ঢাকা ০৩:২৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তনু হত্যা মামলার আসামি হাফিজুর রহমান কারাগারে

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০৬:০৪:২৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬
  • ৫২৯

তনু হত্যা মামলার আসামি হাফিজুর রহমান আদালতে হাজির। | ছবি: সূত্র

তনু হত্যা মামলা নিয়ে নতুন অগ্রগতি, তনু হত্যা মামলার আসামি হাফিজুর রহমানকে তিন দিনের রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তদন্তে মিলছে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য।

তনু হত্যা মামলার আসামি হাফিজুর রহমানকে আদালতে নেওয়ার দৃশ্য
তনু হত্যা মামলার আসামি হাফিজুর রহমান আদালতে হাজির। | ছবি: সূত্র

তনু হত্যা মামলা নতুন করে আলোচনায় এসেছে অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য হাফিজুর রহমানকে গ্রেপ্তার ও রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানোর ঘটনায়। শনিবার (তারিখ উল্লেখযোগ্য) কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তাঁকে হাজির করা হলে বিচারক তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এর আগে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) তাঁকে তিন দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে। এই মামলাটি দীর্ঘদিন ধরে অমীমাংসিত থাকায় নতুন এই অগ্রগতি জনমনে আবারও আশার সঞ্চার করেছে। তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জিজ্ঞাসাবাদে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে, যা যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।

তদন্ত সূত্রে জানা যায়, তনু হত্যা মামলার আসামি হাফিজুর রহমান সেনাবাহিনীর সাবেক সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার, যিনি ২০২৩ সালে অবসর নেন। ঘটনার সময় তিনি কুমিল্লা সেনানিবাসে কর্মরত ছিলেন। গত মঙ্গলবার ঢাকার কেরানীগঞ্জ এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং পরদিন আদালতে হাজির করা হয়। রিমান্ড চলাকালে তাঁকে ঢাকার কল্যাণপুরে পিবিআইয়ের বিশেষ ইউনিটে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এর পাশাপাশি তাঁর ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে সিআইডির ফরেনসিক ল্যাবে পাঠানো হয়েছে। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, ডিএনএ রিপোর্ট হাতে পেলে মামলার অগ্রগতিতে আরও স্পষ্টতা আসবে।

তনু হত্যা মামলার তদন্তে আরও দুইজনের নাম উঠে এসেছে,সার্জেন্ট জাহিদ এবং সৈনিক শাহীন আলম। তবে এই দুইজনের পরিচয় নিয়ে কিছু বিভ্রান্তি রয়েছে। মামলার বাদী ও তনুর বাবা দাবি করেছেন, সৈনিক শাহীন নামে কেউ নেই, বরং জাহিদ নামটিই শুরু থেকেই উঠে এসেছে। অন্যদিকে তদন্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তাদের অনুসন্ধানে শাহীন ও জাহিদ আলাদা ব্যক্তি হিসেবে চিহ্নিত হয়েছেন। এই বিভ্রান্তি নিরসনে তদন্ত চলমান রয়েছে এবং সংশ্লিষ্টদের ডিএনএ নমুনাও পরীক্ষার আওতায় আনা হয়েছে। পুরো বিষয়টি আরও পরিষ্কার করতে তদন্তকারী সংস্থা কাজ করছে।

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ২০ মার্চ কুমিল্লা সেনানিবাস এলাকায় টিউশনি করতে গিয়ে নিখোঁজ হন সোহাগী জাহান তনু। পরে সেনানিবাসের একটি নির্জন স্থানে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনাটি দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে এবং দীর্ঘদিন ধরে বিচারহীনতার প্রতীক হয়ে রয়েছে। তনু হত্যা মামলা এখনও বিচারাধীন এবং প্রতিটি নতুন তথ্য জনগণের আগ্রহ ও প্রত্যাশা বাড়িয়ে তুলছে। সাম্প্রতিক গ্রেপ্তার ও জিজ্ঞাসাবাদ এই মামলার রহস্য উন্মোচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জনপ্রিয় সংবাদ

তনু হত্যা মামলার আসামি হাফিজুর রহমান কারাগারে

Update Time : ০৬:০৪:২৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬

তনু হত্যা মামলা নিয়ে নতুন অগ্রগতি, তনু হত্যা মামলার আসামি হাফিজুর রহমানকে তিন দিনের রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তদন্তে মিলছে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য।

তনু হত্যা মামলার আসামি হাফিজুর রহমানকে আদালতে নেওয়ার দৃশ্য
তনু হত্যা মামলার আসামি হাফিজুর রহমান আদালতে হাজির। | ছবি: সূত্র

তনু হত্যা মামলা নতুন করে আলোচনায় এসেছে অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য হাফিজুর রহমানকে গ্রেপ্তার ও রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানোর ঘটনায়। শনিবার (তারিখ উল্লেখযোগ্য) কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তাঁকে হাজির করা হলে বিচারক তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এর আগে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) তাঁকে তিন দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে। এই মামলাটি দীর্ঘদিন ধরে অমীমাংসিত থাকায় নতুন এই অগ্রগতি জনমনে আবারও আশার সঞ্চার করেছে। তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জিজ্ঞাসাবাদে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে, যা যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন  মালয়েশিয়ায় নারীদের হয়রানির অভিযোগে বাংলাদেশির বিরুদ্ধে কঠোর রায়

তদন্ত সূত্রে জানা যায়, তনু হত্যা মামলার আসামি হাফিজুর রহমান সেনাবাহিনীর সাবেক সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার, যিনি ২০২৩ সালে অবসর নেন। ঘটনার সময় তিনি কুমিল্লা সেনানিবাসে কর্মরত ছিলেন। গত মঙ্গলবার ঢাকার কেরানীগঞ্জ এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং পরদিন আদালতে হাজির করা হয়। রিমান্ড চলাকালে তাঁকে ঢাকার কল্যাণপুরে পিবিআইয়ের বিশেষ ইউনিটে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এর পাশাপাশি তাঁর ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে সিআইডির ফরেনসিক ল্যাবে পাঠানো হয়েছে। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, ডিএনএ রিপোর্ট হাতে পেলে মামলার অগ্রগতিতে আরও স্পষ্টতা আসবে।

আরও পড়ুন  তনু হত্যা মামলায় প্রথম গ্রেফতার আদালতে

তনু হত্যা মামলার তদন্তে আরও দুইজনের নাম উঠে এসেছে,সার্জেন্ট জাহিদ এবং সৈনিক শাহীন আলম। তবে এই দুইজনের পরিচয় নিয়ে কিছু বিভ্রান্তি রয়েছে। মামলার বাদী ও তনুর বাবা দাবি করেছেন, সৈনিক শাহীন নামে কেউ নেই, বরং জাহিদ নামটিই শুরু থেকেই উঠে এসেছে। অন্যদিকে তদন্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তাদের অনুসন্ধানে শাহীন ও জাহিদ আলাদা ব্যক্তি হিসেবে চিহ্নিত হয়েছেন। এই বিভ্রান্তি নিরসনে তদন্ত চলমান রয়েছে এবং সংশ্লিষ্টদের ডিএনএ নমুনাও পরীক্ষার আওতায় আনা হয়েছে। পুরো বিষয়টি আরও পরিষ্কার করতে তদন্তকারী সংস্থা কাজ করছে।

আরও পড়ুন  সাগর-রুনি হত্যা তদন্তে নতুন জটিলতা, খুঁজে মিলছে না কর্মকর্তাদের

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ২০ মার্চ কুমিল্লা সেনানিবাস এলাকায় টিউশনি করতে গিয়ে নিখোঁজ হন সোহাগী জাহান তনু। পরে সেনানিবাসের একটি নির্জন স্থানে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনাটি দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে এবং দীর্ঘদিন ধরে বিচারহীনতার প্রতীক হয়ে রয়েছে। তনু হত্যা মামলা এখনও বিচারাধীন এবং প্রতিটি নতুন তথ্য জনগণের আগ্রহ ও প্রত্যাশা বাড়িয়ে তুলছে। সাম্প্রতিক গ্রেপ্তার ও জিজ্ঞাসাবাদ এই মামলার রহস্য উন্মোচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।