ঢাকা ১২:৩৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

রামপালে ৪৪২ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রের অনুমোদন শিগগির

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ১১:০৩:০৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৫১৫

রামপাল সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রস্তাবিত প্রকল্প| ছবি: সংগৃহীত

রামপাল সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পে নতুন গতি এসেছে। বাগেরহাটের রামপালে ৪৪২ মেগাওয়াট ক্ষমতার গ্রিড-সংযুক্ত সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটি চলতি সপ্তাহে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) অনুমোদন পেতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) জানিয়েছে, বিদ্যমান কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের পাশে এই সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প গড়ে তোলা হবে।

বিপিডিবির চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার রেজাউল করিম জানান, প্রকল্পটির বিষয়ে পরিকল্পনা কমিশনের অনুমোদন পাওয়া গেছে এবং প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভাও অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২০২৮ সাল থেকে ধাপে ধাপে প্রকল্পটির বাস্তবায়ন শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। ফলে অনুমোদন পাওয়া গেলে রামপালের বিদ্যুৎ উৎপাদন অবকাঠামোতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির নতুন সংযোজন হবে।

প্রস্তাবিত রামপাল সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রটি প্রায় ৯১৮ দশমিক ৫ একর অব্যবহৃত জমিতে নির্মাণ করা হবে। এই জমি আগে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য অধিগ্রহণ করা হয়েছিল। বিপিডিবির সদস্য (উৎপাদন) মো. জহুরুল ইসলাম জানিয়েছেন, প্রকল্প বাস্তবায়নে পাওয়ার ডেভেলপমেন্ট ফান্ড ব্যবহার করা হবে। এরই মধ্যে প্রকল্প এলাকায় জমি ভরাট, সীমানা সুরক্ষাসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোগত কাজ সম্পন্ন হয়েছে।

বিদ্যমান অবকাঠামো ব্যবহার করায় রামপাল সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পে খরচ ও নির্মাণ সময় দুটোই কমতে পারে। ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ফ্যাসিলিটেশন কোম্পানি (আইআইএফসি) পরিচালিত সম্ভাব্যতা সমীক্ষাতেও এমন সম্ভাবনার কথা উঠে এসেছে। নতুন জায়গায় শুরু থেকে অবকাঠামো তৈরি করার প্রয়োজন না থাকায় প্রকল্পটি তুলনামূলক কম ব্যয়ে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

প্রকল্পটি বাংলাদেশ-ইন্ডিয়া ফ্রেন্ডশিপ পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেডের (বিআইএফপিসিএল) সাবস্টেশনের সঙ্গে নতুন ২৩০ কিলোভোল্ট সঞ্চালন ব্যবস্থার মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে। এর ফলে জাতীয় গ্রিডে পরিবেশবান্ধব বিদ্যুতের সরবরাহ বাড়বে। একই সঙ্গে কয়লা ও অন্যান্য আমদানিনির্ভর জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানো এবং কার্বন নিঃসরণ হ্রাসে প্রকল্পটি ভূমিকা রাখতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

বিপিডিবির তথ্য অনুযায়ী, প্রকল্পটির সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ২ হাজার ৫০২ কোটি ৪০ লাখ টাকা এবং প্রতি ইউনিট সৌরবিদ্যুতের সম্ভাব্য ট্যারিফ ৬ টাকা ১৮ পয়সা। ফেনীর সোনাগাজীতে প্রস্তাবিত ২২০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রের তুলনায় এই ট্যারিফ প্রায় ৪৩ শতাংশ কম। বিশেষজ্ঞদের মতে, কয়লার জন্য নির্ধারিত জমিতে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের উদ্যোগ বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। প্রকল্পটি নবায়নযোগ্য জ্বালানি বাড়ানোর পাশাপাশি সুন্দরবনের ওপর পরিবেশগত চাপ কমাতেও সহায়ক হতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

রামপালে ৪৪২ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রের অনুমোদন শিগগির

Update Time : ১১:০৩:০৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রামপাল সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পে নতুন গতি এসেছে। বাগেরহাটের রামপালে ৪৪২ মেগাওয়াট ক্ষমতার গ্রিড-সংযুক্ত সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটি চলতি সপ্তাহে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) অনুমোদন পেতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) জানিয়েছে, বিদ্যমান কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের পাশে এই সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প গড়ে তোলা হবে।

বিপিডিবির চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার রেজাউল করিম জানান, প্রকল্পটির বিষয়ে পরিকল্পনা কমিশনের অনুমোদন পাওয়া গেছে এবং প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভাও অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২০২৮ সাল থেকে ধাপে ধাপে প্রকল্পটির বাস্তবায়ন শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। ফলে অনুমোদন পাওয়া গেলে রামপালের বিদ্যুৎ উৎপাদন অবকাঠামোতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির নতুন সংযোজন হবে।

আরও পড়ুন  ইতিহাসের সাক্ষী গৌরীপুর লজ, ২০০ বছর পর নতুন পরিচয়ে

প্রস্তাবিত রামপাল সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রটি প্রায় ৯১৮ দশমিক ৫ একর অব্যবহৃত জমিতে নির্মাণ করা হবে। এই জমি আগে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য অধিগ্রহণ করা হয়েছিল। বিপিডিবির সদস্য (উৎপাদন) মো. জহুরুল ইসলাম জানিয়েছেন, প্রকল্প বাস্তবায়নে পাওয়ার ডেভেলপমেন্ট ফান্ড ব্যবহার করা হবে। এরই মধ্যে প্রকল্প এলাকায় জমি ভরাট, সীমানা সুরক্ষাসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোগত কাজ সম্পন্ন হয়েছে।

বিদ্যমান অবকাঠামো ব্যবহার করায় রামপাল সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পে খরচ ও নির্মাণ সময় দুটোই কমতে পারে। ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ফ্যাসিলিটেশন কোম্পানি (আইআইএফসি) পরিচালিত সম্ভাব্যতা সমীক্ষাতেও এমন সম্ভাবনার কথা উঠে এসেছে। নতুন জায়গায় শুরু থেকে অবকাঠামো তৈরি করার প্রয়োজন না থাকায় প্রকল্পটি তুলনামূলক কম ব্যয়ে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

আরও পড়ুন  জোরালো বার্তা: দুর্নীতিতে জড়িত হলে আমাকেও ছাড় নয়—শফিকুর রহমান

প্রকল্পটি বাংলাদেশ-ইন্ডিয়া ফ্রেন্ডশিপ পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেডের (বিআইএফপিসিএল) সাবস্টেশনের সঙ্গে নতুন ২৩০ কিলোভোল্ট সঞ্চালন ব্যবস্থার মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে। এর ফলে জাতীয় গ্রিডে পরিবেশবান্ধব বিদ্যুতের সরবরাহ বাড়বে। একই সঙ্গে কয়লা ও অন্যান্য আমদানিনির্ভর জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানো এবং কার্বন নিঃসরণ হ্রাসে প্রকল্পটি ভূমিকা রাখতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন  অফশোর বায়ুবিদ্যুৎ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের বড় চুক্তি, গ্যাসে ঝুঁকছে আরডব্লিউই

বিপিডিবির তথ্য অনুযায়ী, প্রকল্পটির সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ২ হাজার ৫০২ কোটি ৪০ লাখ টাকা এবং প্রতি ইউনিট সৌরবিদ্যুতের সম্ভাব্য ট্যারিফ ৬ টাকা ১৮ পয়সা। ফেনীর সোনাগাজীতে প্রস্তাবিত ২২০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রের তুলনায় এই ট্যারিফ প্রায় ৪৩ শতাংশ কম। বিশেষজ্ঞদের মতে, কয়লার জন্য নির্ধারিত জমিতে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের উদ্যোগ বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। প্রকল্পটি নবায়নযোগ্য জ্বালানি বাড়ানোর পাশাপাশি সুন্দরবনের ওপর পরিবেশগত চাপ কমাতেও সহায়ক হতে পারে।