশ্বকাপ জয়ের নায়ক তোরেসের গ্রাফিতি নষ্ট, উঠল নতুন জাতীয় দলের দাবি

শুধু শেষ দিনেই প্রিমিয়ার লিগের ক্লাবগুলো প্রায় ৪৭৫ মিলিয়ন পাউন্ড ব্যয় করেছে। গত মৌসুমের শেষ দিনের তুলনায় এবার সেই খরচ ছিল আরও বেশি। ট্রান্সফার উইন্ডো শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত ক্লাবগুলোর ব্যস্ততা থেকেই বোঝা যাচ্ছিল, নতুন একটি ব্যয়ের রেকর্ড তৈরি হতে যাচ্ছে।

এবারের গ্রীষ্মে ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে ব্যয়বহুল দলবদলগুলোর মধ্যে তিনটি হয়েছে প্রিমিয়ার লিগের ক্লাবগুলোর মাধ্যমে। এনজোর আগে ম্যানচেস্টার সিটি নটিংহ্যাম ফরেস্টের মিডফিল্ডার এলিয়ট অ্যান্ডারসনকে দলে নিতে ১১৬ মিলিয়ন পাউন্ড খরচ করে।

অন্যদিকে অ্যাস্টন ভিলা থেকে মর্গান রজার্সকে ১১৭ মিলিয়ন পাউন্ডে দলে নেয় চেলসি। এরপর এনজো ফার্নান্দেজের বড় অঙ্কের দলবদল আগের সব আলোচনাকে ছাপিয়ে যায়।

লিভারপুলও দলবদলের বাজারে পিছিয়ে ছিল না। পিএসজি ও ফ্রান্সের ফরোয়ার্ড ব্রাডলি বারকোলাকে দলে নিতে প্রাথমিকভাবে ১০৬ মিলিয়ন পাউন্ড খরচ করেছে তারা। চুক্তির বিভিন্ন শর্ত পূরণ হলে সেই অর্থ আরও বেড়ে যেতে পারে।

আরও পড়ুন  সাও পাওলোর বাসে ৮৬ কেজি গাঁজা, ম্যাচের আগে তোলপাড়

টটেনহামও বড় অঙ্কের বিনিয়োগ করেছে। সান্দ্রো টোনালিকে ক্লাব রেকর্ড ফিতে দলে নিয়েছে উত্তর লন্ডনের দলটি। ওয়েস্ট হ্যাম থেকে মাতেউস ফার্নান্দেস এবং ম্যানচেস্টার সিটি থেকে সাভিওকেও দলে নিয়েছে তারা।

প্রিমিয়ার লিগ দলবদল রেকর্ডে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে ম্যানচেস্টার সিটি। এনজো ফার্নান্দেজকে দলে নেওয়ার পর ক্লাবটির মোট ব্যয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪৫৮ মিলিয়ন পাউন্ডে। এক ট্রান্সফার উইন্ডোতে এটি প্রিমিয়ার লিগের নতুন ক্লাব রেকর্ড।

এর আগে এক মৌসুমে সর্বোচ্চ দলবদল ব্যয়ের রেকর্ড ছিল লিভারপুলের। তবে এবার সেই রেকর্ডও ভেঙে দিয়েছে ম্যানচেস্টার সিটি। যদিও বিপুল অর্থ ব্যয়ের পাশাপাশি খেলোয়াড় বিক্রি করেও উল্লেখযোগ্য আয় করেছে ক্লাবটি।

ব্যয়ের তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে চেলসি। প্রায় ৩৪৯ মিলিয়ন পাউন্ড খরচ করলেও খেলোয়াড় বিক্রি থেকে তাদের আয় ছিল আরও বেশি। ফলে দলবদলের বাজারে কেনাবেচার হিসাব মিলিয়ে আর্থিকভাবে সুবিধাজনক অবস্থানেও রয়েছে লন্ডনের ক্লাবটি।

আরও পড়ুন  বড় সিদ্ধান্ত: পেপ গার্দিওলা ইতালির কোচ হচ্ছেন না, এগিয়ে পিরলো

টটেনহাম প্রায় ৩০২ মিলিয়ন পাউন্ড খরচ করে ব্যয়ের তালিকায় তৃতীয় স্থানে রয়েছে। নতুন খেলোয়াড়দের পেছনে বড় বিনিয়োগ করলেও মাঠের পারফরম্যান্সে এখনো তার পূর্ণ প্রতিফলন দেখা যায়নি।

প্রিমিয়ার লিগের ছোট ও নতুন ক্লাবগুলোর মধ্যেও দলবদলের ব্যস্ততা ছিল চোখে পড়ার মতো। লিগে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে এবং প্রতিযোগিতামূলক দল গড়তে অনেক ক্লাবই বড় অঙ্কের অর্থ বিনিয়োগ করেছে।

সব মিলিয়ে প্রিমিয়ার লিগ দলবদল রেকর্ড ইংলিশ ফুটবলের আর্থিক শক্তির নতুন প্রমাণ দিয়েছে। একের পর এক বড় চুক্তি, তারকা ফুটবলারদের দলবদল এবং শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত চলা নাটকীয়তায় এবারের গ্রীষ্মকালীন ট্রান্সফার উইন্ডো ফুটবলপ্রেমীদের কাছে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।