ঢাকা ০১:১২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬, ২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo কাসেম মাহবুব উচ্চ বিদ্যালের বার্ষিক পুরস্কার বিতরণ, অভিভাবক সমাবেশ ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এমপি জসীম উদ্দীন আহমেদ Logo দুদকের নতুন চেয়ারম্যান বিচারপতি আসাদুজ্জামান Logo বেগম খালেদা জিয়ার জন্মদিনে চট্টগ্রামের অধীনে বেসরকারি মেডিকেল কলেজ ও ডেন্টাল কলেজ ছাত্রদলের দোয়া ও মিলাদ মাহফিল Logo দীর্ঘক্ষণ স্ক্রিনে তাকালে চোখ শুকায় কেন, জানুন সমাধান Logo পোড়া পাতিলের কালো দাগ নিয়ে টেনশন নয় বরফেই হবে ঝকঝকে Logo ত্বক তেলতেলে হলেও শুষ্কতা দেখা দেয় যে কারণে Logo মশা তাড়াতে রসুন Logo কোলেস্টেরল কমাতে নতুন নির্দেশনা কখন শুরু করবেন চিকিৎসা? Logo এমিলিয়ানো মার্তিনেজকে নিতে জুভেন্টাসের নতুন প্রস্তাব, জমে উঠেছে চমকপ্রদ লড়াই Logo ক্যাপসিকাম কি কমাতে পারে ক্যান্সারের ঝুঁকি?

বিশ্বকাপে ইরানের বিপ্লব-পূর্ব পতাকা নিষিদ্ধে নতুন বিতর্ক

চিত্রঃ ইরানের বিপ্লব-পূর্ব পতাকা নিষিদ্ধের সম্ভাবনা ঘিরে নতুন বিতর্কে ফিফা।

বিশ্বকাপ শুরুর আগেই নতুন বিতর্কের মুখে পড়েছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। ইরানের বিপ্লব-পূর্ব পতাকা নিষিদ্ধ করার সম্ভাব্য পরিকল্পনা নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিষয়টি শুধু ক্রীড়াঙ্গনেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং এটি রাজনৈতিক ও আইনি বিতর্কেও রূপ নিতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির কারণে ইরানের বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে সংঘাতের পর তেহরান বিশ্বকাপ বর্জনের ইঙ্গিত দিয়েছিল। এতে ফিফা কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়। তবে পরবর্তীতে পরিস্থিতির উন্নতি হলে সেই শঙ্কা দূর হয় এবং ইরান বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের প্রস্তুতি শুরু করে।

 

সংঘাতের সময় ইরান বিশ্বকাপের ম্যাচ মেক্সিকোতে আয়োজনের অনুরোধ জানিয়েছিল বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়। যদিও ফিফা সেই অনুরোধে সাড়া দেয়নি। পরবর্তীতে দুই পক্ষের মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনা এগিয়ে যাওয়ায় ইরানের অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা কেটে যায়। কিন্তু এখন নতুন করে আলোচনায় এসেছে ইরানের বিপ্লব-পূর্ব পতাকা নিষিদ্ধ করার বিষয়টি। জানা গেছে, বিশ্বকাপ ভেন্যুগুলোতে এই পতাকা প্রদর্শনের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের সম্ভাবনা বিবেচনা করছে ফিফা। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই শুরু হয়েছে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া।

 

ইরানের ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি মেহদি তাজ ফিফার কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে এই পতাকা নিষিদ্ধ করার দাবি জানিয়েছেন বলে জানা গেছে। তার মতে, ইরানের রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃত নয় এমন কোনো পতাকা বিশ্বকাপ চলাকালে ব্যবহার করা উচিত নয়। বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে ইরানের দুটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে ক্যালিফোর্নিয়ায় এবং একটি ম্যাচ হবে সিয়াটলে। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী বিপুলসংখ্যক ইরানি নাগরিক বিশেষ করে ক্যালিফোর্নিয়ায় অবস্থান করেন। তাদের একটি অংশ বর্তমান ইরানি শাসনব্যবস্থার সমালোচক হিসেবে পরিচিত।

 

১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের আগে ব্যবহৃত ‘লায়ন অ্যান্ড সান’ প্রতীকসংবলিত পতাকাটি বর্তমানে অনেক প্রবাসী ইরানি রাজনৈতিক পরিচয়ের অংশ হিসেবে ব্যবহার করেন। বিশ্বকাপের ম্যাচগুলোতে গ্যালারিতে এই পতাকা প্রদর্শনের পরিকল্পনাও রয়েছে বলে বিভিন্ন মহল থেকে জানা গেছে। এ অবস্থায় ইরানের পক্ষ থেকে বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের বিভিন্ন শর্তের মধ্যে অননুমোদিত পতাকা নিষিদ্ধ করার বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে। এরপরই ভেন্যু নির্দেশিকায় পুরোনো ইরানি পতাকা অন্তর্ভুক্ত করা হবে কি না, তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।

 

এই সম্ভাব্য সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে ‘ইনস্টিটিউট ফর ভয়েসেস অব লিবার্টি’ নামে একটি সংগঠন। সংস্থাটি জানিয়েছে, বিপ্লব-পূর্ব পতাকা নিষিদ্ধ করা হলে তারা আদালতের শরণাপন্ন হবে। তাদের দাবি, এটি মতপ্রকাশের স্বাধীনতার সঙ্গে সম্পর্কিত একটি বিষয়। সংগঠনটির আইনি পরামর্শক শাহরুখ মোখতারজাদেহ বলেন, এ বিষয়ে ফিফার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক উত্তর পাওয়া যায়নি। তবে পতাকা নিষিদ্ধের উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হলে তারা আইনি পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত।

 

বিশেষজ্ঞদের মতে, বিষয়টি কেবল ক্রীড়া প্রশাসনের সিদ্ধান্তের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। যুক্তরাষ্ট্রের আইন, ভেন্যু পরিচালনা নীতিমালা এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতার প্রশ্নও এতে জড়িয়ে যেতে পারে। ফলে ফিফাকে জটিল আইনি পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হতে পারে। বিশ্বকাপের সূচি অনুযায়ী, ইরান ১৫ জুন নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে নিজেদের প্রথম ম্যাচ খেলবে। একই গ্রুপে তাদের অন্য দুই প্রতিপক্ষ বেলজিয়াম ও মিসর। দলটি যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতেই গ্রুপ পর্বের ম্যাচগুলো খেলবে। তবে নিরাপত্তা ও অন্যান্য বিবেচনায় নিজেদের বেস ক্যাম্প অ্যারিজোনা থেকে মেক্সিকোতে স্থানান্তর করেছে ইরান। এ সিদ্ধান্ত নিয়েও বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছে। যদিও দলটির পক্ষ থেকে এ বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।

 

বিশ্বকাপের মতো বৈশ্বিক আসরে রাজনৈতিক প্রতীক ও জাতীয় পরিচয়ের প্রশ্ন নতুন নয়। তবে ইরানের বিপ্লব-পূর্ব পতাকা নিষিদ্ধ করার সম্ভাবনা নতুন এক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। শেষ পর্যন্ত ফিফা কী সিদ্ধান্ত নেয় এবং সেই সিদ্ধান্তের প্রতিক্রিয়া কী হয়, সেদিকে নজর থাকবে ফুটবলপ্রেমী ও আন্তর্জাতিক মহলের।

জনপ্রিয় সংবাদ

কাসেম মাহবুব উচ্চ বিদ্যালের বার্ষিক পুরস্কার বিতরণ, অভিভাবক সমাবেশ ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এমপি জসীম উদ্দীন আহমেদ

বিশ্বকাপে ইরানের বিপ্লব-পূর্ব পতাকা নিষিদ্ধে নতুন বিতর্ক

Update Time : ০৬:২৭:৫৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১ জুন ২০২৬

বিশ্বকাপ শুরুর আগেই নতুন বিতর্কের মুখে পড়েছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। ইরানের বিপ্লব-পূর্ব পতাকা নিষিদ্ধ করার সম্ভাব্য পরিকল্পনা নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিষয়টি শুধু ক্রীড়াঙ্গনেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং এটি রাজনৈতিক ও আইনি বিতর্কেও রূপ নিতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির কারণে ইরানের বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে সংঘাতের পর তেহরান বিশ্বকাপ বর্জনের ইঙ্গিত দিয়েছিল। এতে ফিফা কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়। তবে পরবর্তীতে পরিস্থিতির উন্নতি হলে সেই শঙ্কা দূর হয় এবং ইরান বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের প্রস্তুতি শুরু করে।

 

সংঘাতের সময় ইরান বিশ্বকাপের ম্যাচ মেক্সিকোতে আয়োজনের অনুরোধ জানিয়েছিল বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়। যদিও ফিফা সেই অনুরোধে সাড়া দেয়নি। পরবর্তীতে দুই পক্ষের মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনা এগিয়ে যাওয়ায় ইরানের অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা কেটে যায়। কিন্তু এখন নতুন করে আলোচনায় এসেছে ইরানের বিপ্লব-পূর্ব পতাকা নিষিদ্ধ করার বিষয়টি। জানা গেছে, বিশ্বকাপ ভেন্যুগুলোতে এই পতাকা প্রদর্শনের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের সম্ভাবনা বিবেচনা করছে ফিফা। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই শুরু হয়েছে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া।

আরও পড়ুন  ব্রাজিলের হেক্সা মিশনের শুরুতেই মরক্কো বাধা, জিতবে কে?

 

ইরানের ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি মেহদি তাজ ফিফার কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে এই পতাকা নিষিদ্ধ করার দাবি জানিয়েছেন বলে জানা গেছে। তার মতে, ইরানের রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃত নয় এমন কোনো পতাকা বিশ্বকাপ চলাকালে ব্যবহার করা উচিত নয়। বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে ইরানের দুটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে ক্যালিফোর্নিয়ায় এবং একটি ম্যাচ হবে সিয়াটলে। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী বিপুলসংখ্যক ইরানি নাগরিক বিশেষ করে ক্যালিফোর্নিয়ায় অবস্থান করেন। তাদের একটি অংশ বর্তমান ইরানি শাসনব্যবস্থার সমালোচক হিসেবে পরিচিত।

 

১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের আগে ব্যবহৃত ‘লায়ন অ্যান্ড সান’ প্রতীকসংবলিত পতাকাটি বর্তমানে অনেক প্রবাসী ইরানি রাজনৈতিক পরিচয়ের অংশ হিসেবে ব্যবহার করেন। বিশ্বকাপের ম্যাচগুলোতে গ্যালারিতে এই পতাকা প্রদর্শনের পরিকল্পনাও রয়েছে বলে বিভিন্ন মহল থেকে জানা গেছে। এ অবস্থায় ইরানের পক্ষ থেকে বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের বিভিন্ন শর্তের মধ্যে অননুমোদিত পতাকা নিষিদ্ধ করার বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে। এরপরই ভেন্যু নির্দেশিকায় পুরোনো ইরানি পতাকা অন্তর্ভুক্ত করা হবে কি না, তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।

আরও পড়ুন  রেফারি বিতর্কে মুখ খুললেন মেসি, যা বললেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক

 

এই সম্ভাব্য সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে ‘ইনস্টিটিউট ফর ভয়েসেস অব লিবার্টি’ নামে একটি সংগঠন। সংস্থাটি জানিয়েছে, বিপ্লব-পূর্ব পতাকা নিষিদ্ধ করা হলে তারা আদালতের শরণাপন্ন হবে। তাদের দাবি, এটি মতপ্রকাশের স্বাধীনতার সঙ্গে সম্পর্কিত একটি বিষয়। সংগঠনটির আইনি পরামর্শক শাহরুখ মোখতারজাদেহ বলেন, এ বিষয়ে ফিফার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক উত্তর পাওয়া যায়নি। তবে পতাকা নিষিদ্ধের উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হলে তারা আইনি পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত।

 

বিশেষজ্ঞদের মতে, বিষয়টি কেবল ক্রীড়া প্রশাসনের সিদ্ধান্তের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। যুক্তরাষ্ট্রের আইন, ভেন্যু পরিচালনা নীতিমালা এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতার প্রশ্নও এতে জড়িয়ে যেতে পারে। ফলে ফিফাকে জটিল আইনি পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হতে পারে। বিশ্বকাপের সূচি অনুযায়ী, ইরান ১৫ জুন নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে নিজেদের প্রথম ম্যাচ খেলবে। একই গ্রুপে তাদের অন্য দুই প্রতিপক্ষ বেলজিয়াম ও মিসর। দলটি যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতেই গ্রুপ পর্বের ম্যাচগুলো খেলবে। তবে নিরাপত্তা ও অন্যান্য বিবেচনায় নিজেদের বেস ক্যাম্প অ্যারিজোনা থেকে মেক্সিকোতে স্থানান্তর করেছে ইরান। এ সিদ্ধান্ত নিয়েও বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছে। যদিও দলটির পক্ষ থেকে এ বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।

আরও পড়ুন  র‌্যাংকিংয়ে শীর্ষ ১৫ দলের কারো সঙ্গে খেলতে হয়নি আর্জেন্টিনাকে

 

বিশ্বকাপের মতো বৈশ্বিক আসরে রাজনৈতিক প্রতীক ও জাতীয় পরিচয়ের প্রশ্ন নতুন নয়। তবে ইরানের বিপ্লব-পূর্ব পতাকা নিষিদ্ধ করার সম্ভাবনা নতুন এক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। শেষ পর্যন্ত ফিফা কী সিদ্ধান্ত নেয় এবং সেই সিদ্ধান্তের প্রতিক্রিয়া কী হয়, সেদিকে নজর থাকবে ফুটবলপ্রেমী ও আন্তর্জাতিক মহলের।