প্রথম সন্তান তৈমুরের জন্মের পর নিজের ফিটনেস নিয়ে সচেতন ছিলেন কারিনা কাপুর খান। তবে দ্রুত রোগা হওয়ার জন্য কঠোর ব্যায়াম বা ক্র্যাশ ডায়েটের পথে হাঁটেননি এই অভিনেত্রী। বরং ধীরে ধীরে ওজন কমানোর পাশাপাশি পুষ্টিকর ও ভারসাম্যপূর্ণ খাবারের ওপর গুরুত্ব দিয়েছিলেন তিনি।
গর্ভাবস্থায় কারিনার প্রায় ১৮ কেজি ওজন বেড়েছিল বলে ২০১৭ সালের এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন তিনি। তবে সেই সময়ও নিজের পছন্দের খাবার খাওয়া বন্ধ করেননি। প্রতিদিন ভাত ও ঘি দিয়ে পরোটা খাওয়ার কথাও জানিয়েছিলেন অভিনেত্রী।
তৈমুরের জন্মের পরও খাবার একেবারে বাদ দেননি কারিনা। তাঁর মতে, না খেয়ে ওজন কমানোর চেষ্টা করা ঠিক নয়। সেই সময়ও তাঁর পুষ্টিবিদ হিসেবে কাজ করেছেন রুজুতা দিবেকর। কারিনার পোস্ট প্রেগন্যান্সি খাবারের ধরন নিয়ে রুজুতা জানিয়েছিলেন, তাঁর ডায়েট ছিল বেশ সাধারণ ও ভারসাম্যপূর্ণ।
কারিনার খাবারে পর্যাপ্ত ফ্যাট ও কার্বোহাইড্রেট দুটিই ছিল। পাশাপাশি ফিটনেস ও শক্তি ধরে রাখার দিকেও বিশেষ মনোযোগ দিয়েছিলেন তিনি। অর্থাৎ ওজন কমানোর ক্ষেত্রে শুধু খাবারের পরিমাণ কমানোর বদলে শরীরের প্রয়োজনীয় পুষ্টি বজায় রাখার দিকেই গুরুত্ব দিয়েছিলেন অভিনেত্রী।
যোগব্যায়ামের প্রতি কারিনার আগ্রহের কথা অনেকেরই জানা। দীর্ঘদিন ধরেই যোগাসনকে নিজের ফিটনেস রুটিনের অংশ করে রেখেছেন তিনি। তবে তৈমুরের জন্মের পর জিমের শরীরচর্চাতেও বেশি সময় দিয়েছেন। ফ্রিহ্যান্ড ও কার্ডিও ব্যায়ামের পাশাপাশি ট্রেডমিলে দ্রুত হাঁটা, কেটেলবল ও রোপ ট্রেনিং করেছেন।
কারিনা নিজেও জানিয়েছিলেন, গর্ভাবস্থায় যে পরিমাণ ওজন বেড়েছিল, তা তিনি কমাতে চেয়েছিলেন। তবে তাঁর লক্ষ্য ছিল না রাতারাতি ওজন কমানো। ধীরে ধীরে শরীরকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি নিয়মিত ফিটনেস ধরে রাখার দিকেই নজর দিয়েছিলেন তিনি।
কারিনার এই অভিজ্ঞতায় সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে ধারাবাহিকতা ও ভারসাম্য। সন্তান জন্মের পর জীবনে নানা পরিবর্তন এলেও নিজের যত্ন নেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে বলে এই অভিজ্ঞতার মাধ্যমে উঠে আসে। তবে প্রত্যেক নারীর শরীর ও জীবনযাপন আলাদা হওয়ায় একই পদ্ধতি সবার জন্য উপযোগী নাও হতে পারে।

























