গৌতম আদানি মামলা নতুন মোড় নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে। ভারতীয় শিল্পপতি গৌতম আদানির বিরুদ্ধে আনা ফৌজদারি জালিয়াতির মামলা খারিজের উদ্যোগ নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। একই সঙ্গে আদানি গ্রুপের একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ইরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনের অভিযোগও নিষ্পত্তির পথে রয়েছে। বিষয়টি আন্তর্জাতিক ব্যবসা ও বিনিয়োগ অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের সাম্প্রতিক পদক্ষেপ সামনে আসে এমন সময়ে, যখন আদানির আইনজীবী জানান যে চলমান মামলার কারণে যুক্তরাষ্ট্রে পরিকল্পিত ১০ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ আটকে আছে। আইনজীবীর দাবি, মামলা নিষ্পত্তি হলে নতুন বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হবে এবং এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। ফোর্বসের তথ্যমতে, গৌতম আদানির মোট সম্পদের পরিমাণ বর্তমানে প্রায় ৮২ বিলিয়ন ডলার।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছিল, আদানি গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান আদানি গ্রিন এনার্জির জন্য ভারতের একটি বড় সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের অনুমোদন পেতে ভারতীয় কর্মকর্তাদের ঘুষ দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। অভিযোগ অনুযায়ী, এরপর মার্কিন বিনিয়োগকারীদের কাছে দুর্নীতিবিরোধী কার্যক্রম নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য উপস্থাপন করা হয়। প্রসিকিউটরদের দাবি ছিল, এসব তথ্য গোপন রেখে বিনিয়োগকারী ও ঋণদাতাদের কাছ থেকে ৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থ সংগ্রহ করা হয়েছিল। তবে শুরু থেকেই আদানি গ্রুপ সব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগ জানিয়েছে, আদানি গ্রুপের অংশ আদানি এন্টারপ্রাইজেস ইরান-সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনের অভিযোগ নিষ্পত্তিতে ২৭ কোটি ৫০ লাখ ডলার পরিশোধে সম্মত হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়, প্রতিষ্ঠানটি দুবাইভিত্তিক এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস কিনেছিল, যা ওমান ও ইরাকের বলে দাবি করা হলেও প্রকৃত উৎস ছিল ইরান।
পরে আদানি এন্টারপ্রাইজেস এ ধরনের আমদানি বন্ধ করে এবং আন্তর্জাতিক নির্দেশনা মেনে চলা নিশ্চিত করতে নতুন কমপ্লায়েন্স ব্যবস্থা চালু করে। আদালতের নথি অনুযায়ী, ভারতীয় কর্মকর্তাদের ঘুষ দেওয়ার অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থার দায়ের করা দেওয়ানি মামলাটিও সমঝোতার মাধ্যমে নিষ্পত্তির পথে রয়েছে।





























