বিদ্যুৎচালিত এয়ার ট্যাক্সি নিউইয়র্কে সফল পরীক্ষামূলক উড়ান সম্পন্ন করেছে। মাত্র ১০ মিনিটে বিমানবন্দর যাত্রা সম্ভব, যা ভবিষ্যতের নগর পরিবহনে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করছে।
বিদ্যুৎচালিত এয়ার ট্যাক্সি প্রযুক্তি নগর পরিবহনে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে। সম্প্রতি নিউইয়র্কে পরীক্ষামূলকভাবে এই উড়োজাহাজ চালানো হয়েছে। এতে শহরের যানজট এড়িয়ে দ্রুত যাতায়াত সম্ভব হতে পারে। ভবিষ্যতে এটি দৈনন্দিন পরিবহন ব্যবস্থার অংশ হয়ে উঠতে পারে।
নিউইয়র্কের ম্যানহাটান থেকে জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পর্যন্ত সফলভাবে পরীক্ষামূলক উড়ান পরিচালনা করেছে একটি সম্পূর্ণ বৈদ্যুতিক এয়ার ট্যাক্সি। এই প্রকল্পটি পরিচালনা করছে জোবি এভিয়েশন নামের একটি প্রতিষ্ঠান। তারা জানিয়েছে, এই ধরনের ফ্লাইট সপ্তাহজুড়ে পরীক্ষা করা হবে এবং এর কার্যকারিতা যাচাই করা হবে।
এই এয়ার ট্যাক্সিগুলো দেখতে অনেকটা বড় আকারের ড্রোনের মতো এবং এতে একজন পাইলটসহ সর্বোচ্চ পাঁচজন যাত্রী বহন করা যায়। এটি হেলিকপ্টারের মতো খাড়াখাড়িভাবে উড্ডয়ন ও অবতরণ করতে সক্ষম। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি শহরের ভেতরে দ্রুত যাতায়াতের ক্ষেত্রে বড় পরিবর্তন আনতে পারে।
প্রতিষ্ঠানটির দাবি, এই এয়ার ট্যাক্সির শব্দ হেলিকপ্টারের তুলনায় অনেক কম এবং এটি সম্পূর্ণ বিদ্যুৎচালিত হওয়ায় কোনো ধরনের কার্বন নিঃসরণ হয় না। ফলে এটি পরিবেশবান্ধব একটি পরিবহন মাধ্যম হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ভবিষ্যতে বড় শহরগুলোতে এই প্রযুক্তি ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হতে পারে।
নিউইয়র্ক ও নিউ জার্সির বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই প্রকল্পের মাধ্যমে শহরের বিভিন্ন হেলিপোর্টকে সরাসরি বিমানবন্দরের সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর ফলে মাত্র ১০ মিনিটের মধ্যে যাত্রীরা বিমানবন্দরে পৌঁছাতে পারবেন। বর্তমানে একই পথ গাড়িতে যেতে এক থেকে দুই ঘণ্টা সময় লাগে।
জোবি এভিয়েশন ইতোমধ্যে হেলিকপ্টার রাইড শেয়ারিং সেবার সঙ্গে যুক্ত রয়েছে এবং তারা এই নতুন প্রযুক্তিকে বাণিজ্যিকভাবে চালু করার পরিকল্পনা করছে। এছাড়া ডেল্টা এয়ারলাইনস এবং উবারের মতো বড় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তাদের অংশীদারত্ব রয়েছে, যা এই প্রকল্পকে আরও শক্তিশালী করছে।
এই প্রকল্পটি যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (এফএএ) ইভিটিওএল ইন্টিগ্রেশন পাইলট প্রোগ্রামের অংশ। এই কর্মসূচির মাধ্যমে বৈদ্যুতিক উড়োজাহাজের নিরাপত্তা, কার্যকারিতা এবং বাস্তব প্রয়োগের দিকগুলো পরীক্ষা করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এটি ভবিষ্যতের পরিবহন ব্যবস্থায় বড় ভূমিকা রাখবে।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ২৬টি অঙ্গরাজ্যে বড় পরিসরে বৈদ্যুতিক এয়ার ট্যাক্সি পরীক্ষার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এই কর্মসূচিতে আর্চার এভিয়েশন, বেটা টেকনোলজিস, জোবি এভিয়েশন এবং উইস্কসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান অংশ নিচ্ছে। তিন বছর মেয়াদি এই প্রকল্পের মাধ্যমে প্রযুক্তির উন্নয়ন দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হবে।
এই উদ্যোগের লক্ষ্য শুধুমাত্র শহুরে যাতায়াত নয়, বরং আঞ্চলিক পরিবহন, কার্গো পরিবহন, জরুরি চিকিৎসাসেবা এবং স্বয়ংক্রিয় ফ্লাইট ব্যবস্থার উন্নয়ন। এতে করে একাধিক খাতে এই প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের এয়ার ট্যাক্সি চালু হলে শহরের যানজট অনেকটাই কমে যাবে এবং সময় সাশ্রয় হবে। একই সঙ্গে এটি পরিবেশের জন্যও উপকারী হবে, কারণ এতে কার্বন নিঃসরণ নেই। ফলে এটি একটি টেকসই পরিবহন ব্যবস্থা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বর্তমানে এই প্রযুক্তি বাণিজ্যিকভাবে চালু করতে বিভিন্ন ধাপে অনুমোদনের প্রয়োজন হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রক সংস্থা এফএএ ইতোমধ্যে নতুন নিয়ম চালু করেছে, যার মাধ্যমে এই ধরনের উড়োজাহাজ দ্রুত অনুমোদন পেতে পারে। জোবি এভিয়েশন বর্তমানে এই অনুমোদন প্রক্রিয়ার শেষ পর্যায়ে রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরীক্ষাগুলো সফল হলে ভবিষ্যতে শহরের আকাশপথে নতুন ধরনের পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে উঠবে। এতে করে মানুষ কম সময়ে, নিরাপদে এবং পরিবেশবান্ধব উপায়ে যাতায়াত করতে পারবে।
সব মিলিয়ে বিদ্যুৎচালিত এয়ার ট্যাক্সি প্রযুক্তি ভবিষ্যতের নগর জীবনে একটি বড় পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে। এটি শুধু সময় বাঁচাবে না, বরং পরিবহন ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও টেকসই করে তুলবে।


























