সিগারেটের দাম বৃদ্ধি নিয়ে নতুন তথ্য দিয়েছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ড-এর চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান। তিনি জানিয়েছেন, বর্তমানে সিগারেটের ওপর যে ভ্যাট, সম্পূরক শুল্ক ও স্বাস্থ্য উন্নয়ন সারচার্জ রয়েছে, তা আপাতত বাড়ানো হচ্ছে না। তবে মূল্য সমন্বয়ের মাধ্যমে বাজারে সিগারেটের দাম বাড়তে পারে।
সোমবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে রাজস্ব ভবনে তামাক খাত সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে প্রাক-বাজেট আলোচনায় তিনি এসব তথ্য জানান।এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, বর্তমানে সিগারেটের ওপর মোট প্রায় ৮৩ শতাংশ কর আরোপ করা আছে। এই করের মধ্যে ভ্যাট, সম্পূরক শুল্ক ও স্বাস্থ্য উন্নয়ন সারচার্জ অন্তর্ভুক্ত।তার মতে, সরকার এখন কর বাড়ানোর পরিবর্তে বাজার ব্যবস্থাপনা ও রাজস্ব সংগ্রহের পদ্ধতিকে আরও শক্তিশালী করার দিকে গুরুত্ব দিচ্ছে।
সিগারেটের দাম বৃদ্ধি আলোচনার পাশাপাশি নতুন প্রযুক্তি ব্যবহারের পরিকল্পনাও জানিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড।পরিকল্পনা অনুযায়ী, দেশে উৎপাদিত প্রতিটি সিগারেটের প্যাকেটে কিউআর কোড বা ডিজিটাল শনাক্তকারী যুক্ত করা হবে। এর মাধ্যমে ভোক্তারা সহজেই যাচাই করতে পারবেন পণ্যের ওপর সরকারের নির্ধারিত কর পরিশোধ করা হয়েছে কি না।
এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, কেউ যদি কর ফাঁকির প্রমাণ দিয়ে কর্তৃপক্ষকে জানায়, তাহলে তাকে পুরস্কৃত করার ব্যবস্থাও রাখা হবে। দেশে অবৈধ সিগারেট উৎপাদন ও বিপণন নিয়ন্ত্রণে নতুন উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন আবদুর রহমান খান।
তিনি বলেন, বিদ্যমান ব্যান্ডরোল বা স্ট্যাম্প ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করা হবে। স্ট্যাম্পের রঙ, আঠার প্রযুক্তি এবং নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্যে পরিবর্তন আনা হবে যাতে এটি সহজে নকল করা না যায়।এছাড়া উৎপাদন পর্যায় থেকে বাজার পর্যন্ত পুরো সরবরাহ ব্যবস্থাকে ট্র্যাকিংয়ের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।প্রাক-বাজেট আলোচনায় তামাক কোম্পানিগুলো কর কাঠামো পরিবর্তনের প্রস্তাবও দেয়।
বর্তমানে দেশে মূল্যভিত্তিক (Ad Valorem) কর ব্যবস্থা চালু রয়েছে। উৎপাদনকারীরা এর পরিবর্তে নির্দিষ্ট (Specific) কর আরোপের প্রস্তাব দেন। এনবিআর জানিয়েছে, বিষয়টি ভবিষ্যতে আরও পর্যালোচনা করা হবে।






















