পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলায় নানাবাড়িতে বেড়াতে এসে পানিতে ডুবে দুই শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। নিহত দুই শিশু আপন দুই ভাই। বুধবার দুপুরে উপজেলার নাজিরপুর সদর ইউনিয়নের ছোট আমতলা গ্রামে এ হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে। স্থানীয়দের মধ্যে এ ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।নিহত দুই শিশুর নাম আব্দুর রহমান ও আবু বক্কর। আব্দুর রহমানের বয়স ছিল ছয় বছর এবং আবু বক্করের বয়স চার বছর। তারা পিরোজপুর জেলার নেছারাবাদ উপজেলার দৈহারি ইউনিয়নের ভরতকাঠী গ্রামের বাসিন্দা মিরাজ শেখের ছেলে।
স্বজনরা জানান, দুই দিন আগে তাদের মা দুই সন্তানকে নিয়ে বাবার বাড়ি নাজিরপুরের ছোট আমতলা গ্রামে বেড়াতে আসেন। নানাবাড়িতে এসে দুই ভাই বেশ আনন্দে সময় কাটাচ্ছিল। সকাল থেকে তারা বাড়ির আঙিনায় খেলাধুলা করছিল এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেও সময় পার করছিল। দুপুরের দিকে হঠাৎ করেই শিশু দুটিকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। পরিবারের সদস্যরা প্রথমে ধারণা করেছিলেন তারা হয়তো বাড়ির আশপাশেই খেলছে। পরে অনেক খোঁজাখুঁজির পরও তাদের কোনো সন্ধান না মেলায় উদ্বেগ বাড়তে থাকে।
একপর্যায়ে বাড়ির সামনের খালের পানিতে দুই শিশুর মরদেহ ভাসতে দেখেন স্থানীয়রা। পরে স্বজনরা দ্রুত তাদের উদ্ধার করে নাজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুই শিশুকেই মৃত ঘোষণা করেন। নাজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক স্নিগ্ধা মিত্র জানান, শিশু দুটিকে হাসপাতালে আনার আগেই তাদের মৃত্যু হয়েছিল। হাসপাতালে নেওয়ার পর পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে তাদের মৃত ঘোষণা করা হয়। ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোকের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। একসঙ্গে পরিবারের দুই শিশুর মৃত্যুতে স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে হাসপাতাল ও গ্রামের পরিবেশ। স্থানীয়রাও এ ঘটনায় গভীর দুঃখ প্রকাশ করেছেন।
নাজিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তারিকুল ইসলাম জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। পরিবারের কোনো অভিযোগ না থাকায় এবং তাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ দাফনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। স্থানীয়দের মতে, বর্ষা মৌসুমে খাল ও জলাশয়ের পানি বেড়ে যাওয়ায় শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে আরও সতর্ক থাকা প্রয়োজন। সামান্য অসাবধানতাই বড় দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। এদিকে দুই শিশুর অকাল মৃত্যুতে তাদের পরিবারে নেমে এসেছে গভীর শোক। স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা। স্থানীয়রা এমন দুর্ঘটনা এড়াতে শিশুদের প্রতি আরও নজরদারি বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।


























