ঢাকা ০৪:২৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জ্বালানির দাম বাড়ায় জনগণের ‘কাইন্ডনেস’ চাইলেন উপদেষ্টা

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০৪:০৮:৩৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৫০৮

জ্বালানি তেলের দাম নিয়ে বক্তব্য দিচ্ছেন ডা. জাহেদ উর রহমান। | ছবি: সংগৃহীত

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর পর সাধারণ মানুষের কষ্টের বিষয়টি স্বীকার করে জনগণের কাছে ‘সহনশীলতা’ চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, দাম বাড়ায় মানুষের কষ্ট হচ্ছে এবং আরও হতে পারে। একই সঙ্গে সরকারের পক্ষে সবসময় বড় অঙ্কের ভর্তুকি দেওয়া সম্ভব কি না, সেটিও বিবেচনা করতে হবে।

সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২১ সেপ্টেম্বর থেকে দেশে জ্বালানি তেলের নতুন দাম কার্যকর হয়েছে। প্রতি লিটার ডিজেল ১১৫ টাকা থেকে বেড়ে ১৩৫ টাকা, কেরোসিন ১৩৫ থেকে ১৫৫ টাকা, পেট্রোল ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা এবং অকটেন ১৪৫ থেকে ১৬৫ টাকা করা হয়েছে। অর্থাৎ চার ধরনের জ্বালানির দামই লিটারে ২০ টাকা করে বাড়ানো হয়েছে।

জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির কারণ হিসেবে বিশ্ববাজারের অস্থিরতা এবং দেশের জ্বালানি খাতে ভর্তুকির চাপের কথা তুলে ধরেছেন জাহেদ উর রহমান। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সরকারকে জ্বালানি খাতের ব্যয়ের পাশাপাশি স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও সামাজিক নিরাপত্তার মতো অন্যান্য ক্ষেত্রেও অর্থের সংস্থান করতে হয়। একটি খাতে অতিরিক্ত ভর্তুকি দিলে অন্য খাতের ব্যয়ে ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

তেলের দাম বাড়ানোর সঙ্গে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল বা আইএমএফের কোনো নির্দিষ্ট শর্ত নেই বলেও জানিয়েছেন তথ্য উপদেষ্টা। তাঁর ভাষ্য, আইএমএফ সাধারণভাবে সরকারের অতিরিক্ত ভর্তুকির বিষয়ে সতর্ক করে। তবে সরকারের সব সিদ্ধান্ত যে আইএমএফের অবস্থানের সঙ্গে পুরোপুরি মিলিয়ে নেওয়া হচ্ছে, তা নয়। জনগণের কল্যাণ বিবেচনায় বিভিন্ন সামাজিক কর্মসূচি চালু রাখার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।

ব্রিফিংয়ে মূল্যস্ফীতি ও সরকারি চাকরিজীবীদের পে-স্কেল নিয়েও কথা বলেন জাহেদ উর রহমান। তিনি জানান, ২০১৫ সালের পর নতুন পে-স্কেল হয়নি এবং এর মধ্যে মূল্যস্ফীতির কারণে সরকারি চাকরিজীবীদের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে। নতুন পে-স্কেল ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্তের পাশাপাশি ফ্যামিলি কার্ড, ওএমএস ও টিসিবির মাধ্যমে দরিদ্র মানুষের জন্য সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার কথাও জানান তিনি।

রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও বক্তব্য দেন তথ্য উপদেষ্টা। তাঁর দাবি, দেশে কোনো রাজনৈতিক সংকট নেই এবং বিরোধী দল নিয়মতান্ত্রিকভাবে আন্দোলন করতে পারে। তবে ককটেল বিস্ফোরণ বা বাসে অগ্নিসংযোগের মতো কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ব্যবস্থা নেবে বলে জানান তিনি। এসব বক্তব্য তাঁর নিজস্ব অবস্থান হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। অন্যদিকে জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধির অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়ে বিভিন্ন মহলে ভিন্নমত ও উদ্বেগও প্রকাশ করা হয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

জ্বালানির দাম বাড়ায় জনগণের ‘কাইন্ডনেস’ চাইলেন উপদেষ্টা

Update Time : ০৪:০৮:৩৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর পর সাধারণ মানুষের কষ্টের বিষয়টি স্বীকার করে জনগণের কাছে ‘সহনশীলতা’ চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, দাম বাড়ায় মানুষের কষ্ট হচ্ছে এবং আরও হতে পারে। একই সঙ্গে সরকারের পক্ষে সবসময় বড় অঙ্কের ভর্তুকি দেওয়া সম্ভব কি না, সেটিও বিবেচনা করতে হবে।

সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২১ সেপ্টেম্বর থেকে দেশে জ্বালানি তেলের নতুন দাম কার্যকর হয়েছে। প্রতি লিটার ডিজেল ১১৫ টাকা থেকে বেড়ে ১৩৫ টাকা, কেরোসিন ১৩৫ থেকে ১৫৫ টাকা, পেট্রোল ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা এবং অকটেন ১৪৫ থেকে ১৬৫ টাকা করা হয়েছে। অর্থাৎ চার ধরনের জ্বালানির দামই লিটারে ২০ টাকা করে বাড়ানো হয়েছে।

আরও পড়ুন  কাজী শায়রুল হাসান চেয়ারম্যান: সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকে নতুন নেতৃত্বের শক্তিশালী সূচনা

জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির কারণ হিসেবে বিশ্ববাজারের অস্থিরতা এবং দেশের জ্বালানি খাতে ভর্তুকির চাপের কথা তুলে ধরেছেন জাহেদ উর রহমান। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সরকারকে জ্বালানি খাতের ব্যয়ের পাশাপাশি স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও সামাজিক নিরাপত্তার মতো অন্যান্য ক্ষেত্রেও অর্থের সংস্থান করতে হয়। একটি খাতে অতিরিক্ত ভর্তুকি দিলে অন্য খাতের ব্যয়ে ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

আরও পড়ুন  অর্থমন্ত্রী: অর্থনীতিতে প্রতিটি নাগরিকের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করাই সরকারের মূল লক্ষ্য

তেলের দাম বাড়ানোর সঙ্গে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল বা আইএমএফের কোনো নির্দিষ্ট শর্ত নেই বলেও জানিয়েছেন তথ্য উপদেষ্টা। তাঁর ভাষ্য, আইএমএফ সাধারণভাবে সরকারের অতিরিক্ত ভর্তুকির বিষয়ে সতর্ক করে। তবে সরকারের সব সিদ্ধান্ত যে আইএমএফের অবস্থানের সঙ্গে পুরোপুরি মিলিয়ে নেওয়া হচ্ছে, তা নয়। জনগণের কল্যাণ বিবেচনায় বিভিন্ন সামাজিক কর্মসূচি চালু রাখার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।

ব্রিফিংয়ে মূল্যস্ফীতি ও সরকারি চাকরিজীবীদের পে-স্কেল নিয়েও কথা বলেন জাহেদ উর রহমান। তিনি জানান, ২০১৫ সালের পর নতুন পে-স্কেল হয়নি এবং এর মধ্যে মূল্যস্ফীতির কারণে সরকারি চাকরিজীবীদের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে। নতুন পে-স্কেল ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্তের পাশাপাশি ফ্যামিলি কার্ড, ওএমএস ও টিসিবির মাধ্যমে দরিদ্র মানুষের জন্য সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার কথাও জানান তিনি।

আরও পড়ুন  শেখ হাসিনা ফিরলে ‘ওয়েলকাম’, বললেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা

রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও বক্তব্য দেন তথ্য উপদেষ্টা। তাঁর দাবি, দেশে কোনো রাজনৈতিক সংকট নেই এবং বিরোধী দল নিয়মতান্ত্রিকভাবে আন্দোলন করতে পারে। তবে ককটেল বিস্ফোরণ বা বাসে অগ্নিসংযোগের মতো কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ব্যবস্থা নেবে বলে জানান তিনি। এসব বক্তব্য তাঁর নিজস্ব অবস্থান হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। অন্যদিকে জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধির অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়ে বিভিন্ন মহলে ভিন্নমত ও উদ্বেগও প্রকাশ করা হয়েছে।