রামিসা হত্যা মামলা ঘিরে রাজধানীর আদালতে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। পল্লবীর বহুল আলোচিত শিশু নির্যাতন ও হত্যা মামলায় প্রধান আসামি সোহেল রানা আদালতে হঠাৎ করে ‘ডলার’ নামের এক ব্যক্তির সম্পৃক্ততার দাবি তুলেছেন। তার এই বক্তব্য মামলার বিচার প্রক্রিয়ায় নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
আদালত কক্ষে শুনানির সময় সোহেল রানা দাবি করেন, তিনি ধর্ষণ করেননি বরং লাশ কাটার কথা স্বীকার করেন। একই সঙ্গে তিনি ‘ডলার’ নামের একজন ব্যক্তিকে মূল অপরাধী হিসেবে উল্লেখ করেন।তিনি বলেন, তিনি একা নন, ঘটনার সঙ্গে ডলারের সম্পৃক্ততা রয়েছে এবং তাকে ধরলে পুরো ঘটনা পরিষ্কার হবে। তবে তদন্ত সংস্থা বলছে, এখন পর্যন্ত এমন কোনো ব্যক্তির অস্তিত্বের প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মামলার চার্জশিট কিংবা ১৬৪ ধারার জবানবন্দিতে ‘ডলার’ নামে কারও কোনো উল্লেখ নেই। ফলে এই দাবি নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধারণা, বিচার শুরুর ঠিক আগে এমন বক্তব্য আত্মরক্ষার কৌশল হতে পারে।
মামলার নথি অনুযায়ী, গত ১৯ মে পল্লবীর মিরপুর-১১ এলাকায় দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসাকে কৌশলে ডেকে নিয়ে হত্যা করা হয়। পরে তার মরদেহ বিকৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়, যা পুরো দেশকে নাড়িয়ে দেয়। স্থানীয়রা জানায়, শিশুটিকে খুঁজতে গিয়ে তার স্যান্ডেল ভবনের সামনে পাওয়া যায়। পরে দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে ভয়াবহ দৃশ্য দেখতে পান তারা।
ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ গঠনের শুনানি শেষে আদালত দুই আসামির বিরুদ্ধে বিচার শুরুর নির্দেশ দেন।রাষ্ট্রপক্ষ জানায়, শিশুটিকে নির্যাতনের পর হত্যা করা হয় এবং মরদেহ গুমের চেষ্টা করা হয়েছিল। অপরদিকে আসামিপক্ষ তদন্ত ও প্রমাণ নিয়ে প্রশ্ন তোলে।
মামলার অন্যতম আসামি স্বপ্না আক্তার আদালতে কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনি স্বামীর দিকে তাকিয়ে নিজের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। সোহেল রানা আবারও দাবি করেন, তার স্ত্রী নির্দোষ এবং তাকে ফাঁসানো হয়েছে। তবে রাষ্ট্রপক্ষ এই দাবি নাকচ করেছে। এই নৃশংস ঘটনার পর দেশজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। সামাজিক ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো দ্রুত বিচার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছে।
মানুষের মধ্যে এই ঘটনার বিচার নিয়ে গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। এই মামলাটি শুধু একটি ফৌজদারি ঘটনা নয়, বরং শিশু নিরাপত্তা ও সামাজিক নিরাপত্তা নিয়ে বড় প্রশ্ন তৈরি করেছে। বিচার প্রক্রিয়া যত এগোবে, ততই নতুন তথ্য সামনে আসতে পারে।
রামিসা হত্যা মামলায় আদালতের পরবর্তী ধাপ এখন সাক্ষ্যগ্রহণ। সোহেলের ‘ডলার’ দাবি মামলাটিকে নতুন মোড় দিলেও তদন্ত সংস্থা এখনো তা প্রমাণ পায়নি। ফলে পুরো দেশ এখন তাকিয়ে আছে পরবর্তী রায় ও সত্য উদঘাটনের দিকে।





















