ঢাকা ০৯:৪৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo চানাচুর তৈরিতে ভয়াবহ অনিয়ম, পায়ে মাড়িয়ে খামির ও পোড়া তেল Logo সাইফুজ্জামান চৌধুরীর সম্পদ: এফবিআইয়ের তথ্য দুদকে Logo বেসরকারি ব্যাংকে নিয়োগে নতুন নিয়ম, পরীক্ষা বাধ্যতামূলক Logo রামুতে ১৫ একর জমি পেল বাফুফে, এগোচ্ছে ফিফার প্রকল্প Logo পাকিস্তান দলের পরিবর্তন নিয়ে নিজের মতামত জানিয়েছেন শোয়েব আখতার Logo কবজির চোট কাটিয়ে ইউএস ওপেনের কোয়ার্টার ফাইনালে আলকারাজ Logo পাকিস্তান দল নিয়ে শোয়েব আখতারের বিস্ফোরক মন্তব্য Logo রোনালদোকে ছাড়িয়ে মেসির পাশে রাফিনিয়া, বার্সার হয়ে গড়লেন দুর্দান্ত রেকর্ড Logo ১২ বছর পর ইংল্যান্ড দলে ফিরলেন পিটারসেন, বিশ্বকাপের আগে বড় দায়িত্ব Logo পাকিস্তান ক্রিকেটে সাহস ও লড়াই নেই, কড়া সমালোচনায় ডি ভিলিয়ার্স

রামুতে ১৫ একর জমি পেল বাফুফে, এগোচ্ছে ফিফার প্রকল্প

রামুতে টেকনিক্যাল সেন্টার l ছবি : সংগৃহীত

কক্সবাজারের রামুতে ফিফার অর্থায়নে বহুল প্রতীক্ষিত ফুটবল টেকনিক্যাল সেন্টার নির্মাণের জন্য ১৫.২০ একর জমি বুঝে পেয়েছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। ৩০ বছরের দীর্ঘমেয়াদি লিজে পাওয়া এই জমির অফিসিয়াল দলিল সোমবার বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়ালের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিনের আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতা কাটিয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের পথ অনেকটাই পরিষ্কার হলো।

সোমবার কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এম এ মান্নান বাফুফে সভাপতির হাতে বরাদ্দকৃত জমির অফিসিয়াল দলিল তুলে দেন। এ সময় কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এ এন এম সাজাদুর রহমানসহ বাফুফের সহসভাপতি মো. নাসের শাহরিয়ার জাহেদী, মো. ওয়াহিদ উদ্দিন চৌধুরী (হ্যাপি), সাব্বির আহমেদ আরিফ এবং নির্বাহী কমিটির কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

প্রায় চার বছর আগে তৎকালীন বাফুফে সভাপতি কাজী সালাউদ্দিনের সময়ে ফিফার অর্থায়নে এই টেকনিক্যাল সেন্টার নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। তখন কক্সবাজারের রামু উপজেলার খুনিয়াপালংয়ে বাফুফেকে ২০ একর জমি বরাদ্দ দিয়েছিল সরকার। তবে প্রস্তাবিত জায়গাটি সংরক্ষিত বনাঞ্চলের মধ্যে পড়ায় প্রকল্পটি নিয়ে পরিবেশবাদী সংগঠনগুলোর আপত্তি দেখা দেয়।

বনাঞ্চলের জমি নিয়ে আইনি ও পরিবেশগত জটিলতার কারণে দীর্ঘ সময় ধরে প্রকল্পটির অগ্রগতি থমকে ছিল। পরে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সংরক্ষিত বনাঞ্চলের ওই জমির বরাদ্দ বাতিল করে। একই সঙ্গে টেকনিক্যাল সেন্টারের জন্য পরিবেশগত ও আইনি শর্ত পূরণ করে বিকল্প জমি খোঁজার নির্দেশ দেওয়া হয়।

এরপর নতুন জমি নির্ধারণ ও বরাদ্দের প্রক্রিয়া শুরু হয়। দীর্ঘ প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষে বাফুফে এবার ১৫.২০ একর জমি বুঝে পেয়েছে। জমিটি ৩০ বছরের জন্য দীর্ঘমেয়াদি লিজে বরাদ্দ দেওয়ায় ফিফার অর্থায়নে প্রস্তাবিত প্রকল্পটি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বড় বাধা দূর হয়েছে।

বাফুফের মাস্টারপ্ল্যান অনুযায়ী, রামুর এই টেকনিক্যাল সেন্টারে থাকবে তিনটি আন্তর্জাতিক মানের ফুটবল মাঠ। খেলোয়াড় ও কোচদের আবাসনের জন্য নির্মাণ করা হবে দুটি চারতলা ডরমিটরি। পাশাপাশি আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসহ জিমনেসিয়াম ও সুইমিংপুলও থাকবে।

এ ছাড়া প্রকল্পে আধুনিক চিকিৎসা ও পুনর্বাসন কেন্দ্র, ক্যাফেটেরিয়া এবং সেমিনার কক্ষ নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন পর্যায়ের ফুটবলার ও কোচদের প্রশিক্ষণে এই কেন্দ্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। আন্তর্জাতিক মানের অবকাঠামো গড়ে উঠলে বাংলাদেশের ফুটবলের উন্নয়নেও এটি বড় অবদান রাখবে।

জমি সংক্রান্ত জটিলতা দীর্ঘদিন ধরে প্রকল্পটির অন্যতম বড় বাধা ছিল। নতুন জমি বরাদ্দ ও আনুষ্ঠানিকভাবে দলিল হস্তান্তরের মাধ্যমে সেই অনিশ্চয়তা অনেকটাই কেটে গেছে। এখন প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ও নির্মাণ কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

ফিফার অর্থায়নে এই টেকনিক্যাল সেন্টার বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশে ফুটবল উন্নয়নের জন্য একটি আধুনিক প্রশিক্ষণ অবকাঠামো তৈরি হবে। বিশেষ করে খেলোয়াড় তৈরি, কোচিং, পুনর্বাসন ও দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণ ব্যবস্থায় এটি নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে। বাফুফের পরিকল্পনা অনুযায়ী কেন্দ্রটি দেশের ফুটবলের ভবিষ্যৎ উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ একটি স্থাপনা হিসেবে গড়ে উঠবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

চানাচুর তৈরিতে ভয়াবহ অনিয়ম, পায়ে মাড়িয়ে খামির ও পোড়া তেল

রামুতে ১৫ একর জমি পেল বাফুফে, এগোচ্ছে ফিফার প্রকল্প

Update Time : ০৭:৫১:৪৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কক্সবাজারের রামুতে ফিফার অর্থায়নে বহুল প্রতীক্ষিত ফুটবল টেকনিক্যাল সেন্টার নির্মাণের জন্য ১৫.২০ একর জমি বুঝে পেয়েছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। ৩০ বছরের দীর্ঘমেয়াদি লিজে পাওয়া এই জমির অফিসিয়াল দলিল সোমবার বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়ালের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিনের আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতা কাটিয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের পথ অনেকটাই পরিষ্কার হলো।

সোমবার কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এম এ মান্নান বাফুফে সভাপতির হাতে বরাদ্দকৃত জমির অফিসিয়াল দলিল তুলে দেন। এ সময় কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এ এন এম সাজাদুর রহমানসহ বাফুফের সহসভাপতি মো. নাসের শাহরিয়ার জাহেদী, মো. ওয়াহিদ উদ্দিন চৌধুরী (হ্যাপি), সাব্বির আহমেদ আরিফ এবং নির্বাহী কমিটির কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন  ব্রাজিলের দুর্দান্ত জয়, হাইতিকে হারিয়ে টেবিলের শীর্ষে

প্রায় চার বছর আগে তৎকালীন বাফুফে সভাপতি কাজী সালাউদ্দিনের সময়ে ফিফার অর্থায়নে এই টেকনিক্যাল সেন্টার নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। তখন কক্সবাজারের রামু উপজেলার খুনিয়াপালংয়ে বাফুফেকে ২০ একর জমি বরাদ্দ দিয়েছিল সরকার। তবে প্রস্তাবিত জায়গাটি সংরক্ষিত বনাঞ্চলের মধ্যে পড়ায় প্রকল্পটি নিয়ে পরিবেশবাদী সংগঠনগুলোর আপত্তি দেখা দেয়।

বনাঞ্চলের জমি নিয়ে আইনি ও পরিবেশগত জটিলতার কারণে দীর্ঘ সময় ধরে প্রকল্পটির অগ্রগতি থমকে ছিল। পরে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সংরক্ষিত বনাঞ্চলের ওই জমির বরাদ্দ বাতিল করে। একই সঙ্গে টেকনিক্যাল সেন্টারের জন্য পরিবেশগত ও আইনি শর্ত পূরণ করে বিকল্প জমি খোঁজার নির্দেশ দেওয়া হয়।

আরও পড়ুন  বাংলাদেশ জাতীয় দলের কোচ চূড়ান্ত করবে বাফুফে রবিবার

এরপর নতুন জমি নির্ধারণ ও বরাদ্দের প্রক্রিয়া শুরু হয়। দীর্ঘ প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষে বাফুফে এবার ১৫.২০ একর জমি বুঝে পেয়েছে। জমিটি ৩০ বছরের জন্য দীর্ঘমেয়াদি লিজে বরাদ্দ দেওয়ায় ফিফার অর্থায়নে প্রস্তাবিত প্রকল্পটি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বড় বাধা দূর হয়েছে।

বাফুফের মাস্টারপ্ল্যান অনুযায়ী, রামুর এই টেকনিক্যাল সেন্টারে থাকবে তিনটি আন্তর্জাতিক মানের ফুটবল মাঠ। খেলোয়াড় ও কোচদের আবাসনের জন্য নির্মাণ করা হবে দুটি চারতলা ডরমিটরি। পাশাপাশি আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসহ জিমনেসিয়াম ও সুইমিংপুলও থাকবে।

এ ছাড়া প্রকল্পে আধুনিক চিকিৎসা ও পুনর্বাসন কেন্দ্র, ক্যাফেটেরিয়া এবং সেমিনার কক্ষ নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন পর্যায়ের ফুটবলার ও কোচদের প্রশিক্ষণে এই কেন্দ্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। আন্তর্জাতিক মানের অবকাঠামো গড়ে উঠলে বাংলাদেশের ফুটবলের উন্নয়নেও এটি বড় অবদান রাখবে।

আরও পড়ুন  রান তাড়ায় দাপট দেখিয়ে কিউইদের বিপক্ষে নতুন ইতিহাস গড়ল বাংলাদেশ

জমি সংক্রান্ত জটিলতা দীর্ঘদিন ধরে প্রকল্পটির অন্যতম বড় বাধা ছিল। নতুন জমি বরাদ্দ ও আনুষ্ঠানিকভাবে দলিল হস্তান্তরের মাধ্যমে সেই অনিশ্চয়তা অনেকটাই কেটে গেছে। এখন প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ও নির্মাণ কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

ফিফার অর্থায়নে এই টেকনিক্যাল সেন্টার বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশে ফুটবল উন্নয়নের জন্য একটি আধুনিক প্রশিক্ষণ অবকাঠামো তৈরি হবে। বিশেষ করে খেলোয়াড় তৈরি, কোচিং, পুনর্বাসন ও দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণ ব্যবস্থায় এটি নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে। বাফুফের পরিকল্পনা অনুযায়ী কেন্দ্রটি দেশের ফুটবলের ভবিষ্যৎ উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ একটি স্থাপনা হিসেবে গড়ে উঠবে।