১৮তম ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে পৌঁছেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান। শুক্রবার ১১ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে পৌঁছানোর পর তাকে স্বাগত জানান ভারতের কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী এবং বন্দর, নৌপরিবহন ও জলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শান্তনু ঠাকুর।
ইরানের প্রেসিডেন্ট ভারত সফরকে ব্রিকস সদস্য দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে দেখছেন। সম্মেলনে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি ভারতের প্রধানমন্ত্রী, মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী, দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্টসহ বিভিন্ন দেশের নেতা ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করার কথা রয়েছে তার।
নয়াদিল্লির উদ্দেশে তেহরান ছাড়ার আগে পেজেশকিয়ান বলেন, একতরফাবাদ মোকাবিলা এবং অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক, শিল্প ও বৈজ্ঞানিক সহযোগিতা সম্প্রসারণে ব্রিকসের যথেষ্ট সক্ষমতা রয়েছে। তার মতে, সদস্য দেশগুলোর পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে এই জোট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
সফরকালে ব্রিকস নেতাদের মূল বৈঠকে অংশ নিয়ে বক্তব্য দেবেন ইরানের প্রেসিডেন্ট। পাশাপাশি ব্রিকস ইকোনমিক ফোরামের বৈঠকেও অংশ নেবেন তিনি। এছাড়া অন্তর্ভুক্তিমূলক বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থা ও বহুপাক্ষিকতা আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে ব্রিকস নেতাদের একটি রুদ্ধদ্বার বৈঠকেও অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তার।
পেজেশকিয়ান মনে করেন, বর্তমান আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিতে ব্রিকস সদস্য দেশগুলোর মধ্যে অর্থনৈতিক ও অন্যান্য ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। ভারত সফরের আগে তিনি বলেন, সম্মেলনটি সদস্য দেশগুলোর মধ্যে সম্পর্ক জোরদার এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
ইরানের প্রেসিডেন্টের এই সফর এমন এক সময়ে হচ্ছে, যখন আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে বহুপাক্ষিক সহযোগিতা ও অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব নিয়ে আলোচনা বাড়ছে। ব্রিকসের প্ল্যাটফর্মকে কাজে লাগিয়ে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে বাণিজ্য, শিল্প, বিজ্ঞান ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে ইরান।
পেজেশকিয়ান জানান, বর্তমানে ব্রিকসের সদস্যসংখ্যা ২১। এর মধ্যে ১১টি দেশ পূর্ণ সদস্য হিসেবে রয়েছে। আর নতুন ১০টি সদস্যকে ব্রিকস প্লাস হিসেবে অভিহিত করা হয়। ফলে আন্তর্জাতিক অর্থনীতি ও কূটনীতিতে ব্রিকসের পরিসর আগের তুলনায় আরও বিস্তৃত হয়েছে।
নয়াদিল্লি সফরে ব্রিকস সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক কর্মসূচির পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক পেজেশকিয়ানের সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক। এসব বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে আলোচনা হতে পারে।
ইরানের প্রেসিডেন্টের ভারত সফর দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রেও তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ব্রিকসের সদস্য দেশগুলোর মধ্যে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সহযোগিতা কীভাবে আরও কার্যকর করা যায়, সেই বিষয়েও সম্মেলনে আলোচনা হবে।
ব্রিকস সম্মেলনে পেজেশকিয়ানের অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে ইরান জোটটির প্ল্যাটফর্মে নিজেদের অবস্থান আরও জোরালোভাবে তুলে ধরার সুযোগ পাচ্ছে। একতরফাবাদ মোকাবিলা, বহুপাক্ষিকতা শক্তিশালী করা এবং সদস্য দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়গুলোতেই এবারের সফরে ইরানের প্রেসিডেন্টের বক্তব্য ও বৈঠকে গুরুত্ব পাওয়ার কথা রয়েছে।


























