যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নিউইয়র্কের শৈশবের বাড়িটি আট মাসের ব্যাপক সংস্কারের পর ১৯ লাখ ৩০ হাজার ডলারে বিক্রি হয়েছে। জ্যামাইকা এস্টেটস এলাকায় অবস্থিত টিউডর-শৈলীর ঐতিহাসিক বাড়িটি সংস্কারের আগে জরাজীর্ণ অবস্থায় ছিল। সংস্কারের পর বাড়িটির মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছিল ১৯ লাখ ৯৯ হাজার ডলার। শেষ পর্যন্ত প্রায় সেই দামেই বাড়িটি কিনে নেন নতুন মালিক।
রিয়েল এস্টেট প্রতিষ্ঠান RE/MAX-এর লিস্টিং এজেন্ট জো ঝু আনুষ্ঠানিকভাবে বাড়িটি বিক্রির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তাঁর মতে, বাড়িটির সঙ্গে ট্রাম্পের নাম জড়িয়ে থাকায় সম্ভাব্য ক্রেতাদের মধ্যে শুরু থেকেই ব্যাপক আগ্রহ ছিল। অনেক ক্রেতাই শুধু বাড়ির সৌন্দর্য নয়, এর ঐতিহাসিক মূল্যকেও গুরুত্ব দিয়েছেন।গত বছর ডেভেলপার টমি লিন বাড়িটি যখন কিনেছিলেন, তখন এর দাম ছিল ৮ লাখ ৩৫ হাজার ডলার। এরপর তিনি বাড়িটির সংস্কারে পাঁচ লাখ ডলারের বেশি অর্থ ব্যয় করেন। প্রায় আট মাস ধরে চলা সংস্কারকাজে বাড়িটির ভেতরের চেহারা ও সুযোগ-সুবিধায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়।
সংস্কারের আগে বাড়িটির অবস্থা ছিল বেশ খারাপ। স্যাঁতস্যাঁতে পরিবেশ, ভাঙা পাইপলাইন এবং নানা অব্যবস্থাপনায় বাড়িটি দীর্ঘদিন ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছিল। এমনকি সেখানে ভবঘুরে বিড়ালেরও আনাগোনা ছিল। সংস্কারের মাধ্যমে সেই পুরোনো চেহারা পুরোপুরি বদলে দেওয়া হয়েছে।বর্তমানে বাড়িটিতে যুক্ত হয়েছে বিলাসবহুল রান্নাঘর, আধুনিক বাথরুম এবং নজরকাড়া মেঝে। ভেতরের সাজসজ্জায় আধুনিকতার ছোঁয়া থাকলেও বাড়িটির বাইরের ঐতিহাসিক টিউডর-শৈলী অক্ষত রাখা হয়েছে। ফলে পুরোনো স্থাপত্যের বৈশিষ্ট্য ধরে রেখেই বাড়িটিকে আধুনিক সুযোগ-সুবিধায় সাজানো হয়েছে।
১৯৪০ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্পের বাবা ও রিয়েল এস্টেট ডেভেলপার ফ্রেড ট্রাম্প এই বাড়িটি নির্মাণ করেছিলেন। ট্রাম্পের বয়স তখন মাত্র চার বছর। পরে তাদের পরিবার জ্যামাইকা এস্টেটসের অন্য একটি বড় বাড়িতে চলে যায়। তবে ৮৫-১৫ ওয়্যারহ্যাম প্লেসের এই বাড়িটি ঐতিহাসিকভাবে ট্রাম্প পরিবারের শৈশবের স্মৃতির সঙ্গে যুক্ত হয়ে আছে।
দীর্ঘ সময় পরিত্যক্ত থাকার পর টমি লিনের মালিকানায় বাড়িটি নতুন করে প্রাণ ফিরে পায়। ব্যাপক সংস্কারের পর বাড়িটি আবার রিয়েল এস্টেট বাজারে আসে। সংস্কারের আগে তুলনামূলক কম দামে কেনা হলেও নতুন সাজসজ্জা ও ঐতিহাসিক গুরুত্বের কারণে এর মূল্য অনেক বেড়ে যায়।সংস্কারের পর বাড়িটির দাম হাঁকা হয়েছিল ১৯ লাখ ৯৯ হাজার ডলার। শেষ পর্যন্ত ১৯ লাখ ৩০ হাজার ডলারে বিক্রি হওয়ায় নির্ধারিত দামের খুব কাছাকাছি মূল্য পেয়েছেন বিক্রেতা। বাড়িটির সঙ্গে ট্রাম্পের শৈশবের সম্পর্ক থাকায় এটি সাধারণ আবাসিক সম্পত্তির তুলনায় আলাদা গুরুত্ব পেয়েছে।
২০১৭ সালে ট্রাম্প প্রথমবার হোয়াইট হাউসে যাওয়ার পর বাড়িটি ২১ লাখ ৪০ হাজার ডলারে বিক্রি হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে বাড়িটি পর্যটকদের জন্য ভাড়া দেওয়ার ব্যবস্থাও করা হয়। এয়ারবিএনবির মাধ্যমে পর্যটকেরা ঐতিহাসিক এই বাড়িতে থাকার সুযোগ পেয়েছেন।ট্রাম্পের শৈশবের স্মৃতিবিজড়িত এই বাড়িটির সর্বশেষ বিক্রি তাই শুধু একটি রিয়েল এস্টেট লেনদেন নয়, বরং ঐতিহাসিক একটি সম্পত্তির নতুন অধ্যায়ের সূচনাও। পুরোনো স্থাপত্যের বৈশিষ্ট্য ধরে রেখে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা যুক্ত করায় বাড়িটির প্রতি ক্রেতাদের আগ্রহ আরও বেড়েছে। এখন নতুন মালিকের হাতে বাড়িটির ভবিষ্যৎ কী হবে, সেটিই দেখার বিষয়।




























