ঢাকা ০৮:৪৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৪ মে ২০২৬, ২১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিক্ষা-স্বাস্থ্য খাতে জিডিপির বড় বরাদ্দের ঘোষণা

  • Taslima Khanom
  • Update Time : ০৬:২৯:৩৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১ মে ২০২৬
  • ৫১২

চিত্রঃ শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী

দেশের শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতকে অগ্রাধিকার দিয়ে বড় সিদ্ধান্তের ইঙ্গিত দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানিয়েছেন, আগামী দিনে জিডিপির বড় একটি অংশ এই দুই খাতে ব্যয় করা হবে। জাতীয় সংসদের অধিবেশনে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এই পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। এতে মানবসম্পদ উন্নয়ন ও সেবার মান বাড়ানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রাথমিক শিক্ষকদের সম্মানী বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এর ফলে শিক্ষকেরা আরও মনোযোগ দিয়ে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করতে পারবেন। শিক্ষার মান উন্নয়নে শিক্ষকই মূল চালিকাশক্তি বলে তিনি উল্লেখ করেন। তাই তাদের আর্থিক ও সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধি করা জরুরি বলে মত দেন।

তিনি আরও জানান, মোট বাজেটের প্রায় ৫ শতাংশ শিক্ষা খাতে বরাদ্দ রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। এতে বিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়ন ও শিক্ষার পরিবেশ উন্নত করা সম্ভব হবে। শিক্ষার্থীদের জন্য আরও আধুনিক ও কার্যকর শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার কথা বলেন তিনি। এতে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম দক্ষ ও প্রতিযোগিতামূলক হয়ে উঠবে বলে আশা করা হচ্ছে। স্বাস্থ্য খাতের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, অনেক হাসপাতালে ভবন থাকলেও প্রয়োজনীয় চিকিৎসক ও ওষুধের ঘাটতি রয়েছে। এই সমস্যাগুলো সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নকে সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার হিসেবে তুলে ধরেন।

তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, জিডিপির বড় অংশ শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে ব্যয় করা হবে। এর মাধ্যমে একটি সুস্থ ও শিক্ষিত জাতি গড়ে তোলার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এটি দেশের সার্বিক উন্নয়নের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন তিনি। স্বনির্ভর ও আত্মনির্ভরশীল বাংলাদেশ গড়ার জন্য এই খাতগুলোকে শক্তিশালী করা প্রয়োজন। কৃষি খাত নিয়েও সরকারের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, কৃষকদের সহায়তার জন্য কৃষক কার্ড চালু করা হয়েছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে কৃষকদের বিভিন্ন সুবিধা দ্রুত পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে। কৃষির উন্নয়নকে দেশের অর্থনীতির ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী ব্যাখ্যা করেন, যারা ধান উৎপাদন করেন, মাছ চাষ করেন বা গবাদিপশু পালন করেন—তারা সবাই কৃষক। তাদের সবার জন্য সমান সুযোগ ও সহায়তা নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে। কৃষকদের আর্থিক নিরাপত্তা ও উন্নয়ন নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে বিভিন্ন কর্মসূচি ইতোমধ্যে গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, কৃষকদের ভাগ্য পরিবর্তনে সরকার কাজ শুরু করেছে। গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালী করতে কৃষকদের উন্নয়ন অপরিহার্য বলে মনে করেন তিনি। কৃষকদের আয় বৃদ্ধি পেলে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিও শক্তিশালী হবে। এই কারণে কৃষি খাতে ধারাবাহিকভাবে সহায়তা বাড়ানো হবে বলে জানান তিনি।

বক্তব্যে নিজের অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, রাজনৈতিক কারণে বিদেশে অবস্থানকালে সেখানকার শিক্ষাব্যবস্থা কাছ থেকে দেখার সুযোগ হয়েছে। বিশেষ করে বিদ্যালয়ের মান ও পরিবেশ তাকে অনুপ্রাণিত করেছে। তিনি চান, দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোও একইভাবে উন্নত হোক।তিনি উল্লেখ করেন, উন্নত দেশের মতো মানসম্পন্ন শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি। এতে দেশের শিক্ষার্থীরা আন্তর্জাতিক মানের জ্ঞান অর্জন করতে পারবে। একই সঙ্গে দেশের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। এই লক্ষ্য অর্জনে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বেশি বিনিয়োগ দেশের জন্য ইতিবাচক ফল বয়ে আনবে। মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত হলে দক্ষ জনশক্তি তৈরি হবে। অন্যদিকে উন্নত স্বাস্থ্যসেবা মানুষের জীবনমান বৃদ্ধি করবে। এই দুই খাতের উন্নয়ন টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ভিত্তি গড়ে তুলবে। অর্থনীতিবিদদের মতে, জিডিপির বড় অংশ এই খাতে ব্যয় করা হলে সামাজিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে। এতে দারিদ্র্য হ্রাস ও মানবসম্পদের গুণগত মান বৃদ্ধি পাবে।
দীর্ঘমেয়াদে এটি দেশের উন্নয়নকে আরও গতিশীল করবে। তবে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কার্যকর ব্যবস্থাপনা জরুরি বলে তারা মনে করেন।

সবশেষে বলা যায়, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বড় বিনিয়োগের ঘোষণা একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এটি দেশের ভবিষ্যৎ উন্নয়নের জন্য ইতিবাচক দিক নির্দেশনা দেয়। সঠিক বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা গেলে এর সুফল দ্রুত পাওয়া সম্ভব। এর মাধ্যমে একটি সমৃদ্ধ ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

শিক্ষা-স্বাস্থ্য খাতে জিডিপির বড় বরাদ্দের ঘোষণা

Update Time : ০৬:২৯:৩৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১ মে ২০২৬

দেশের শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতকে অগ্রাধিকার দিয়ে বড় সিদ্ধান্তের ইঙ্গিত দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানিয়েছেন, আগামী দিনে জিডিপির বড় একটি অংশ এই দুই খাতে ব্যয় করা হবে। জাতীয় সংসদের অধিবেশনে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এই পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। এতে মানবসম্পদ উন্নয়ন ও সেবার মান বাড়ানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রাথমিক শিক্ষকদের সম্মানী বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এর ফলে শিক্ষকেরা আরও মনোযোগ দিয়ে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করতে পারবেন। শিক্ষার মান উন্নয়নে শিক্ষকই মূল চালিকাশক্তি বলে তিনি উল্লেখ করেন। তাই তাদের আর্থিক ও সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধি করা জরুরি বলে মত দেন।

তিনি আরও জানান, মোট বাজেটের প্রায় ৫ শতাংশ শিক্ষা খাতে বরাদ্দ রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। এতে বিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়ন ও শিক্ষার পরিবেশ উন্নত করা সম্ভব হবে। শিক্ষার্থীদের জন্য আরও আধুনিক ও কার্যকর শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার কথা বলেন তিনি। এতে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম দক্ষ ও প্রতিযোগিতামূলক হয়ে উঠবে বলে আশা করা হচ্ছে। স্বাস্থ্য খাতের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, অনেক হাসপাতালে ভবন থাকলেও প্রয়োজনীয় চিকিৎসক ও ওষুধের ঘাটতি রয়েছে। এই সমস্যাগুলো সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নকে সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার হিসেবে তুলে ধরেন।

আরও পড়ুন  জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় যৌথ কমিটি: ৫ বিরোধী এমপির নাম দিলেন শফিকুর রহমান

তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, জিডিপির বড় অংশ শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে ব্যয় করা হবে। এর মাধ্যমে একটি সুস্থ ও শিক্ষিত জাতি গড়ে তোলার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এটি দেশের সার্বিক উন্নয়নের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন তিনি। স্বনির্ভর ও আত্মনির্ভরশীল বাংলাদেশ গড়ার জন্য এই খাতগুলোকে শক্তিশালী করা প্রয়োজন। কৃষি খাত নিয়েও সরকারের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, কৃষকদের সহায়তার জন্য কৃষক কার্ড চালু করা হয়েছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে কৃষকদের বিভিন্ন সুবিধা দ্রুত পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে। কৃষির উন্নয়নকে দেশের অর্থনীতির ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী ব্যাখ্যা করেন, যারা ধান উৎপাদন করেন, মাছ চাষ করেন বা গবাদিপশু পালন করেন—তারা সবাই কৃষক। তাদের সবার জন্য সমান সুযোগ ও সহায়তা নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে। কৃষকদের আর্থিক নিরাপত্তা ও উন্নয়ন নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে বিভিন্ন কর্মসূচি ইতোমধ্যে গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, কৃষকদের ভাগ্য পরিবর্তনে সরকার কাজ শুরু করেছে। গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালী করতে কৃষকদের উন্নয়ন অপরিহার্য বলে মনে করেন তিনি। কৃষকদের আয় বৃদ্ধি পেলে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিও শক্তিশালী হবে। এই কারণে কৃষি খাতে ধারাবাহিকভাবে সহায়তা বাড়ানো হবে বলে জানান তিনি।

আরও পড়ুন  হামের উপসর্গ নিয়ে আরো পাঁচজনের মৃত্যু, বাড়ছে শঙ্কা

বক্তব্যে নিজের অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, রাজনৈতিক কারণে বিদেশে অবস্থানকালে সেখানকার শিক্ষাব্যবস্থা কাছ থেকে দেখার সুযোগ হয়েছে। বিশেষ করে বিদ্যালয়ের মান ও পরিবেশ তাকে অনুপ্রাণিত করেছে। তিনি চান, দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোও একইভাবে উন্নত হোক।তিনি উল্লেখ করেন, উন্নত দেশের মতো মানসম্পন্ন শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি। এতে দেশের শিক্ষার্থীরা আন্তর্জাতিক মানের জ্ঞান অর্জন করতে পারবে। একই সঙ্গে দেশের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। এই লক্ষ্য অর্জনে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন  শুক্রবার ২৪ ঘণ্টা গ্যাস থাকবে না যেসব এলাকায়, জানাল তিতাস গ্যাস

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বেশি বিনিয়োগ দেশের জন্য ইতিবাচক ফল বয়ে আনবে। মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত হলে দক্ষ জনশক্তি তৈরি হবে। অন্যদিকে উন্নত স্বাস্থ্যসেবা মানুষের জীবনমান বৃদ্ধি করবে। এই দুই খাতের উন্নয়ন টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ভিত্তি গড়ে তুলবে। অর্থনীতিবিদদের মতে, জিডিপির বড় অংশ এই খাতে ব্যয় করা হলে সামাজিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে। এতে দারিদ্র্য হ্রাস ও মানবসম্পদের গুণগত মান বৃদ্ধি পাবে।
দীর্ঘমেয়াদে এটি দেশের উন্নয়নকে আরও গতিশীল করবে। তবে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কার্যকর ব্যবস্থাপনা জরুরি বলে তারা মনে করেন।

সবশেষে বলা যায়, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বড় বিনিয়োগের ঘোষণা একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এটি দেশের ভবিষ্যৎ উন্নয়নের জন্য ইতিবাচক দিক নির্দেশনা দেয়। সঠিক বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা গেলে এর সুফল দ্রুত পাওয়া সম্ভব। এর মাধ্যমে একটি সমৃদ্ধ ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।