বিশ্ব পরিবেশ দিবস ২০২৬ উপলক্ষে আবারও সামনে এসেছে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় বিশ্বনেতাদের প্রতিশ্রুতি ও বাস্তবতার ফারাক। পরিবেশ রক্ষার অঙ্গীকার করা হলেও যুদ্ধ, সামরিক ব্যয় বৃদ্ধি এবং সামরিক দূষণের কারণে বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ও পরিবেশ সংকট আরও তীব্র হচ্ছে বলে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন।
জলবায়ু আন্দোলনকারীরা দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছেন, যুদ্ধ ও গণহত্যা বন্ধ না করে প্রকৃত জলবায়ু ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়। কারণ একটি যুদ্ধ পরিচালনা থেকে শুরু করে অস্ত্র উৎপাদন পর্যন্ত প্রতিটি ধাপেই বিপুল পরিমাণ গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গত হয়। একই সঙ্গে সামরিক শিল্পে ব্যবহৃত হয় বিপুল পরিমাণ পানি ও প্রাকৃতিক সম্পদ, যা পরিবেশের ওপর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
বিশ্বের শীর্ষ ৬০ সামরিক ব্যয়কারী দেশের অধিকাংশই তাদের সামরিক খাতের কার্বন নির্গমন সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ করে না। ফলে বৈশ্বিক কার্বন নির্গমনের প্রকৃত চিত্র আড়ালেই থেকে যায়। বর্তমানে বৈশ্বিক কার্বন নির্গমনের প্রায় ৩২ শতাংশের জন্য দায়ী চীন, আর যুক্তরাষ্ট্রের অবদান প্রায় ১৩ শতাংশ। অন্যদিকে জনপ্রতি কার্বন নির্গমনের দিক থেকে কাতার, বাহরাইন ও কুয়েত বিশ্বের শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে।
২০২৩ সালের দুবাই জলবায়ু সম্মেলনেও যুদ্ধ ও জলবায়ু সংকটের সম্পর্ক নিয়ে জোরালো আলোচনা হয়। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, গাজা, ইউক্রেনসহ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে চলমান সংঘাত শুধু মানবিক বিপর্যয়ই নয়, বরং পরিবেশ ও জলবায়ুর জন্যও বড় হুমকি।
আজ ৫ জুন পালিত হচ্ছে বিশ্ব পরিবেশ দিবস। এবারের প্রতিপাদ্য ‘ক্লাইমেট অ্যাকশন’ বা জলবায়ু তৎপরতা। ২০১৫ সালের প্যারিস জলবায়ু চুক্তিতে বৈশ্বিক উষ্ণতা ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে সীমিত রাখা, জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমানো এবং জলবায়ু অর্থায়ন বাড়ানোর অঙ্গীকার করা হয়েছিল। তবে পরিবেশবাদীদের অভিযোগ, অনেক দেশ এখনো সেই অঙ্গীকার বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়েছে।
বাংলাদেশ বৈশ্বিক কার্বন নির্গমনে তুলনামূলকভাবে কম ভূমিকা রাখলেও জলবায়ু পরিবর্তনের সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর একটি। বন্যা, নদীভাঙন, লবণাক্ততা বৃদ্ধি, অতিবৃষ্টি ও ঘূর্ণিঝড়ের মতো দুর্যোগে দেশের লাখো মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অথচ পরিবেশ দূষণের জন্য দায়ী ধনী দেশগুলোর অনেকেই এখনো কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পিছিয়ে রয়েছে।
বিশ্ব পরিবেশ দিবস ২০২৬ আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে শুধু জলবায়ু নিয়ে বক্তৃতা নয়, বাস্তব পদক্ষেপই পরিবেশ রক্ষার একমাত্র পথ। যুদ্ধ ও সামরিক ব্যয় কমিয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং জলবায়ু অর্থায়নে বিনিয়োগ বাড়ানোর মাধ্যমে টেকসই ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করা সম্ভব।

























